বাংলাদেশে সংখ্যালঘুর মানবাধিকার পরিস্থিতি
২০১৫
২০১৫
বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত নিরীহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর হামলা, মিথ্যা মামলা, নির্যাতন, অপহরণ, ধর্ষণ, ধর্মান্তরিতকরণ, লুণ্ঠন, ভূমি থেকে উচ্ছেদ ও জবরদখল, অগ্নিসংযোগ, গুলি এমনকি গলাকেটে কিংবা আগুনে পুড়ে মানুষ ও গবাদিপশু হত্যার মত নির্মম ঘটনা সংগঠিত হচ্ছে। গত ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬, রবিবার পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জে এরকম একটা অতর্কিত পরিকল্পিত হামলা ও হত্যার সংবাদ ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারলাম। আক্রমণকারীরা সকাল বেলা শ্রী শ্রী সন্ত গৌড়ীয় মঠের অধ্যক্ষ শ্রী যজ্ঞেশ্বর রায় দাসাধিকারীকে গলায় ছুরি চালিয়ে হত্যা করেছে। হত্যাকাণ্ড চালানোর সময় তা দেখে ফেলে গোপাল চন্দ্র রায় নামে মন্দিরের আর এক ভক্ত সেবক। আর যায় কোথা! দুর্বৃত্তরা হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁকেও লক্ষ্য করে গুলি চালায়। দৌড়ে পালানোর সময় বাম হাতের কনুইয়ে দুটি গুলিবিদ্ধ হয়ে দৈবাৎ সে প্রাণে বেঁচে যায়। বর্তমানে তিনি রংপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। খুনের ঘটনা দু’দিন পার না হতেই আটোয়ারী উপজেলায় আবার মন্দির ভাঙ্গার খবর পেলাম। প্রতিদিনই কোন না কোন স্থানে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বা তাঁদের সমর্থকদের উপর আক্রমণের খবর আসছে।
ইহা কিসের আলামত বা লক্ষণ তাহা বুঝিবার জন্য কি ডক্টরেট ডিগ্রীর দরকার হয়? যদিও সশস্ত্র উপায় বিশ্বব্যাপী ইসলামী খেলাফত প্রতিষ্ঠার জন্য নিবেদিত আই.এস. নামের সংগঠন থেকে এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে তাঁদের ওয়েবসাইটে প্রচার চালাচ্ছে বলে পত্রিকান্তরে প্রকাশ। কিন্তু, মজার ব্যাপার হল, বাংলাদেশের সরকার ও পুলিশ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক তা অস্বীকার করছে। যে সমস্ত মুক্তচিন্তার লেখক, প্রকাশক, আস্তিক, নাস্তিক, ছাত্র, শিক্ষক, শিল্পী, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, আইনজীবী, বিদেশী, হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃস্টান, শিয়া, বা বিধর্মী যে কোন মানুষ পরিকল্পিত খুন হচ্ছে তার সাথে আই.এস. এর সংশ্লিষ্টতা সরকার খুঁজে পায় না অথবা তার কোন প্রকার অস্তিত্ব থাকার কথা স্বীকার করতে রাজী না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী বলে দাবীদার সরকার পক্ষের লোকেরা সমস্বরে এসমস্ত সহিংস ঘটনা ও হত্যাকান্ড সমূহকে “বিচ্ছিন্ন” ঘটনা বলে রটনা চালিয়ে তাঁরা তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছেন। তবে, কার ভয়ে বা কাকে খুশি করার জন্য এই অস্বীকার চলছে, তা আমার বোধগম্য নয়। বাংলাদেশ সরকার সংসদে কোন প্রকার আলোচনা ছাড়াই আমেরিকার মদদপুষ্ট সৌদি রাজতন্ত্রের নেতৃত্বে গড়া সামরিক জোটের সাথে গাঁটছড়া বেঁধেছে। তারই ফলশ্রুতিতে একতরফা আই.এস. এর সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে অস্বীকার করার পেছনের কারণ কিনা – কে জানে?
মনে পরে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের কথা। তখন সারাদেশের হিন্দুরা আতঙ্কগ্রস্ত ছিল। প্রাণ বাঁচাতে তাঁরা দিগ্বিদিক ছুটে বেড়িয়েছিল। কেউ কেউ দেশান্তরিত হয়েছিল। ত্রিশ লক্ষ শহীদের মধ্যে পচিশ লক্ষের মত হিন্দু নাগরিক ছিল। তখন পাকিস্তানী সেনাবাহিনী আর ওঁদের দোসর রাজাকার, আলবদরদের ভয়ে সারাদেশের হিন্দুরা বাড়িঘর ছেড়ে প্রাণের ভয়ে জংগলে জংগলে আত্মরক্ষার জন্য নয় মাস পালিয়ে বেড়িয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের ফলে আমিও আমার পরিবার পরিজন থেকে বিচ্ছিন ছিলাম। সম্ভবত মে মাসের শেষ দিকের কথা। পাক সেনাবাহিনীর আক্রমণের মুখে টিকতে না পেরে পলায়নরত অবস্থায় একটা সাঁকো পার হচ্ছিলাম। আমার বাবাও সেই সাঁকো পার হচ্ছিলেন। পথিমধ্যে এক মিনিটের জন্য তাঁর সাথে সাক্ষাৎ ও কথা হয়েছিল। তাঁকে প্রনাম করতেই তিনি আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেছিলেন। বলেছিলেন, “আমার মন বলেছে, তুমি বেঁচে আছ।” নয়মাসের মধ্যে শুধুমাত্র ঐ এক মিনিটের সাক্ষাৎ ঘটেছিল। যা আজও আমার স্মৃতিতে জাগরূক আছে। আমার বৃদ্ধ পিতা, আমার বোনদের নিয়ে কিভাবে, কোথায় আত্মরক্ষা করে ছিলেন, সে প্রশ্নও জিজ্ঞাসা করিনি। তাঁদের দুঃসহ জীবনের অব্যক্ত করুণ কাহিনী সেদিন শুনতে চাইনি। ভেবেছিলাম, শত্রুমুক্ত করে পরে একদিন হয় জেনে নেব। কিন্তু সে ভাগ্য আমার আর কোনোদিন হয়নি। সে কথা মনে করে আজও আমার বুকের মধ্যে দুমড়ে ওঠে। গভীর রাতে ঘুমের মধ্যে এখনও চোখের জল ঝড়ে। আমি কত বড় উম্মাদ ছিলাম যে, দেশোদ্ধারের নেশায় জন্মদাতা পিতার একমাত্র পুত্র সন্তান হয়েও তাঁর বিপদের সময়ে পাশে থাকিনি। আমার রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়স্বজনদের কাছে থাকিনি। তাঁদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা না করে, খোঁজ না নিয়ে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিলাম। হায়রে আমার কপাল, তা কি এমন বাংলাদেশের জন্য!!
