Sunday, February 28, 2016

Outcry-Bangladesh-Situation of Religious Minority communities Feb 2016



সাংবাদিক অঞ্জন রায়ের বাড়ি প্রভাবশালীদের দখলে

২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৬, ২২:৫১
http://www.channelionline.com/
সাংবাদিক অঞ্জন রায়ের বাড়ি প্রভাবশালীদের দখলে
পাবনা শহরে সাংবাদিক অঞ্জন রায়ের পৈতৃক বাড়ি দখল করে আছে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী দুস্কৃতকারী।
সকল ধরনের নথিপত্রসহ আদালতের রায়ের পরও শহীদ পরিবারের সন্তান অঞ্জন রায় তার পৈতৃক ভিটার দখল ফেরত পাননি।
নিজ ভিটামাটি না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সাংবাদিক ও বিশিষ্টজনদের উদ্দেশ্য করে অঞ্জয় রায় লিখেছেন, অপরের জন্য আপনারা অনেক যুদ্ধ করেছেন- সফল হয়েছেন।
'এবার ন্যায্য দাবিতে আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি- মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সম্পত্তি কিভাবে শত্রু সম্পত্তির তালিকায় থাকে? কেনো আমাদের পরিবার ন্যায়বিচার পাবে না? আপনাদের মিলিত কন্ঠই এনে দিতে পারে সমাধান।'


নির্মম ও কঠিন সত্যের মুখোমুখি 

সংখ্যালঘুরা

২০১৬ ফেব্রুয়ারি ২৪ ১২:০১:৫৯
নির্মম ও কঠিন সত্যের মুখোমুখি সংখ্যালঘুরা
দিলীপ কর্মকার

বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত নিরীহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর হামলা, মিথ্যা মামলা, নির্যাতন, অপহরণ, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, গুলি এমনকি গলাকেটে কিংবা আগুনে পুড়ে হত্যার মত নির্মম ঘটনা সংগঠিত হচ্ছে। গত ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬, রবিবার পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জে এরকম একটা অতর্কিত পরিকল্পিত হামলা ও হত্যার সংবাদ ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারলাম।

আক্রমণকারীরা সকাল বেলা সন্ত গৌড়ীয় মঠের অধ্যক্ষ শ্রী যজ্ঞেশ্বর রায় দাসাধিকারীকে গলায় ছুরি চালিয়ে হত্যা করেছে। হত্যাকাণ্ড চালানোর সময় তা দেখে ফেলে গোপাল চন্দ্র রায় নামে মন্দিরের আর এক ভক্ত সেবক। আর যায় কোথা! দুর্বৃত্তরা হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁকেও লক্ষ্য করে গুলি চালায়। দৌড়ে পালানোর সময় বাম হাতের কনুইয়ে দুটি গুলিবিদ্ধ হয়ে দৈবাৎ সে প্রাণে বেঁচে যায়। বর্তমানে তিনি রংপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

আই.এস. নামের সংগঠন থেকে এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে বলে পত্রিকান্তরে প্রকাশ। বাংলাদেশের সরকার ও পুলিশ কর্তৃপক্ষ লেখক, প্রকাশক, আস্তিক, নাস্তিক, ছাত্র, শিক্ষক, শিল্পী, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, আইনজীবী, বিদেশী, শিয়া, হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃস্টান, বিধর্মী বা যে কোন প্রগতিশীল মানুষকে পরিকল্পিত উপর্যুপরি খুনের সাথে আই.এস. এর সংশ্লিষ্টতা বা অস্তিত্ব স্বীকার করতে রাজী না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী বলে দাবীদার সরকার পক্ষের লোকেরা সমস্বরে এসমস্ত সহিংস ঘটনা সমূহকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে রটনা চালিয়ে তাঁরা তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছেন। তবে, কাকে ভয় বা খুশি করার জন্য এই অস্বীকার, তা আমার বোধগম্য নয়। আমেরিকার মদদপুষ্ট সৌদি রাজতন্ত্রের সামরিক জোটের সাথে বাংলাদেশ সরকারের গাঁটছড়া বাধার ফলশ্রুতিতে আই.এস. এর সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করার পেছনের কারণ কিনা - কে জানে?

