Monday, March 21, 2016

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুর মানবাধিকার পরিস্থিতি ২০১৫

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুর মানবাধিকার পরিস্থিতি 

২০১৫

বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত নিরীহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর হামলা, মিথ্যা মামলা, নির্যাতন, অপহরণ, ধর্ষণ, ধর্মান্তরিতকরণ, লুণ্ঠন, ভূমি থেকে উচ্ছেদ ও জবরদখল, অগ্নিসংযোগ, গুলি এমনকি গলাকেটে কিংবা আগুনে পুড়ে মানুষ ও গবাদিপশু হত্যার মত নির্মম ঘটনা সংগঠিত হচ্ছে। গত ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬, রবিবার পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জে এরকম একটা অতর্কিত পরিকল্পিত হামলা ও হত্যার সংবাদ ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারলাম। আক্রমণকারীরা সকাল বেলা শ্রী শ্রী সন্ত গৌড়ীয় মঠের অধ্যক্ষ শ্রী যজ্ঞেশ্বর রায় দাসাধিকারীকে গলায় ছুরি চালিয়ে হত্যা করেছে। হত্যাকাণ্ড চালানোর সময় তা দেখে ফেলে গোপাল চন্দ্র রায় নামে মন্দিরের আর এক ভক্ত সেবক। আর যায় কোথা! দুর্বৃত্তরা হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁকেও লক্ষ্য করে গুলি চালায়। দৌড়ে পালানোর সময় বাম হাতের কনুইয়ে দুটি গুলিবিদ্ধ হয়ে দৈবাৎ সে প্রাণে বেঁচে যায়। বর্তমানে তিনি রংপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। খুনের ঘটনা দু’দিন পার না হতেই আটোয়ারী উপজেলায় আবার মন্দির ভাঙ্গার খবর পেলাম। প্রতিদিনই কোন না কোন স্থানে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বা তাঁদের সমর্থকদের উপর আক্রমণের খবর আসছে।
ইহা কিসের আলামত বা লক্ষণ তাহা বুঝিবার জন্য কি ডক্টরেট ডিগ্রীর দরকার হয়? যদিও সশস্ত্র উপায় বিশ্বব্যাপী ইসলামী খেলাফত প্রতিষ্ঠার জন্য নিবেদিত আই.এস. নামের সংগঠন থেকে এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে তাঁদের ওয়েবসাইটে প্রচার চালাচ্ছে বলে পত্রিকান্তরে প্রকাশ। কিন্তু, মজার ব্যাপার হল, বাংলাদেশের সরকার ও পুলিশ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক তা অস্বীকার করছে। যে সমস্ত মুক্তচিন্তার লেখক, প্রকাশক, আস্তিক, নাস্তিক, ছাত্র, শিক্ষক, শিল্পী, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, আইনজীবী, বিদেশী, হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃস্টান, শিয়া, বা বিধর্মী যে কোন মানুষ পরিকল্পিত খুন হচ্ছে তার সাথে আই.এস. এর সংশ্লিষ্টতা সরকার খুঁজে পায় না অথবা তার কোন প্রকার অস্তিত্ব থাকার কথা স্বীকার করতে রাজী না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী বলে দাবীদার সরকার পক্ষের লোকেরা সমস্বরে এসমস্ত সহিংস ঘটনা ও হত্যাকান্ড সমূহকে “বিচ্ছিন্ন” ঘটনা বলে রটনা চালিয়ে তাঁরা তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছেন। তবে, কার ভয়ে বা কাকে খুশি করার জন্য এই অস্বীকার চলছে, তা আমার বোধগম্য নয়। বাংলাদেশ সরকার সংসদে কোন প্রকার আলোচনা ছাড়াই আমেরিকার মদদপুষ্ট সৌদি রাজতন্ত্রের নেতৃত্বে গড়া সামরিক জোটের সাথে গাঁটছড়া বেঁধেছে। তারই ফলশ্রুতিতে একতরফা আই.এস. এর সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে অস্বীকার করার পেছনের কারণ কিনা – কে জানে?
মনে পরে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের কথা। তখন সারাদেশের হিন্দুরা আতঙ্কগ্রস্ত ছিল। প্রাণ বাঁচাতে তাঁরা দিগ্বিদিক ছুটে বেড়িয়েছিল। কেউ কেউ দেশান্তরিত হয়েছিল। ত্রিশ লক্ষ শহীদের মধ্যে পচিশ লক্ষের মত হিন্দু নাগরিক ছিল। তখন পাকিস্তানী সেনাবাহিনী আর ওঁদের দোসর রাজাকার, আলবদরদের ভয়ে সারাদেশের হিন্দুরা বাড়িঘর ছেড়ে প্রাণের ভয়ে জংগলে জংগলে আত্মরক্ষার জন্য নয় মাস পালিয়ে বেড়িয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের ফলে আমিও আমার পরিবার পরিজন থেকে বিচ্ছিন ছিলাম। সম্ভবত মে মাসের শেষ দিকের কথা। পাক সেনাবাহিনীর আক্রমণের মুখে টিকতে না পেরে পলায়নরত অবস্থায় একটা সাঁকো পার হচ্ছিলাম। আমার বাবাও সেই সাঁকো পার হচ্ছিলেন। পথিমধ্যে এক মিনিটের জন্য তাঁর সাথে সাক্ষাৎ ও কথা হয়েছিল। তাঁকে প্রনাম করতেই তিনি আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেছিলেন। বলেছিলেন, “আমার মন বলেছে, তুমি বেঁচে আছ।” নয়মাসের মধ্যে শুধুমাত্র ঐ এক মিনিটের সাক্ষাৎ ঘটেছিল। যা আজও আমার স্মৃতিতে জাগরূক আছে। আমার বৃদ্ধ পিতা, আমার বোনদের নিয়ে কিভাবে, কোথায় আত্মরক্ষা করে ছিলেন, সে প্রশ্নও জিজ্ঞাসা করিনি। তাঁদের দুঃসহ জীবনের অব্যক্ত করুণ কাহিনী সেদিন শুনতে চাইনি। ভেবেছিলাম, শত্রুমুক্ত করে পরে একদিন হয় জেনে নেব। কিন্তু সে ভাগ্য আমার আর কোনোদিন হয়নি। সে কথা মনে করে আজও আমার বুকের মধ্যে দুমড়ে ওঠে। গভীর রাতে ঘুমের মধ্যে এখনও চোখের জল ঝড়ে। আমি কত বড় উম্মাদ ছিলাম যে, দেশোদ্ধারের নেশায় জন্মদাতা পিতার একমাত্র পুত্র সন্তান হয়েও তাঁর বিপদের সময়ে পাশে থাকিনি। আমার রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়স্বজনদের কাছে থাকিনি। তাঁদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা না করে, খোঁজ না নিয়ে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিলাম। হায়রে আমার কপাল, তা কি এমন বাংলাদেশের জন্য!!
স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক আদিবাসী ভাইবোনেরাও প্রাণের ভয়ে মাঝে মাঝে গহীন জঙ্গলে আত্মগোপন করে। সেনাশাসন অধ্যুষিত পার্বত্য চট্টগ্রামে উড়ে এসে স্থায়ীভাবে জুড়ে বসা বাঙ্গালী দখলকারীদের সংঘবদ্ধ কিংবা যৌথ আক্রমণের ভয়ে তাঁরা পালিয়ে বাঁচার চেষ্টা করে। এবারের একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে খাগড়াছড়িগামী বাস থেকে আদিবাসী চেহারার লোকদের নামিয়ে তাঁদের উপর অকথ্য নির্যাতন চালানো হয়। [নেপথ্যে আমার স্বচক্ষে দেখার কথা স্মরণে আসে, একাত্তরে বাস থেকে নামিয়ে লোকদের সারিবদ্ধ দাড় করিয়ে কাপড় তুলে খৎনা করা আছে কিনা পরীক্ষা হত; আর এখন চেহারা দেখে আদিবাসীদের নামিয়ে নেয়া হচ্ছে। তখন খোঁজা হত হিন্দু; আর এখন হচ্ছে আদিবাসী] দুর্বৃত্তদের আক্রমণ ও নির্মম নির্যাতনের ফলে কেউ কেউ লাশে পরিনত হয়েছে বলেও শোণা গিয়েছে। একজন আদিবাসীর ঠিক মাথার তালুর উপর কুঠারঘাতে কাঠ কাটার মত ক্ষত করার বীভৎস এবং লোমহর্ষক একটা ছবিও পত্রিকাতে দেখেছি। প্রান্তিক ধর্মীয় ও জাতীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, মামলা, অপহরণ, ধর্ষণ, হত্যা, মন্দির, প্যাগোডা ধ্বংস, প্রতিমা ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, জায়গাজমি দখলের খবর কোন নতুন ঘটনা নয়। ২০১০ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের এগারোটি আদিবাসী পল্লীতে অগ্নিসংযোগে ভস্মীভূত করা হয়েছিল। বেসরকারি হিসেব ও তথ্য অনুযায়ী, সেদিনের ঘটনায় সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় সেটেলার বাঙ্গালীরা জড়িত ছিল। তাঁরা ৭৫০টি পরিবারের আবাসগৃহ পুড়ে ছাই করার মাধ্যমে আদিবাসীদেরকে তাঁদের ভূমি থেকে উচ্ছেদের এই তাণ্ডবলীলায় লিপ্ত হয়েছিল। পাক সেনাবাহিনীর ন্যায় বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর অনেক সদস্যদের কামনা ও লালসার শিকার হয়ে কতো অসহায় আদিবাসী যুবতী নারী, ললনার সম্ভ্রম ও সতীত্ব এযাবত বিনষ্ট হয়েছে, তার হিসেব কে রাখে? পাহাড়ে ও সমতলে বসবাসকারী ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জীবন অনেকটাই সিনেমার ছন্দময় জনপ্রিয় গানের কলির মত, যার খবর কেউ রাখেনা। পত্রিকার পাতায় প্রকাশ পায় না। “তুমি কি দেখেছ কভু জীবনের পরাজয়, দুঃখের দহনে করুণ রোদনে তিলে তিলে তার ক্ষয়। প্রতিদিন কত খবর আসে যে কাগজের পাতা ভরে, জীবন পাতার অনেক খবর রয়ে যায় অগোচরে। স্বার্থের টানে প্রিয়জন কেন দূরে সরে চলে যায়, ধরণীর বুকে পাশাপাশি তবু কেউ বুঝি কারো নয়…।”
পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় আদিবাসীরা যুগ যুগ ধরে শান্তিতে বাস করে আসছিল। কিন্তু বাংলাদেশের সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় মূলত পাহাড়ের আদিবাসীদের জীবনে চরম অন্ধকার নেমে আসে। যুগ যুগ ধরে ভোগ দখলকৃত সম্পত্তি থেকে যখন তাঁদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ করে বাঙ্গালীদের পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া চালু হয়, তখন থেকেই এই অশান্তির সূত্রপাত। অপ্রত্যাশিতভাবে সেনাবাহিনী ও বাঙ্গালী সেটেলারদের দ্বারা আদিবাসীরা আক্রান্ত হতে থাকে। এরকম পরিস্থিতিতে আদিবাসীরা তাঁদের মানসম্ভ্রম এবং আত্মরক্ষার জন্য “পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি” নামে একটি সংগঠন গড়ে তুলেছিল। প্রয়োজনে অনাহুত আক্রমণ মোকবেলা করার জন্য “শান্তি বাহিনী” নামে একটা সশস্ত্র শাখাও তাঁরা গঠন করেছিল। সমস্যার স্থায়ী শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর সরকার ও জনসংহতি সমিতির মধ্যে একটা সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সরকার পক্ষ থেকে আজও পর্যন্ত চুক্তির অনেক শর্ত পূরণ করেনি। ফলে, স্থিতিশীলতার পরিবর্তে দখলদার বাঙ্গালীদের হিংস্রতার শিকার হয়ে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও আদিবাসী সম্প্রদায় নিগৃহীত হচ্ছে।
অথচ, এমন তো হওয়ার কথা ছিলনা। ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের মত মাথা উঁচু করে মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার আকাংখা নিয়ে আমরা সবাই সেদিন মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম। সেদিনের গানের কলি ছিল, “আমার এ দেশ সব মানুষের, সব মানুষের – কুলি আর কামারের, চাষা আর মজুরের…হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খৃস্টান এক দেশ সকলের…।” অথবা, “বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা, আজ জেগেছে এই জনতা…।” কোথায় হারিয়ে গেল আমাদের সেই অসাম্প্রদায়িক ধর্মনিরপেক্ষ সমাজের প্রতিশ্রুতি? দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালনের পরিবর্তে আজ ব্যভিচার, সামাজিক বৈষম্য এবং সবল কর্তৃক দুর্বলের উপর অত্যাচার, বিচারহীনতার সংস্কৃতির ফলে জীবন ধারণের অধিকার বঞ্চিত হয়ে কত মানুষের স্বপ্ন সাধ আহ্লাদ যে ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছে, তার খবর কে রাখে? আজও কি, বিচারের বানি নিরবে নিভৃতে কাঁদবে?
বর্তমান সময়ে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, বাংলাদেশের ক্ষমতাবলয়ের সাথে যুক্ত আমলা ও রাজনীতিজীবীরা তাঁদের অর্থ-বিত্ত-ক্ষমতার উৎস ঠিক রাখার জন্য সদা তৎপর। তাঁরা চাটুকারিতার আশ্রয় নিয়ে তাঁদের ক্ষমতা নিরাপদ ও অব্যাহত রাখার জন্য সরকার প্রধানকে খুশী ও বশীকরণের জন্য ব্যস্ত। সর্বময় ক্ষমতার কেন্দ্র সরকার প্রধানের আনুকূল্য বা সুদৃষ্টি লাভের আশায় প্রধানমন্ত্রী বা তাঁর বংশধর বা আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ লতাপাতা ডালপালাকেও খুশী করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। তাঁরা সম্ভবত মহামহোপাধ্যায় পণ্ডিতপ্রবর শ্রী হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর “তৈল” গল্পের মর্মার্থ অনুধাবন ও যথার্থ ব্যবহার করতে পারঙ্গম। দেশব্যাপী এখন একশ্রেণীর এমন স্তাবক চাটুকার আছে, যারা কেবলমাত্র সরকারের প্রশংসা ছাড়া ভিন্ন যে কোন মতের প্রতি অত্যন্ত অসহিষ্ণু। আমি বৃটিশ আমলের জমিদারী শাসন দেখিনি। কিন্তু, কবিগুরুর ‘দুই বিঘা জমি’ কবিতা পাঠ করেছিলাম। সেখানে কবিতার শেষাংশে নিম্নরূপ ছিলঃ
“বাবু ছিপ হাতে পারিষদ-সাথে ধরিতেছিলেন মাছ।
শুনি বিবরণ ক্রোধে তিনি কন, ‘মারিয়া করিব খুন!’
বাবু যত বলে পারিষদ-দলে বলে তার শতগুণ।
আমি কহিলাম, ‘শুধু দুটি আম ভিখ মাগি মহাশয়!’
বাবু কহে হেসে, ‘বেটা সাধুবেশে পাকা চোর অতিশয়।’
আমি শুনে হাসি আঁখিজলে ভাসি, এই ছিল মোর ঘটে –
তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ, আমি আজ চোর বটে!”
বর্তমান জমিদার তুল্য সরকার ও চাটুকার পারিষদ-দলের আচরণ থেকে জমিদারী শাসন আঁচ করতে কোন অসুবিধা হয়না।
আপনি সরকার সমর্থক হলেও তাঁদের আক্রোশ থেকে রেহাই নেই। ওঁরা সরকার প্রধান ও তাঁর বংশবদদের কণ্ঠের প্রতিধ্বনি করে শেয়ালের ডাকের ন্যায় “হুয়াত্তা হুয়া” করে ওঠে। অতি সম্প্রতি ডেইলি স্টার পত্রিকার সম্পাদক জনাব মাহফুজ আনাম পত্রিকার পঁচিশ বর্ষ পূর্তি উপলক্ষে এক টেলিভিশন টকশোতে হাজির হয়েছিলেন। সেখানে উপস্থাপিকার প্রশ্নের জবাবে তিনি অত্যন্ত সরলভাবে সেনা সমর্থিত সরকারের সময়ে পরীক্ষানিরীক্ষা ছাড়া সেনা বাহিনী (ডিজিডিএফআই)কর্তৃক সরবরাহকৃত বিবৃতি ছাপানোর কথা উল্লেখ করেন। সম্পাদক হিসেবে এটা একটা ভুল কাজ (এডিটরিয়াল প্যুওর জাজমেন্ট) বলে তিনি অকপটে শিকার করেন। তিনি ভুল স্বীকার করে মনে হয় ভুল করেছেন। এখন সরকার দলীয় সমর্থক, সংসদ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত সকলে তাঁর বিরুদ্ধে সোচ্চার এবং তুলকালাম ঘটনা চালিয়ে যাচ্ছেন। সারাদেশে দলীয় চামচারা একের পর এক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তাঁদের ভাষায় বদনাম ও হয়রানি করার জন্য মিঃ মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দিচ্ছে। ৭৭টি স্থানে মাত্র এক লক্ষ ঊনত্রিশ হাজার কোটি টাকা মূল্যের মানহানির জন্য ক্ষতিপূরণের মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যেহেতু চাচ্ছেন, মাহাফুজ আনামের হয়তো বিচার হবে। কিন্তু, ধর্মযাজক যজ্ঞেশ্বর সহ অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের খুনিদের বিচার কি বাংলার মাটিতে হবে? মাহাফুজ আনামের ভুল স্বীকারের প্রতিদানে প্রধানমন্ত্রী তাঁর পদত্যাগ চাচ্ছেন। ভাল কথা, কিন্তু, সরকার প্রধান হিসেবে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তাদানে ব্যর্থতার জন্য তিনি কি প্রধানমন্ত্রী থেকে পদত্যাগ করবেন? সংখ্যালঘুদের জীবনের কোন মূল্য বা মান-মর্যাদা থাকতে নেই বুঝি! ক্ষমতাসীনরা ও ক্ষমতাচ্যুত বা বহির্ভূত অধিকাংশ প্রায় সকলেই সংখ্যালঘুদের ব্যাপারে নির্বাক। তাঁরা একপক্ষ অন্যপক্ষকে দায়ী করে বিবৃতি দিয়েই ক্ষান্ত থাকেন। রাজনীতিবিদরা এই ব্লেইম গেইম আর কতদিন খেলবেন? অথচ সত্যি বলতে কি, ১/১১ এর তত্বাবধায়কের শাসনকাল সময় বাংলাদেশে কোন সাম্প্রদায়িক হামলা হয়নি। অল্পদিনের জন্য হলেও, সেই সময়টুকুই হয়তো ঘুষখোরদের আত্মায় কাঁপন ধরিয়েছিল। ছিনতাইকারী, চাঁদাবাজ মুক্ত অবস্থায় বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ নিরাপদে ও স্বস্তিতে ছিল। পাকিস্তানী ধারা থেকে মিঃ ফকরুদ্দিন ও জেনারেল মঈনউদ্দিনের সরকার বাংলাদেশকে ঠিক পথে টেনে তুলেছিল।
প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবুল বারকাত এর একটি গবেষণাগ্রন্থে তিনি তথ্য, উপাত্তের ভিত্তিতে হিসাব করে বলেছেন যে, ১৯৭১ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে ৬৩ লক্ষ হিন্দু বাংলাদেশ থেকে উধাও হয়ে গেছেন। এই বিতাড়নে হিন্দু সম্পত্তি দখলের সুবিধাভোগীদের মধ্যে ৩১% আওয়ামী লীগের সদস্য-সমর্থক ও ৪৫% বি.এন.পি.’র সমর্থক। ১৯৯২ সালে ভারতে বাবরি মসজিদ ভাঙার পর যে ভয়ংকর তাণ্ডব চলে তাতে ২৮,০০০ বাড়ি-ঘর, ৩,৬০০ মন্দির, ২,৫০০ দোকান-বাজার ধ্বংস হয়। খুন হন ১৩ জন। ২০০১-এ বেগম জিয়ার নির্বাচনের পর থেকে শুরু হয় ধারাবাহিক সংখ্যালঘু হিন্দু নির্যাতন। এর ফলে ১৯৫১ সালে পূর্ব-পাকিস্তানে যে হিন্দু জনসংখ্যা ছিল ২২ শতাংশ, ১৯৭১-এ ১৫%, ১৯৭৪-এ ১৩.৫% ও ২০০১ সালে ৯.২ শতাংশে নেমে এসেছে। বর্তমানে তা সম্ভবতঃ ৭-৮ শতাংশ। ২০০১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী বরিশাল, ভোলা, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, বরগুনা এই ছয় জেলায় হিন্দু জনসংখ্যা ছিল ৮ লাখ ১৬ হাজার ৫১ জন। ২০১১ সালের আদমশুমারিতে দেখা যায় হিন্দু জনসংখ্যা কমে ৭ লাখ ৬২ হাজার ৪৭৯ জনে এসে দাঁড়িয়েছে। “১৯৬৪ থেকে ১৯৭১ এই নিখোঁজ হিন্দু জনসংখ্যা ছিল প্রতিদিন গড়ে ৭০৫ জন। ১৯৭১ থেকে ১৯৮১ তে প্রতিদিন গড়ে ৫২১ জন, ১৯৮১-১৯৯১ এ প্রতিদিন গড়ে ৪৩৮ জন এবং এই সংখ্যাটি অনেক বেড়ে ১৯৯১ থেকে ২০০১ এ দাঁড়ায় প্রতিদিন গড়ে ৭৬৭ জন।” অপর একজন গবেষক বর্ণনা করেছেন, “বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার একটি প্রতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া”। বাংলাদেশ বারবার সামরিক শাসনের মধ্য দিয়ে গেলেও ধারাবাহিক সংগ্রামের ফলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাও বারবার ফিরে এসেছে। সংখ্যালঘু বিরোধী আইন না থাকলেও পাকিস্তান আমলের শত্রু সম্পত্তি আইনের মাধ্যমে হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি ও অর্থনীতিকে ভয়ংকর ক্ষতিগ্রস্থ করা হয়েছে। বাংলাদেশ হবার পর এই আইন নাম বদলে হয় “অর্পিত সম্পত্তি আইন” (Vested Property Act) এবং এই আইনে একইভাবে হিন্দুদের সম্পত্তি জবরদখল চলে। এই আইনের ফলে স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত হিন্দুদের প্রায় ২৬ লক্ষ একর জমি ও দেবোত্তর সম্পত্তি অর্পিত সম্পত্তি আইনের ফলে বেহাত বা দখলচ্যুত হয়। দশ লক্ষেরও বেশী মামলা হয়েছে, কিন্তু একটি মামলারও নিস্পত্তি হওয়ার খবর আমাদের জানা নেই। অথচ, এব্যাপারে সরকার প্রধান ও তাঁর চামচাদের মুখে কোন রা নেই। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজন কাকে খুশী করার জন্য বা আর কতকাল মুখ বুজে নীরবে মার খেতে থাকবে। বর্তমান সরকারের আমলে, সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের মাত্রা বা হার অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
নাটকের ডায়ালগের ন্যায়, “গোলাম হোসেন, উপায় নেই।” ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা আজ এক নির্মম কঠিন সত্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। তাঁদের আর কোন উপায় নেই। “মানুষ মানুষের জন্য, একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না ও বন্ধু……দুর্বল মানুষ যদি, জীবনের অথৈ নদী পার হয় তোমাকে ধরে, বল কি ক্ষতি…” গানের গীতিকার ও সুরকার ডঃ ভুপেন হাজারিকা শেষ জীবনে বিজিপির নমিনেশন নিয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন। আমি অনেক ভেবেছি, তিনি কি সাম্প্রদায়িক ছিলেন? সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলে আমাকে যারা সাম্প্রদায়িক ভাববে, যাঁদের অনুভূতিতে লাগবে, তাঁদেরকে আমি এই মুহূর্তে বর্জন করতে চাই। অনেক হিন্দু গরুর মাংস খেয়ে, আর অনেক মুসলিম কাছিমের (কচ্ছপ) মাংস খেয়ে অসাম্প্রদায়িক, প্রগতিশীল, ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষের লোক পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। অথচ, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের ব্যাপারে সবসময় নির্বাক থাকেন বা এড়িয়ে থাকতে চান, তাঁরা অনেকেই মূলত প্রবঞ্চক, নপুংসক। জীবন সায়াহ্নে দাঁড়িয়ে তাঁদের সাথে আর সখ্যতা রাখার কোন প্রয়োজন আছে বলেও আমি মনে করিনা। সেই সমস্ত তরুণ যারা নিঃস্বার্থভাবে ক্ষমতার হালুয়া-রুটির ভাগাভাগি ছাড়াই অসাম্প্রদায়িক, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখে, সেই তরুণ প্রজন্মের গণজাগরণ মঞ্চের সাথে সংশ্লিষ্টদের উপর ভরসা করতে চাই। অসমাপ্ত মুক্তিযুদ্ধ সমাপ্ত করার বাসনা পূর্ণ করতে চাই। আর কতকাল খল নায়কদের মিথ্যা আশ্বাসে বিশ্বাসী হয়ে সংখ্যালঘুরা বোকার মত জিন্দাবাদ মুর্দাবাদ করে যুগ যুগ ধরে মার খেয়ে যাবে। এখন সময় এসেছে, শেষ মীমাংসার, হয় এসপার, না হয় ওসপার।
মন্ট্রিয়ল, ফেব্রুয়ারি ২৯, ২০১৬