স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক আদিবাসী ভাইবোনেরাও প্রাণের ভয়ে মাঝে মাঝে গহীন জঙ্গলে আত্মগোপন করে। সেনাশাসন অধ্যুষিত পার্বত্য চট্টগ্রামে উড়ে এসে স্থায়ীভাবে জুড়ে বসা বাঙ্গালী দখলকারীদের সংঘবদ্ধ কিংবা যৌথ আক্রমণের ভয়ে তাঁরা পালিয়ে বাঁচার চেষ্টা করে। এবারের একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে খাগড়াছড়িগামী বাস থেকে আদিবাসী চেহারার লোকদের নামিয়ে তাঁদের উপর অকথ্য নির্যাতন চালানো হয়। [নেপথ্যে আমার স্বচক্ষে দেখার কথা স্মরণে আসে, একাত্তরে বাস থেকে নামিয়ে লোকদের সারিবদ্ধ দাড় করিয়ে কাপড় তুলে খৎনা করা আছে কিনা পরীক্ষা হত; আর এখন চেহারা দেখে আদিবাসীদের নামিয়ে নেয়া হচ্ছে। তখন খোঁজা হত হিন্দু; আর এখন হচ্ছে আদিবাসী] দুর্বৃত্তদের আক্রমণ ও নির্মম নির্যাতনের ফলে কেউ কেউ লাশে পরিনত হয়েছে বলেও শোণা গিয়েছে। একজন আদিবাসীর ঠিক মাথার তালুর উপর কুঠারঘাতে কাঠ কাটার মত ক্ষত করার বীভৎস এবং লোমহর্ষক একটা ছবিও পত্রিকাতে দেখেছি। প্রান্তিক ধর্মীয় ও জাতীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, মামলা, অপহরণ, ধর্ষণ, হত্যা, মন্দির, প্যাগোডা ধ্বংস, প্রতিমা ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, জায়গাজমি দখলের খবর কোন নতুন ঘটনা নয়। ২০১০ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের এগারোটি আদিবাসী পল্লীতে অগ্নিসংযোগে ভস্মীভূত করা হয়েছিল। বেসরকারি হিসেব ও তথ্য অনুযায়ী, সেদিনের ঘটনায় সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় সেটেলার বাঙ্গালীরা জড়িত ছিল। তাঁরা ৭৫০টি পরিবারের আবাসগৃহ পুড়ে ছাই করার মাধ্যমে আদিবাসীদেরকে তাঁদের ভূমি থেকে উচ্ছেদের এই তাণ্ডবলীলায় লিপ্ত হয়েছিল। পাক সেনাবাহিনীর ন্যায় বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর অনেক সদস্যদের কামনা ও লালসার শিকার হয়ে কতো অসহায় আদিবাসী যুবতী নারী, ললনার সম্ভ্রম ও সতীত্ব এযাবত বিনষ্ট হয়েছে, তার হিসেব কে রাখে? পাহাড়ে ও সমতলে বসবাসকারী ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জীবন অনেকটাই সিনেমার ছন্দময় জনপ্রিয় গানের কলির মত, যার খবর কেউ রাখেনা। পত্রিকার পাতায় প্রকাশ পায় না। “তুমি কি দেখেছ কভু জীবনের পরাজয়, দুঃখের দহনে করুণ রোদনে তিলে তিলে তার ক্ষয়। প্রতিদিন কত খবর আসে যে কাগজের পাতা ভরে, জীবন পাতার অনেক খবর রয়ে যায় অগোচরে। স্বার্থের টানে প্রিয়জন কেন দূরে সরে চলে যায়, ধরণীর বুকে পাশাপাশি তবু কেউ বুঝি কারো নয়…।”
পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় আদিবাসীরা যুগ যুগ ধরে শান্তিতে বাস করে আসছিল। কিন্তু বাংলাদেশের সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় মূলত পাহাড়ের আদিবাসীদের জীবনে চরম অন্ধকার নেমে আসে। যুগ যুগ ধরে ভোগ দখলকৃত সম্পত্তি থেকে যখন তাঁদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ করে বাঙ্গালীদের পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া চালু হয়, তখন থেকেই এই অশান্তির সূত্রপাত। অপ্রত্যাশিতভাবে সেনাবাহিনী ও বাঙ্গালী সেটেলারদের দ্বারা আদিবাসীরা আক্রান্ত হতে থাকে। এরকম পরিস্থিতিতে আদিবাসীরা তাঁদের মানসম্ভ্রম এবং আত্মরক্ষার জন্য “পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি” নামে একটি সংগঠন গড়ে তুলেছিল। প্রয়োজনে অনাহুত আক্রমণ মোকবেলা করার জন্য “শান্তি বাহিনী” নামে একটা সশস্ত্র শাখাও তাঁরা গঠন করেছিল। সমস্যার স্থায়ী শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর সরকার ও জনসংহতি সমিতির মধ্যে একটা সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সরকার পক্ষ থেকে আজও পর্যন্ত চুক্তির অনেক শর্ত পূরণ করেনি। ফলে, স্থিতিশীলতার পরিবর্তে দখলদার বাঙ্গালীদের হিংস্রতার শিকার হয়ে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও আদিবাসী সম্প্রদায় নিগৃহীত হচ্ছে।
অথচ, এমন তো হওয়ার কথা ছিলনা। ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের মত মাথা উঁচু করে মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার আকাংখা নিয়ে আমরা সবাই সেদিন মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম। সেদিনের গানের কলি ছিল, “আমার এ দেশ সব মানুষের, সব মানুষের – কুলি আর কামারের, চাষা আর মজুরের…হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খৃস্টান এক দেশ সকলের…।” অথবা, “বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা, আজ জেগেছে এই জনতা…।” কোথায় হারিয়ে গেল আমাদের সেই অসাম্প্রদায়িক ধর্মনিরপেক্ষ সমাজের প্রতিশ্রুতি? দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালনের পরিবর্তে আজ ব্যভিচার, সামাজিক বৈষম্য এবং সবল কর্তৃক দুর্বলের উপর অত্যাচার, বিচারহীনতার সংস্কৃতির ফলে জীবন ধারণের অধিকার বঞ্চিত হয়ে কত মানুষের স্বপ্ন সাধ আহ্লাদ যে ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছে, তার খবর কে রাখে? আজও কি, বিচারের বানি নিরবে নিভৃতে কাঁদবে?
বর্তমান সময়ে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, বাংলাদেশের ক্ষমতাবলয়ের সাথে যুক্ত আমলা ও রাজনীতিজীবীরা তাঁদের অর্থ-বিত্ত-ক্ষমতার উৎস ঠিক রাখার জন্য সদা তৎপর। তাঁরা চাটুকারিতার আশ্রয় নিয়ে তাঁদের ক্ষমতা নিরাপদ ও অব্যাহত রাখার জন্য সরকার প্রধানকে খুশী ও বশীকরণের জন্য ব্যস্ত। সর্বময় ক্ষমতার কেন্দ্র সরকার প্রধানের আনুকূল্য বা সুদৃষ্টি লাভের আশায় প্রধানমন্ত্রী বা তাঁর বংশধর বা আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ লতাপাতা ডালপালাকেও খুশী করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। তাঁরা সম্ভবত মহামহোপাধ্যায় পণ্ডিতপ্রবর শ্রী হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর “তৈল” গল্পের মর্মার্থ অনুধাবন ও যথার্থ ব্যবহার করতে পারঙ্গম। দেশব্যাপী এখন একশ্রেণীর এমন স্তাবক চাটুকার আছে, যারা কেবলমাত্র সরকারের প্রশংসা ছাড়া ভিন্ন যে কোন মতের প্রতি অত্যন্ত অসহিষ্ণু। আমি বৃটিশ আমলের জমিদারী শাসন দেখিনি। কিন্তু, কবিগুরুর ‘দুই বিঘা জমি’ কবিতা পাঠ করেছিলাম। সেখানে কবিতার শেষাংশে নিম্নরূপ ছিলঃ
“বাবু ছিপ হাতে পারিষদ-সাথে ধরিতেছিলেন মাছ।
শুনি বিবরণ ক্রোধে তিনি কন, ‘মারিয়া করিব খুন!’