মনে পড়ে স্বাধীনতা যুদ্ধের কথা। ১৯৭১ সালে রাজাকার, আলবদর, পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর ভয়ে সারাদেশের হিন্দুরা বাড়িঘর ছেড়ে প্রাণের ভয়ে জংগলে জংগলে আত্মরক্ষার জন্য নয় মাস পালিয়ে বেড়িয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের ফলে আমিও আমার পরিবার পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলাম। সম্ভবত মে মাসের শেষ দিকের কথা। পাক সেনাবাহিনীর আক্রমণের মুখে টিকতে না পেরে পলায়নরত অবস্থায় একটা সাঁকো পার হচ্ছিলাম। আমার বাবাও সেই সাঁকো পার হচ্ছিলেন। পথিমধ্যে এক মিনিটের জন্য তাঁর সাথে সাক্ষাৎ ও কথা হয়েছিল। তাঁকে প্রনাম করতেই তিনি আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেছিলেন। বলেছিলেন, "আমার মন বলেছে, তুমি বেঁচে আছ।" নয়মাসের মধ্যে শুধুমাত্র ঐ এক মিনিটের সাক্ষাৎ ঘটেছিল। যা আজও আমার স্মৃতিতে জাগরূক আছে। আমার বৃদ্ধ পিতা, আমার বোনদের নিয়ে কিভাবে, কোথায় আত্মরক্ষা করে ছিলেন, সে প্রশ্নও জিজ্ঞাসা করিনি। তাঁদের দুঃসহ জীবনের অব্যক্ত করুণ কাহিনী সেদিন শুনতে চাইনি। ভেবেছিলাম, শত্রুমুক্ত করে পরে একদিন হয় জেনে নেব। কিন্তু সে ভাগ্য আমার আর কোনোদিন হয়নি। সে কথা মনে করে আজও আমার বুকের মধ্যে দুমড়ে ওঠে। গভীর রাতে ঘুমের মধ্যেও চোখের জল ঝড়ে। আমি কত বড় উম্মাদ ছিলাম যে, জন্মদাতা পিতার একমাত্র পুত্র সন্তান হয়েও রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়স্বজনদের কাছে থাকিনি। তাঁদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা না করে, খোঁজ না নিয়ে জীবন বাজি রেখে দেশোদ্ধারে লিপ্ত ছিলাম। হায় আমার কপাল, তা কি এমন বাংলাদেশের জন্য!!
বর্তমান বাংলাদেশের আদিবাসী ভাইবোনেরাও সেনাশাসন অধ্যুষিত পার্বত্য চট্টগ্রামে উড়ে এসে স্থায়ীভাবে জুড়ে বসা বাঙ্গালী দখলকারীদের সংঘবদ্ধ আক্রমণের ভয়ে জংগলে মাঝে মাঝে আত্মগোপন করে পালিয়ে বাঁচার চেষ্টা করছে। গতকাল একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে খাগড়াছড়িগামী বাস থেকে আদিবাসী চেহারার লোকদের বাস থেকে নামিয়ে তাঁদের উপর অকথ্য নির্যাতন চালানো হয়। [নেপথ্যে স্মরণে আসে, একাত্তরে বাস থামিয়ে কাপড় তুলে খৎনা করা আছে কিনা পরীক্ষা হত; আর এখন চেহারা। তখন খোঁজা হত হিন্দু; আর এখন হচ্ছে আদিবাসী] দুর্বৃত্তদের আক্রমণে কেউ কেউ লাশে পরিণত হয়েছে বলেও শোনা গিয়েছে। একজন আদিবাসীর মাথার তালুর উপর কুঠারঘাতে কাঠ কাটার মত ক্ষত করার বীভৎস লোমহর্ষক একটা ছবিও পত্রিকাতে দেখেছি। প্রান্তিক ধর্মীয় ও জাতীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, মন্দির, প্যাগোডা ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, জায়গাজমি দখলের খবর কোন নতুন ঘটনা নয়। ২০১০ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের এগারোটি আদিবাসী পল্লীতে অগ্নিসংযোগে ভস্মীভূত করা হয়েছিল। বেসরকারি হিসেব ও তথ্য অনুযায়ী, সেদিনের ঘটনায় সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় সেটেলার বাঙ্গালীরা জড়িত ছিল। তাঁরা ৭৫০টি পরিবারের আবাসগৃহ পুড়ে ছাই করার মাধ্যমে আদিবাসীদেরকে তাঁদের ভূমি থেকে উচ্ছেদের এই মহাযজ্ঞে লিপ্ত হয়েছিল। পাক সেনাবাহিনীর ন্যায় বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর অনেক সদস্যদের কামনা ও লালসার শিকার হয়ে অসহায় আদিবাসী কত যুবতী নারী, ললনার সম্ভ্রম ও সতীত্ব এযাবত বিনষ্ট হয়েছে, তার হিসেব কে রাখে? পাহাড়ে ও সমতলে বসবাসকারী ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জীবন অনেকটাই সিনেমার ছন্দময় জনপ্রিয় গানের কলির মত, "তুমি কি দেখেছ কভু জীবনের পরাজয়, দুঃখের দহনে করুণ রোদনে তিলে তিলে তার ক্ষয়। প্রতিদিন কত খবর আসে যে কাগজের পাতা ভরে, জীবন পাতার অনেক খবর রয়ে যায় অগোচরে। স্বার্থের টানে প্রিয়জন কেন দূরে সরে চলে যায়, ধরণীর বুকে পাশাপাশি তবু কেউ বুঝি কারো নয়...।"
অথচ, এমন তো হওয়ার কথা ছিলনা। ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের মত মাথা উঁচু করে মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার আকাংখা নিয়ে আমরা সবাই সেদিন মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম। সেদিনের গানের কলি ছিল, "আমার এ দেশ সব মানুষের, সব মানুষের - কুলি আর কামারের, চাষা আর মজুরের...হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খৃস্টান এক দেশ সকলের...।" অথবা, "বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা, আজ জেগেছে এই জনতা...।" কোথায় হারিয়ে গেল আমাদের সেই অসাম্প্রদায়িক ধর্মনিরপেক্ষ সমাজের প্রতিশ্রুতি? দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালনের পরিবর্তে আজ ব্যভিচার, সামাজিক বৈষম্য এবং সবল কর্তৃক দুর্বলের উপর অত্যাচার, বিচারহীনতার সংস্কৃতির ফলে জীবন ধারণের অধিকার বঞ্চিত হয়ে কত মানুষের স্বপ্ন সাধ আহ্লাদ যে ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছে, তার খবর কে রাখে? আজও কি, বিচারের বানি নিরবে নিভৃতে কাঁদবে?
বর্তমান সময়ে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, বাংলাদেশের ক্ষমতাবলয়ের সাথে যুক্ত আমলা ও রাজনীতিজীবীরা তাঁদের অর্থ-বিত্ত-ক্ষমতা অব্যাহত রাখার উৎস ঠিক রাখার জন্য সদা তৎপর। তাঁরা তাঁদের অর্থ-বিত্ত-ক্ষমতার উৎস নিরাপদ ও অব্যাহত রাখার জন্য সরকার প্রধানকে খুশী ও বশীকরণের জন্য ব্যস্ত। সর্বময় ক্ষমতার কেন্দ্র সরকার প্রধানের আনুকূল্য বা সুদৃষ্টি লাভের আশায় প্রধানমন্ত্রী বা তাঁর বংশধর বা আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ লতাপাতা ডালপালাকেও খুশী করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। তাঁরা সম্ভবত মহামহোপাধ্যায় পণ্ডিতপ্রবর শ্রী হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর "তৈল" গল্পের মর্মার্থ অনুধাবন ও যথার্থ ব্যবহার করতে শিখেছেন। এখন একশ্রেণীর এমন স্তাবক চাটুকার আছে, যারা কেবলমাত্র সরকারের প্রশংসা ছাড়া ভিন্ন যে কোন মতের প্রতি অত্যন্ত অসহিষ্ণু। আমি বা আপনি সরকার সমর্থক হলেও তাঁদের আক্রোশ থেকে রেহাই নেই। ওঁরা সরকার প্রধান ও তাঁর বংশবদদের কণ্ঠের প্রতিধ্বনি করে শেয়ালের ডাকের ন্যায় "হুয়াত্তা হুয়া" করে ওঠে। ডেইলি স্টার পত্রিকার সম্পাদক পরীক্ষানিরীক্ষা ছাড়া সেনা বাহিনীর দেয়া বিবৃতি ছাপানোর ভুল স্বীকার করে মনে হয় ভুল করেছেন। এখন পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে চামচারা ৭৭টি স্থানে মাত্র এক লক্ষ ঊনত্রিশ হাজার কোটি টাকা মূল্যের মানহানির ক্ষতিপূরণের মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যেহেতু চাচ্ছেন, মাহাফুজ আনামের হয়তো বিচার হবে। কিন্তু, ধর্মযাজক যজ্ঞেশ্বর সহ অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের খুনিদের বিচার কি বাংলার মাটিতে হবে? মাহাফুজ আনামের ভুল স্বীকারের প্রতিদানে আপনি তাঁর পদত্যাগ চাচ্ছেন। ভাল কথা, কিন্তু, আপনি সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তাদানে ব্যর্থ হয়েছেন, তারজন্য আপনি কি প্রধানমন্ত্রী থেকে পদত্যাগ করবেন? সংখ্যালঘুদের জীবনের কোন মূল্য বা মান-মর্যাদা থাকতে নেই বুঝি! ক্ষমতাসীনরা ও ক্ষমতা বহির্ভূত অধিকাংশ প্রায় সকলেই সংখ্যালঘুদের ব্যাপারে নির্বাক। তাঁরা একপক্ষ অন্যপক্ষকে দায়ী করে বিবৃতি দিয়েই ক্ষান্ত থাকেন। এই ব্লেইম গেইম আর কতদিন খেলবেন? অথচ সত্যি বলতে কি, ১/১১ এর তত্বাবধায়কের শাসনকাল সময় বাংলাদেশে কোন সাম্প্রদায়িক হামলা হয়নি। অল্পদিনের জন্য হলেও, সেই সময়টুকুই হয়তো ঘুষখোরদের আত্মায় কাঁপন ধরিয়েছিল। ছিনতাইকারী, চাঁদাবাজ মুক্ত অবস্থায় বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ নিরাপদে ও স্বস্তিতে ছিল। পাকিস্তানী ধারা থেকে বাংলাদেশকে টেনে তুলেছে মিঃ ফকরুদ্দিন ও জেনারেল মঈনউদ্দিনের সরকার।
প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবুল বারকাত এর একটি গবেষণাগ্রন্থে তিনি তথ্য, উপাত্তের ভিত্তিতে হিসাব করে বলেছেন যে, ১৯৭১ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে ৬৩ লক্ষ হিন্দু বাংলাদেশ থেকে উধাও হয়ে গেছেন। এই বিতাড়নে হিন্দু সম্পত্তি দখলের সুবিধাভোগীদের মধ্যে ৩১% আওয়ামী লীগের সদস্য-সমর্থক ও ৪৫% বি.এন.পি.'র সমর্থক। ১৯৯২ সালে ভারতে বাবরি মসজিদ ভাঙার পর যে ভয়ংকর তাণ্ডব চলে তাতে ২৮,০০০ বাড়ি-ঘর, ৩,৬০০ মন্দির, ২,৫০০ দোকান-বাজার ধ্বংস হয়। খুন হন ১৩ জন। ২০০১-এ বেগম জিয়ার নির্বাচনের পর থেকে শুরু হয় ধারাবাহিক সংখ্যালঘু হিন্দু নির্যাতন। এর ফলে ১৯৫১ সালে পূর্ব-পাকিস্তানে যে হিন্দু জনসংখ্যা ছিল ২২ শতাংশ, ১৯৭১-এ ১৫%, ১৯৭৪-এ ১৩.৫% ও ২০০১ সালে ৯.২ শতাংশে নেমে এসেছে। বর্তমানে তা সম্ভবতঃ ৭-৮ শতাংশ। ২০০১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী বরিশাল, ভোলা, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, বরগুনা এই ছয় জেলায় হিন্দু জনসংখ্যা ছিল ৮ লাখ ১৬ হাজার ৫১ জন। ২০১১ সালের আদমশুমারিতে দেখা যায় হিন্দু জনসংখ্যা কমে ৭ লাখ ৬২ হাজার ৪৭৯ জনে এসে দাঁড়িয়েছে। "১৯৬৪ থেকে ১৯৭১ এই নিখোঁজ হিন্দু জনসংখ্যা ছিল প্রতিদিন গড়ে ৭০৫ জন। ১৯৭১ থেকে ১৯৮১ তে প্রতিদিন গড়ে ৫২১ জন, ১৯৮১-১৯৯১ এ প্রতিদিন গড়ে ৪৩৮ জন এবং এই সংখ্যাটি অনেক বেড়ে ১৯৯১ থেকে ২০০১ এ দাঁড়ায় প্রতিদিন গড়ে ৭৬৭ জন।" অপর একজন গবেষক বর্ণনা করেছেন, "বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার একটি প্রতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া"। বাংলাদেশ বারবার সামরিক শাসনের মধ্য দিয়ে গেলেও ধারাবাহিক সংগ্রামের ফলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাও বারবার ফিরে এসেছে। সংখ্যালঘু বিরোধী আইন না থাকলেও পাকিস্তান আমলের শত্রু সম্পত্তি আইনের মাধ্যমে হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি ও অর্থনীতিকে ভয়ংকর ক্ষতিগ্রস্থ করা হয়েছে। বাংলাদেশ হবার পর এই আইন নাম বদলে হয় "অর্পিত সম্পত্তি আইন" (Vested Property Act) এবং এই আইনে একইভাবে হিন্দুদের সম্পত্তি জবরদখল চলে। এই আইনের ফলে স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত হিন্দুদের প্রায় ২৬ লক্ষ একর জমি ও দেবোত্তর সম্পত্তি অর্পিত সম্পত্তি আইনের ফলে বেহাত বা দখলচ্যুত হয়। দশ লক্ষেরও বেশী মামলা হয়েছে, কিন্তু একটি মামলারও নিস্পত্তি হওয়ার খবর আমাদের জানা নেই। অথচ, এব্যাপারে সরকার প্রধান ও তাঁর চামচাদের মুখে কোন রা নেই। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজন কাকে খুশী করার জন্য বা আর কতকাল মুখ বুজে নীরবে মার খেতে থাকবে। সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনে অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ হয়েছে, বর্তমান সরকারের আমলে।