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুর মানবাধিকার পরিস্থিতি ২০১৫

২০১৫ সালের বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর কমপক্ষে ২৬২টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। এ সবের অধিকাংশ একক ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি, পরিবার ও প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যার সংখ্যা কমপক্ষে ১৫৬২টি। এ সময়ে বিভিন্ন হামলার ঘটনায় ২৪জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ২৩৯জন, অপহরণের শিকার হয়েছেন ২৪ জন সংখ্যালঘু নারী যাদের মধ্যে ৯টির ক্ষেত্রে জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণের অভিযোগ রয়েছে। ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ২৫ জন। তাদের মধ্যে ১০জন গণধর্ষণের শিকার, ২জনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। ধর্ষণ চেষ্টার শিকার হয়েছেন ৪জন, তাদের মধ্যে একজনকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এসিড সন্ত্রাসের শিকার ১জন। জমিজমা, ঘরবাড়ি, মন্দির ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, দখল ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে ২০৯টি। এর মধ্যে উচ্ছেদের শিকার হয়েছে ৬০টি পরিবার। বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে ৩১টি। প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে ১৮০টি।

Namnlös১৪টি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ ও বিভিন্ন থানা থেকে প্রাপ্ত কেস ডকুমেন্টের ভিত্তিতে গত বছর সারাদেশের সংখ্যালঘু নির্যাতনের চিত্র এটি। এসব ঘটনার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দুষ্কৃতিকারীরা রাজনৈতিক ক্ষমতা ও প্রভাবকে ব্যবহার করেছেন। অন্যদিকে বেশকিছু ঘটনার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের অসহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আবার প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগসাজশে দুষ্কৃতিকারীরা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটিয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যের বিশ্লেষণে দেখা যায় জানুয়ারি মাসে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা অন্যান্য মাস থেকে বেশি ঘটেছে। ৮৩টি প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে এ মাসে। এ মাসে আক্রমণের ফলে জখম বা আহত হওয়ার ঘটনাও ছিল সবচেয়ে বেশি। জানুয়ারি মাসে আর সবচেয়ে বেশি যে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা সংঘটিত হয় তাহলো ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদের ঘটনা, এরূপ ঘটনা ঘটেছে ৫৪টি। এ মাসে যশোরের স্থানীয় একজন ক্ষমতাসীন নেতার অত্যাচারে ৩১টি সংখ্যালঘু পরিবারের দেশত্যাগ এবং অন্য ৫০টি পরিবারও দেশত্যাগের পথে এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে। জানুয়ারি মাসে এত বেশি পরিমাণে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার পিছনের কারণগুলো তাহলে কী?
বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার নির্যাতনে নির্বাচন ইস্যু একটি অন্যতম বিষয়। গত বছরের ৫ জানুয়ারি ছিল দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ বর্তমান মহাজোট সরকারের বিজয়ের প্রথম বর্ষপূর্তি। এই নির্বাচনের ফলাফলকে বিরোধিতা করে প্রথম থেকেই বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনগুলো বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছিল। ৫ জানুয়ারি থেকে তারা লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি গ্রহণ করে। এ কর্মসূচি চলাকালে সারাদেশে ব্যাপক ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়। এসময় পেট্রোল বোমার ব্যবহার ছিল অন্যতম একটি আতঙ্কিত বিষয়। তার ঠিক একবছর আগের যদি আমরা তাকাই তবে যে বিষয়টি এখনও আমাদের সামনে দগড়গে ক্ষত হয়ে আছে ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই নির্বাচনে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে যশোরের অভয়নগর উপজেলার চাপাতলার মালোপাড়া সংখ্যালঘু পরিবারগুলোর উপর চালানো হয়েছিল নির্যাতনের নারকীয় তাণ্ডব। একই ইস্যুকে কেন্দ্র করে নির্বাচন পরবর্তী সময় যশোরের অভয়নগর ছাড়াও দিনাজপুর সদরের কর্ণাই, সীতাকুণ্ড, বগুড়া, মাগুরা, সাতক্ষীরা ও সুনামগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একই তাণ্ডব চালিয়েছিল নির্বাচনের বিরোধীরা। উক্ত নির্বাচনের বর্ষপূর্তিতে গৃহীত সরকার বিরোধী আন্দোলনেও অনুরূপভাবে অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এদেশের সংখ্যালঘুরা। এ মাসে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে যার পরিমাণ ৮৩টি।
ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার নির্যাতনের আর যে অন্যতম একটি কারণ তা হলো সম্পত্তি দখল ও উচ্ছেদের তৎপরতা। যার শিকার হন সংখ্যালঘু নারী। ধর্ষণের ঘটনার নেপথ্য কারণ হিসেবেও কাজ করে থাকে ভূমি দখলের অভিসন্ধি। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিতাড়ন, উচ্ছেদ, সেই লক্ষ্যে সম্পত্তি দখল ও অন্যান্য প্রকার মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ, বিএনপি বা অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ পরিলক্ষিত হয় না, রাজনৈতিক পরিচয় ও আদর্শ থেকে বের হয়ে এসে তখন লক্ষ্য হয়ে দাড়ায় সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি দখল, উৎখাত এবং দেশত্যাগের সর্বাত্মক ব্যবস্থা সম্পন্ন করা। এরূপ উদাহরণ অনেক রয়েছে। যার একটি অন্যতম উদাহরণ গত ১৩ মার্চ, ২০১৫ সংঘটিত বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার পচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নের চন্দনতলা গ্রামের ঘটনা। সেখানে স্থানীয় বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নেতারা একযোগে ১৪টি হিন্দু পরিবারের বসতবাড়িসহ ৪০ একর জমি দখলের তৎপরতায় নেমেছিল। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে নারীদের উপর যৌন হয়রানি চলছিল এমন অভিযোগ রয়েছে। স্কুল পড়ুয়া হিন্দু মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার পথে উত্যক্তের ঘটনা ছিল নিত্যদিনের। এমনকি এসব স্কুল পড়ুয়া মেয়ে ও গৃহবধূদের নিয়মিত সন্ত্রাসীদের আস্তানায় গিয়ে দেখা করতে হতো এমন অভিযোগও পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। লোকলজ্জায় এসব ঘটনা তারা কাউকে না জানিয়ে দীর্ঘদিন সহ্য করেছে। এসব ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় উক্ত এলাকার অনেকগুলো পরিবার পৈত্রিক ভিটা বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। নারীর প্রতি যৌন নিগ্রহের পরিণাম ভয়াবহ ও সুদূরপ্রসারী। এসব ঘটনা নিগ্রহের শিকার ঐ নারীকেই শুধু আতঙ্কগ্রস্ত করে না, তার পিতা-মাতা, আত্মীয় পরিজন, নিজ সমাজÑ সকলের আত্মমর্যাদা ও সম্মানের উপর প্রবলতর গ্লানি ও কালিমা লেপন করেÑ এমনটাই উপলব্ধ, অন্তত আমাদের বিদ্যমান সমাজ ব্যবস্থায়। ফলশ্রুতিতে ভুক্তভোগী পরিবারটি একসময় দেশত্যাগে বাধ্য হয়। ভূমিগ্রাসীরা তাই নারীর প্রতি যৌন নিগ্রহকে অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। ২০১৫ সালে সংখ্যালঘু নারীকে অপহরণ, ধর্ষণ, এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণের ঘটনা ঘটেছে ৫৭টি। এর মধ্যে ধর্ষণ ২৫টি (১০টি গণ-ধর্ষণ ও ২টি ধর্ষণের পর হত্যা), অপহরণ ২৪টি, অপহরণের পর ধর্মান্তরকরণের ঘটনা ৯টি। এছাড়া ধর্ষণ চেষ্টার শিকার হয়েছেন ৪জন, তাদের মধ্যে একজনকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এসিড সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন ১জন।
ধর্ষণ
১. গত ৭ জানুয়ারি ২০১৫ রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের বৃত্তিডাঙ্গা গ্রামে দরিদ্র এক সংখ্যালঘু পরিবারের মা ও মেয়েকে গণধর্ষণের শিকার হন।
২. ১৫ জানুয়ারি ২০১৫ সাভারের ব্যাংক কলোনী এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হন একজন সংখ্যালঘু নারী।
৩. ১৫ জানুয়ারি ২০১৫ রাঙামাটি পার্বত্য জেলার কাশখালীতে ২য় শ্রেণীতে পড়ুয়া এক আদিবাসী শিশু বাড়ির পাশের দোকান থেকে জিনিসপত্র কিনে বাড়ি ফেরার পথে ধর্ষণের শিকার হয়।
৪. ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ দিনাজপুরের পার্বতীপুরে আদিবাসী সাওঁতাল তরুণীকে অপহরণ করে পালাক্রমে ধর্ষণ করেছে দুই বখাটে যুবক।
৫. ৩ মে ২০১৫ রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে এক আদিবাসী নারী গণধর্ষণের শিকার হন। এ সময় তার সঙ্গী অন্য এক নারীও লাঞ্ছিত হন।
৬. ১৫ মে ২০১৫ হবিগঞ্জের মাধবপুরের পল্লী রামেশ্বরের শিল্পীরানী দাস (১৮) কে ধর্ষণের পর হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
৭. ২১ মে ২০১৫ বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় গণধর্ষণের শিকার হন একজন গারো নারী। রাতে এই ধর্ষণের ঘটনার পর মামলা করার জন্য উক্ত নারী ও তার স্বজনদের তিন থানায় ঘুরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। তুরাগ থানা কাছে হয় বলে মামলা করার জন্য রাত ৪টার দিকে মেয়েটিকে নিয়ে তার পরিবারের সদস্যরা সেখানে যান। কিন্তু অন্য এলাকার ঘটনা বলে পুলিশ তাদের ফিরিয়ে দেয়। এরপর ভোর ৫টার দিকে তারা যান গুলশান থানায়। সেখানেও একই উত্তর মেলে। শেষে সাড়ে ৬টার দিকে ভাটারা থানায় গেলে বলা হয়, ওসি নেই, অপেক্ষা করতে হবে। এরপর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ওসি আসেন এবং তাদের কথা শুনে সাড়ে ১২টার দিকে মামলা নথিভুক্ত করা হয়।
৮. ২৭ মে ২০১৫ সিলেট জেলার বালাগঞ্জে লিপন চন্দ্র দেবের স্ত্রী সঞ্জু রানী দেব ধর্ষণের শিকার হন। এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় পরবর্তীতে হামলার শিকার হয় লিপন চন্দ্র দেব ও তার স্ত্রী সঞ্জু রানী দেব।
৯. ৩ জুন ২০১৫ যশোরের চৌগাছা পৌর এলাকায় এক দলিত গৃহবধূ ধর্ষণের শিকার হন। এ সময় ধর্ষক মোবাইল ফোনে ধর্ষণের ভিডিও চিত্র ধারণ করে এবং পরে তা সিডি ও ইন্টারনেটে প্রচার করে। এর প্রতিক্রিয়ায় আত্মহত্যা করে উক্ত গৃহবধূ।
১০. ৫ জুন ২০১৫ রাত আনুমানিক ৯টায় সিলেটের বালাগঞ্জের অপর্ণা দাস ঘরের বাইরে টয়লেটে গেলে সেখান থেকে পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা মোঃ হিরণ মিয়া ও মোঃ শফিক আলী তাকে অপহরণ করে শফিক আলীর বাড়িতে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।
১১. ৯ জুলাই ২০১৫ উখিয়া উপজেলার কুতুপালং-এ অপহরণ ও ধর্ষণের শিকার হন ইতি বড়ুয়া।
১২. ১১ জুলাই ২০১৫ নওগাঁ জেলার ধামইরহাটের গীতা রানী রবিদাসকে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় ঘরে ঢুকে ধর্ষণ করে দেলোয়ার হোসাইন (৪০)।
১৩. ২৯ জুলাই ২০১৫ খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারায় গণধর্ষণের শিকার হয় আদিবাসী তরুণী অঞ্জনা ত্রিপুরা (১৭)।
১৪. ৪ আগস্ট ও ৮ আগস্ট ২০১৫ খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার মির্জাপুর গ্রামে ২টি শিশু (শ্রাবন্তী বাছাড় (৮) ও (হিরা রায় (৯)) মোঃ সোহরাব গাজী নামে একই ব্যক্তি কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হয়।
১৫. ৪ আগস্ট ২০১৫ রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকায় ৬ষ্ঠ শ্রেণির আদিবাসী ছাত্রী মিনিতা মারানকে নির্জন কক্ষে একা পেয়ে ধর্ষণ করে মোঃ আল আমীন (২২)।
১৬. ১৮ আগস্ট ২০১৫ বান্দারবানের আদিবাসী তরুণী সুবরন ত্রিপুরা (১৬) চিকিৎসার জন্য লামা হাসপাতালে ভর্তি হলে সেখানে তিনি হাসপাতালের কর্মচারীদের দ্বারা গণধর্ষণের শিকার হন।
১৭. ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৫ রাত আনুমানিক ১১.৪৫টায় হবিগঞ্জের বানিয়াচং-এ জনৈক সামসুল আলম ঘরের বেড়া ভেঙে জোরপূর্বক ঘরে প্রবেশ করে রুমি রানী দাস নামে ১১ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণ করে।
১৮. ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫ শনিবার রাতে বগুড়ার শিবগঞ্জের ডাবুইর গ্রামে মোফাজ্জল হোসেন জিন্নাহ (৪৫) নামে যুবলীগ কর্মী বুলি রানী নামে হিন্দু ধর্মাবলম্বী এক কিশোরীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে।
১৯. ১ নভেম্বর ২০১৫ নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার ভাতগ্রাম নিবাসী এক আদিবাসী গৃহবধূ বাজারে ঝাড়– বিক্রি করতে পাশের দক্ষিণখা গ্রামে গেলে উক্ত গ্রামের সাদেকুল ইসলাম জোর করে তাকে বড়িতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে।
২০. ১১ নভেম্বর ২০১৫ বুধবার রাত ৯টার দিকে নীলফামারী সদরের সোনারায় ইউনিয়নের বাবুবাজার এলাকায় এক সংখ্যালঘু তরুণী গণধর্ষণের শিকার হন। উক্ত তরুণীর বাড়ি জলঢাকা উপজেলার শিমুলবাড়ি গ্রামে।
২১. ২২ নভেম্বর ২০১৫ নাটোর বাগাতিপাড়ার লোকমানপুর নর্থবেঙ্গল চিনিকলের সুপারভাইজার ভবানী দাস ঘোষালের স্ত্রীকে গণধর্ষণের পর হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
২২. ১৯ ডিসেম্বর ২০১৫ খাগড়াছড়ির পার্বত্য জেলা মহালছড়ি উপজেলায় মাইসছড়ি ইউনিয়নে পাচ একর (রাবার বাগান) এলাকায় ধর্ষণের শিকার হয় মাইসছড়ি ইউনিয়নের লম্বাছড়া বাসিন্দা বীণা দেবী ত্রিপুরা (১৬)।
২৩. ডিসেম্বর ২০১৫-এ কাপ্তাই সুইডেন পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট (বিএসপিআই) সড়কে হাঁটতে বের হলে নবম শ্রেণীতে পড়ুয়া এক আদিবাসী কিশোরীকে একটি অটো রিকশায় চারজন লোক তুলে জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে বিএসপিআই সড়কের কাছে ফেলে পালিয়ে যায়।
২৪. এছাড়া ১২ অক্টোবর ২০১৫ গাজীপুর শহরের পূবাইল সাপমারা এলাকার সান্ত¡না রবিদাস নামে ৯ বছরের দলিত শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
অপহরণ
১. ২১ জানুয়ারি ২০১৫ অপহৃত হয় সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার বাউরবাগ হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী জোৎস্না বিশ্বাস।
২. ৪ মার্চ ২০১৫ নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার রায়মাধম গ্রামের শিল্পী রানী দাসকে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে একই গ্রামের সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক দোস্ত মোহাম্মদ খান অপহরণ করে।
৩. ১৪ মার্চ ২০১৫, বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার লেমুয়া ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী কনা রানী ব্যাপারীকে অপহরণ করে জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণ ও নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে বিবাহের কাগজপত্র তৈরিসহ যৌন-নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।
৪. ১৭ এপ্রিল ২০১৫ মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার তারাপাশা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী শ্যামলী রাণী দে (১৫) অপহরণের শিকার হয়। অপহরণের পর তার জাল জন্ম-নিবন্ধন সনদপত্র তৈরি করে পূর্বের নাম গোপন করে নতুন নাম দিয়ে গত ১৯ এপ্রিল নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে জোরপূর্বক ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করা হয়।
৫. গত ২৭ মে ২০১৫ অপহরণের শিকার হয় কিশোরগঞ্জের বিন্নাটি মজিদ মোল্লা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী পিংকি রানী সূত্রধর।
৬. ৫ জুন ২০১৫ অপহরণের শিকার হয় সিলেটের বালাগঞ্জের দেঘরিয়া গ্রামের অপর্না দাস। পরে তাকে জোরপূর্বক ইসলাম ধর্ম গ্রহণের জন্য অপহরণকারী ও তাদের পরিবার তৎপরতা চালায়।
৭. ১৪ জুন ২০১৫ গোয়াইনঘাট ডিগ্রি কলেজের ১ম বর্ষের ছাত্রী সোমা রানী দাসকে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা।
৮. ২৫ জুন ২০১৫, গাজীপুর জেলার বাগের বাজার হাইস্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী অন্তরা রানী দেবনাথকে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা। পরে অপহরণকারী ও তার পরিবার অন্তরা রানীকে জোরপূর্বক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ এবং অপহরণকারীর সাথে বিবাহের জন্য তৎপরতা চালায়।
৯. ১৩ জুলাই ২০১৫ খুলনার ডুমুরিয়ার সাহাপুর মধ্যমগ্রাম ডিগ্রি কলেজে ছাত্রী প্রিয়া সাহাকে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা
১০. ৯ জুলাই ২০১৫ কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার কুতুপালং নিবাসী ইতি বড়ুয়া অপহরণের শিকার হন।
১১. ৩০ জুলাই ২০১৫ অপহরণের শিকার হয় নারায়ণগঞ্জের আদমজী কলেজের ছাত্রী বৃষ্টি বিশ্বাস।
১২. ৩ আগস্ট ২০১৫ নরসিংদী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী সুস্মিতা সিংহ অপহরণের শিকার হয়। এই ঘটনায় অপহরণকারীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ রয়েছে।
১৩. ২০ জুলাই ২০১৫ ভাষানটেক দেওয়ানপাড়া এলাকা থেকে অপহরণের শিকার হয় রূপা সরকার। পরে অপহরণকারী ও তার পিতামাতা রূপাকে জোরপূর্বক এফিডেভিটের মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করে। এরপর রূপা সরকারের পরিবার প্রশাসনের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করতে সমর্থ হয় এবং রূপা নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে ধর্মান্তরের ঘটনা প্রত্যাখ্যান করে। এই ঘটনার কয়েকদিন পরেই গত ২৪ আগস্ট ২০১৫ পুনরায় উক্ত অপহরণকারী আবারও তাকে অপহরণ করে।
১৪. ২৮ আগস্ট ২০১৫ অপহরণের শিকার হয় চট্টগ্রাম হালিশহর গরিবে নেওয়াজ হাইস্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্রী রিংকি রানী দেবনাথ।
১৫. ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫ সিলেট শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা থেকে অপহরণের শিকার হয় সিলেট নাসিরাবাদ বিলপাড় নিবাসী দশমী রানী দেবনাথ (১৪)।
১৬. ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫ চট্টগ্রাম হাটহাজারী সদর নিবাসী রাত্রি দাসকে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা।
১৭. ৮ অক্টোবর ২০১৫ কিশোরগঞ্জে পাকুন্দিয়া হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী সুপ্রিয়া রানী রায় অপহরণের শিকার হয়। ১০ অক্টোবর ২০১৫ তাকে জোরপূর্বক কোর্ট এফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ে ও ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করে দুর্বৃত্তরা।
১৮. ২০ অক্টোবর ২০১৫ গাইবান্ধা থেকে অপহৃত হয় ধাপের হাট প্রিয়বালা বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী স্বপ্না রানী। গত ১৩ নভেম্বর ২০১৫ কুমিল্লা থেকে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।
১৯. ৩১ অক্টোবর ২০১৫ বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ইছাকুড়ি বাকাই নিরাঞ্জন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী অষ্টমী রানী বালা।
২০. ৯ নভেম্বর ২০১৫ সুনামগঞ্জের ধরমপাশা উপজেলার জয়শ্রী গ্রামের এসএসসি পরীক্ষার্থী মন্টি রানী সরকারকে (১৬) অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা। পরে তাকে ধর্মান্তরিত করে বিবাহে বাধ্য করার অভিযোগ করে অপহৃতার পরিবার।
২১. ১৬ নভেম্বর ২০১৫ চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার পরিকোরা গ্রামের অরি চক্রবর্তীকে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা। অপহরণের পর অপহরণকারীরা প্রচার করতে থাকে যে মেয়েটি সেচ্ছায় নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে ধর্মান্তরিত হয়েছে এবং বিয়ে করেছে। অপহৃতার গরিব পিতা আনোয়ারা থানায় মামলা করতে গেলে থানার ওসি মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানালে মেয়েটির পিতা চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন।
২২. ২৬ নভেম্বর ২০১৫ অপহরণের শিকার হয় টাঙ্গাইল ধনবাড়ি কলেজের ছাত্রী উপমা সাহা।
২৩. ২৯ নভেম্বর ২০১৫ সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর সরিফুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ছাত্রী হিরামনি অপহরণের শিকার হয়। পরে তাকে জোরপূর্বক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ ও বিবাহের তৎপরতা চালায় অপরণকারী ও তার সহযোগীরা।
২৪. ১৯ ডিসেম্বর ২০১৫ অপহরণের শিকার হয় নোয়াখালী সৈকত ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থী সুমি রানী মজুমদার। গত ৯ জানুয়ারি ২০১৬ সুমির পরিবার নোয়াখালী প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সুমিকে উদ্ধার ও অপহরণকারীদের শাস্তি দাবি করে।
বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি বিবেচনায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মন্দির ও প্রতিমা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা একটি অবধারিত ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত। বিভিন্ন পরিসংখ্যান থেকে প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায় প্রতিবছর বাংলাদেশে পূজা মণ্ডপের সংখ্যা বাড়ছে। ২০১৫ সালে রাজধানীতে ২২৫টি সহ সারা দেশে মোট ২৮ হাজার ৯৬২টি পূজা মণ্ডপে শারদীয়া দুর্গোৎসবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০১৪ সালের তুলনায় এর সংখ্যা বেড়েছে ২৬২টি। ২০১৪ সালে সারাদেশে ২৮ হাজার ৭০০টি, ২০১৩ সালে ২৮ হাজার ২০০টি, ২০১২ সালে ২৭ হাজার ৮শ’টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, দেশে প্রতিবছর পূজা মণ্ডপের সংখ্যা বাড়লেও ভক্ত বা পূজারীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে কমে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে কমে যাচ্ছে সংখ্যালঘু হিন্দু জনগোষ্ঠী। আপাতদৃষ্টিতে তাই প্রতিবছর পূজামণ্ডপের সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখার কোনো কারণ নেই। আমাদের সংবিধান দেশের সকল নাগরিকের নিজ নিজ ধর্ম পালন করার স্বীকৃতি দিলেও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দিতে পারে নি। ফলে হিন্দু জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের উপর উপর্যুপরি এই হামলার কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। সবচেয়ে দুঃখজনক যে যুদ্ধাপরাধীর বিচারের রায় ঘোষণা কিংবা তা কার্যকরের সময়েও হিন্দু মন্দির ও প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে থাকে। বিগত ৪৪ বছর ধরে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার পরিস্থিতির কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটে নি, বরং তা প্রায় প্রতি বছরই থেকেছে উদ্বেগজনক। প্রতিবছর সার্বজনীন শারদীয়া দুর্গাপূজার সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মন্দির ও প্রতিমা ভাঙচুরেরও মহোৎসব শুরু হয়। যা পুরো শারদীয়া দুর্গা উৎসবের যেন এক চিরায়ত কলঙ্কময় অধ্যায়। স্বাধীনতার পর এতোগুলো বছর অতিক্রান্ত হলেও এই কলঙ্ক থেকে এখনো মুক্ত হতে পারে নি অসাম্প্রদায়িক বাতাবরণের বাংলাদেশ। প্রতি বছর অক্টোবর-নভেম্বরে উল্লেখযোগ্য হারে ঘটে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে থাকে। ২০১৫ সালও এর ব্যতিক্রম ছিল না। এসময় দুর্গাপূজা, লক্ষ্মী পূজা কালী পূজা ও জগদ্ধাত্রী পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। সেকারণে প্রতিমা ভাঙচুর সহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনাও এসময় বেশি ঘটে থাকে। ২০১৫ সালের অক্টোবর ও নভেম্বরে ৩৬টি প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
পূজার মৌসুম ছাড়াও প্রায় সারা বছরই প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে থাকে। এক্ষেত্রে শুধু ডিসেম্বরে কয়েকটি প্রতিমা ভাঙচুরের তথ্য উল্লেখ করতে চাই যে মাসে উল্লেখযোগ্য কোনো পূজার মহোৎসব ছিল না। ডিসেম্বর মাসে সারা দেশে বিভিন্ন মন্দিরে হামলার ঘটনায় কমপক্ষে ২১টি প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়।
১. ৩ ডিসেম্বর ২০১৫ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট পৌরসভার শহরগাছী এলাকায় চন্দনা পাহাড়ী (৩২) নামের এক আদিবাসী নারীকে ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে কাজিরবন কালী মন্দিরের মূর্তি ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা।
২. ৫ ডিসেম্বর ২০১৫ শনিবার পর্যটন কেন্দ্র দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার কান্তজিউর মন্দির প্রাঙ্গণে রাসমেলার যাত্রা প্যান্ডেলে দুর্বৃত্তের ছোড়া হাতবোমা বিস্ফোরণে আহত হন ৯জন।
৩. ৮ ডিসেম্বর ২০১৫ রাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর আকবরশাহ থানাধীন নিউ শহীদ লেন এলাকায় শ্রীশ্রীশ্যামাকালী বাড়ির মন্দিরে দুষ্কৃতকারীরা হামলা চালায়। এ সময় মন্দিরের আসবাবপত্র ও অন্য জিনিসপত্র ভাঙচুর করা হয়। এতে ৬ জন আহত হয়।
৪. ১০ ডিসেম্বর ২০১৫ বৃহস্পতিবার দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার ডাবোর ইউনিয়নের জয়নন্দ ডহচি গ্রামে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের (ইসকন) মন্দিরে গুলি ও বোমা হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। রাত সোয়া ৮টার দিকে মন্দিরে কীর্তন ও ধর্মসভা চলার সময় ওই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে দুজন গুলিবিদ্ধসহ চারজন আহত হয়।
৫. ১৫ ডিসেম্বর ২০১৫ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের ভাড়রা গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রকাশ্যে শিব মন্দিরে হামলা ও ৩টি প্রতিমা ভাঙচুর করে স্থানীয় প্রভাবশালী কলিমুদ্দিন গং। হিন্দু অধ্যুষিত ওই গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নানা ধরনের নির্যাতন চালানোর কারণে অনেকেই তাদের জমি ছেড়ে অন্যত্র বসতি স্থাপন করেছেন।
৬. ১৫ ডিসেম্বর ২০১৫ গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়ার জহরেরকান্দি গ্রামের উত্তর পাড়া সার্বজনীন মনসা মন্দিরে মনসা মূর্তি ও একই গ্রামের রামকৃষ্ণ মিশনের রাধা গোবিন্দ মন্দিরের রাধাকৃষ্ণের মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
৭. ১৭ ডিসেম্বর ২০১৫ বৃহস্পতিবার রাতে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার তালমা বাজারের শত বছরের পুরোনো সার্বজনীন কালীমন্দিরের ৭টি প্রতিমা ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা।
৮. ২০ ডিসেম্বর ২০১৫ রোববার সকালে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় বাউসী বাঙ্গালীপাড়া পদ্মা পূজা মন্দিরের পদ্মা প্রতিমা ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা।
৯. ২১ ডিসেম্বর ২০১৫ সোমবার রাতে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের মহেষপুর গোপপাড়া গ্রামে সার্বজনীন কালীমন্দিরে অগ্নিসংযোগ করে শীতলা মূর্তি ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা।
১০. ২৪ ডিসেম্বর ২০১৫ বৃহস্পতিবার কুড়িগ্রামের রৌমারীতে উপজেলার নমদাসপাড়া গ্রামে মন্দিরের কালী, লক্ষ্মী ও শিবের মূর্তি ভাঙচুর করে।
১১.২৬ ডিসেম্বর ২০১৫ শনিবার রাতে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার মির্জাবাড়ি বাজারের কাছে দড়িহাসিল এলাকার মাখন লাল গোপ ও সুবল চন্দ্র গোপের বাড়ির দুটি পারিবারিক কালী মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা।
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উপর হামলার ঘটনা বাংলাদেশের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতির জন্য একটি উদ্বেগজনক বার্তা। এদেশের সংখ্যালঘুদের দেশত্যাগের পেছনের অন্যতম একটি কারণ এটি। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নিরাপত্তাহীনতার কারণে দেশ ত্যাগ করে থাকেন। তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, তাদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ করে ব্যবসা, বাড়িঘর, সম্পত্তি লুটপাট, তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও মামলার হুমকিসহ হত্যার হুমকির ঘটনা ঘটে থাকে, তাদের ধর্মীয় উপাসনালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। যে কারণে নিরাপত্তাহীন অসহায় পরিবারগুলো বাপ-দাদাদের চৌদ্দ গোষ্ঠীর জন্মভিটা ছেড়ে দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, রাষ্ট্র এই বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে কখনও দেখছে না। বরং কখনও কখনও রাষ্ট্রের মন্ত্রী, সাংসদ, জনপ্রতিনিধি বা তাদের সাঙ্গপাঙ্গদের বিরুদ্ধে পত্রিকায় এই হামলার খবর প্রকাশিত হলেও কোনোটির আজ পর্যন্ত বিচার হয়নি বরং হয়রানির মাত্রা আরও বৃদ্ধি পায়। বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক দল যখনই ক্ষমতায় আসুক না কেন, সংখ্যালঘুদের ব্যাপারে তাদের যেন এই জায়গাটিতে একটি দৃশ্যমান মিল পরিলক্ষিত হয়। একদিকে সংখ্যালঘুদের উপর হামলা ও নির্যাতনের মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে অন্যদিকে এই সব হামলা ও নির্যাতনের বিচার হচ্ছে না। এ ধরনের ঘটনার বিচারের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতা ও ক্ষেত্র বিশেষে বিচারহীনতা এই সমস্যাকে আরও প্রকট করে তুলেছে। সরকারদলীয় কেউ এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকলে সেক্ষেত্রে বিচারের প্রত্যাশা আরও ক্ষীণ। এ প্রসঙ্গে একটি ঘটনার উল্লেখ করা যেতে পারে।
২৮ অক্টোবর ২০১৫ বুধবার রাতে চাঁদা না দেওয়ার ‘অপরাধে’ ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের মাথিয়ারা জেলেপাড়ায় হামলা চালায় আওয়ামী লীগ দলীয় ক্যাডাররা। তাদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ ও পেটের সন্তান। তার পেটে উপর্যুপরি লাথির চোটে ঘটনাস্থলেই মৃত বাচ্চা প্রসব করেন তিনি। পৃথিবীর আলো দেখার আগেই জীবন প্রদীপ নিভে যায় শিশুটির। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও মারধরে গুরুতর আহত গৃহবধূ তুলসী রানী দাসকে আশংকাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় আহত হয় আরও ২০ জন। তাদের মধ্যে কয়েকজন হলেন- আলোরানী দাস, জহরলাল দাস, শোভারানী দাস, বিকাশ, শুকদেব দাস ও পরিমল দাস। প্রায় ২২-২৫ জনের হামলাকারী দলটি জেলেপাড়ার ঘরবাড়িগুলোতে আচমকা ভাংচুর ও লুটপাট শুরু করে। প্রতিবন্ধী স্বপন দাসের দোকানের মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায় তারা। এ সময় তাদের ঠেকাতে পাড়ার লোকজন এগিয়ে এলে ক্যাডাররা নিরীহ সংখ্যালঘুদের মারধর শুরু করে। হামলাকারীদের হাত থেকে আহত রবীন্দ্রদাসকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন তার ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী তুলসী রানী দাস। এ সময় হামলাকারীরা তুলসীর তলপেট ও কোমরে উপর্যুপরি লাথি মারে। লাঠি দিয়েও তাকে মারধর করে। মুহূর্তেই রক্তক্ষরণ শুরু হয় তার। কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থলে মৃত সন্তান প্রসব করেন তিনি। পরদিন সকালে আহত তুলসীকে ফেনী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে প্রায় অর্ধশত পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে নৌকায় ছোট ফেনী নদীতে আশ্রয় নেন। পরে রাত সাড়ে ৯টায় পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে জেলে পরিবারগুলো নদী থেকে বাড়ি ফিরে আসে। আর আহতরা রাতে পুলিশের সহযোগিতায় ফেনী সদর হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেন। এই ঘটনার কোনো বিচার এখনও হয় নি।
সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার নিপীড়নের ক্ষেত্রে অধিকাংশ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় ও ক্ষমতাকে ব্যবহার করেছে সন্ত্রাসীরা। এ প্রসঙ্গে একটি ঘটনা উল্লেখ করা যেতে পারে। চাঁদা না পেয়ে ৯ ডিসেম্বর ২০১৫, বুধবার মধ্যরাতে ফেনী সদর উপজেলার ধলিয়ার পালপাড়ায় হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ক্যাডাররা। এতে আহত হয় ৮ জন। ধলিয়া ইউনিয়নের বালুয়া চৌমুহনীর পালপাড়া গ্রামের গোপাল পালের বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা দাবি করে আসছিল এসকল ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ক্যাডাররা। ৮ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ৭-৮ জন সহযোগী নিয়ে গোপাল পালের বাড়িতে হামলা করে এবং দেশীয় বন্দুক ঠেকিয়ে হুমকি দেয়। বাড়ির লোকেরা বাধা দিলে উক্ত ছাত্রলীগ নেতার পিতা স্থানীয় ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি তার সহযোগীদের নিয়ে দেশীয় বন্দুক, কিরিচ ও রামদা নিয়ে তাদের ওপর আরেক দফা হামলা করে। বিমল পাল ও গোপালসহ ৮জন আহত হয়। ৯ ডিসেম্বর বুধবার বিকেলে ফেনী মডেল থানায় মামলা করা হলে সন্ত্রাসীরা বুধবার মধ্যরাতে আবারও সশস্ত্র অবস্থায় হাজির হয়ে মামলা প্রত্যাহারের চাপ দেয়। এ সময় তারা বাড়ির আঙিনায় ৪টি খড়ের গাদায় আগুন দেয়। এরপর আতঙ্কে পালাপাড়ার কয়েকটি বাড়ির লোকজন পালিয়ে যায়।
অন্যদিকে সংখ্যালঘুদের দায়ের করা অভিযোগ মামলা আকারে গ্রহণ করতে থানা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্তরা অনেক ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেন না এমন অভিযোগও বিস্তর রয়েছে। গত ডিসেম্বরে এমন একটি ঘটনা ঘটেছে পটুয়াখালীতে। পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপেজলার আলীপুর গ্রামের ২টি সংখ্যালঘু পরিবারের ১২জন সদস্যকে হত্যার হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদ করেছে এক প্রভাবশালী। সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে উক্ত ২ পরিবারের মধ্যে ১টি পরিবারের প্রধানকে গত ৮ ডিসেম্বর ২০১৫ অপহরণ করে তারা। পরিবারের সদস্যরা অপহরণ মামলা করতে গেলে কলাপাড়া থানার পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামলা নেয় নি। এরপর ভুক্তভোগী পরিবার উক্ত দখলদারদের বিরুদ্ধে দেওয়ানী আদালতে মামলা করলে আদালত অভিযুক্তদের তলব করেন। এর পর থেকেই প্রভাবশালী মহল উক্ত পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে। এভাবে প্রভাবশালীরা সারাদেশে হিন্দুদের ভিটেমাটি দখল করে তাদের নিঃস্ব করছে। বাধ্য হয়ে হিন্দুরা দেশ ত্যাগ করছে। এসকল প্রভাবশালীদের মদদ দিচ্ছে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এই ঘটনায় ওসি অপহরণের মামলা না নেয়ার বিষয়টি প্রমাণ করে যে এসকল ভূমি-দস্যুকে প্রশাসন কোন না কোনভাবে সহায়তা করছে। বেশিরভাগ ভূমি-দস্যুই ক্ষমতাসীন দলের। তারা হিন্দুদের সম্পত্তি দখলের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় ও ক্ষমতাকে ব্যবহার করে। এদের ক্ষমতা এবং দাপটের কাছে অসহায় হয়ে ভিটেমাটি ছাড়তে বাধ্য হয় হিন্দু পরিবারগুলো। যারা এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে, তারা নিজেরাই উল্টো অত্যাচারীদের মদদ দেয়। প্রায়ই বিভিন্ন পত্রিকায় এ ধরনের খবর পাওয়া যায়। ভূমি-দস্যু এবং দখলবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার খবর সেই তুলনায় নেই বললেই চলে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ার ফলে দখলবাজি আরও বেড়ে যায়। যদি একের পর এক হিন্দুদের ভিটেমাটি দখল করে ঘরছাড়া করা হয় তাহলে এক সময় দেশে হিন্দু সম্প্রদায় বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
সংখ্যালঘুর সম্পত্তি দখলের ক্ষেত্রে প্রশাসনের সহযোগিতার আরও ১টি অভিযোগ উঠেছে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে। সেখানে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় ৫৫ হিন্দু পরিবারকে উচ্ছেদের তৎপরতা বন্ধের দাবিতে গত ২৯ ডিসেম্বর ২০১৫, মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে করে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়, স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতার ভূমিদস্যুরা ৫৫টি সংখ্যালঘু পরিবারের সম্পত্তি দখলের জন্য তাদের ওপর নানা উপায়ে নির্যাতন চালাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের বক্তব্য থেকে জানা যায়, দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুরের চন্ডিপুর ইউনিয়নে ৭ পুরুষ ধরে পরিবারগুলো বাস করে আসছে। তাদের জমির পরিমাণ প্রায় সাড়ে ২৫ একর। এ জমিতে বসতভিটা ছাড়াও রয়েছে আবাদি জমি ও মন্দির। ভূমিদস্যুরা ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে ও সন্ত্রাসী দিয়ে হয়রানি, মারধরের মাধ্যমে তাদের ভিটেমাটি ছাড়া করার চেষ্টা করছে। সংখ্যালঘু হওয়ার সুযোগে তাদের পুড়িয়ে হত্যা, স্ত্রী-মেয়েদের ধর্ষণ ও দেশ থেকে তাড়ানোর হুমকি দিচ্ছে। তাদের ভয়ে সংখ্যালঘুরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে। প্রশাসন তাদের কোনো সহায়তা করছে না। যদি কোনো সমাধান না হয় তাহলে তাদের আত্মহত্যা করা ছাড়া উপায় থাকবে না বলে জানান তারা।
এ জাতীয় আরেকটি ঘটনার উল্লেখ করতে চাই যেটি ঘটেছে নওগাঁর মহাদেবপুরে। সেখানে উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের চাহিদামত ঘুষ দিতে না পারায় এক সংখ্যালঘুর ৩২ বছর ধরে দখলে থাকা সম্পত্তি অন্যের নামে লিজ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভিপি সম্পত্তি লিজের ক্ষেত্রে লিজ গ্রহীতার অগ্রাধিকারের বিধান থাকলেও এ ক্ষেত্রে সে বিধান মানা হয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়। এদিকে নতুন লিজ গ্রহীতা জমি দখল নিয়ে উক্ত সংখ্যালঘু পরিবারটিকে বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র করছে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। এছাড়াপ্রায় ৫শত হিন্দু পরিবারের উচ্ছেদের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে গোপালগঞ্জের মাহমুদপুরের মাতবর এ্যাগ্রো ফিশারিজের বিরুদ্ধে। গোপালগঞ্জে হিন্দু অধ্যুষিত মাহমুদপুর বিলে জোর করে মৎস্য প্রজেক্ট করার মধ্য দিয়ে হিন্দুদের উচ্ছেদের চেষ্টা করছে উক্ত মাতবর এ্যাগ্রো ফিশারিজ। এখানে এ প্রকল্প হলে গ্রামের অন্তত ৫ শ’ হিন্দু কৃষি পরিবার তাদের পেশা হারাবেন। গ্রামের হিন্দুদের জমি ফিশারিজের কাছে নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করা ছাড়া কোন উপায় থাকবে না।
২০১৫ সালে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ২৪ জন হত্যার শিকার হয়েছেন। বিভিন্ন ঘটনায় আহত হয়েছেন ২৩৯জন। গুরুতর হামলার শিকার হয়েছেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ফরিদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অলোক সেন। ২৪ নভেম্বর ২০১৫ তাকে ফরিদপুর শহরের নিজ বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত করে কতিপয় মুখোশধারী সন্ত্রাসী। অলোক সেন ফরিদপুরের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার রক্ষায় সোচ্চার ছিলেন। এছাড়া ৫ অক্টোবর ২০১৫ সকালে বাসায় ঢুকে পাবনার ঈশ্বরদীর ফেইথ বাইবেল চার্চের যাজক লুক সরকারকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করে তিন যুবক। বেশ কয়েকজন যাজককে হত্যার হুমকি দেয়া হয়। রংপুরের ১জন খ্রিস্টান ফাদার ও বিভিন্ন চার্চে কর্মরত আরও ৯জন পাদ্রিকে ডাকযোগে পাঠানো চিঠির মারফত হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। বাংলাদেশ আঞ্চলিক ব্যাপ্টিষ্ট চার্চ রংপুরের পালক প্রধানের নামে হত্যার হুমকি সংবলিত চিঠি আসে গত ২৫ নভেম্বর ২০১৫ তারিখে। এ ছাড়াও দিনাজপুরের বীরগঞ্জে ক্যাথলিক মিশনের ফাদারকে হত্যার হুমকি দেয় দুর্বৃত্তরা। খুলনাতেও খ্রিস্টান ধর্মীয় যাজকদের উপর হত্যার হুমকি আসে এ মাসে। ২৭ নভেম্বর ২০১৫ দুপুরে মোবাইল ফোন মারফৎ বাংলাদেশ ইন্টারচার্চ পাস্টরস এন্ড লিডারস ফেলোশিপের খুলনা বিভাগের নির্বাহী সচিব এবং চার্চ অব গড এর বাংলাদেশ প্রধানসহ খুলনা বিভাগ ক্যাথলিক চার্চের বিশপকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এ বছর মোট ৫২টি হত্যার হুমকির খবর জানা গেছে। শুধু ডিসেম্বরে বড়দিন উদাযাপনের পূর্বে দুইজন খ্রিষ্টান ধর্মযাজকসহ সারাদেশে ৩৭জন খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীকে হত্যার হুমকি আসে।
গত বছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগের নেতৃত্বে সকল হিন্দু সংগঠন নিষিদ্ধের দাবি এবং তার প্রেক্ষিতে অসাম্প্রদায়িক আওয়ামী লীগের কঠোর প্রতিক্রিয়ার অনুপস্থিতি এদেশের হিন্দুদের মধ্যে সংশয়ের জন্ম দেয়। ১৯ ডিসেম্বর ২০১৫ শনিবার বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ ও সমমনা ১৩টি সংগঠন বাংলাদেশের সকল হিন্দু সংগঠন নিষিদ্ধের দাবিসহ ১০ দফা দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে। এসব দাবির মধ্যে ছিল সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ থেকে বহিষ্কার, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ নিষিদ্ধ ঘোষণা, জাগো হিন্দু পরিষদ, ইসকন, হিন্দু মহাজোট, বেদান্ত সাংস্কৃতিক মঞ্চ, সনাতন মৈত্রী সংঘ, আর্য সমাজের কর্মকাণ্ড বন্ধ ঘোষণার দাবি প্রভৃতি।
আমরা চাই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রতিটি নাগরিক সমান সুযোগ সুবিধা পাবে। ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, শ্রেণি, গোষ্ঠী, বা সম্প্রদায় যা-ই হোক না কেন, আইন যেমন সবার জন্য সমান হবে, রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, বাক-স্বাধীনতা, সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা, সংগঠন করার স্বাধীনতা, উৎসব করার স্বাধীনতা সবার বেলায় সমান হবে। এখানে কোনো ধরনের বৈষম্য থাকবে না এটাই প্রতিটি নাগরিকের কাম্য। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুর অধিকার রক্ষায় রাষ্ট্রের ভূমিকা আশানুরূপ নয়। আমাদের দেশের রাষ্ট্রীয় নীতিমালা ও সামাজিক অনুশাসনে বহুত্ববাদের (Pluralism) স্বীকৃতি ও চর্চার বিষয়টি বরাবরই উপেক্ষিত হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে এদেশের সংখ্যালঘুরা নিজদেশেই ঐতিহাসিক কাল ধরে বসবাস করা সত্ত্বেও রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে অবহেলা ও বঞ্চনা শিকার হচ্ছেন। তাদের অস্তিত্ব আজ বিপন্ন। প্রতিনিয়ত তাদেরকে নিজেদের আবাস থেকে উচ্ছেদ হতে হচ্ছে। এথনিক ক্লিনজিং-এর যে চর্চা দূর অতীত থেকে এই ভূখণ্ডে চলে এসেছে আজও তা অব্যাহত রয়েছে। এদেশে সভ্যতার ঊষালগ্ন থেকে বসবাসকারী জনগোষ্ঠী কালক্রমে আজ সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়েছেন। রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলো কর্তৃক ধর্মকে ক্রমবর্ধমান রাজনীতিকীকরণের ফলে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা কার্যত দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকে পরিণত হয়েছেন, বেড়েছে ধর্মীয় ক্ষেত্রে অসহিষ্ণুতা। রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম-এর ধারনা ধর্মনিরপেক্ষতার চর্চাকে অকার্যকর করেছে, প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীগুলো হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, প্রকৃতি পূজারী নির্বিশেষে সংখ্যালঘুদেরকে হত্যা ও সম্পত্তি দখল, মন্দির, প্রতিমা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, গ্রন্থ প্রভৃতি ধ্বংস করে এ প্রক্রিয়াকে সহায়তা যোগাচ্ছে। আমরা চাই এক্ষেত্রে রাষ্ট্র হবে আরও মানবিক। সকল সম্প্রদায়ের ও ধর্মীয় মতাদর্শের জনগোষ্ঠীর সমঅধিকার নিশ্চিত করে একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হবে আজকের বাংলাদেশ।
রিপোর্ট প্রণয়নে
প্রিয়া সাহা
সাধারণ সম্পাদক
বাংলাদেশ মহিলা ঐক্য পরিষদ