বাবু যত বলে পারিষদ-দলে বলে তার শতগুণ।
আমি কহিলাম, ‘শুধু দুটি আম ভিখ মাগি মহাশয়!’
বাবু কহে হেসে, ‘বেটা সাধুবেশে পাকা চোর অতিশয়।’
আমি শুনে হাসি আঁখিজলে ভাসি, এই ছিল মোর ঘটে –
তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ, আমি আজ চোর বটে!”
বর্তমান জমিদার তুল্য সরকার ও চাটুকার পারিষদ-দলের আচরণ থেকে জমিদারী শাসন আঁচ করতে কোন অসুবিধা হয়না।
“বাবু ছিপ হাতে পারিষদ-সাথে ধরিতেছিলেন মাছ।
শুনি বিবরণ ক্রোধে তিনি কন, ‘মারিয়া করিব খুন!’
বাবু যত বলে পারিষদ-দলে বলে তার শতগুণ।
আমি কহিলাম, ‘শুধু দুটি আম ভিখ মাগি মহাশয়!’
বাবু কহে হেসে, ‘বেটা সাধুবেশে পাকা চোর অতিশয়।’
আমি শুনে হাসি আঁখিজলে ভাসি, এই ছিল মোর ঘটে –
তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ, আমি আজ চোর বটে!”
বর্তমান জমিদার তুল্য সরকার ও চাটুকার পারিষদ-দলের আচরণ থেকে জমিদারী শাসন আঁচ করতে কোন অসুবিধা হয়না।
আপনি সরকার সমর্থক হলেও তাঁদের আক্রোশ থেকে রেহাই নেই। ওঁরা সরকার প্রধান ও তাঁর বংশবদদের কণ্ঠের প্রতিধ্বনি করে শেয়ালের ডাকের ন্যায় “হুয়াত্তা হুয়া” করে ওঠে। অতি সম্প্রতি ডেইলি স্টার পত্রিকার সম্পাদক জনাব মাহফুজ আনাম পত্রিকার পঁচিশ বর্ষ পূর্তি উপলক্ষে এক টেলিভিশন টকশোতে হাজির হয়েছিলেন। সেখানে উপস্থাপিকার প্রশ্নের জবাবে তিনি অত্যন্ত সরলভাবে সেনা সমর্থিত সরকারের সময়ে পরীক্ষানিরীক্ষা ছাড়া সেনা বাহিনী (ডিজিডিএফআই)কর্তৃক সরবরাহকৃত বিবৃতি ছাপানোর কথা উল্লেখ করেন। সম্পাদক হিসেবে এটা একটা ভুল কাজ (এডিটরিয়াল প্যুওর জাজমেন্ট) বলে তিনি অকপটে শিকার করেন। তিনি ভুল স্বীকার করে মনে হয় ভুল করেছেন। এখন সরকার দলীয় সমর্থক, সংসদ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত সকলে তাঁর বিরুদ্ধে সোচ্চার এবং তুলকালাম ঘটনা চালিয়ে যাচ্ছেন। সারাদেশে দলীয় চামচারা একের পর এক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তাঁদের ভাষায় বদনাম ও হয়রানি করার জন্য মিঃ মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দিচ্ছে। ৭৭টি স্থানে মাত্র এক লক্ষ ঊনত্রিশ হাজার কোটি টাকা মূল্যের মানহানির জন্য ক্ষতিপূরণের মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যেহেতু চাচ্ছেন, মাহাফুজ আনামের হয়তো বিচার হবে। কিন্তু, ধর্মযাজক যজ্ঞেশ্বর সহ অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের খুনিদের বিচার কি বাংলার মাটিতে হবে? মাহাফুজ আনামের ভুল স্বীকারের প্রতিদানে প্রধানমন্ত্রী তাঁর পদত্যাগ চাচ্ছেন। ভাল কথা, কিন্তু, সরকার প্রধান হিসেবে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তাদানে ব্যর্থতার জন্য তিনি কি প্রধানমন্ত্রী থেকে পদত্যাগ করবেন? সংখ্যালঘুদের জীবনের কোন মূল্য বা মান-মর্যাদা থাকতে নেই বুঝি! ক্ষমতাসীনরা ও ক্ষমতাচ্যুত বা বহির্ভূত অধিকাংশ প্রায় সকলেই সংখ্যালঘুদের ব্যাপারে নির্বাক। তাঁরা একপক্ষ অন্যপক্ষকে দায়ী করে বিবৃতি দিয়েই ক্ষান্ত থাকেন। রাজনীতিবিদরা এই ব্লেইম গেইম আর কতদিন খেলবেন? অথচ সত্যি বলতে কি, ১/১১ এর তত্বাবধায়কের শাসনকাল সময় বাংলাদেশে কোন সাম্প্রদায়িক হামলা হয়নি। অল্পদিনের জন্য হলেও, সেই সময়টুকুই হয়তো ঘুষখোরদের আত্মায় কাঁপন ধরিয়েছিল। ছিনতাইকারী, চাঁদাবাজ মুক্ত অবস্থায় বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ নিরাপদে ও স্বস্তিতে ছিল। পাকিস্তানী ধারা থেকে মিঃ ফকরুদ্দিন ও জেনারেল মঈনউদ্দিনের সরকার বাংলাদেশকে ঠিক পথে টেনে তুলেছিল।
প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবুল বারকাত এর একটি গবেষণাগ্রন্থে তিনি তথ্য, উপাত্তের ভিত্তিতে হিসাব করে বলেছেন যে, ১৯৭১ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে ৬৩ লক্ষ হিন্দু বাংলাদেশ থেকে উধাও হয়ে গেছেন। এই বিতাড়নে হিন্দু সম্পত্তি দখলের সুবিধাভোগীদের মধ্যে ৩১% আওয়ামী লীগের সদস্য-সমর্থক ও ৪৫% বি.এন.পি.’র সমর্থক। ১৯৯২ সালে ভারতে বাবরি মসজিদ ভাঙার পর যে ভয়ংকর তাণ্ডব চলে তাতে ২৮,০০০ বাড়ি-ঘর, ৩,৬০০ মন্দির, ২,৫০০ দোকান-বাজার ধ্বংস হয়। খুন হন ১৩ জন। ২০০১-এ বেগম জিয়ার নির্বাচনের পর থেকে শুরু হয় ধারাবাহিক সংখ্যালঘু হিন্দু নির্যাতন। এর ফলে ১৯৫১ সালে পূর্ব-পাকিস্তানে যে হিন্দু জনসংখ্যা ছিল ২২ শতাংশ, ১৯৭১-এ ১৫%, ১৯৭৪-এ ১৩.৫% ও ২০০১ সালে ৯.২ শতাংশে নেমে এসেছে। বর্তমানে তা সম্ভবতঃ ৭-৮ শতাংশ। ২০০১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী বরিশাল, ভোলা, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, বরগুনা এই ছয় জেলায় হিন্দু জনসংখ্যা ছিল ৮ লাখ ১৬ হাজার ৫১ জন। ২০১১ সালের আদমশুমারিতে দেখা যায় হিন্দু জনসংখ্যা কমে ৭ লাখ ৬২ হাজার ৪৭৯ জনে এসে দাঁড়িয়েছে। “১৯৬৪ থেকে ১৯৭১ এই নিখোঁজ হিন্দু জনসংখ্যা ছিল প্রতিদিন গড়ে ৭০৫ জন। ১৯৭১ থেকে ১৯৮১ তে প্রতিদিন গড়ে ৫২১ জন, ১৯৮১-১৯৯১ এ প্রতিদিন গড়ে ৪৩৮ জন এবং এই সংখ্যাটি অনেক বেড়ে ১৯৯১ থেকে ২০০১ এ দাঁড়ায় প্রতিদিন গড়ে ৭৬৭ জন।” অপর একজন গবেষক বর্ণনা করেছেন, “বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার একটি প্রতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া”। বাংলাদেশ বারবার সামরিক শাসনের মধ্য দিয়ে গেলেও ধারাবাহিক সংগ্রামের ফলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাও বারবার ফিরে এসেছে। সংখ্যালঘু বিরোধী আইন না থাকলেও পাকিস্তান আমলের শত্রু সম্পত্তি আইনের মাধ্যমে হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি ও অর্থনীতিকে ভয়ংকর ক্ষতিগ্রস্থ করা হয়েছে। বাংলাদেশ হবার পর এই আইন নাম বদলে হয় “অর্পিত সম্পত্তি আইন” (Vested Property Act) এবং এই আইনে একইভাবে হিন্দুদের সম্পত্তি জবরদখল চলে। এই আইনের ফলে স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত হিন্দুদের প্রায় ২৬ লক্ষ একর জমি ও দেবোত্তর সম্পত্তি অর্পিত সম্পত্তি আইনের ফলে বেহাত বা দখলচ্যুত হয়। দশ লক্ষেরও বেশী মামলা হয়েছে, কিন্তু একটি মামলারও নিস্পত্তি হওয়ার খবর আমাদের জানা নেই। অথচ, এব্যাপারে সরকার প্রধান ও তাঁর চামচাদের মুখে কোন রা নেই। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজন কাকে খুশী করার জন্য বা আর কতকাল মুখ বুজে নীরবে মার খেতে থাকবে। বর্তমান সরকারের আমলে, সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের মাত্রা বা হার অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