নাটকের ডায়ালগের ন্যায়, "গোলাম হোসেন, উপায় নেই।" ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা আজ এক নির্মম কঠিন সত্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। "মানুষ মানুষের জন্য, একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না ও বন্ধু......দুর্বল মানুষ যদি, জীবনের অথৈ নদী পার হয় তোমাকে ধরে, বল কি ক্ষতি..." গানের গীতিকার ও সুরকার ডঃ ভুপেন হাজারিকা শেষ জীবনে বিজিপির নমিনেশন নিয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন। আমি অনেক ভেবেছি, তিনি কি সাম্প্রদায়িক ছিলেন? সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলে আমাকে যারা সাম্প্রদায়িক ভাববে, যাঁদের অনুভূতিতে লাগবে তাঁদেরকে আমি এই মুহূর্তে বর্জন করতে চাই। যে সমস্ত হিন্দুরা গরুর মাংস খেয়ে, আর যে সমস্ত মুসলিমরা কাছিমের মাংস খেয়ে ধর্মনিরপেক্ষতার পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন অথচ সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের ব্যাপারে নির্বাক থাকেন বা এড়িয়ে থাকতে চান আমি তাঁদের দলের লোক না। জীবন সায়াহ্নে দাঁড়িয়ে তাঁদের সাথে আর সখ্যতা রাখার কোন প্রয়োজন আছে বলেও আমি মনে করিনা। সেই সমস্ত তরুণ যারা ক্ষমতার হালুয়া-রুটির ভাগাভাগি ছাড়াই অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখে, সেই তরুণ প্রজন্মের গণজাগরণ মঞ্চের সাথে সংশ্লিষ্টদের উপর ভরসা করতে চাই। অসমাপ্ত মুক্তিযুদ্ধ সমাপ্ত করার বাসনা পূর্ণ করতে চাই। আর কতকাল খল নায়কদের মিথ্যা আশ্বাসে বিশ্বাসী হয়ে সংখ্যালঘুরা বোকার মত জিন্দাবাদ মুর্দাবাদ করে যুগ যুগ ধরে মার খেয়ে যাবে। এখন সময় এসেছে, শেষ মীমাংসার, এসপার-ওসপার।

(লেখক :মন্ট্রিয়ল প্রবাসী )

মাগুরায় হিন্দু বিবাহ আইন সংশোধনের প্রতিবাদে মানববন্ধন
প্রকাশ: ০৩:১১ pm ২৬-০২-২০১৬ হালনাগাদ: ০৩:২৩ pm ২৬-০২-২০১৬