Monday, March 14, 2016

মায়ের ডাক পত্রিকা ,মার্চ ২০১৬; Mayer Dak Patrika ,March 2016



মায়ের ডাক পত্রিকা ,মার্চ ২০১৬
Mayer Dak Patrika ,March 2016
-বাংলাদেশের নির্যাতিত সংখ্যালঘু মানুষের কণ্ঠস্বর





Tuesday, March 1, 2016

Situation of Religious Minority Communities in Bangladesh ;March 2016

জগৎজ্যোতি হত্যা: তিন বছরেও শেষ হয়নি বিচার

http://www.m.sylhettoday24.com/ 03.02.16
যুবলীগ নেতা ও সিলেট গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক জগৎজ্যোতি তালুকদার হত্যার তিন বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ (মঙ্গলবার)।

২০১৩ সালের ২ মার্চ খুন হন জগৎজ্যোতি। 

তিন বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো শেষ হয়নি এই মামলার বিচার কাজ। প্রায় আসামীরাই রয়েছে জামিনে। দীর্ঘ অচলাবস্থার কারণে এই মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন তাঁর স্বজন ও সহযোদ্ধারা। 

জানা যায়, ২০১৩ সালের ২ মার্চ রাতে নগরীর তপোবন এলা
কায় সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ও সিলেট গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক জগৎজ্যোতি তালুকদার খুন হন। আহত হন আরেক যুবলীগ নেতা জুয়েল আহমদ। এ সময় তাদের ব্যবহৃত প্রাইভেট কারটিও আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়। 

এ ঘটনায় ওই বছরের ৫ মার্চ সিলেট জামায়াতের শীর্ষ তিন নেতা হাফিজ আব্দুল হাই হারুন, ফখরুল ইসলাম ও সিরাজুল ইসলাম শাহীনকে হুকুমের আসামী ও সাবেক শিবির নেতা গাজি নাছিরকে প্রধান আসামী করে কোতোয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। 