নাটকের ডায়ালগের ন্যায়, “গোলাম হোসেন, উপায় নেই।” ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা আজ এক নির্মম কঠিন সত্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। তাঁদের আর কোন উপায় নেই। “মানুষ মানুষের জন্য, একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না ও বন্ধু……দুর্বল মানুষ যদি, জীবনের অথৈ নদী পার হয় তোমাকে ধরে, বল কি ক্ষতি…” গানের গীতিকার ও সুরকার ডঃ ভুপেন হাজারিকা শেষ জীবনে বিজিপির নমিনেশন নিয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন। আমি অনেক ভেবেছি, তিনি কি সাম্প্রদায়িক ছিলেন? সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলে আমাকে যারা সাম্প্রদায়িক ভাববে, যাঁদের অনুভূতিতে লাগবে, তাঁদেরকে আমি এই মুহূর্তে বর্জন করতে চাই। অনেক হিন্দু গরুর মাংস খেয়ে, আর অনেক মুসলিম কাছিমের (কচ্ছপ) মাংস খেয়ে অসাম্প্রদায়িক, প্রগতিশীল, ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষের লোক পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। অথচ, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের ব্যাপারে সবসময় নির্বাক থাকেন বা এড়িয়ে থাকতে চান, তাঁরা অনেকেই মূলত প্রবঞ্চক, নপুংসক। জীবন সায়াহ্নে দাঁড়িয়ে তাঁদের সাথে আর সখ্যতা রাখার কোন প্রয়োজন আছে বলেও আমি মনে করিনা। সেই সমস্ত তরুণ যারা নিঃস্বার্থভাবে ক্ষমতার হালুয়া-রুটির ভাগাভাগি ছাড়াই অসাম্প্রদায়িক, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখে, সেই তরুণ প্রজন্মের গণজাগরণ মঞ্চের সাথে সংশ্লিষ্টদের উপর ভরসা করতে চাই। অসমাপ্ত মুক্তিযুদ্ধ সমাপ্ত করার বাসনা পূর্ণ করতে চাই। আর কতকাল খল নায়কদের মিথ্যা আশ্বাসে বিশ্বাসী হয়ে সংখ্যালঘুরা বোকার মত জিন্দাবাদ মুর্দাবাদ করে যুগ যুগ ধরে মার খেয়ে যাবে। এখন সময় এসেছে, শেষ মীমাংসার, হয় এসপার, না হয় ওসপার।
মন্ট্রিয়ল, ফেব্রুয়ারি ২৯, ২০১৬
মন্ট্রিয়ল, ফেব্রুয়ারি ২৯, ২০১৬
বাংলাদেশে সংখ্যালঘুর মানবাধিকার পরিস্থিতি ২০১৫
২০১৫ সালের বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর কমপক্ষে ২৬২টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। এ সবের অধিকাংশ একক ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি, পরিবার ও প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যার সংখ্যা কমপক্ষে ১৫৬২টি। এ সময়ে বিভিন্ন হামলার ঘটনায় ২৪জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ২৩৯জন, অপহরণের শিকার হয়েছেন ২৪ জন সংখ্যালঘু নারী যাদের মধ্যে ৯টির ক্ষেত্রে জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণের অভিযোগ রয়েছে। ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ২৫ জন। তাদের মধ্যে ১০জন গণধর্ষণের শিকার, ২জনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। ধর্ষণ চেষ্টার শিকার হয়েছেন ৪জন, তাদের মধ্যে একজনকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এসিড সন্ত্রাসের শিকার ১জন। জমিজমা, ঘরবাড়ি, মন্দির ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, দখল ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে ২০৯টি। এর মধ্যে উচ্ছেদের শিকার হয়েছে ৬০টি পরিবার। বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে ৩১টি। প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে ১৮০টি।
১৪টি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ ও বিভিন্ন থানা থেকে প্রাপ্ত কেস ডকুমেন্টের ভিত্তিতে গত বছর সারাদেশের সংখ্যালঘু নির্যাতনের চিত্র এটি। এসব ঘটনার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দুষ্কৃতিকারীরা রাজনৈতিক ক্ষমতা ও প্রভাবকে ব্যবহার করেছেন। অন্যদিকে বেশকিছু ঘটনার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের অসহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আবার প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগসাজশে দুষ্কৃতিকারীরা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটিয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যের বিশ্লেষণে দেখা যায় জানুয়ারি মাসে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা অন্যান্য মাস থেকে বেশি ঘটেছে। ৮৩টি প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে এ মাসে। এ মাসে আক্রমণের ফলে জখম বা আহত হওয়ার ঘটনাও ছিল সবচেয়ে বেশি। জানুয়ারি মাসে আর সবচেয়ে বেশি যে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা সংঘটিত হয় তাহলো ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদের ঘটনা, এরূপ ঘটনা ঘটেছে ৫৪টি। এ মাসে যশোরের স্থানীয় একজন ক্ষমতাসীন নেতার অত্যাচারে ৩১টি সংখ্যালঘু পরিবারের দেশত্যাগ এবং অন্য ৫০টি পরিবারও দেশত্যাগের পথে এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে। জানুয়ারি মাসে এত বেশি পরিমাণে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার পিছনের কারণগুলো তাহলে কী?
বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার নির্যাতনে নির্বাচন ইস্যু একটি অন্যতম বিষয়। গত বছরের ৫ জানুয়ারি ছিল দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ বর্তমান মহাজোট সরকারের বিজয়ের প্রথম বর্ষপূর্তি। এই নির্বাচনের ফলাফলকে বিরোধিতা করে প্রথম থেকেই বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনগুলো বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছিল। ৫ জানুয়ারি থেকে তারা লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি গ্রহণ করে। এ কর্মসূচি চলাকালে সারাদেশে ব্যাপক ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়। এসময় পেট্রোল বোমার ব্যবহার ছিল অন্যতম একটি আতঙ্কিত বিষয়। তার ঠিক একবছর আগের যদি আমরা তাকাই তবে যে বিষয়টি এখনও আমাদের সামনে দগড়গে ক্ষত হয়ে আছে ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই নির্বাচনে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে যশোরের অভয়নগর উপজেলার চাপাতলার মালোপাড়া সংখ্যালঘু পরিবারগুলোর উপর চালানো হয়েছিল নির্যাতনের নারকীয় তাণ্ডব। একই ইস্যুকে কেন্দ্র করে নির্বাচন পরবর্তী সময় যশোরের অভয়নগর ছাড়াও দিনাজপুর সদরের কর্ণাই, সীতাকুণ্ড, বগুড়া, মাগুরা, সাতক্ষীরা ও সুনামগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একই তাণ্ডব চালিয়েছিল নির্বাচনের বিরোধীরা। উক্ত নির্বাচনের বর্ষপূর্তিতে গৃহীত সরকার বিরোধী আন্দোলনেও অনুরূপভাবে অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এদেশের সংখ্যালঘুরা। এ মাসে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে যার পরিমাণ ৮৩টি।
বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার নির্যাতনে নির্বাচন ইস্যু একটি অন্যতম বিষয়। গত বছরের ৫ জানুয়ারি ছিল দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ বর্তমান মহাজোট সরকারের বিজয়ের প্রথম বর্ষপূর্তি। এই নির্বাচনের ফলাফলকে বিরোধিতা করে প্রথম থেকেই বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনগুলো বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছিল। ৫ জানুয়ারি থেকে তারা লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি গ্রহণ করে। এ কর্মসূচি চলাকালে সারাদেশে ব্যাপক ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়। এসময় পেট্রোল বোমার ব্যবহার ছিল অন্যতম একটি আতঙ্কিত বিষয়। তার ঠিক একবছর আগের যদি আমরা তাকাই তবে যে বিষয়টি এখনও আমাদের সামনে দগড়গে ক্ষত হয়ে আছে ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই নির্বাচনে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে যশোরের অভয়নগর উপজেলার চাপাতলার মালোপাড়া সংখ্যালঘু পরিবারগুলোর উপর চালানো হয়েছিল নির্যাতনের নারকীয় তাণ্ডব। একই ইস্যুকে কেন্দ্র করে নির্বাচন পরবর্তী সময় যশোরের অভয়নগর ছাড়াও দিনাজপুর সদরের কর্ণাই, সীতাকুণ্ড, বগুড়া, মাগুরা, সাতক্ষীরা ও সুনামগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একই তাণ্ডব চালিয়েছিল নির্বাচনের বিরোধীরা। উক্ত নির্বাচনের বর্ষপূর্তিতে গৃহীত সরকার বিরোধী আন্দোলনেও অনুরূপভাবে অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এদেশের সংখ্যালঘুরা। এ মাসে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে যার পরিমাণ ৮৩টি।
ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার নির্যাতনের আর যে অন্যতম একটি কারণ তা হলো সম্পত্তি দখল ও উচ্ছেদের তৎপরতা। যার শিকার হন সংখ্যালঘু নারী। ধর্ষণের ঘটনার নেপথ্য কারণ হিসেবেও কাজ করে থাকে ভূমি দখলের অভিসন্ধি। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিতাড়ন, উচ্ছেদ, সেই লক্ষ্যে সম্পত্তি দখল ও অন্যান্য প্রকার মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ, বিএনপি বা অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ পরিলক্ষিত হয় না, রাজনৈতিক পরিচয় ও আদর্শ থেকে বের হয়ে এসে তখন লক্ষ্য হয়ে দাড়ায় সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি দখল, উৎখাত এবং দেশত্যাগের সর্বাত্মক ব্যবস্থা সম্পন্ন করা। এরূপ উদাহরণ অনেক রয়েছে। যার একটি অন্যতম উদাহরণ গত ১৩ মার্চ, ২০১৫ সংঘটিত বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার পচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নের চন্দনতলা গ্রামের ঘটনা। সেখানে স্থানীয় বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নেতারা একযোগে ১৪টি হিন্দু পরিবারের বসতবাড়িসহ ৪০ একর জমি দখলের তৎপরতায় নেমেছিল। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে নারীদের উপর যৌন হয়রানি চলছিল এমন অভিযোগ রয়েছে। স্কুল পড়ুয়া হিন্দু মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার পথে উত্যক্তের ঘটনা ছিল নিত্যদিনের। এমনকি এসব স্কুল পড়ুয়া মেয়ে ও গৃহবধূদের নিয়মিত সন্ত্রাসীদের আস্তানায় গিয়ে দেখা করতে হতো এমন অভিযোগও পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। লোকলজ্জায় এসব ঘটনা তারা কাউকে না জানিয়ে দীর্ঘদিন সহ্য করেছে। এসব ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় উক্ত এলাকার অনেকগুলো পরিবার পৈত্রিক ভিটা বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। নারীর প্রতি যৌন নিগ্রহের পরিণাম ভয়াবহ ও সুদূরপ্রসারী। এসব ঘটনা নিগ্রহের শিকার ঐ নারীকেই শুধু আতঙ্কগ্রস্ত করে না, তার পিতা-মাতা, আত্মীয় পরিজন, নিজ সমাজÑ সকলের আত্মমর্যাদা ও সম্মানের উপর প্রবলতর গ্লানি ও কালিমা লেপন করেÑ এমনটাই উপলব্ধ, অন্তত আমাদের বিদ্যমান সমাজ ব্যবস্থায়। ফলশ্রুতিতে ভুক্তভোগী পরিবারটি একসময় দেশত্যাগে বাধ্য হয়। ভূমিগ্রাসীরা তাই নারীর প্রতি যৌন নিগ্রহকে অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। ২০১৫ সালে সংখ্যালঘু নারীকে অপহরণ, ধর্ষণ, এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণের ঘটনা ঘটেছে ৫৭টি। এর মধ্যে ধর্ষণ ২৫টি (১০টি গণ-ধর্ষণ ও ২টি ধর্ষণের পর হত্যা), অপহরণ ২৪টি, অপহরণের পর ধর্মান্তরকরণের ঘটনা ৯টি। এছাড়া ধর্ষণ চেষ্টার শিকার হয়েছেন ৪জন, তাদের মধ্যে একজনকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এসিড সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন ১জন।