মাগুরায় হিন্দু বিবাহ আইন সংশোধনের প্রতিবাদে মানববন্ধন


মাগুরা প্রতিনিধি : হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য তালাক আইন সংযোজনের হাইকোর্টের রিট রোহিত ও সিলেটে ধর্মীয় সভায় হামলাকারিদের শাস্তির দাবীসহ সংখ্যালঘুদের অধিকার নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দাবীতে মাগুরায় মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দুজোট মাগুরা জেলা শাখা।

আজ শুক্রবার দুপুরে শহরের চৌরঙ্গীর মোড়ে মানববন্ধন শেষে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য সংগঠনের জেলা সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা পরেশ কান্তি সাহা, সাধারণ সম্পাদক উত্তম বিশ্বাস, হাসি রানি বিশ্বাস,বলরাম বসাকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন- সম্প্রতি কিছু এনজিও হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী হিন্দু আইনের পরিপন্থীভাবে তালাক আইন সংযোজনের পরিকল্পনা নিয়েছে। এ জন্য একটি এনজিওর প্রধান এ্যাডভোকেট এলিনা খানসহ অশুভ চক্র হাইকোর্টে রিটসহ নানা কর্মকান্ড চালাচ্ছেন। অথচ কোন হিন্দু বা হিন্দু সংগঠন এমন কোন দাবী তোলেনি। তারা এটিকে হিন্দু সম্প্রদায়ের ইতিহাস ঐতিহ্যকে নিশ্চিহ্ন করার পায়তারা বলে দাবী করেন। তারা যে কোন মূল্যে হিন্দু আইনে তালাক আইন প্রবর্তন করতে দেয়া হবে না মর্মে সরকারকে হুশিয়ারি উচ্চারণ করে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

এইবেলাডটকম/অরুন/এএস

পঞ্চগড়ে এবার মন্দির ভাঙল দুর্বৃত্তরা

পঞ্চগড় প্রতিনিধি | ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে মঠের অধ্যক্ষকে হত্যার তিন দিন পরেই আটোয়ারী উপজেলায় মন্দির ভাঙার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার গভীর রাতে মলানী এলাকায় শ্রী শ্রী হরি মন্দিরের একাংশ ভেঙে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
মন্দির কমিটি সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মলানীর এলাকায় শ্রী শ্রী হরিমন্দিরের পাঁচটি স্তম্ভের  মধ্যে দক্ষিণ পশ্চিম কোণের একটি গতকাল মঙ্গলবার গভীর রাতে ভেঙে ফেলে দুর্বৃত্তরা।
মন্দিরের পাশেই স্থানীয় পূজা কমিটির সভাপতি রতন বিলাশ বর্মনের বাড়ি। তিনি বলেন, গভীর রাতে শব্দ শুনে বাড়ি থেকে বের হয়ে দেখি, মন্দিরের একটি স্তম্ভ মাটিতে পড়ে আছে। তবে কাউকে পালাতে দেখিনি। ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত মন্দিরটিতে সনাতন ধর্মের অনুসারীরা সব পূজা-অর্চনা করে আসছেন।
আটোয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মঠের অধ্যক্ষকে হত্যার পরপরই পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মো. গিয়াসউদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, ধর্মীয় সব প্রতিষ্ঠানে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।





Friday, February 19, 2016

"Migrants not convinced about Mamata's citizenship promise"-Hindustan Times 19/02/16

"Migrants not convinced about Mamata's citizenship 

promise"




Kolkata, Feb. 19 -- Day after CM Mamata Banerjee said she had written to the Centre seeking directions to authorise her district magistrates to grant permanent citizenship to Bangladeshi migrants, the leaders of the state's migrant community said the move was nothing but a poll gimmick.

Migrant leaders said if all settlers or people crossing over from across the border are granted citizenship without a careful scrutiny of their antecedents or bonafides, elements threatening national security would not only get a licence to set up base in the country, but disturb peace.

The migrant leaders pointed to the amendment to the Citizenship Act, 1955, in 2003, saying that Mamata Banerjee was not only an ally of the Vajpayee government at the time ...

"Mamata promises citizenship rights to Bangladeshis" -The Statesman 18/02/16


"Mamata promises citizenship rights to Bangladeshis"

SNS
| Kolkata | 18 February, 2016



title=

If Narendra Modi as the Prime Ministerial candidate, prior to the 2014 general elections, had pledged to push back the infiltrators across the Bengal-Bangladesh border to consolidate the Hindu voters, Mamata Banerjee as chief minister and chief ministerial candidate in 2016 Assembly election has vowed to give citizenship rights to Bangladeshis, who have stayed in Bengal for a minimum of five years.
"I will ask the Centre to authorise the district magistrates in granting citizenship cards to people, who have crossed over the border and have been residing here for five or more years," Banerjee said at a press conference after concluding the Cabinet meeting today.
According to her, the Centre is now the absolute authority in granting the citizenship card. Whether Ms Banerjee's sincere plea to the Centre would be heard is a matter of debate and deliberation, but the chief minister has made the right noise prior to the state Assembly election to woo a sizeable section of population, who enjoy all the rights of being a citizen, without holding the valid citizenship card.
There is no record as to what would be the size of the population, who would merit to receive the citizenship card, but during every election the areas, close to the borders, witnesses huge turn out of voters. Incidentally, over decades, immigrants have been casting votes with the help of epic cards and even hold ration cards.
Banerjee's desire to give them citizenship card amounts to legitimising their identity and right to exercise their franchise. When Banerjee was asked if she would write to the Centre in this regard, she remained noncommittal. That she had said, she thought, was enough.

Read more at http://www.thestatesman.com/news/bengal/mamata-promises-citizenship-rights-to-bangladeshis/124289.html#OtmmJ0C0cwLJLA7x.99

Wednesday, February 10, 2016

OUTCRY -Situation of Religious Minorities in Bangladesh ,February 2016

তরুন দত্তকে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম


গাইবান্ধা: গোবিন্দগঞ্জের ব্যবসায়ি তরুন দত্তকে (৫২) মস্তক বিচ্ছিন্ন করে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত ৮ ফেব্রুয়ারি সকালে শহরের বর্ধণকুঠি এলাকায় একটি ডোবার পাশ থেকে ব্যবসায়ি তরুন দত্তের মস্তকবিহীন মৃতদেহ ও ডোবা থেকে মাথা উদ্ধার করে পুলিশ।

এই বর্বর ঘটনার প্রতিবাদে রংপুর-বগুড়া মহাসড়ক অবরোধ করে স্থানীয় বনিক সমিতির সদস্যবৃন্দ ও বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী। আজ বুধবার সকাল সোয়া ১১ টা থেকে সোয়া ১২টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।