এরপর ২০১৪ সালের ২৪ এপ্রিল ৩৩ জামায়াত-শিবির নেতাকে অভিযুক্ত করে জগৎজ্যোতি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র প্রদান করা হয়।

‘জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে গণজাগরণ মঞ্চের পতাকা মিছিলে অংশ নেয়ায় রোষানলে পড়েছিলেন ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ও গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক জগৎজ্যোতি তালুকদার। এর জের ধরেই এলোপাথাড়ি কুপিয়ে তাকে খুন করা হয়।’ জগৎজ্যোতি হত্যা মামলার অভিযোগপত্রে হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে এমনটিই উল্লেখ করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহীন উদ্দিন।

অভিযোগপত্রে নগর জামায়াতের আমীর এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, নায়েবে আমীর হাফেজ আব্দুল হাই হারুন, সেক্রেটারি সিরাজুল ইসলাম শাহীন, এ্যাসিসটেন্ট সেক্রেটারি ফখরুল ইসলামসহ ৩৩ জনকে আসামী করা হয়েছে। 

এছাড়াও যাদেরকে আসামী করা হয়েছে তারা হলেন, ইউসুফ বিন নূরী চৌধুরী সানী, পারভেজ মিয়া, তানভীর আহমদ, ফয়েজ আহমদ, উবায়দুল হক শাহীন, ফয়জুল হক, রিয়াজ মিয়া, রাজিব, মারুফ রহমান, সাঈদ আব্দুল্লাহ, হুসেন আহমদ, এহসানুল করিম, মো. ফখরুল ইসলাম, হাফেজ আব্দুল হাই হারুন, সিরাজুল ইসলাম শাহীন, আনোয়ারুল ওয়াদুদ টিপু, জুবায়ের, গিয়াস উদ্দিন মোল্লা, খলিল খান, মুফতি আলী হায়দার, আতিকুর রহমান, আব্দুল্লাহ, বাশিক উদ্দিন, দুলাল আহমদ, সাফায়েত রহমান, আব্দুল মালেক, নজরুল ইসলাম, ওমর ফারুক বাপ্পী, সাদিকুর রহমান, ফখরুল আলম সেলিম ও মুজাহিদুল ইসলাম।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ‘যুদ্ধাপরাধী বিচার সংক্রান্ত একটি রায়কে কেন্দ্র করে সারা দেশব্যাপী গণজাগরণ মঞ্চ নামে একটি অরাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে উঠলে, সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সম্মুখে সিলেটের গণজাগরণ মঞ্চ প্রতিষ্ঠিত হয়। ভিকটিম জগৎজ্যোতি তালুকদার এ মঞ্চের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন।

২০১৩ সালের ১ মার্চ গণজাগরণ মঞ্চের উদ্যোগে সিলেটের একটি বিশাল পতাকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। জগৎজ্যোতি এ পতাকা মিছিলে বিরাট জাতীয় পতাকা হাতে মিছিলের অগ্রভাগে ছিলেন। এর ফলে সে জামায়াত ও ছাত্র শিবিরের রোষানলে পড়ে’। ১০ পৃষ্টায় অভিযোগপত্রে হত্যাকাণ্ডের কারণ ও হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে বিস্তর বর্ণনা দেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, জগত জ্যোতি হত্যার পর নিহতের রাজনৈতিক সহকর্মীবৃন্দসহ সংস্কৃতি কর্মীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে জাতীয় সংসদে ৭১ বিধিতে দীর্ঘ বক্তব্য দেন আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত। জগৎজ্যোতি হত্যা মামলাসহ সিলেটের ৫ আলোচিত মামলার ব্যাপারে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি জানতে চায়। 

তবে তিন বছর পেরিয়ে গেলেও আজও শেষ হয়নি চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার বিচার কাজ।

‘গরু জবাই নিষিদ্ধের দাবি করা হয়নি, মিডিয়ায় ভুয়া খবর’

http://www.m.sylhettoday24.com/


প্রকাশিত : ২০১৬-০২-২৯


যুক্তরাষ্ট্র হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের বাংলাদেশে গরু জবাই নিষিদ্ধের দাবি করেছে এমন সংবাদের প্রতিবাদে উত্তাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো। এ সংবাদের প্রতিবাদ করেছেন অনেকেই, এর মধ্যে আছেন ঐক্য পরিষদের নেতারাও। এমন সংবাদকে ভূয়া বলে দাবি করেছেন তারা।

রোববার (২৮ ফেব্রুয়ারি) কয়েকটি সংবাদমাধ্যম ‌'বাংলাদেশে গরু জবাই বন্ধের দাবি নিউ ইয়র্ক হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের'- এমন শিরোনামে সংবাদ পরিবেশন করে। এ নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা। তবে নিউয়র্কে সংবাদ সম্মেলনটির আয়োজকরা জানিয়েছেন, এ সংক্রান্ত কোন দাবি জানানো হয় নি ঐক্য পরিষদের সংবাদ সম্মেলনে। 

যুক্তরাষ্ট্র হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ নেতা শিতাংশু গুহ এ সংবাদটি মিথ্যা দাবি করে বলেন, "বাংলাদেশে গরু জবাই বন্ধের দাবী যুক্তরাষ্ট্র হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের"-শীর্ষক একটি সংবাদ আমরা মিডিয়ায় দেখেছি। বাংলাদেশ ও প্রবাস থেকে আমরা যথেষ্ট ফোনকল পাচ্ছি। সামাজিক মিডিয়ায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে অনুমোদিত ঐক্য পরিষদ কমিটির প্রেস-কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলাম। এ ধরনের বক্তব্য ঐক্য পরিষদ দেয়নি। এটা যুক্তরাষ্ট্র ঐক্য পরিষদের বক্তব্য নয়।' 


তিনি আরও বলেন, ‌এটা প্রবাসী হিন্দুদেরও কথা নয়। আমরা মনে করি বাংলাদেশের হিন্দুদের বক্তব্যও ওটা নয়। বাংলাদেশের কোন দায়িত্বশীল ব্যক্তি বা সংগঠন এমন কথা বলতে পারেন না।' 

এ ধরনের অপপ্রচারের প্রতিবাদে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এমন জানিয়ে শিতাংশু গুহ ফেসবুকে লিখেন, ‌'ইতিমধ্যে আমার সাথে ঐক্য পরিষদের সভাপতি নবেন্দু দত্ত; নয়ন বড়ুয়া এবং সাধারণ সম্পাদক স্বপন দাস-সহ গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান এটর্নি অশোক কর্মকার; সদস্য সচিব চন্দন সেনগুপ্ত, যুগ্ম-সম্পাদক প্রিয়তোষ দে, ও অন্যান্য নেতাদের কথা হয়েছে, সবাই একবাক্যে আমার সাথে একমত হয়েছেন। ঐক্য পরিষদ এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও কর্মসূচি দিচ্ছে।'

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। অনেকেই দৈনিক মানবজমিন ও অন্যান্য কিছু অনলাইন মিডিয়ার লিঙ্ক শেয়ার করে এধরনের দাবির সমালোচনা করছেন।

প্রবাসী সাহিত্যিক কুলদা রায় ব্যক্তিগতভাবে ঐক্য পরিষদের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফেসবুকে এ নিয়ে লিখেন,  বাংলাদেশে দৈনিক মানবজমিন পত্রিকায় একটি খবর প্রকাশিত হয়েছে। বলা হয়েছে, নিউ ইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ বাংলাদেশে গরু জবাই নিষিদ্ধ করার দাবী করেছে এক সংবাদ সম্মেলনে।

তিনি আরও লিখেন, নিউ ইয়র্কে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের দুটি গ্রুপ আছে। একটির নেতা শিতাংশু গুহকে আমি ফোন করি। তিনি জানান, তারা কোনো সংবাদ সম্মেলন করেননি। গরু জবাই নিষিদ্ধ করার দাবীর সঙ্গে একমত নন।

কুলদা রায় আরও লিখেন, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের অপর অংশের নেতা ড. দ্বিজেন ভট্টাচার্যের সঙ্গে ফোনে কথা বলি। তিনি জানান, গতকাল তারা জ্যাকশন হাইটসে একিটি সাংবাদিক সম্মেলন করেছিলেন। সেখানে তারা বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিপীড়ন বন্ধের আহবান জানিয়েছেন। কিন্তু গরু জবাই নিষিদ্ধের কোনো দাবী তারা করেননি। এ ধরনের কোনো দাবীর সঙ্গে তারা একমত নন।  তিনি আরো বলেন, সাংবাদিক সম্মেলনে একজন ভারতীয় সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ভারতে গরু জবাই নিষিদ্ধের দাবী করছে উগ্র হিন্দুরা। এ বিষয়ে আপনাদের মতামত কি? হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতারা জানান এ বিষয়ে তারা একমত নন। এটা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের আদর্শ পরিপন্থী। 

"তখন সম্মেলনে শ্যামল চক্রবর্তী নামে একজন শ্রোতা দর্শকদের আসন থেকে উঠে এসে বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে গরু জবাই নিষিদ্ধ করার দাবী করছেন। এটা একান্তই তার ব্যক্তিগত দাবী। তিনি কোনো সংগঠনের হয়ে বলছেন না। তিনি হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সঙ্গে যুক্ত নন। ড. দ্বিজেন ভট্টাচার্য জানান যে, মানব জমিন পত্রিকার প্রকাশিত সংবাদেরর প্রতিবাদ করে একটি প্রতিবাদপত্র পাঠিয়েছেন মানব জমিন পত্রিকার সম্পাদক বরাবরে। তিনি আরো দাবী করেন, মানব জমিন পত্রিকাটি তাদের সংগঠনের নাম জড়িত করে যে খবরটি প্রকাশ করেছেন তা অসত্য।"

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি কয়েকটি জাতীয় ও সিলেটের স্থানীয় একটি সংবাদপত্রে "নিউ ইয়র্কে সংবাদ সম্মেলন, বাংলাদেশে গরু জবাই বন্ধের দাবি হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের" শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়। এতে বলা হয়, "বাংলাদেশে অবিলম্বে আইন করে গরু জবাই বন্ধের দাবি জানিয়েছে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র শাখা। শুক্রবার সংগঠনটির পক্ষ থেকে নিউ ইয়র্কে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়। এছাড়া দাবি করা হয় যে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নজিরবিহীন নিপীড়ন চলছে এবং তাদের বেদখল হয়ে যাওয়া সম্পত্তির মধ্যে চার ভাগের তিন ভাগ দখল করে নিয়েছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।"
ঐক্য পরিষদ মানবাধিকার সংগঠন, প্রাণীর অধিকার রক্ষার সংগঠন নয়
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, ইউ এস এ, ইনক. -এর জরুরি সভায় গৃহীত প্রস্তাবের আলোকে সাধারণ সম্পাদক স্বপন দাস সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়-
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, যুক্তরাষ্ট্র শাখার নামে প্রকাশিত একটি সংবাদের প্রতি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষিত হরেছে। প্রকাশিত সংবাদে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, যুক্তরাষ্ট্র-এর নাম অবৈধভাবে ব্যবহার করে কিছু স্বার্থপর বিতর্কিত ব্যক্তি অতি বিতর্কিত কিছু মন্তব্য করেছেন যা কোনভাবেই বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ এর কেন্দ্রীয় কমিটি অনুমোদন করে না এবং ওই সাংবাদিক সম্মেলনে যারা অংশ গ্রহণ করেছেন তারা বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, ইউ এস এ, ইনক.  এর সাথে যুক্ত নন। তারা অবৈধভাবে আমাদের সংগঠনের নাম ব্যবহার করছেন। বাংলাদেশে গরু জবাই বন্ধের কোনো বক্তব্যের সাথে কেন্দ্রীয় কমিটি বা বৈধ ও স্বীকৃত বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, ইউ এস এ, ইনক.-এর কোনো সংশ্রব নেই। আমরা তাদের এই ঘৃণ্য বক্তব্যের তীব্র নিন্দা করছি।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ একটি ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার সংগঠন, এটা গরু কিংবা কোনো প্রাণীর অধিকার রক্ষার সংগঠন নয়। 

এইসব অপশক্তি বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে ভিন্ন পথে পরিচালিত করার জন্য সাম্প্রদায়িক অপশক্তির সাথে হাত মিলিয়েছে। আমরা প্রকৃত বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, ইউ এস এ, ইনক. এর নেতৃবৃন্দ ওই অবৈধ সংগঠন ও তার উস্কানিদাতাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে বিবেচনা করছি।

আমরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই যে  বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সকল রকম সাম্প্রদায়িকতার বিপক্ষে এবং সম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হতে পারে এমন কোনো বক্তব্য ঐক্য পরিষদ অনুমোদন করে না।

ঐসব অপশক্তি বাংলাদেশের সম্প্রদায়িক অপশক্তির ক্রীড়নক হিসেবে কাজ করছে বলেই আমরা বিবেচনা করছি। বাংলাদেশের সকল ধর্মপ্রাণ মুসলিম ভাই বোনদের প্রতি আহবান তারা যেন এই অশুভ শক্তির অশুভ প্ররোচনায় বিভ্রান্ত না হন।

নবেন্দু দত্ত,         নয়ন বড়ুয়া,                 রেভ. জেমস রায়
 (সভাপতি)        (সভাপতি)                  (সভাপতি)

লামায় কথিত লাদেন বাহিনীর কর্তৃক উচ্ছেদ আতঙ্কে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জনগণ


লামায় কথিত লাদেন বাহিনীর কর্তৃক উচ্ছেদ আতঙ্কে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জনগণ
 মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, লামাঃ-লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের সাঙ্গু মৌজায় মোহাম্মদিয়া ট্রি প্লানটেশন প্রকাশ লাদেন গ্রুপ কর্তৃক উপজাতিদের শত বছরের ভোগদখলীয় জায়গা অবৈধ জবরদখল করার অভিযোগ উঠেছে। ২৫ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড বনফুর বাজারে উচ্ছেদ আতঙ্কে থাকা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীরা এক প্রতিবাদ সমাবেশ করে।
ক্ষতিগ্রস্তরা জানায়, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের সাঙ্গু মৌজার চিনি ঝিরি ম্রো পাড়া সংলগ্ন স্থানীয়দের শত বছরের ভোগদখলীয় প্রায় ৭০ একর পাহাড়ে পাড়ার লোকজন জুম চাষ করে। গত ১৮ ফেব্রুয়ারী স্থানীয় ম্রো, ত্রিপুরা ও মার্মা সম্প্রদায়ের লোকজন জুম ও লাকড়ি কাটতে গেলে মোহাম্মদিয়া গ্রুপের কর্মচারীরা বাধা দেয় এবং মামলা হুমকী দেয়। ২৪ ফেব্রুয়ারী লামা থানার পুলিশের উপ-পরিদর্শক অভিজিৎ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসে। যাতে করে উপজাতিরা ধারনা করে মোহাম্মদিয়া ট্রি প্লানটেশন তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। এদিকে মামলার ভয়ে সহজ সরল ম্রো, ত্রিপুরা ও মারমা জনগোষ্ঠী বাড়ি ঘর ছাড়া উপক্রম হয়েছে বলে জানায় ২৮৫নং সাঙ্গু মৌজার হেডম্যান থংপ্রে ম্রো।
উচ্ছেদ আতঙ্কে থাকা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীরা নিরুপায় দেখে বৃহস্পতিবার বনফুর বাজারে এক প্রতিবাদ সমাবেশ করে। প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করে ২৮৫নং সাঙ্গু মৌজার হেডম্যান থংপ্রে ম্রো। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, গয়ালমারা ত্রিপুরা পাড়া কারবারী মোক্তারাম ত্রিপুরা, নয়া ম্রো পাড়ার কারবারী রিং ইয়ং ম্রো, ত্রিশডেবা পাড়ার কারবারী অংক্যয় মার্মা, রাজা পাড়ার বাসিন্দা ও পিসিপি নেতা চংপাত ম্রো সহ সাঙ্গু ও ইয়াংছা মৌজার শতাধিক লোকজন।
বক্তরা বলেন, রক্ত দেব মাটি দেব না। শত বছরের ভোগদখলীয় জায়গা কাউকে অবৈধ দখল করতে দেয়া হবেনা। প্রশাসনের কাছে প্রতিকার চাইতে আগামী ৪ মার্চ বান্দরবান জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। কোন ভাবে লাদেন গ্রুপ কে চিনি ঝিরি পাড়া এলাকায় ঢুকতে দেয়া হবেনা।
জায়গার মালিকানা ও অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদিয়া ট্রি প্লানটেশনের দায়িত্বশীল কাউকে না পাওয়ায় তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এবিষয়ে জানতে চাইলে লামা থানার পুলিশের উপ-পরিদর্শক অভিজিৎ বলেন, সাঙ্গু মৌজার মোহাম্মদিয়া ট্রি প্লানটেশন তাদের বাগানের গাছ কেউ বা কারা কেটে নিয়ে গেছে বলে একটি অভিযোগ করেছে। বিষয়টি তদন্ত করতে বুধবার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে তদন্ত করতে যাই।
ফরিদগঞ্জে হাত-পা বাধা অবস্থায় জেলের লাশ উদ্ধার
laer

ফরিদগঞ্জে হাত-পা বাধা অবস্থায় জেলের লাশ উদ্ধার

ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১নং বালিথুবা পশ্চিম ইউনিয়নের বেয়ারীপুর দাসপাড়ায় ইটভাটার কাছে শনিবার ডাকাতিয়া নদীতে হাত-পা বাধা অবস্থায় সুখরঞ্জন নামের এক জেলের লাশ পাওয়া গেছে। ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নতদন্তের জন্য প্রেরণ করেন ।
জানা যায় নিহত সুখরঞ্জনের বাড়ি বেয়ারীপুর গ্রামের দাসবাড়ি। তার পিতার নাম নুকুল চন্দ্র দাস। নিহত সুখরঞ্জনের ১ ছেলে ও ২ মেয়ে রয়েছে।
নিহত সুখরঞ্জনের স্ত্রী জানান গত বৃহষ্পতিবার সুখরঞ্জন সকালে নিখোজ হয়। সম্ভাব্য সব জাযগায় খোজ করে সন্ধান না পাওয়ায় স্থানীয় ইউপি সদস্যকে বিষয়টি জানিয়েছেন।
শনিবার সকালে ইটভাটার মাটি কাটার শ্রমিকরা ট্রলারে করে মাটি নিয়ে আসার সময় ডাকাতিয়া নদীতে ভাসমান অবস্থায় লাশটি দেখে চিৎকার দিলে স্থানীয় গিয়ে সুখরঞ্জন লাশ বলে সনাক্ত করে ।
এলাকাবাসী ও নিহতের স্ত্রী সূত্রে জানা যায় নিহত সুখরঞ্জনকে কে বা কারা তাকে হত্যা করেছে তা বোধগম্য নয়।
এলাকাবাসী আরো জানান নিহত সুখরঞ্জন সহজ সরল প্রকৃতির ও খেটে খাওয়া মানুষ ছিল। তার সাথে কারো শত্রুতা ছিল এমন মনে হয় না।
তারা আইনের মাধ্যমে প্রকৃত দোষী বেরিয়ে আসবে এমনটি আশা করেন।
এ ব্যাপারে ফরিদগঞ্জ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা চাঁদপুর টাইমসকে বলেন, ‘খবর শুনে লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে এবং ময়না তদন্তের জন্য প্রেরণ করেছি। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি ও চলছে।’


পুরোহিতের গলাকাটা লাশ : হিন্দু নির্যাতন না জঙ্গিবাদের উত্থান?