ধর্ষণ
১. গত ৭ জানুয়ারি ২০১৫ রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের বৃত্তিডাঙ্গা গ্রামে দরিদ্র এক সংখ্যালঘু পরিবারের মা ও মেয়েকে গণধর্ষণের শিকার হন।
২. ১৫ জানুয়ারি ২০১৫ সাভারের ব্যাংক কলোনী এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হন একজন সংখ্যালঘু নারী।
৩. ১৫ জানুয়ারি ২০১৫ রাঙামাটি পার্বত্য জেলার কাশখালীতে ২য় শ্রেণীতে পড়ুয়া এক আদিবাসী শিশু বাড়ির পাশের দোকান থেকে জিনিসপত্র কিনে বাড়ি ফেরার পথে ধর্ষণের শিকার হয়।
৪. ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ দিনাজপুরের পার্বতীপুরে আদিবাসী সাওঁতাল তরুণীকে অপহরণ করে পালাক্রমে ধর্ষণ করেছে দুই বখাটে যুবক।
৫. ৩ মে ২০১৫ রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে এক আদিবাসী নারী গণধর্ষণের শিকার হন। এ সময় তার সঙ্গী অন্য এক নারীও লাঞ্ছিত হন।
৬. ১৫ মে ২০১৫ হবিগঞ্জের মাধবপুরের পল্লী রামেশ্বরের শিল্পীরানী দাস (১৮) কে ধর্ষণের পর হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
৭. ২১ মে ২০১৫ বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় গণধর্ষণের শিকার হন একজন গারো নারী। রাতে এই ধর্ষণের ঘটনার পর মামলা করার জন্য উক্ত নারী ও তার স্বজনদের তিন থানায় ঘুরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। তুরাগ থানা কাছে হয় বলে মামলা করার জন্য রাত ৪টার দিকে মেয়েটিকে নিয়ে তার পরিবারের সদস্যরা সেখানে যান। কিন্তু অন্য এলাকার ঘটনা বলে পুলিশ তাদের ফিরিয়ে দেয়। এরপর ভোর ৫টার দিকে তারা যান গুলশান থানায়। সেখানেও একই উত্তর মেলে। শেষে সাড়ে ৬টার দিকে ভাটারা থানায় গেলে বলা হয়, ওসি নেই, অপেক্ষা করতে হবে। এরপর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ওসি আসেন এবং তাদের কথা শুনে সাড়ে ১২টার দিকে মামলা নথিভুক্ত করা হয়।
৮. ২৭ মে ২০১৫ সিলেট জেলার বালাগঞ্জে লিপন চন্দ্র দেবের স্ত্রী সঞ্জু রানী দেব ধর্ষণের শিকার হন। এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় পরবর্তীতে হামলার শিকার হয় লিপন চন্দ্র দেব ও তার স্ত্রী সঞ্জু রানী দেব।
৯. ৩ জুন ২০১৫ যশোরের চৌগাছা পৌর এলাকায় এক দলিত গৃহবধূ ধর্ষণের শিকার হন। এ সময় ধর্ষক মোবাইল ফোনে ধর্ষণের ভিডিও চিত্র ধারণ করে এবং পরে তা সিডি ও ইন্টারনেটে প্রচার করে। এর প্রতিক্রিয়ায় আত্মহত্যা করে উক্ত গৃহবধূ।
১০. ৫ জুন ২০১৫ রাত আনুমানিক ৯টায় সিলেটের বালাগঞ্জের অপর্ণা দাস ঘরের বাইরে টয়লেটে গেলে সেখান থেকে পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা মোঃ হিরণ মিয়া ও মোঃ শফিক আলী তাকে অপহরণ করে শফিক আলীর বাড়িতে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।
১১. ৯ জুলাই ২০১৫ উখিয়া উপজেলার কুতুপালং-এ অপহরণ ও ধর্ষণের শিকার হন ইতি বড়ুয়া।
১২. ১১ জুলাই ২০১৫ নওগাঁ জেলার ধামইরহাটের গীতা রানী রবিদাসকে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় ঘরে ঢুকে ধর্ষণ করে দেলোয়ার হোসাইন (৪০)।
১৩. ২৯ জুলাই ২০১৫ খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারায় গণধর্ষণের শিকার হয় আদিবাসী তরুণী অঞ্জনা ত্রিপুরা (১৭)।
১৪. ৪ আগস্ট ও ৮ আগস্ট ২০১৫ খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার মির্জাপুর গ্রামে ২টি শিশু (শ্রাবন্তী বাছাড় (৮) ও (হিরা রায় (৯)) মোঃ সোহরাব গাজী নামে একই ব্যক্তি কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হয়।
১৫. ৪ আগস্ট ২০১৫ রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকায় ৬ষ্ঠ শ্রেণির আদিবাসী ছাত্রী মিনিতা মারানকে নির্জন কক্ষে একা পেয়ে ধর্ষণ করে মোঃ আল আমীন (২২)।
১৬. ১৮ আগস্ট ২০১৫ বান্দারবানের আদিবাসী তরুণী সুবরন ত্রিপুরা (১৬) চিকিৎসার জন্য লামা হাসপাতালে ভর্তি হলে সেখানে তিনি হাসপাতালের কর্মচারীদের দ্বারা গণধর্ষণের শিকার হন।
১৭. ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৫ রাত আনুমানিক ১১.৪৫টায় হবিগঞ্জের বানিয়াচং-এ জনৈক সামসুল আলম ঘরের বেড়া ভেঙে জোরপূর্বক ঘরে প্রবেশ করে রুমি রানী দাস নামে ১১ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণ করে।
১৮. ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫ শনিবার রাতে বগুড়ার শিবগঞ্জের ডাবুইর গ্রামে মোফাজ্জল হোসেন জিন্নাহ (৪৫) নামে যুবলীগ কর্মী বুলি রানী নামে হিন্দু ধর্মাবলম্বী এক কিশোরীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে।
১৯. ১ নভেম্বর ২০১৫ নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার ভাতগ্রাম নিবাসী এক আদিবাসী গৃহবধূ বাজারে ঝাড়– বিক্রি করতে পাশের দক্ষিণখা গ্রামে গেলে উক্ত গ্রামের সাদেকুল ইসলাম জোর করে তাকে বড়িতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে।
২০. ১১ নভেম্বর ২০১৫ বুধবার রাত ৯টার দিকে নীলফামারী সদরের সোনারায় ইউনিয়নের বাবুবাজার এলাকায় এক সংখ্যালঘু তরুণী গণধর্ষণের শিকার হন। উক্ত তরুণীর বাড়ি জলঢাকা উপজেলার শিমুলবাড়ি গ্রামে।