স্থানীয়রা জানান, গোবিন্দগঞ্জ বনিক সমিতির উদ্যোগে, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ ও বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী চতুরঙ্গ মোড় থেকে হাইস্কুল মার্কেট পর্যন্ত এলাকায় অবস্থান নিয়ে রংপুর-বগুড়া মহাসড়ক অবরোধ করে। এসময় তারা ব্যবসায়ি তরুন দত্তের হত্যার প্রতিবাদে ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেয়।
এ সময় বক্তব্য রাখেন, গাইবান্ধা-৪ গোবিন্দগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ, সাবেক এমপি লুৎফর রহমান চৌধরী, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার হোসেন আকন্দ, উপজেলা আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক জাকারিয়া ইসলাম জুয়েল, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আ. লতিফ প্রধান, ওয়ার্কাস পার্টির মতিন মোল্লা,৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলার রিমন কুমার তালুকদার, বনিক সমিতির সভাপতি নাজমুল হোদা প্রধান টুকু, সহ সভাপতি আবিদুল হক শেমাল, সাধারন সম্পাদক আখতার হোসেন জুয়েল, সহিদ প্রধান, আশীষ কুমার রন্টু, আ. লতিফ সরকার স্বপন, শামছুজোহা তালুকদার বেলাল, কাজী হোসাইন আহমেদ প্রমুখ।
বেলা সাড়ে ১২টার দিকে আন্দোলনকারীরা অবরোধ শেষ করে মিছিল নিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে যান। সেখানে ব্যবসায়ী তরুন হত্যার সকল খুনী ও জরিতদের ৭২ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতারের দাবী সহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে ৩ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি দেয়া হয়। অন্যথায় ধর্মঘট অবরোধ সহ বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে হুশিয়ারি দেন তারা।

এর প্রতিবাদে ওই  দিন শহরের সকল দোকানপাট বন্ধ রেখে দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত ধর্মঘট পালন করে স্থানীয় বনিক সমিতি। ওই দিন আজকের এ কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছিল বনিক সমিতি। নিহত তরুন দত্ত গোবিন্দগঞ্জ পৌর শহরের গোলাপবাগ বাজারের মৃত হীরেন্দ্র নাথ দত্তের ছেলে। তিনি বাড়ির সামনে দোকানে শিলপাটা ও ড্রাম-হার্ডওয়্যার সামগ্রীর ব্যবসা করতেন।

এদিকে পুলিশ এখন পর্যন্ত তরুন দত্তের হত্যাকারীদের সনাক্ত করতে পারেনি। মোবাইলে যোগাযোগ করলে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ফারুক হোসেন বলেন যে, ঘটনা সত্য। তবে এখনো কোন খুনীকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল জানান, অপরাধীদের খোঁজ চলছে। তাদেরকে দ্রুত গ্রেফতার করার চেষ্টা করছি।

নি আরও জানান, নিহতের স্ত্রী মিতা রানী দত্ত (৩৫) অজ্ঞাতনামা খুনীদের বিরুদ্ধে ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোডে মামলা করেছেন, যার নম্বর ১৫, ০৮/০২/২০১৬।

মিতা রানী দত্ত এইবেলার প্রতিনিধিকে বলেন, ‘আমার সব শেষ হয়ে গেছে। আমার দুটো নাবালক ছেলে আছে। আমরা দিন এনে দিন খাই। এখন আমরা কি করে বাঁচব?’