মঙ্গলবার, ১ মার্চ ২০১৬ bhorerkagoj.net/
একুশে ফেব্রুয়ারি মহান ভাষা দিবসে এবারে আমাদের প্রাপ্তি পঞ্চগড়ের দেবিগঞ্জ গৌড়ীয় মঠের সাধু অধ্যক্ষ যজ্ঞেশ্বর রায়ের গলাকাটা লাশ। সঙ্গে গুলিবিদ্ধ ভক্ত গোপালচন্দ্র রায়ের মুমূর্ষু যন্ত্রণাকাতর গোঙানি। গত বছর আমরা পেয়েছিলাম অভিজিতের ভারী লাশ। এদিক-ওদিক লাশ আরো পড়ছে। এর যেন কোনো বিরাম নেই। কিন্তু জাতি আর কত লাশের ভার বইবে? তবে এ সময়ের কঠিন প্রশ্ন হলো- সদ্য দেহ থেকে মস্তক পৃথক হয়ে যাওয়া যজ্ঞেশ্বর রায়ের লাশ বা এই পরিকল্পিত নৃশংস হত্যাকাণ্ড সচরাচর সরকারি ভাষায় একটি বিচ্ছিন্ন সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা নাকি নীলনক্সার ছকে আঁকা সন্ত্রাসী তৎপরতা? নাকি দুটোই, এক ঢিলে দুই পাখি শিকার? সরকার বলছেন, অপরাধী গ্রেপ্তার হয়েছে। ভালো কথা, আমাদের পুলিশ এত এক্সপার্ট হয়ে গেল কবে? প্রকৃত অপরাধী ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে ‘বক্র হাসি’ হাসছেন না তো!
আইএস এর দায়িত্ব স্বীকার করেছে। সরকার তা উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, আইএস নয়, দেশীয় সন্ত্রাসীদের কাজ। সবই রুটিন। সারা বিশ্ব এ ঘটনার নিন্দা করেছে। দেশের সুনাম ক্ষুণœ হয়েছে। বাংলাদেশে আইএস আছে কি নাই, এ নিয়ে নুতন করে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। কদিন আগে এক শুনানিতে মার্কিন এক বিশেষজ্ঞ বলেছিলেন, বাংলাদেশে সরকারের দমননীতির ফলে মৌলবাদী সন্ত্রাস মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্র ৫ জানুয়ারির নির্বাচন কখনোই মেনে নেয়নি, নতুন নির্বাচনের জন্য তারা বরাবরই চাপ দিচ্ছিলেন, এবার এ ঘটনায় চাপ বেড়েছে। অর্থমন্ত্রী মুহিত ছুটে এসেছেন মার্কিন মুল্লুকে, দেন-দরবার করে চাপ যদি কিছুটা কমানো যায়। পত্রিকায় দেখলাম, খালেদা জিয়া দিল্লি যাচ্ছেন চাপ যাতে বাড়ানো যায়। এও দেখলাম, এরপর তিনি আমেরিকা আসছেন, উদ্দেশ্য একই।
সরকার এ সময় নির্বাচনের জন্যে প্রস্তুত নন। গোটা প্রশাসন এখন ব্যস্ত পদ্মা সেতু নিয়ে। সরকার চান নির্বাচন হবে সেতু নির্মাণের পর। উদ্দেশ্য মহৎ, পদ্মা সেতু হয়ে গেলে জনসমর্থন বাড়বে। নির্বাচন নিয়ে দেশের জনগণের মাথাব্যথা তেমন আছে বলে মনে হয় না, কিন্তু বিদেশিদের যথেষ্ট শিরঃপীড়া আছে। বিশেষত আইএস বা সন্ত্রাস যন্ত্রণা যখন বাড়ছে। কদিন বাদে বাদে দেশে যখন একটি সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটে এবং আইএস দায়িত্ব স্বীকার করে তখন কিছুদিন হৈচৈ হয়, তারপর সব চুপচাপ; আমরা অপেক্ষা করি আর একটি ঘটনার জন্য! সাম্প্রতিক সময়ে সন্ত্রাসী ঘটনার সংখ্যা যাই হোক, আইএস দায়িত্ব স্বীকার করেছে প্রায় অর্ধ-ডজন এবং সরকার বারবার তা অস্বীকার করেছেন। এই স্বীকার-অস্বীকারের মধ্য দিয়ে যারা খুন হওয়ার তারা শহীদ হয়ে যাচ্ছেন। ওইসব সন্ত্রাসী ঘটনার সর্বশেষটি হলো- নির্ভেজাল সাধু যজ্ঞেশ্বর রায়ের করুণ মৃত্যু।
আমেরিকায় ট্রেন্ড এনালাইসিস বলে বহুল প্রচলিত একটি টার্ম আছে। ওই সাতটি ঘটনার ট্রেন্ড এনালাসিস করলে বোঝা যাবে কোনোটিই বিচ্ছিন্ন নয়, পরিকল্পিতভাবে বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে এসব ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। সাধু হত্যাকাণ্ড বা হিন্দুর ওপর অত্যাচার তাদের দেশ থেকে খেদিয়ে বাংলাদেশকে একটি শরিয়া মোতাবেক ইসলামী রাষ্ট্র বানানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ। আহমেদিয়া ইমাম হত্যা ওই সম্প্রদায়কে ‘অমুসলিম’ ঘোষণার পাঁয়তারা। ক্রিস্টান পাদ্রির ওপর হামলা মূলতঃ একই লক্ষ্যে কিন্তু আমার কেন জানি মনে হয়, পাদ্রিকে ওরা ইচ্ছে করেই হত্যা করেনি, কারণ পশ্চিমা বিশ্বের অতটা চাপ মৌলবাদীরা এখনই নিতে চাচ্ছে না। হিন্দুদের খেদানো গেলে অল্প কিছু ক্রিস্টানকে দমানো তেমন কঠিন হবে না। ব্লুগার হত্যার লক্ষ্য মুক্তকণ্ঠ দমিয়ে রাখা। ব্লুগার হিন্দু হলে ডবল লাভ। আর এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের লক্ষ্য, দেশকে অস্থিতিশীল করে রাখা, সরকারকে চাপের মধ্যে ফেলা এবং একটু একটু করে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশকে একটি কট্টর ডানপন্থী ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করা।
এখন বলা হচ্ছে বাংলাদেশে আরো ব্যাপক সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটতে পারে এবং সেটা জনবহুল এলাকায়। ফলাফল সহজেই অনুমেয়, ব্যাপক প্রাণহানি। ‘মে গড বেøস বাংলাদেশ’। সন্ত্রাসীরা কি তা পারে না? পারে। যারা একসঙ্গে ৫শ বোমা ফাটাতে পারে, তারা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। কদিন আগে একজন প্রগতিশীল ব্যক্তি এসেছিলেন, তিনি বললেন, ‘আমরা বেঁচে আছি ওদের দয়ায়, ওরা টার্গেট করলে বাঁচানোর কেউ নেই’। যজ্ঞেশ্বর সাধু হত্যার পর এখন অপেক্ষার পালা ওদের পরবর্তী টার্গেট কে, কি বা কোথায়! সরকার বিষয়টি সিরিয়াসভাবে নিচ্ছেন না। ক্ষমতায় থাকার জন্য যেটুকু করা দরকার ততটুকুই করছেন। অর্থাৎ সরকার ডিফেন্সিভ খেলছেন; আক্রমণাত্মক ভূমিকা নিচ্ছেন না। সরকার ভাবছেন, পুলিশ ও র‌্যাব দিয়ে সন্ত্রাসীদের মোকাবেলা করবেন! তা কি সম্ভব?
কথায় বলে, সময় বহিয়া যায় নদীর স্রোতের ন্যায়। সরকারের গড়িমসিতে শেষে না অনেক দেরি হয়ে যায়! আমেরিকার মতো শক্তিশালী দেশ সন্ত্রাসীদের মোকাবেলায় ‘হোমল্যান্ড সিকিউরিটি’ নামক একটি শক্তিশালী মন্ত্রণালয় বা বিভাগ সৃষ্টি করেছে। লন্ডন বা ইউরোপ ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভারত পিছিয়ে নেই, আমরা কেন বসে থাকব? আসলে বসে থাকার সময় নেই, সন্ত্রাস দমনে বিশেষ আইন দরকার (সেটা বিরোধী দলের ওপর প্রযোজ্য নয়), দরকার বিশেষ বাহিনী (হরতাল বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে এদের ব্যবহার করা যাবে না), আরো দরকার সুনির্দিষ্ট সংস্থা। এই সংস্থার একমাত্র কাজ আইএস বা জঙ্গি-সন্ত্রাস দমন, বিশেষ আদালতে এদের দ্রুত বিচার করা, জনগণকে আগাম নোটিস বা সতর্কবাণী জানানো, যা আমেরিকাতেও ব্যাপকভাবে করা হয়ে থাকে। আমাদের ছেলেমেয়েরা পারবে। এ জন্য স্পেশাল ট্রেনিং, কলাকৌশল, সমরাস্ত্র প্রয়োজন হতে পারে, প্রয়োজনে বাইরের সাহায্য নিতে হবে? মোদ্দা কথা হলো, সরকারের এই দিকটায় এখনি নজর দেয়া দরকার। সন্ত্রাস দমনে জাতীয় ঐকমত্যের প্রয়োজন আছে বৈকি।
বৃহৎ শক্তিগুলো দায়সারা গোছের আক্রমণের মাঝেও আইএস শক্তিশালী হচ্ছে। এরা ফেসবুক, টুইটারের প্রধানকে হত্যার হুমকি দিয়েছে। নরেন্দ্র মোদী তাদের তালিকায় আছেন। শেখ হাসিনা কি নেই? আইএস নিজেই ঘোষণা করেছে ভারত ও বাংলাদেশে তাদের তৎপরতা বাড়াচ্ছে। পাকিস্তান আইএসকে মদদ দিচ্ছে, আইএসআই অস্ত্র দিচ্ছে। ইউরোপ-আমেরিকায় আরো সন্ত্রাসী আক্রমণের আশঙ্কা করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, ইউরোপে পাঁচ হাজার আইএস ভলান্টিয়ার কাজ করছে। জাতিসংঘ বলছে, আইএসের কাছে ক্রুড পারমাণবিক সরঞ্জামও থাকতে পারে। দারিদ্র্যক্লিষ্ট পুরো আফ্রিকায় আইএস তরুণদের রিক্রুট করছে। সফ্ট টার্গেট নেপালের মাদ্রাসাগুলোকে এরা ব্যবহারের চেষ্টা করছে। জাতিসংঘ দক্ষিণ এশিয়ায় আইএস কর্মকাণ্ড প্রসারের ব্যাপারে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে এর ভয়াবহ ব্যাপকতার কথা বলেছে। এ বিষয়ে জাতিসংঘ একটি প্রস্তাবও নিয়েছে। কদিন আগে নিউইয়র্কে ঐক্য পরিষদের সম্মেলনে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত একই আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন। সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে আইএস শুধু শক্তিশালী তা-ই নয়, বরং যথেষ্ট ধনী, ২০১৫-তে এর আয় ছিল ৪০০-৫০০ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশে আইএসের শক্তি দেখিয়েছে, সামনে এর ব্যাপকতা দেখালে অবাক হবার কিছু থাকবে না। কাজেই, সাবধান।
সরকার আইএসের অস্তিত্ব স্বীকার করুন বা না-করুন প্রস্তুত থাকতে সমস্যা কোথায়? প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়ে আমরা আগাম ব্যবস্থা নিতে পারলে, সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবেলায় সচেষ্ট থাকব না কেন? জননেত্রী শেখ হাসিনার কিছু হলে কেউ কি ভেবেছেন বাংলাদেশে কি হতে পারে? এ কথা তো বলার অপেক্ষা রাখে না যে, আইএস বা যেকোনো সন্ত্রাসী গ্রুপের প্রধান টার্গেট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি না থাকলে আজকের বাংলাদেশ এভাবে থাকবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ আছে বৈকি!
নিউইয়র্ক। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৬
শিতাংশু গুহ, কলাম লেখক।

আতঙ্কে দিন-যাপন : হামলা ঠেকাতে রাত জেগে বাড়ি পাহারা



এইবেলা ডেস্ক: ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জ্যেষ্ঠ নেতা সুব্রামানিয়ান স্বামী ভারত সরকারকে বাংলাদেশের সাথে তাদের সম্পর্ক নিয়ে সতর্ক থাকতে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন ঢাকার সঙ্গে দিল্লির রাষ্ট্রনীতির পুনর্মূল্যায়ন করা উচিত। এ সময় তিনি ভারতকে শেখ হাসিনার সরকারের প্রতি ‘ঝুঁকে থাকা’ বন্ধ করতে বলেন। বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সাম্প্রপ্তিক নির্যাতন ও হত্যার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এই আহ্বান জানান।

সুব্রামানিয়ান বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও মন্দির ভাংচুরের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে মৌলবাদ ও জেহাদি মনোভাব বেড়েছে। আর এসব কারণে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ হত্যা ও হিন্দু নারীকে অসম্মান ও মন্দির ভাংচুরের ঘটনা ঘটছে। বিজেপি নেতা বলেন, বাংলাদেশে সম্প্রতি হিন্দু পুরোহিত হত্যার ঘটনা দুঃখজনক। তিনি হিন্দু সম্প্রদায়বিরোধী আতংকের বিষয়ে শেখ হাসিনার সরকারকে অসহায়’ অথবা ‘দুষ্কর্মের সহযোগী’ বলে অভিযোগ করেছেন।

উল্লেখ্য, ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে শ্রীশ্রী সন্তগৌড়ীয় মঠের পুরোহিত যজ্ঞেশ্বর রায়কে গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় গোপাল চন্দ্র রায় নামে এক পূজারি গুলিবিদ্ধ হন। আহত হন দু’জন। এ ঘটনায় জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) তিন সদস্যকে গ্রেফতারের কথা জানায় পুলিশ।

বাংলাদেশে ধর্মীয় মত প্রকাশের ক্ষেত্র সংকুচিত হচ্ছে

10.03.16
বাংলাদেশে ধর্মীয় মত প্রকাশের ক্ষেত্র সংকুচিত হচ্ছে
জাতিসংঘ, ১০ মার্চ- জাতিসংঘের ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার হাইনার বিলেনফোল্ড বলেছেন, কিছু আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের কারণে বাংলাদেশে ধর্মীয় কিংবা রাজনৈতিক মত প্রকাশের ক্ষেত্র সংকুচিত হচ্ছে। বাংলাদেশ সফরের ওপর জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে দেওয়া এক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে তিনি এ মন্তব্য করেছেন। আজ বুধবার ওই প্রতিবেদন জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে।
বাংলাদেশে ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গত বছরের ৩১ আগস্ট থেকে ৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সফর করেন হাইনার বিলেনফোল্ড। ওই সময় তিনি সরকারি কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়, নাগরিক সমাজ ও কূটনীতিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
প্রতিবেদনে হাইনার বিলেনফোল্ড বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে অনেক আগে থেকেই আন্তধর্ম সহাবস্থানের পাশাপাশি সমাজের উদার মনোবৃত্তির দৃষ্টান্ত খুঁজে পাওয়া যায়। বাংলাদেশে ১৯৭২ সালের সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতাকে মূল আদর্শ হিসেবে ধরা হয়েছে, যা কারও প্রতি বৈষম্য না করে ধর্মীয় বহুমত ধারণের ক্ষেত্র করে দিয়েছে। মৌলিক ও রাজনৈতিক অধিকারের মতো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদ অনুসমর্থনের মাধ্যমে বাংলাদেশের এই অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার বিলেনফোল্ড মনে করেন, ধর্মনিরপেক্ষতা, যা ধর্মীয় ও বিশ্বাসের স্বাধীনতার ভিত্তিতে বৈচিত্র্যের সমাহারকে ধারণ করার কথা বলেছে, তা নিশ্চিত করা উচিত। সবাইকে ধারণ করার ব্যাপারে ধর্মনিরপেক্ষতার এই মূল্যবোধের মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বিতর্কের প্রক্রিয়ায় মূল্যবান ভূমিকা রাখতে পারে।
বিভিন্ন সম্প্রদায় ও ধর্মীয় বিশ্বাসের লোকজনের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং সম্ভাব্য সন্দেহ ও ভুল-বোঝাবুঝি অবসানের জন্য আন্তধর্ম ও আন্তসীমান্ত যোগাযোগ বাড়ানোর জন্য সরকারকে তার উদ্যোগ দ্বিগুণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অসহিষ্ণুতা, বৈষম্য ও উগ্রবাদের যেকোনো তৎপরতার বিরুদ্ধে সরকারকে ধারাবাহিক অবস্থান বজায় রাখতে হবে। বাংলাদেশে ধর্মীয় উগ্রবাদ ও সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে পরিচালিত হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও আদিবাসীরা নিজেদের বিপন্ন বোধ করায় তাদের উদ্বেগ দূর করে সক্রিয় নাগরিক সমাজ ও বহুমতের সমাজ সুরক্ষায় সরকারকে সচেষ্ট থাকতে হবে।