২১. ২২ নভেম্বর ২০১৫ নাটোর বাগাতিপাড়ার লোকমানপুর নর্থবেঙ্গল চিনিকলের সুপারভাইজার ভবানী দাস ঘোষালের স্ত্রীকে গণধর্ষণের পর হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
২২. ১৯ ডিসেম্বর ২০১৫ খাগড়াছড়ির পার্বত্য জেলা মহালছড়ি উপজেলায় মাইসছড়ি ইউনিয়নে পাচ একর (রাবার বাগান) এলাকায় ধর্ষণের শিকার হয় মাইসছড়ি ইউনিয়নের লম্বাছড়া বাসিন্দা বীণা দেবী ত্রিপুরা (১৬)।
২৩. ডিসেম্বর ২০১৫-এ কাপ্তাই সুইডেন পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট (বিএসপিআই) সড়কে হাঁটতে বের হলে নবম শ্রেণীতে পড়ুয়া এক আদিবাসী কিশোরীকে একটি অটো রিকশায় চারজন লোক তুলে জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে বিএসপিআই সড়কের কাছে ফেলে পালিয়ে যায়।
২৪. এছাড়া ১২ অক্টোবর ২০১৫ গাজীপুর শহরের পূবাইল সাপমারা এলাকার সান্ত¡না রবিদাস নামে ৯ বছরের দলিত শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
২. ১৫ জানুয়ারি ২০১৫ সাভারের ব্যাংক কলোনী এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হন একজন সংখ্যালঘু নারী।
৩. ১৫ জানুয়ারি ২০১৫ রাঙামাটি পার্বত্য জেলার কাশখালীতে ২য় শ্রেণীতে পড়ুয়া এক আদিবাসী শিশু বাড়ির পাশের দোকান থেকে জিনিসপত্র কিনে বাড়ি ফেরার পথে ধর্ষণের শিকার হয়।
৪. ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ দিনাজপুরের পার্বতীপুরে আদিবাসী সাওঁতাল তরুণীকে অপহরণ করে পালাক্রমে ধর্ষণ করেছে দুই বখাটে যুবক।
৫. ৩ মে ২০১৫ রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে এক আদিবাসী নারী গণধর্ষণের শিকার হন। এ সময় তার সঙ্গী অন্য এক নারীও লাঞ্ছিত হন।
৬. ১৫ মে ২০১৫ হবিগঞ্জের মাধবপুরের পল্লী রামেশ্বরের শিল্পীরানী দাস (১৮) কে ধর্ষণের পর হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
৭. ২১ মে ২০১৫ বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় গণধর্ষণের শিকার হন একজন গারো নারী। রাতে এই ধর্ষণের ঘটনার পর মামলা করার জন্য উক্ত নারী ও তার স্বজনদের তিন থানায় ঘুরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। তুরাগ থানা কাছে হয় বলে মামলা করার জন্য রাত ৪টার দিকে মেয়েটিকে নিয়ে তার পরিবারের সদস্যরা সেখানে যান। কিন্তু অন্য এলাকার ঘটনা বলে পুলিশ তাদের ফিরিয়ে দেয়। এরপর ভোর ৫টার দিকে তারা যান গুলশান থানায়। সেখানেও একই উত্তর মেলে। শেষে সাড়ে ৬টার দিকে ভাটারা থানায় গেলে বলা হয়, ওসি নেই, অপেক্ষা করতে হবে। এরপর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ওসি আসেন এবং তাদের কথা শুনে সাড়ে ১২টার দিকে মামলা নথিভুক্ত করা হয়।
৮. ২৭ মে ২০১৫ সিলেট জেলার বালাগঞ্জে লিপন চন্দ্র দেবের স্ত্রী সঞ্জু রানী দেব ধর্ষণের শিকার হন। এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় পরবর্তীতে হামলার শিকার হয় লিপন চন্দ্র দেব ও তার স্ত্রী সঞ্জু রানী দেব।
৯. ৩ জুন ২০১৫ যশোরের চৌগাছা পৌর এলাকায় এক দলিত গৃহবধূ ধর্ষণের শিকার হন। এ সময় ধর্ষক মোবাইল ফোনে ধর্ষণের ভিডিও চিত্র ধারণ করে এবং পরে তা সিডি ও ইন্টারনেটে প্রচার করে। এর প্রতিক্রিয়ায় আত্মহত্যা করে উক্ত গৃহবধূ।
১০. ৫ জুন ২০১৫ রাত আনুমানিক ৯টায় সিলেটের বালাগঞ্জের অপর্ণা দাস ঘরের বাইরে টয়লেটে গেলে সেখান থেকে পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা মোঃ হিরণ মিয়া ও মোঃ শফিক আলী তাকে অপহরণ করে শফিক আলীর বাড়িতে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।
১১. ৯ জুলাই ২০১৫ উখিয়া উপজেলার কুতুপালং-এ অপহরণ ও ধর্ষণের শিকার হন ইতি বড়ুয়া।
১২. ১১ জুলাই ২০১৫ নওগাঁ জেলার ধামইরহাটের গীতা রানী রবিদাসকে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় ঘরে ঢুকে ধর্ষণ করে দেলোয়ার হোসাইন (৪০)।
১৩. ২৯ জুলাই ২০১৫ খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারায় গণধর্ষণের শিকার হয় আদিবাসী তরুণী অঞ্জনা ত্রিপুরা (১৭)।
১৪. ৪ আগস্ট ও ৮ আগস্ট ২০১৫ খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার মির্জাপুর গ্রামে ২টি শিশু (শ্রাবন্তী বাছাড় (৮) ও (হিরা রায় (৯)) মোঃ সোহরাব গাজী নামে একই ব্যক্তি কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হয়।
১৫. ৪ আগস্ট ২০১৫ রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকায় ৬ষ্ঠ শ্রেণির আদিবাসী ছাত্রী মিনিতা মারানকে নির্জন কক্ষে একা পেয়ে ধর্ষণ করে মোঃ আল আমীন (২২)।
১৬. ১৮ আগস্ট ২০১৫ বান্দারবানের আদিবাসী তরুণী সুবরন ত্রিপুরা (১৬) চিকিৎসার জন্য লামা হাসপাতালে ভর্তি হলে সেখানে তিনি হাসপাতালের কর্মচারীদের দ্বারা গণধর্ষণের শিকার হন।
১৭. ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৫ রাত আনুমানিক ১১.৪৫টায় হবিগঞ্জের বানিয়াচং-এ জনৈক সামসুল আলম ঘরের বেড়া ভেঙে জোরপূর্বক ঘরে প্রবেশ করে রুমি রানী দাস নামে ১১ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণ করে।
১৮. ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫ শনিবার রাতে বগুড়ার শিবগঞ্জের ডাবুইর গ্রামে মোফাজ্জল হোসেন জিন্নাহ (৪৫) নামে যুবলীগ কর্মী বুলি রানী নামে হিন্দু ধর্মাবলম্বী এক কিশোরীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে।
১৯. ১ নভেম্বর ২০১৫ নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার ভাতগ্রাম নিবাসী এক আদিবাসী গৃহবধূ বাজারে ঝাড়– বিক্রি করতে পাশের দক্ষিণখা গ্রামে গেলে উক্ত গ্রামের সাদেকুল ইসলাম জোর করে তাকে বড়িতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে।
২০. ১১ নভেম্বর ২০১৫ বুধবার রাত ৯টার দিকে নীলফামারী সদরের সোনারায় ইউনিয়নের বাবুবাজার এলাকায় এক সংখ্যালঘু তরুণী গণধর্ষণের শিকার হন। উক্ত তরুণীর বাড়ি জলঢাকা উপজেলার শিমুলবাড়ি গ্রামে।