২০ হাজার সংখ্যালঘু নির্যাতন

কারও শাস্তি হয়নি ১৩ বছরে

২০ হাজার সংখ্যালঘু নির্যাতন
২০০১ সাল-পরবর্তী ১৩ বছরে দেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ২০ সহস্রাধিক ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়াও বাহাত্তর-পরবর্তী বিভিন্ন হামলা-নির্যাতনের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৬ শতাধিক সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন, আহত হয়েছেন ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষ। এর মধ্যে প্রায় ১২ হাজার পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। সংঘবদ্ধভাবে হামলা, নির্যাতন, লুটতরাজের ঘটনায় লক্ষাধিক সংখ্যালঘু সদস্য নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে বলে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের এক প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে। ২০০১-০৬ মেয়াদ পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শাসনামলে সংঘটিত সর্বাধিক বর্বরোচিত নৃশংসতা তদন্তের জন্য গঠিত কমিশনের একাধিক রিপোর্টেও সংখ্যালঘু নিপীড়ন-নির্যাতনের নানা চিত্র ফুটে ওঠে। সংখ্যালঘু পল্লীগুলোয় ৫ সহস্রাধিক হামলার ঘটনায় দোষীদের চিহ্নিত করা হলেও কাউকেও শাস্তির আওতায় নেওয়া যায়নি। ফলে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজের ঘটনা বেড়েই চলেছে। হামলা, লুটপাট, ধর্ষণের পাশাপাশি বেপরোয়াভাবে হত্যাকাণ্ডও সংঘটিত হয়েছে। সেসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়ও দোষীদের কারও শাস্তি নিশ্চিত করা যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। নিছক জমিজমা দখল ও লুটতরাজের উদ্দেশ্যে সংঘবদ্ধ চক্র নৃশংসতা ঘটিয়েও তাতে রাজনৈতিক প্রলেপ লাগিয়ে ধামাচাপা দিতে সক্ষম হয়েছে। কখনো ব্যক্তিবিরোধকে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় রূপ দেওয়ার মতো ভয়াবহতাও ঘটেছে বিভিন্ন স্থানে। এতে হামলা, ভাঙচুর, লুটতরাজের শিকার হিন্দু পরিবারগুলো আরও বেশি নৃশংসতার মুখে পড়ে নিঃস্ব অবস্থায় এলাকা ছাড়তেও বাধ্য হয়। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার গঠনের পর সারা দেশে সংখ্যালঘুদের ওপর যে ভয়াবহ নির্যাতন নেমে আসে তা কল্পনাতীত। আওয়ামী লীগ সরকার আমলে গঠিত তদন্ত কমিশন ৫ হাজার ৫৭১টি অভিযোগ পায়। ২০০১ সালের অক্টোবর থেকে ২০০২ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাওয়া অভিযোগের সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৬২৫টি। এর মধ্যে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ৩৫৫টি এবং লুটপাট, অগি্নসংযোগ, ধর্ষণ, গণধর্ষণ, গুরুতর আঘাত, চিরতরে পঙ্গু করা, সম্পত্তি দখল ও অন্যান্য গুরুতর অভিযোগ ৩ হাজার ২৭০টি। ধর্তব্য নয় উল্লেখ করে ১ হাজার ৯৪৬টি অভিযোগ বাতিল করারও ঘটনা ঘটে। তদন্ত করা ৩ হাজার ৬২৫টি ঘটনায় ১৮ হাজারেরও বেশি লোক জড়িত বলে চিহ্নিত হয়। ২০০১ সালে নির্বাচনোত্তর সহিংসতায় যেসব ব্যক্তির ওপর হামলা, লুটপাট, গণধর্ষণ করা হয়েছিল, তারা থানায় বা আদালতে অভিযোগ দায়ের পর্যন্ত করতে পারেননি। কেউ অভিযোগ করতে পারলেও রাজনৈতিক কারণে তদন্ত হয়নি। রাষ্ট্রীয় আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে সংখ্যালঘুদের ওপর বর্বরোচিত নির্যাতন-সন্ত্রাস চালিয়েই ক্ষান্ত ছিলেন না সংশ্লিষ্টরা। জোট সরকারের আমলে হামলা-সন্ত্রাস লুটতরাজসহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাবলিকে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়ে ৫ হাজার ৮৯০টি মামলা প্রত্যাহারও করা হয়। ফলে এসব মামলার ১২ হাজার অপরাধী শাস্তি ছাড়াই বীরদর্পে ঘুরে বেড়াতে থাকে। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে সেসব অপরাধী আবারও সংখ্যালঘু নির্যাতনের হোলিখেলায় মেতে উঠেছে। বর্তমান আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের শেষ চার মাসে আরও প্রায় দেড় হাজার হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটিয়েছে চিহ্নিত দুর্বৃত্তরা। বিভিন্ন সময়ে হামলা-অত্যাচারের নির্মমতায় ভুক্তভোগীরা জানান, রাজনৈতিক পালাবদল, প্রতিহিংসা, সহায়-সম্পদ জবরদখলের লোভ আর নানা কূটকৌশলের ঘুঁটি হিসেবে বারবার সংখ্যালঘুরা নৃশংসতার শিকার হন। ২০০১ সাল থেকে শুরু করে যুদ্ধাপরাধ বিচারবিরোধী আন্দোলন পর্যন্ত হামলার শিকার হয়েছেন সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়সহ পাহাড়ি নৃতাত্তি্বক জনগোষ্ঠীর মানুষ। এ সময়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটতরাজ, অগ্নিসংযোগের ২০ সহস্রাধিক ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় সংখ্যালঘুদের জানমালের বেশুমার ক্ষতিসাধন হয়েছে। তথ্যানুসন্ধানে দেখা যায়, দুই শতাধিক এলাকায় মুসলমানদের পাশাপাশি খ্রিস্টান, বৌদ্ধসহ অন্য ধর্মাবলম্বীদের অবস্থান থাকলেও সারা দেশেই কম-বেশি বসবাস রয়েছে হিন্দুদের। এর মধ্যে ৭৮টি পয়েন্ট স্পর্শকাতর স্থান হিসেবে চিহ্নিত। এসব স্থানে পান থেকে চুন খসলেই হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রামের রাউজান, গহিরা, সাতকানিয়া, হাটহাজারীসহ ২৩ গ্রামে সংখ্যালঘুদের ভাগ্য নির্ধারণ হয় সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও তার সহযোগীদের মর্জিতে। আওয়ামী লীগ জয়লাভ করলেও তাদের ওপর হামলা ও নির্যাতন চলে, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার গঠন করলেও নেমে আসে নির্যাতনের বিভীষিকা। যুদ্ধাপরাধ বিচার চলাবস্থায়ও এসব গ্রামে জামায়াত-শিবির নৃশংসতা চালায়, আবার কাদের মোল্লার ফাঁসি হওয়ার পরও আক্রমণ চলে সেখানে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী বিএনপি ছেড়ে নতুন দল গঠনের প্রাক্কালেও রাউজানের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত গ্রামগুলোয় হামলা, ভাঙচুর, লুটতরাজসহ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীরা জানান, কতিপয় রাজনৈতিক দল এমনকি ব্যক্তিকেন্দ্রিক দাবি-দাওয়া নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করতেও সংখ্যালঘু পরিবারগুলোর ওপর জ্বালাও-পোড়াওয়ের নৃশংসতা চাপিয়ে দেওয়া যেন রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। একাত্তর-পরবর্তী অন্তত ১০ দফা হামলার শিকার গহিরার নির্মল চন্দ্র দাস বলেন, সংখ্যালঘু পরিবারে জন্ম নেওয়াটাই আজন্মের পাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শাঁখের করাতের মতো বারবার আমাদের কেটে রক্তাক্ত করা হচ্ছে। জোট সরকারের মদদে সন্ত্রাসীরা হত্যা, গুম, মারাত্দক আহত করা, চাঁদাবাজি, লুটপাট, ডাকাতি, নারীর শ্লীলতাহানি, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, ধর্মান্তরকরণ- এ পদ্ধতিগুলোকে সংখ্যালঘু ও ভিন্নমতাবলম্বীদের নিপীড়ন করার জন্য ব্যবহার হয়ে থাকে। ২০০১ সাল-পরবর্তী সংখ্যালঘুরা আইন ও প্রশাসনের আশ্রয় নিতে চাইলেও কোনো ফল পায়নি বরং নিপীড়নের মাত্রা বেড়েছে।অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০০১ সাল ও এর কাছাকাছি সময়ে দেশের ২৮টি জেলায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজন হামলা ও নির্যাতনের শিকার হতেন। কিন্তু ২০১২-১৩ সালে নির্যাতনের পরিধি বেড়েছে। দেশের ৪৩ জেলায় ব্যাপক হারে নির্যাতন ঘটে চলেছে। এর মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩৬ সংখ্যালঘু সদস্য। সাম্প্রতিক সহিংসতায় ৪৩ জেলায় সংখ্যালঘুরা আক্রমণের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম, কঙ্বাজার, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, গাইবান্ধা, সিলেট, মৌলভীবাজার, ঠাকুরগাঁও, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, জয়পুরহাট, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নেত্রকোনা, গাজীপুর, বরিশাল, দিনাজপুর, চাঁদপুর, খুলনা, মুন্সীগঞ্জ, রংপুর, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা, শেরপুর, জামালপুর, সুনামগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, ফেনী, নাটোর, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, ঝিনাইদহ ও রাজশাহী। তবে কয়েকটি জেলায় মুসলিম জনগোষ্ঠীর মানুষও নিহত এবং তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সরকারি দফতর, যানবাহন অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের শিকার হয়েছে। এসব ঘটনায় সংখ্যালঘু চারজন নিহত হয়েছেন। তারা হলেন চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বৃদ্ধ দয়াল হরিশীল, সিলেটের জগৎ জ্যোতি তালুকদার, মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দাসের বাজার ইউনিয়নের সুশীল বিশ্বাস এবং নোয়াখালীর প্রকৌশলী সুমন ভৌমিক। অন্যান্য সময় সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা বাধা হয়ে দাঁড়াতেন। কিন্তু গত চার মাসে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের অনেক ক্ষেত্রেই নিষ্ক্রিয় ভূমিকায় থাকতে দেখা গেছে। সিরাজগঞ্জ, খুলনা, যশোর, নরসিংদী, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ কয়েকটি স্থানে আওয়ামী লীগের স্থানীয় পর্যায়ের নেতা-কর্মীরাই সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত ছিলেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। মহাজোট সরকারের গত মেয়াদে ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের রামুতে ১২টি বৌদ্ধ বিহারে এবং ৩০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থানে বৌদ্ধ ও হিন্দু জনগোষ্ঠী ও তাদের উপাসনালয়ের ওপর তাণ্ডব চালানো হয়। রামুতে বৌদ্ধ মন্দির, মঠ পুড়িয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। বান্দরবানে বৌদ্ধ মন্দির ও সংলগ্ন বৌদ্ধপল্লী হামলার শিকার হয়। এ ছাড়া মুন্সীগঞ্জ, বাগেরহাট, যশোর, সাতক্ষীরা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও গফরগাঁওয়ে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলায় প্রায় ৪০০ নারী-পুরুষ আহত হয়। দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর এলাকা খ্যাত পিরোজপুরের বিভিন্ন স্থান সংখ্যালঘুদের জন্য রীতিমতো মৃত্যুপুরী হয়ে উঠেছে। সাতক্ষীরার বেশির ভাগ গ্রামাঞ্চল সংখ্যালঘুদের জন্য বিপজ্জনক হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে। সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন প্রসঙ্গে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান বলেন, রাজনীতির ধরন না বদলালে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করা যাবে না। সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করতে হলে সর্বস্তরে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
Source- http://www.bd-pratidin.com/