হাসিনা সরকারের প্রতি মনোভাব বদল করুক কেন্দ্র, দাবি স্বামীর

 ABP Ananda | Tuesday, 8 March 2016 8:08 PM
হাসিনা সরকারের প্রতি মনোভাব বদল করুক কেন্দ্র, দাবি স্বামীর
নয়াদিল্লি: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও তাদের ধর্মস্থানগুলির ওপর হামলার অভিযোগে সরব সুব্রহ্মণ্যম স্বামী। এ ব্যাপারে প্রতিবেশী রাষ্ট্রে ক্ষমতাসীন শেখ হাসিনা ওয়াজেদের সরকারকে অভিযোগের নিশানা করেছেন এই বিজেপি নেতা।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে জেহাদি ভাবাবেগ বাড়ছে। মৌলবাদীদের দাপট ক্রমবর্ধমান। কোণঠাসা সংখ্যালঘুরা। সংখ্যালঘু নিধন, তাদের মেয়েদের সম্ভ্রমহানির ঘটনা বাড়ছে। তাদের ধর্মস্থানগুলিতেও হামলা চালানো হচ্ছে।
সম্প্রতি এক সংখ্যালঘু ধর্মীয় প্রতিনিধির মাথা কেটে নেওয়ার মতো ‘ভয়ঙ্কর’ ঘটনার প্রসঙ্গ তুলেছেন স্বামী। তিনি ক্ষোভের সুরে বলেছেন, এটা স্পষ্ট যে, হয় সে দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার অসহায়, নতুবা সংখ্যালঘু-বিদ্বেষী পরিমণ্ডলে তাঁদেরও ইন্ধন রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে হাসিনা সরকারের প্রতি ‘ঝুঁকে’ থাকলে হবে না নরেন্দ্র মোদীর সরকারকে। এমন অভিমত জানিয়ে হাসিনার প্রতি অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে তিনি পরামর্শ দিয়েছেন কেন্দ্রের এনডিএ সরকারকে।


রাষ্ট্রধর্ম নিয়ে নিয়ম বহির্ভূত রিট বাতিল করতে হবে : ইসলামী নেতৃবৃন্দ | 

প্রকাশের সময় : ২০১৬-০৩-১২ 
      
স্টাফ রিপোর্টার : রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম সংবিধান থেকে বাদ দেয়ার জন্য হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্যপরিষদের দাবি এবং এ বিষয়ে খারিজ করা রিট নবায়ন করার তীব্র প্রতিবাদ করেছেন হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগর ও ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, নিয়ম বহির্ভূতভাবে দায়ের করা রিট অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। এ বিষয়ে চক্রান্ত বন্ধ না করলে যেকোনো পরিস্থিতির দায় সরকার এবং হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্যপরিষদকে নিতে হবে। তা এ সাম্প্রদায়িক সংগঠনকে নিষিদ্ধের দাবি করেছেন। হেফাজত ঢাকা মহানগর বিগত ২৮ বছর পূর্বে খারিজ হয়ে যাওয়া রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বিষয়ক রিটটি পুনঃসচল করে বিরাজমান রাজনৈতিক অচলাবস্থায় আবার আগুনে তৈল ঢালা হচ্ছে। অথচ মুসলিম সংখ্যাঘরিষ্ট এদেশে সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম হলেও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা ধর্ম পালনে পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করছে। গতকাল হেফজাতে ইসলাম ঢাকা মহানগরীর অস্থায়ী কার্যালয় জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা মিলনায়তনে মহানগরীর এক জরুরি সভায় সভাপতির বক্তব্যে আল্লামা নূর হোছাইন কাসেমী একথা বলেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম সংবিধান থেকে বাতিলের দাবি, স্বাধীন দেশের সংবিধানের উপর নগ্ন হস্তক্ষেপ এবং সাম্প্রদায়িক হানাহানী সৃষ্টির উস্কানি। সভায় বক্তাগণ বলেন, রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের ক্ষেত্রে কোনো আত্মঘাতি পদক্ষেপ নেয়ার চক্রান্ত করা হলে এদেশের স্বাধীনচেতা, ঈমানদীপ্ত নওজোয়ানরা জীবন বাজি রেখে হলেও ঈমান ও ইসলাম রক্ষায় সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে ইনশাল্লাহ। উক্ত জরুরি সভায় আরো বক্তব্য রাখেন- মাওলানা আবুল কালাম, মাও. মোস্তফা আযাদ, মাও. আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, মাও. মাহফুজুল হক, মাও. আব্দুর রব ইউসূফী, হাকীম আব্দুল করীম খান, মাও. ইমদাদুল ইসলাম, মাও. জুনায়েদ আল হাবীব, মাও. ফজলুল করীম কাসেমী, মাও. মঞ্জুরুল ইসলাম, মাও. শফীকুদ্দীন, শেখ গোলাম আছগর, মাও. সাখাওয়াত হুসাইন, মাও. আহমদ আলী কাসেমী, মাও. বাহাউদ্দীন যাকারিয়া, মাও. মুজিবুর রহমান হামিদী, মাও. মুফতি মাসউদুল করীম প্রমুখ। নেতৃবৃন্দ বলেন, পাঠ্যপুস্তক প্রয়নে নাস্তিক মুরতাদ ও অধিকাংশ অমুসলিম লেখকদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শিশু-কিশোরদের পাঠ্যপুস্তকে ইসলামী পরিভাষা বাদ দিয়ে রাম দাদাদের আজগুবি কিচ্ছা-কাহিনী রচনা করা হচ্ছে। ভারতীয় অশ্লীল টিবি চ্যানেলের মাধ্যমে যুব সমাজের চরিত্র বিনাশ করা হচ্ছে। ব্রাহ্মন্নবাদীদের নীলনকশা বাস্তবায়নের লক্ষে দেশ ও ধর্মদ্রোহী পদক্ষেপ নেওয়ার পাঁয়তারা চলছে। কিন্তু সকল চক্রান্ত প্রতিহত করা হবে। বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ছিল, আছে, থাকবে। রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম রক্ষায় এদেশের ঈমানিদীপ্ত কোটি কোটি মুসলমান রাজপথে নেমে আসবে ষড়যন্ত্রকারী নাস্তিক ও হিন্দু চক্রান্তকারীদের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে খাঁটি মুসলিম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করবে। ইসলামী আন্দোলন রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম সংবিধান থেকে বাতিলের চক্রান্ত করলে ধর্মপ্রাণ জনতা নীরবে বসে থাকবে না। সর্বত্র আন্দোলনের দাবানল জ্বলে উঠবে বলে হুঁশিয়ারী দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমির মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই। তিনি বলেন, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম আছে, থাকবে, রাষ্ট্রধর্ম নিয়ে চক্রান্তকারীদের চক্রান্ত বন্ধ না করলে সারাদেশে ঈমানদার জনতা গর্জে উঠলে সরকারের জন্য কল্যাণকর হবে না। তিনি রাষ্ট্রধর্মের বিরুদ্ধে রিট অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী ‘হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ’কে নিষিদ্ধ করতে হবে। পীর সাহেব চরমোনাই সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেবার আবেদন করে হাইকোর্টে দায়ের করা রিটটি সংশ্লিষ্টদের অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি করেন। পীর সাহেব চরমোনাই আরও বলেন, আমাদের জানামতে কোনো মুসলমান কর্তৃক হিন্দু ধর্ম, খ্রিষ্ট ধর্ম বা অন্যান্য ধর্মকে কটাক্ষ করে বক্তব্য দেয়ার নজির নেই। তারপরও উগ্র হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্যপরিষদ বারবার ইসলাম ও মুসলমানদের কটাক্ষ করছে, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম নিয়ে কথা বলছে। তাদের চক্রান্ত বন্ধ না করলে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি হলে তার দায়ভার ‘হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্যপরিষদকে নিতে হবে। রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিলের চক্রান্তের প্রতিবাদে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে আজ বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনস্থ হাউজ বিল্ডিং চত্বরে সমাবেশ করবে।

নির্বাচনী সহিংসতা

ভোলায় সংখ্যালঘু বাড়িতে হামলা-লুটপাট, আহত ৩

04.03.16 Kaler Kantho

ভোলায় সংখ্যালঘু বাড়িতে হামলা-লুটপাট, আহত ৩


ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোলায় এক সংখ্যালঘু বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে চেয়ারম্যান প্রার্থীর ক্যাডাররা। হামলায় সংখ্যালঘু পরিবারের তিন সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। জলদস্যু প্রার্থীর পোস্টার লাগাতে বাধা দেওয়ার জের ধরে আজ শুক্রবার দুপুরে সদর উপজেলার বাপ্তা ইউনিয়নের বাপ্তা গ্রামের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কালিগাছ  বাড়িতে এ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপটের ঘটনা ঘটে।
হামলার শিকার বাপ্তা ইউনিয়নের বাপ্তা গ্রামের কালিগাছ বাড়ির ওই ওয়ার্ডের বাসিন্দা রিপন চন্দ্র দে (তনু) জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে বাপ্তা গ্রামে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী (আনারস প্রতীক) জলদস‍্যু সকেট
-কামালের কর্মীরা পোস্টার লাগাতে গেলে তিনি বাধা দিয়ে বলেন, "এ গ্রামে জলদস্যুদের কোনো পোস্টার লাগানো যাবে না। এর জের ধরে আজ শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী সকেট কামালের কর্মী টিটু বরদ্দারের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন সশস্ত্র ক্যাডার তার ঘরে হামলা চালায়। হামলাকারীরা ঘরের আলমারি ভাঙচুর করে ঘরে থাকা জমি বিক্রির নগদ ১৪ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। হামলায় রিপন চন্দ্র দে (তনু), তার মা রমা রানী দে ও ভাই দিপক চন্দ্র দে আহত হন। গুরুতর আহত রিপন চন্দ্র দে-কে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে বলে জানান রিপন। এদিকে, স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী সকেট কামাল জানান, ওই হামলার সঙ্গে তার কোনো কর্মী-সমর্থক জড়িত নয়। হামলার শিকার রিপন চন্দ্র দে এক মেম্বর প্রার্থীর কর্মী। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী মেম্বার প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে এ ঘটনা ঘটেছে বলেও দাবি করেন তিনি। ভোলা সদর মডেল থানার ওসি মীর খায়রুল কবির জানান, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ টিটু বরদ্দার (কামাল) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 



পুরুষ শূন্য হয়ে যাচ্ছে বরিশালের সংখ্যালঘুপাড়া


09.0316
Barishal6-360x2007-300x167
কল্যাণ কুমার চন্দ,বিশেষ প্রতিবেদক
বাংলাদেশের নির্বাচনি প্রেক্ষাপটে জাতীয় ও স্থানীয় সরকারের নির্বাচন আসলেই হামলা, মামলা, লুটপাট কিংবা দেশত্যাগের হুমকীর আতংক ছড়িয়ে পরে বরিশাল জেলার প্রতিটি উপজেলার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মাঝে। অতীত নির্বাচনের ন্যায় আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এবারও তার ব্যাত্যয় ঘটেনি।
সূত্রমতে, শনিবার (৫মার্চ) রাতে গৌরনদী উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের মহিষা গ্রামের ঋষি পাড়ার সংখ্যালঘু পরিবারের দুটি বসতঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। আহত হয়েছেন নারীসহ পাঁচজন। এ ঘটনায় উল্টো ওই পরিবারের সদস্যদের দেশত্যাগের হুমকিসহ থানায় মামলা দায়ের করে পুলিশ দিয়ে হয়রানীর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে আ’লীগ মনোনীত সরিকল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের ফের হামলা ও পুলিশের গ্রেফতার আতংকে ওই পাড়ার পুরুষরা এখন আত্মগোপন করেছেন।

সরেজমিনে জানা গেছে, মহিষা গ্রামের আ’লীগ কর্মী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের রনো দাসের বিরুদ্ধে সরিকল ইউনিয়নে বিএনপির মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান মঞ্জুর হোসেন মিলনের নির্বাচনী ব্যানার লাগানোর মিথ্যে অযুহাত তোলেন আ’লীগ প্রার্থীর সমর্থকেরা। এ অভিযোগে শনিবার বিকেলে সাকোকাঠী মিশুকস্টান্ডে বসে প্রকাশ্যে রনো দাসকে অমানুষিক নির্যাতন করে আ’লীগ প্রার্থীর কর্মীরা।

রনো দাসের বৃদ্ধা মাতা মায়ারানী দাস অভিযোগ করে বলেন, শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে আ’লীগের মনোনীত প্রার্থী ফারুক মোল্লার পুত্র মামুন মোল্লার নেতৃত্বে তার সহযোগী নিক্সন মোল্লা, নাসির মোল্লাসহ ৩০/৩৫ জনে আমাদের বাড়িতে এসে আমার পুত্র রনো দাস, উত্তম দাস ও সুশীল দাসকে খুঁজতে থাকে। তাদের না পেয়ে উল্লেখিতরা আমাদের বসত ঘরে অর্তকিতভাবে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে লুটপাট চালায়। হামলাকারীরা আমার পুত্রবধূ সুমি রানী দাস, পুতুল রানী, সাগরী রানীকে বেধম মারধর করে আহতসহ শ্লীলতাহানী করে।

তিনি আরও বলেন, হামলার সময় তাদের প্রতিবেশী ভুলু দাসের বাড়িতে বিয়ের আয়োজন চলছিলো। হামলাকারীরা বিয়ে বাড়িতে আসা মেহমানদেরকেও পিটিয়ে আহত করে। হামলাকারীরা আমাদের দেশত্যাগের হুমকী দিয়ে বীরদর্পে চলে যায়। এ ঘটনার পর থেকে পুরো সংখ্যালঘুপাড়ার পুরুষ সদস্যরা পূর্ণরায় হামলার ভয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন।

মায়ারানী দাস আরও অভিযোগ করেন, হামলার পর উল্টো নাসির মোল্লা বাদি হয়ে রবিবার (৬মার্চ) ৩৫ জনকে আসামি করে থানায় তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ওই মামলায় রহমান বিশ্বাস ও সজল বিশ্বাস নামের দু’জনকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণ করেছেন। স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়ন আ’লীগের এক প্রভাবশালী নেতার সাথে রনো ঋষীর পূর্ব বিরোধের জেরধরে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালিয়ে ধানের শীর্ষ প্রতীকের পোষ্টার লাগানোর মিথ্যে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।


সরিকল ইউনিয়নের নৌকা মার্কার প্রার্থী ফারুক মোল্লার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় ধানের শীর্ষের কর্মী আজিজ মোল্লার সাথে আমার সমর্থক নাসির মোল্লার বাগ্বিতন্ডার একপর্যায়ে নাসির মোল্লাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়। এ সময় রনো ঋষি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও সে কোন প্রতিবাদ না করায় ক্ষুব্ধ কর্মীরা রনো ঋষির ওপর ক্ষিপ্ত হয়। উল্লেখ্য, ধানের শীর্ষের কর্মী আজিজ মোল্লা সরিকল ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর মোল্লার ছোট ভাই।


অপরদিকে নলচিড়া ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী (আ’লীগের বিদ্রোহী) যুবলীগ নেতা মীর মাসুদ উদ্দিন অভিযোগ করেন, তার প্রতিদ্বন্ধী নৌকা মার্কার চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকেরা শনিবার দুপুরে নলচিড়া বাজারের তার আনারস মার্কার নির্বাচনী অফিস ব্যাপক ভাংচুর করেছে। এসময় ভাংচুরের দৃশ্য ভিডিও করায় তার কর্মী রুবেল মন্ডলসহ চারজনকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। উল্টো নৌকা মার্কার কর্মী মোক্তার ফকির বাদি হয়ে ৩২ জনের নাম উল্লেখসহ ৫২ জনকে আসামি করে থানায় একটি মিথ্যে মামলা দায়ের করেন।



ফলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের তার কর্মী সমর্থকেরা পুলিশের গ্রেফতার আতংকে এখন আত্মগোপন করেছেন। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত উজিরপুরের জল্লা ইউনিয়নের স্বতন্ত্র (আ’লীগের বিদ্রোহী) চেয়ারম্যান প্রার্থী উর্মিলা বাড়ৈ অভিযোগ করেন, নৌকা মার্কার প্রার্থী ও তার সমর্থকেরা সংল্যালঘু সম্প্রদায়ের তার কর্মী সমর্থকদের বিভিন্ন ধরনের হুমকী অব্যাহত রেখেছে। এছাড়া নৌকা মার্কার পক্ষে কাজ করার অপরাধে একই উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ তাজিম মোল্লা নিজ হাতে মারধর করে আহত করেছেন শ্যাম সমদ্দার, কবির বিশ্বাসসহ চারজনকে।

বাকেরগঞ্জের রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য প্রার্থী আলহাজ্ব ইয়াকুব আলীর মোরগ মার্কার সমর্থনে শনিবার বিকেলে নির্বাচনী প্রচার চলাকালে মাইক ভাংচুরসহ মারধর করে আহত করা হয় সুমন বিশ্বাসসহ দুইজনকে। প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থী কামাল হাওলাদার ও তার সমর্থকেরা বোয়ালিয়া এলাকায় এ তান্ডব চালায়।

গৌরনদীর চাঁদশী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজনের ওপর বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতিসহ হুমকী অব্যাহত রেখেছে প্রভাবশালী কতিপয় ইউপি সদস্য প্রার্থীরা।

নির্বাচনকে সামনে রেখে এসব হামলা, মামলা ও দেশত্যাগের হুমকীর মুখে বরিশালের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষদের মধ্যে এখন চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

জেলা পুলিশ সুপার এস.এম আকতারুজ্জামান বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজনকে দেশত্যাগের হুমকি দেয়ার ব্যাপারে আমার জানা ছিলোনা। এ ব্যাপারে খোঁজ খবর নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

‘নৌকায় ভোট দিলে কেটে ভারতে 


পাঠিয়ে 


দেব’- সংখ্যালঘু ভোটারদের 


আ.লীগের 


বিদ্রোহী প্রার্থী


http://www.taza-khobor.com/

‘নৌকায় ভোট দিলে কেটে ভারতে পাঠিয়ে দেব, ভোট দিবি আনারসে।’ সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকরা এই হুমকি দিয়ে এলাকায় ভীতির সঞ্চার করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার ভোররাতে কাদাকাটি ইউনিয়নের সোনাই, তালবাড়িয়া ও ঝিকরা গ্রামের হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় গিয়ে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত বিদ্রোহী প্রার্থী মিজানুর রহমান মন্টুর সমর্থকরা সাধারণ ভোটারদের এই হুমকি দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সাধারণ ভোটার বিনয় বাইন জানান, ভোরবেলা বাড়ি বাড়ি গিয়ে কিছু লোক তাদের গলায় দা ধরে বলেছে, ‘নৌকায় ভোট দিলে কেটে ভারতে পাঠিয়ে দেব, ভোট দিবি আনারসে, নইলে এলাকায় থাকতে দেব না।’

সাধারণ ভোটাররা তাদের নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন।


আওয়ামী লীগের প্রার্থী দীপঙ্কর বাছাড় দীপ বলেন, ‘মিজনুর রহমান নিশ্চিত পরাজয় জেনে আমার কর্মী সমর্থকদের এভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। কিছু কিছু এলাকায় আমার সমর্থকদের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতরাতে মিজানুরের লোকজন আমার কর্মী সমর্থকদের, বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর রামদা, হকিস্টিক ও লোহার রড নিয়ে গিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়েছে। আমি থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ এসে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।’

এ ব্যাপারে মিজানুর রহমান মন্টু বলেন, ‘আওয়ামী লীগের প্রার্থী আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমার কর্মী সমর্থকরা হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেনি। আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী পরাজয় জেনে এভাবে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।’

এ ব্যাপারে আশাশুনি থানার ওসি মুন্সি আসাদুজ্জামান বলেন, ‘শুনেছি কাদাকাটিতে একটু ঝামেলা হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এখনো বিস্তারিত জানতে পারিনি।’



রামগড়ে এক পাহাড়ি নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ

Ramgarhরামগড়: খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার পাতাছড়া ইউনিয়নের পাকলা পাড়ায় ২৮ বছর বয়সী এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।  স্বামীর সাথে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর ভিকটিম ওই নারী বর্তমানে তার মায়ের সাথে বসবাস করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানায়, গতকাল রবিবার (২০ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পাতাছড়া – নাভাঙা রাস্তায় ব্রিক সোলিঙ কাজে কর্মরত মোঃ নুরুল হুদা (বয়স- ৩১, পিতা- মৃত আবু তাহের, গ্রাম- আনন্দ পাড়া, রামগড়) নামে এক শ্রমিক ওই নারীকে প্রলোভন দেখিয়ে জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। পরে ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় যুবকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মোঃ নুরুল হুদাকে হাতেনাতে ধরে ফেলতে সক্ষম হয়।
এ ঘটনার কিছুক্ষণ পর গুইমারা সাবজোন থেকে জনৈক ওয়ারেন্ট অফিসারের নেতৃত্বে ৪ গাড়ি আর্মি সেখানে যায়। এরপর তারা ওই নারীর ক্ষতিপূরণ বাবদ নুরুল হদাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে বিষয়টি মিটমাট করে দেয় এবং নুরুল হুদাকে তাদের হেফাজতে নিয়ে যায় বলে জানা গেছে।
নারী উত্যক্তকে কেন্দ্র করে মন্দিরে হামলা, হিন্দুবাড়িতে আগুন
১৮-০৩-২০১৬ 
নেত্রকোনা প্রতিনিধি: জেলার কলমাকান্দা উপজেলার বড়খাপন ইউনিয়নের দত্তখিলা গ্রামে ধর্মীয় কীর্তন চলাকালে স্থানীয় কয়েকটি যুবককে মন্দিরে নারীদের উত্যক্ত করার সময় বাধা দিলে ক্ষোভে মন্দিরের পাশের একটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় আগুন নিভাতে গিয়ে একজন আহত হয়।
বৃহস্পতিবার রাত তিনটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে শুক্রবার সকালে কলমাকান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
নাম প্রকাশে অনিছুক মন্দির কমিটির সদস্য জানান, জেলার কলমাকান্দার বড়খাপন ইউনিয়নের দত্তখিলা গ্রামে হরিমন্দিরে গত মঙ্গলবার থেকে কীর্তন উৎসব শুরু হয়। ওই উৎসবে বৃহস্পতিবার রাত তিনটার দিকে মুসলিম উদ্দিনের ছেলে ইসমাইল উদ্দিন (১৮), নজরুল উদ্দিনের ছেলে মোস্তাক ইসলাম (১৯), নজরুল ইসলামের ছেলে জসিম উদ্দিন (১৭) সহ আরও ১৫ থেকে ২০ জন যুবক কীর্তনে এসে মেয়েদের উত্যক্ত করলে মন্দির কমিটির সদস্য মনোরঞ্জন তালুকদারের কাকাত ভাই সুভাষ তালুকদার ওই যুবকদের বাধা দিলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে মন্দিরে আগুন ধরিয়ে দেয়ার চেষ্টা চালায়।
এ পর্যায়ে মন্দিরে উপস্থিত লোকজনের বাধার মুখে তারা চলে যায়। কিছুক্ষণ পর মন্দিরের পাশে কীর্তন উৎসব কমিটির সদস্য মনোরঞ্জন তালুকদারের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে এলাকাবাসী আগুন নেভায়। আগুন নেভাতে গিয়ে কীর্তনীয় দলের বাদক সমীরন হাজংয়ের হাতে আগুন লাগে। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
এই ঘটনায় শশীভূষণ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কলমাকান্দা থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
কলমাকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহাবুব আলম জানান, খবর পেয়ে সকালে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। পুলিশ সেখানে নিয়মিত টহল দিচ্ছে। এলাকার পরিস্থিতি এখন শান্ত। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চলছে।




কক্সবাজারে হিন্দু পরিবারের ওপর হামলা ও বসতভিটা দখল
18.03.16
কক্সবাজার: সদর উপজেলার জালালাবাদ জলদাস পাড়ায় আওয়ামী লীগ নেতার নেতৃত্বে রাতের আঁধারে এক হিন্দু পরিবারের ওপর হামলা ও তাদের বসতভিটা দখল করা হয়েছে। এ সময় সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন ৪ জন। এছাড়া স্বর্ণালংকার ও টাকা লুটেরও অভিযোগ উঠেছে।
গত ৯মার্চ ২০১৬ তারিখে হিন্দুদের পক্ষ হতে জেলা জজ আদালতে অভিযুক্ত সাইফুল মেম্বারের বিরুদ্ধ একটি মামলা করা হয়। থানায় গ্রেফতারের নোটিস আসলেও কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না পুলিশ। প্রতিদিন পুলিশের সামনে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে সন্ত্রাসীরা।
অভিযোগে জানা গেছে, দীর্ঘ ৭০/৮০ বছর ধরে নিজ দখলীয় জমিতে বসবাস করে আসছিলেন মৃত সূর্য কুমার জলদাসের ছেলে সুদর্শন জলদাস। আহত সুদর্শন জলদাস অভিযোগ করে বলেন, ইসলামাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম মেম্বারের নেতৃত্বে প্রভাবশালী চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে তাদের ভোগদখলীয় বসতভিটা দখলে নিতে উঠেপড়ে লাগে। দখল ছেড়ে দিতে তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেয়।
৭ জানুয়ারি রাতে সাইফুলের নেতৃত্বে ২০/৩০ জনের সন্ত্রাসী দল জোরপূর্বক সুদর্শন জলদাসের বাড়িতে হামলা করে তাদের বসতভিটা দখলে নেয়। তাদের রাতের আঁধারে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এতে বাধা দিতে গিয়ে দখলদারদের হামলায় সুদর্শন জলদাস, তার স্ত্রী অঞ্জলি দাস, ছেলে সোহেল দাস ও ভাইয়ের বউ সাগতা আহত হন। আহতদের জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঈদগাহ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই মিনহাজ জানান, এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন সুদর্শন জলদাস।
ঘটনাটির একদিন পর এক পর্যায়ে বৃহত্তর ঈদগাহে হিন্দুরা কালী বাড়ি মন্দিরের জড়ো হয়। সবাই সিদ্ধান্ত নেন পরের দিন মানববন্ধন করে জেলাপ্রসাশকের নিকট স্বারকলিপি প্রদান করা হবে। এমন সময় কক্সবাজার সদর আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি আবু তালেব বিষয়টি আমলে নেন এবং তিনি বৃহত্তর ঈদগাহ কালী বাড়ি কমিটির সভাপতি উত্তম রায় পুলককে ফোন করে এ বিচারটি তিনি করার সিদ্ধান্ত দেন। বিচারে দিন আজ না কাল, কাল না পরশু এভাবে চলতে থাকে।
অবশেষে ঘটনার ১০দিন পর বিচারের দিন ধার্য করা হয় ১৭ জানুযারি ২০১৬ইং তারিখে বিকাল ৩টায়। ঐ দিন সকালে এমপি (সংসদ সদস্য) সায়েমুন সরওয়ার কমল দেখা করলে তিনিও উপযুক্ত বিচার করার আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘আমি আবু তালেবকে বলে দেব।’
বিচারের দিন আবার বলেন দুই তিন দিন পর আরেকটি বিচারের দিন দেওয়া হবে। ঘটনা ২মাস পার হলেও এখনো বিচারের দিন হল না। গত ৬ মার্চ হিন্দুদের বিরুদ্ধে ১৪৪ ধারা জারি করে এবং ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।
ঘটনার ১ম আসামি আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম মেম্বার হিন্দুদের বলেন, “তোমরা বাংলাদেশে কয় জন হিন্দু আছ? ধানের খড় দিয়ে পোড়া দিলেও খড় বেচে যাবে।” মাস্তান দিয়ে আরো বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিচ্ছেন তিনি। হিন্দুরা এখনও হুমকির মুখে আছে।
ঘটনার পর দিন সদর মডেল থানায় মামলা দিলেও মামলা নেয়নি পুলিশ। অবশেষে গত ৯মার্চ ২০১৬ তারিখে হিন্দুদের পক্ষ হতে জেলা জজ আদালতে সাইফুল মেম্বারের বিরুদ্ধ একটি মামলা করা হয়। থানায় গ্রেফতারের নোটিস এলেও কোন ধরনের ব্যবস্হা এখন পর্যন্ত গ্রহণ করেনি পুলিশ। 

উজিরপুরে আতংকে দিন কাটাচ্ছেন সংখ্যালঘু ভোটাররা
১৬-০৩-২০১৬
বরিশাল প্রতিনিধি: বহিরাগতদের আনাগোনায় উজিরপুরের জল্লা ইউনিয়নে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটাররা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও আতংকে দিন কাটাচ্ছেন। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে অস্ত্রধারী বহিরাগতরা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জল্লা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নেওয়ায় ওই এলাকার নিরীহ সাধারণ মানুষ অজানা আতংকে রয়েছেন।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে  কয়েকদিন আগে কুরালিয়া গ্রামে এক বাড়িতে গভীর রাতে দুবৃর্ত্তরা হানা দিয়ে এক বৃদ্ধকে মারধর করে তার এস.এস.সি পরীক্ষার্থী মেয়েকেও নির্যাতন করেছিল। সেই আতংক এখনও তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে ওই এলাকার কয়েকটি পরিবারকে।

উজিরপুরে জল্লা ইউনিয়নের আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী উর্মিলা বাড়ৈ অভিযোগ করেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান ইকবালের ভাই মিল্টন তার বাহিনী নিয়ে প্রতিনিয়ত জল্লার বিভিন্ন এলাকায় হানা দিচ্ছে। তার সাথে থাকা ২০/৩০টি মটর সাইকেলে অপরিচিত যুবকরা ঢুকছে জল্লা ইউনয়নের বিভিন্ন অলিগলিতে। তাদের ভয়ে ওই ইউনিয়নের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটাররা আতংকিত হয়ে নির্বাচন আদৌ সুষ্ঠু ও শান্তিপুর্ণ হবে কিনা, তা নিয়ে শংকা প্রকাশ করেছেন। তার ভোটার ও সমর্থকদের নানা ভাবে হুমকী দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জল্লা ইউনিয়নের একাধিক শ্রেনী-পেশার মানুষ অভিযোগ করেছেন, ভোট কারচুপি করার জন্য উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান ইকবালের ইচ্ছামত নির্বাচন কমিশন পার্শবর্তী ওটরা ইউনিয়নের বিভিন্ন সরকারী ও বে-সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার নিয়োগ করানো হচ্ছে, যাতে করে জল্লা ইউনিয়নে ইকবালের ঘনিষ্টজন ও আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী বিশ্বজিৎ হালদার নান্টুকে যে কোন মূল্যে চেয়ারম্যান বানানোর জন্য নির্বাচন পরিচালনায় নিয়োগকৃত ওই সকল কর্মকর্তারা ভোট কারচুপি করার ক্ষেত্রে ব্যাপক সহায়তা করবেন বলে জল্লা ইউনিয়নবাসীর মধ্যে একটি আতংক তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী মিজানুর রহমান জানিয়েছেন বহিরাগতদের আনাগোনায় সাধারণ ভোটাররা বেশ চিন্তিত। সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে প্রশাসনকে জল্লায় বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতে কঠোর হতে হবে, তা না হলে ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে যেতে পারবে না।

উল্লেখ্য, ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উজিরপুরের উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান ইকবাল জল্লা ইউপি চেয়ারম্যান উর্মিলা বাড়ৈকে একাধিকবার লাঞ্চিত করেছেন। ওই বিরোধের রেশ ধরেই জল্লায় উর্মিলা বাড়ৈকে ইকবাল তার ব্যক্তিগত আক্রোশ পুরন করার জন্য আওয়ামীলীগের মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত করেছে। উর্মিলা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বে-কায়দায় পড়েছেন ইকবাল। এ কারনে ইকবাল
উর্মিলার প্রেস্টিজ লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে জল্লার ইউপি নির্বাচন।

এ বিষয়ে উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্য মোঃ নূরুল ইসলাম পিপিএম জানিয়েছেন ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে যেতে কেউ যাতে বাধা দিতে না পারে সেদিকে তাদের নজর রয়েছে। বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।



ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ : সিলেটে যুবলীগ নেতার হাতে ব্যবসায়ী খুন!

16.03.16
pic._n

নগরীর রায়নগরে মঙ্গলবার মধ্যরাতে প্রতিপক্ষের হামলায় বিপ্লব রায় বিকল (২৮) নামে এক মুদি দোকানীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত বিকল শহরতলীর মেজরটিলা ভাটপাড়া এলাকার প্রয়াত বিজয় লালের পুত্র। এ ঘটনায় বিকলের আরো তিন বন্ধু আহত হয়েছেন। তারা হচ্ছেন-রায়নগর ১৯ নম্বর গলির হরিলাল দাসের পুত্র শুভ লাল দাস (২০) ও তার সহোদর অনন্ত লাল দাস (২৮) এবং রায়নগর সেবক ১৩৩ নম্বর বাসার স্বপন দে’র পুত্র প্রীতম দে (২৬)। এ ঘটনার জন্য ১৮ নং ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা জাবেদ সিরাজের সহোদর জমসেদ সিরাজ ও তার সহযোগীদের দায়ী করেছেন নিহতদের স্বজনরা। জমসেদ আগে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। এ ঘটনার ব্যাপারে দু ধরণের বক্তব্য পাওয়া গেছে। নিহতের স্বজনদের বক্তব্য হচ্ছে-ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় বিকলের মৃত্যু হয়েছে। তবে, অন্য পক্ষের বক্তব্য হচ্ছে-জমসেদ সিরাজের সম্মুখে পায়ে পা তুলে বসায় এ ঘটনা ঘটেছে।
হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, নিহতের স্ত্রী সুপ্তা রাণী রায়সহ পরিবারের অন্য সদস্যরা বার বার মুর্চ্ছা যাচ্ছিলেন। এ সময় তাদের সান্তনা দেয়ার ভাষা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। স্বজনরা জানান, গত ৪ ফাল্গুন সুপ্তাকে বিয়ে করেন বিকল। বিয়ের এক মাসের মাথায় স্বামী হারালেন সুপ্তা।
ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৫ নং ওয়ার্ডের কর্তব্যরত নার্স অনিতা জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে বিকলের মৃত্যু হয়েছে। রাত দেড়টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক রুবেল তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বিকলের বুকের বাম পাশে আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে জানান তিনি।বিকলের বন্ধু শুভলাল দাস জানান, রাত ১১টার দিকে বিকল ও প্রীতম হযরত দাদা পীর (র.) মাজার এলাকায় আড্ডা দিচ্ছিল।
এ সময় জমসেদ সিরাজ বিপ্লবকে ডেকে নেয়। সেখানে বিপ্লবের সাথে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে জমসেদ ও তার সহযোগীরা তাদেরকে মারধর করতে থাকে। খবর পেয়ে প্রীতম, শুভ ও অনন্ত ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে যাওয়ার পর তাদেরকেও মারধর করে জমসেদ ও তার সহযোগীরা। মারধরে গুরুতর আহত হলে রাত সোয়া ১২টার দিকে তাদেরকে ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিকলসহ চারজনকে ভর্তি করা হয় ওসমানী হাসপাতালের ৫ নং ওয়ার্ডে। সেখানে বিকলের শরীরে দুই ব্যাগ রক্ত পুশ করা হলেও তার শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে থাকে। এক পর্যায়ে রাত দেড়টার দিকে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আহত অনন্ত লাল দাস জানান, এ হামলায় জমসেদ সিরাজ ছাড়াও তার সহযোগী কবির, জীবন ও রুবেল অংশ নেয়।
মঙ্গলবার রাতে ওসমানী হাসপাতালে গিয়ে জানা যায়, আহতদের নিয়ে প্রথমে জমসেদ সিরাজ ওসমানী হাসপাতালে যায়। বিকলের মৃত্যু ঘটলে এক পর্যায়ে সে হাসপাতাল থেকে চম্পট দেয়।
জানা গেছে, ৪ ভাই ও এক বোনের মধ্যে বিকলের অবস্থান ছিল দ্বিতীয়। তাদের গ্রামের বাড়ি বিশ্বনাথের লহরী গ্রামে। আগে তারা রায়নগর এলাকায় ভাড়াটে হিসাবে বসবাস করতেন। গত তিন মাস ধরে মেজরটিলা এলাকায় সপরিবারে বসবাস করছেন তারা।
খবর  পেয়ে রাত আড়াইটার দিকে কোতয়ালী থানার ওসি সোহেল আহমদসহ পদস্থ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তিনি জানান, রায়নগরে জাবেদ সিরাজের ভাইয়ের সাথে ছাত্রলীগের অপর একটি দু’গ্রুপের মারামারি হয়েছিল। এ নিয়েই মূলত এ মর্মান্তি ঘটনা ঘটেছে।


মঠবাড়িয়ায় সংখ্যালঘু গৃহবধূকে ধর্ষণ চেষ্টা, যুবক গ্রেপ্তার

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় সংখ্যালঘু এক গৃহবধূকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে আনোয়ার হোসেন রিপন কাজী (৩৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উপজেলার গুলিসাখালী ইউনিয়নের লক্ষ্মনা গ্রামের স্থানীয় জনতা আজ মঙ্গলবার ওই বখাটেকে আটক করে থানায় সোপর্দ করলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
এ ঘটনায় ওই গৃহবধূর শ্বশুর বাদী হয়ে মঠবাড়িয়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তার রিপন লক্ষ্মনা গ্রামের মতিউর রহমান কাজীর ছেলে।
এ ব্যাপারে মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ভুক্তভোগি  গৃহবধূকে বাড়িতে একা পেয়ে প্রতিবেশী বখাটে আনোয়ার হোসেন রিপন কাজী ঘরে ঢুকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় গৃহবধূর চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে রিপনকে আটক করে থানায় সোপর্দ করে। আজ মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে গ্রেপ্তারকৃত বখাটেকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।