শিশু কন্যা নির্যাতনের অভিযোগে এনজিও কর্মী গ্রেফতার

কাহারোল (দিনাজপুর) ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০১৬ ইং
শিশু কন্যা নির্যাতনের অভিযোগে এনজিও কর্মী গ্রেফতার

দিনাজপুরের কাহারোলে এনজিও কর্মী কিস্তির টাকা তুলতে গিয়ে শিশু নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, কাহারোল উপজেলার ৫নং সুন্দরপুর ইউনিয়নের কমলপুর গ্রামে ৯ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার বীরগঞ্জ এলাকার গ্রাম বিকাশ কেন্দ্র এনজিওর কর্মী মো. আহসান হাবীব ঋণের টাকার কিস্তি তুলতে যায়, আরতি রানী নামের এক সদস্যার বাড়িতে। কিস্তির টাকা না পেয়ে, কর্মী আহসান হাবীব আরতী রানীকে মোবাইল করলে, আরতী রানী বলে যে, আমি দুরে কাজে আছি বাড়িতে টাকা রেখে এসেছি। এই কথা শুনে এনজিও কর্মী আহসান হাবীব আরতী রানীর বাড়িতে টাকার জন্য গেলে, বাড়িতে তার মেয়ে ছাড়া কাউকে দেখতে না পেয়ে সে আরতীর মেয়ে (১০) কে কিস্তির টাকা দিতে বলে। মেয়েটি সেই মুহুত্তে স্কুলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঐ অবস্থায় ঘরে ঢুকে বিছানার নিচ থেকে টাকা এনে এনজিও কর্মীর হাতে দেয়। সেই সময় হঠাৎ করে এনজিও কর্মী আহসান হাবীব মেয়েটির মুখ চেপে ধরে ঘরের ভিতরে নিয়ে গিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রতঙ্গে হাত দেয় এবং কাউকে না বলার জন্য বিভিন্ন প্রকার লোভ দেখায়।
এই ঘটনা ঘটিয়ে আহসান হাবীব বীরগঞ্জ উপজেলার পাল্টাপুর গ্রামে কিস্তির টাকা তুলতে চলে যায়। কিছুক্ষন পর ঘটনাটি জানাজানি হলে, মেয়েটির আত্মীয়-প্রতিবেশিরা আহসান হাবীবের খোজ পেয়ে পালটাপুর গ্রামে গিয়ে দেখতে পেলে তাকে আটক করে রাখে এবং কাহারোল থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনা স্থলে গিয়ে এনজিও কর্মী আহসান হাবীবকে গ্রেফতার করে কাহারোল থানায় নিয়ে আসে।
এই ব্যাপারে কাহারোল থানায় মেয়েটির মা আরতী রানী বাদী হয়ে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন/৩) এর ১০ ধারা মতে মামলা দায়ের করেন।

ব্যবসায়ী অরুণ দত্ত হত্যা

 গাইবান্ধা, ১০ ফেব্রুয়ারি ॥ Janakantha
গোবিন্দগঞ্জের ব্যবসায়ী অরুণ দত্তের খুনীদের গ্রেফতারের দাবিতে রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক ঘণ্টাব্যাপী অবরোধ করে রাখেন বিক্ষুব্ধ ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী। এ সময় মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেয় জনতা।
স্থানীয় বণিক সমিতির উদ্যোগে বুধবার সকালে নিহত ব্যবসায়ী অরুণ দত্তের নিজবাড়ি পৌরশহরের ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের সামনে সড়ক অবরোধ করে রাখা হয়। বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসেন জুয়েল বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি আরও জানান, এর আগে মানববন্ধন পালন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট স্মারকলিপি পেশ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার সকাল ৮টার দিকে গোবিন্দগঞ্জ পৌরশহরের কলেজ রোড়ের বর্ধনকুটি এলাকার একটি ডোবা থেকে ব্যবসায়ী অরুণন দত্তের মাথাহীন লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
গুলি করে টাকা ছিনতাই

আইনে তালাক চান না হিন্দু নারীরা

feb 2016
মৃদুভাষণ ডেস্ক :: হিন্দু বিবাহ আইনে তালাক ব্যবস্থা সংযুক্ত করতে মানবাধিকার কর্মী এলিনা খানের হাইকোর্টে রিট বাতিল এবং আইনে তালাক ব্যবস্থা সংযুক্ত না করতে মানবন্ধন করেছে বাংলাদেশ হিন্দু মহিলা জোট।

রোববার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে তালাক ব্যবস্থা চালু না করার জন্য তিন দফা দাবিতে এ মানবন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, হাজার হাজার বছর ধরে অবিকৃতভাবে চলমান শান্তিপূর্ণ পরিবার ব্যবস্থায় দুটি মানুষ একত্রিত হয়। হিন্দু নারী পুরুষের জীবনে আসে অর্ধাঙ্গিনী হিসেবে, তাকে বিচ্ছিন্ন করা যায় না। এমনকি স্বামীর থেকে পৃথক থাকলেও নারীর ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

বক্তারা পারিবারিক বিচ্ছেদকে এনজিওর প্ররোচনা উল্লেখ করে বলেন, দুশ্চরিত্র স্বামী, অবৈধ বিবাহ, রাষ্ট্রদ্রোহী, দীর্ঘদিন প্রবাসে বা পুরুষত্বহীন হলে স্ত্রী তাকে পরিত্যাগ করতে পারে এর জন্য নতুন আইনের প্রয়োজন নেই। তাই মানবন্ধন থেকে এনজিওর বিরুদ্ধে আইন করার এবং তালাক ব্যবস্থা হিন্দু আইনে অন্তর্ভুক্ত না করার দাবি জানানো হয়।

সংগঠনটির সভাপতি ড. সেলিনা দত্তের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানবন্ধনে বক্তব্য রাখেন হিন্দু মহিলা জোটের নির্বাহী সভাপতি প্রীতিলতা বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট প্রতিভা বাগচী, বিথী দত্ত, হিন্দু মহাজোটের সভাপতি দেবাশীষ মণ্ডল, মহাসচিব অ্যাডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রমুখ।
../news_img/2016_02_14_14_59_26_ZjtWUwEUlkZXtiHerRABdS6tQ5y0sk_original.jpg







Hindu fishermen attacked on 23.01.16, pregnant women aborted due to kick on her belly because Hindus fishing in the river.....

Hindu fishermen attacked on 23.01.16, pregnant women 
aborted due to kick on her belly because Hindus fishing
 in the river. Five Innocent minority people including
 women and children were severely injured, sexually 
assaulted by Muslim perpetrators at Dinajpur district.

Case number:
 Khansama P.s case No.01, dated 01.02.2016 under section 143/447/323/307/313/354/379/427/114 of penal code.
Country: 
Bangladesh
Type of Violation: 
Physical Violence against man and women, looting fish-nets and boats.
Violation of Rights: Right to integrity, right to life and properties
BDMW Contact person: Adv. Rabindra Ghosh
Date of investigation: 6th February, 2016
Investigation conducted by: Bangladesh Minority Watch (BDMW) Dinajpur : Mr.Kamal Kanta Karmaker, Mr.Shymol Banarjee,Mr. Gouranga Roy, Mr.Biraj Basak, Mr.Harun-ar-Rashid Talukder, Mr.Joyanta Das, Mr.Julias Murmu,
1. Identity of the victim:
Name: 1) Shree Rahin Chandra Roy (35), 2) Vetol Das (40), 3) Ms. Arun Bala Das (30), 4) Kutharu Das (48), 5) Bhavesh Das (32), 6) Dalim Das (35), ( All victims are seriously injured)
Age at the time of event: Multiple
Under 18: No
Citizenship: Bangladeshi
Home address: Village: Khamarpara- within Khansama Upazila of Dinajpur District. Bangladesh
Consent: Yes
2. Date and place of event:
Date: 23.01.2016 Village: Khamarpara-Malijalghat of Khansama Upazila. (Khamarpara Union No.4)
Location: 3 kilometres away from Local Police station within Khansama Police station, Dinajpur District.
3. Alleged perpetrator(s):
(1) Mohammad Pintu Sarkar (55) son of Sultan Sarkar, 2) Mohammad Rahimuddin (40) 3) Mohammad Mustafa, all sons of Suruzzaman, 4) Mohammad Salimuddin (35) 5) Mohammad Ata (30) sons of Ismail Hosssin. Meah, , 6) Mohammad Nasiruddin (40)) son of Suruzzaman, 7) Mohammad Amir Ali (45), son of not known, 8) Mohammad Dulu (35), son of Md.Sanaullah, 9) Mohammad Korban Ali (50), 10. Md. Sukkur Ali (32), 11) Mohammad Abul Siddique (28), 12) Mohammad Siddique (33), All sons of Pamusha Mohammad 13) Mohammad Saiful (30) son of not known, 14) Mohammad Nuru (35), son of not known, 15) Mohammad Bakkar (30) son of not known, 16) Akbar Ali (37), son of not known. 17) Mohammad Iman Ali (42) son of not known. 18) Mohammad Rafiqul( 38) son of not known, 19) Mohammad Saidul (40), son of not known, 20) Mohammad Chand Meah (26) son of Md. Siddique, 21) Chand Mohammad (40) son of not known.
4. Legal status:
Sree Polwan Das lodged F.I.R. being Khansama P.s case No.01, dated 01.02.2016 under section 143/447/323/307/313/354/379/427/114 of penal code against 21 perpetrators. Police could not arrest any perpetrators till writing of this report. Rather perpetrator lodged false allegation against minority victims at Birgonj police station being case No.18 dated 26.01.2016 under section 15(3)/16(2) of Special Powers Act,1974 to counter the case terrorising them to leave the country.
5. Case Summary: 
On the date of attack on 23.01.2016 about 12 noon, all perpetrators most illegally equipped with iron rods, ballam,hasua, dao,lathi etc. jumped over the victims, started to beat mercilessly while they were fishing fishes in the Atrai River legally empowered by Co-operative Society vide the registration No.366 and amended No.8 giving tax to Government. As a result of abrupt attacks 5 fishermen (victims) were injured, their three fishing nests amounting to Taka 90,000/- were looted, thereafter they had been taken to nearest Medical Health Complex. The pregnant women named Ms.Arun Bala (30) wife of Polwan Das was seriously assaulted by perpetrators, result of scuffling & kick the unborn child within the womb Ms.Arun Bala died at the Hospital on 29.01.2016 during medical treatment. Mohammad Sharifiqul Islam, Sree Mondal Roy, Shree Jharu Roy, Shree Sailen Das, Shree Sawpan Das and others witnessed the incident of attack on minority fishermen. No perpetrators arrested.
On the contrary police entertained false criminal case No.18 dated 26.01.2016 from perpetrator No.4 Mohammad Salimuddin against minority victims under section 15(3)/16(2) of Special Powers Act, 1974 with a view to render those victim to quit Bangladesh.
Since these attacks on Ms.Arun Bala was brutal, she has been transferred to Pakerhat Upazila Health Complex and the said pregnant women aborted due to abrupt attacks.
6. Investigation: 
Bangladesh Minority Watch team located at Dinajpur consisting Kamal Kanta Karmaker, Shymol Banarjee, Gouranga Roy, Biraj Basak, Harun-ar-Rashid Talukder, Joyanta Das, Julias Murmu rushed to the spot on 6th Feb, 16 at about 4 p.m. and took statements of victims who expressed their man-made sufferings & described how they have been physically tortured by those perpetrators that led to abortion of child on pregnant women. BDMW team enquired about how those fishermen were assaulted and how women were aborted due to attack. The team also testified the witnesses corroborated by victim women her and all the statements were video recorded. Bangladesh Minority Watch also enquired about the case No. 18 dated 26.01.2016 filed by perpetrator against minority victims is after thought & fabricated.
6. Recommendations: 
Bangladesh Minority Watch is very much concerned about sudden attack on innocent Hindu fishermen at Khamarpara - Malijalghat of Dinajpur District and we demand:
1) immediate arrest of perpetrators responsible for crime and bring them to justice under the law.
1) The case registered within Khansama police station under the penal code is not proper and adequate. The offense committed by perpetrators against women is not tri able by local courts; this should have been done under the special law “Women and Children Repression Act”. The officer in charge should be asked to amend the case as per proper section of law.
2) Torture upon women and children should be investigated by the judicial officer not below the rank of District and Sessions Judge as the unborn child within the womb of women died.
3) Compensation be awarded to minority victims for their medical support who became traumatized due to attack and abortion.
4) The Minorities should be rehabilitated as per domestic and international law.
5) Freedom of religion and belief should be established.
6) The false counter case against minority victims at Birgonj P.S. should be withdrawn and the case filed by victim Polwan Das on 26.01.2016 should be taken into consideration.
7. Action: 
Bangladesh Minority Watch at Dinajpur met with Superintendent of Police, Dinajpur, Oficer in Charge of Khansama police station and apprised the situation and they demanded proper and legal action against the perpetrators responsible for crime and humanity. The superintendent of Police assured the cases to be conducted without any discrimination. The bail of the victims in a false case has been granted by the court because the court deemed the case is absolutely fabricated. The lawyer of BDMW has become successful in obtaining bail of the minority victims.
8. Case Documents: 
Document: Copy of F.I.R. Photo, Medical certificate, report.
Date: 9th Feb,2016;