২১. ২২ নভেম্বর ২০১৫ নাটোর বাগাতিপাড়ার লোকমানপুর নর্থবেঙ্গল চিনিকলের সুপারভাইজার ভবানী দাস ঘোষালের স্ত্রীকে গণধর্ষণের পর হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
২২. ১৯ ডিসেম্বর ২০১৫ খাগড়াছড়ির পার্বত্য জেলা মহালছড়ি উপজেলায় মাইসছড়ি ইউনিয়নে পাচ একর (রাবার বাগান) এলাকায় ধর্ষণের শিকার হয় মাইসছড়ি ইউনিয়নের লম্বাছড়া বাসিন্দা বীণা দেবী ত্রিপুরা (১৬)।
২৩. ডিসেম্বর ২০১৫-এ কাপ্তাই সুইডেন পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট (বিএসপিআই) সড়কে হাঁটতে বের হলে নবম শ্রেণীতে পড়ুয়া এক আদিবাসী কিশোরীকে একটি অটো রিকশায় চারজন লোক তুলে জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে বিএসপিআই সড়কের কাছে ফেলে পালিয়ে যায়।
২৪. এছাড়া ১২ অক্টোবর ২০১৫ গাজীপুর শহরের পূবাইল সাপমারা এলাকার সান্ত¡না রবিদাস নামে ৯ বছরের দলিত শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
অপহরণ
১. ২১ জানুয়ারি ২০১৫ অপহৃত হয় সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার বাউরবাগ হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী জোৎস্না বিশ্বাস।
২. ৪ মার্চ ২০১৫ নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার রায়মাধম গ্রামের শিল্পী রানী দাসকে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে একই গ্রামের সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক দোস্ত মোহাম্মদ খান অপহরণ করে।
৩. ১৪ মার্চ ২০১৫, বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার লেমুয়া ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী কনা রানী ব্যাপারীকে অপহরণ করে জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণ ও নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে বিবাহের কাগজপত্র তৈরিসহ যৌন-নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।
৪. ১৭ এপ্রিল ২০১৫ মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার তারাপাশা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী শ্যামলী রাণী দে (১৫) অপহরণের শিকার হয়। অপহরণের পর তার জাল জন্ম-নিবন্ধন সনদপত্র তৈরি করে পূর্বের নাম গোপন করে নতুন নাম দিয়ে গত ১৯ এপ্রিল নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে জোরপূর্বক ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করা হয়।
৫. গত ২৭ মে ২০১৫ অপহরণের শিকার হয় কিশোরগঞ্জের বিন্নাটি মজিদ মোল্লা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী পিংকি রানী সূত্রধর।
৬. ৫ জুন ২০১৫ অপহরণের শিকার হয় সিলেটের বালাগঞ্জের দেঘরিয়া গ্রামের অপর্না দাস। পরে তাকে জোরপূর্বক ইসলাম ধর্ম গ্রহণের জন্য অপহরণকারী ও তাদের পরিবার তৎপরতা চালায়।
৭. ১৪ জুন ২০১৫ গোয়াইনঘাট ডিগ্রি কলেজের ১ম বর্ষের ছাত্রী সোমা রানী দাসকে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা।
৮. ২৫ জুন ২০১৫, গাজীপুর জেলার বাগের বাজার হাইস্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী অন্তরা রানী দেবনাথকে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা। পরে অপহরণকারী ও তার পরিবার অন্তরা রানীকে জোরপূর্বক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ এবং অপহরণকারীর সাথে বিবাহের জন্য তৎপরতা চালায়।
৯. ১৩ জুলাই ২০১৫ খুলনার ডুমুরিয়ার সাহাপুর মধ্যমগ্রাম ডিগ্রি কলেজে ছাত্রী প্রিয়া সাহাকে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা
১০. ৯ জুলাই ২০১৫ কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার কুতুপালং নিবাসী ইতি বড়ুয়া অপহরণের শিকার হন।
১১. ৩০ জুলাই ২০১৫ অপহরণের শিকার হয় নারায়ণগঞ্জের আদমজী কলেজের ছাত্রী বৃষ্টি বিশ্বাস।
১২. ৩ আগস্ট ২০১৫ নরসিংদী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী সুস্মিতা সিংহ অপহরণের শিকার হয়। এই ঘটনায় অপহরণকারীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ রয়েছে।
১৩. ২০ জুলাই ২০১৫ ভাষানটেক দেওয়ানপাড়া এলাকা থেকে অপহরণের শিকার হয় রূপা সরকার। পরে অপহরণকারী ও তার পিতামাতা রূপাকে জোরপূর্বক এফিডেভিটের মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করে। এরপর রূপা সরকারের পরিবার প্রশাসনের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করতে সমর্থ হয় এবং রূপা নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে ধর্মান্তরের ঘটনা প্রত্যাখ্যান করে। এই ঘটনার কয়েকদিন পরেই গত ২৪ আগস্ট ২০১৫ পুনরায় উক্ত অপহরণকারী আবারও তাকে অপহরণ করে।
১৪. ২৮ আগস্ট ২০১৫ অপহরণের শিকার হয় চট্টগ্রাম হালিশহর গরিবে নেওয়াজ হাইস্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্রী রিংকি রানী দেবনাথ।
১৫. ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫ সিলেট শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা থেকে অপহরণের শিকার হয় সিলেট নাসিরাবাদ বিলপাড় নিবাসী দশমী রানী দেবনাথ (১৪)।
১৬. ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫ চট্টগ্রাম হাটহাজারী সদর নিবাসী রাত্রি দাসকে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা।
১৭. ৮ অক্টোবর ২০১৫ কিশোরগঞ্জে পাকুন্দিয়া হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী সুপ্রিয়া রানী রায় অপহরণের শিকার হয়। ১০ অক্টোবর ২০১৫ তাকে জোরপূর্বক কোর্ট এফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ে ও ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করে দুর্বৃত্তরা।
১৮. ২০ অক্টোবর ২০১৫ গাইবান্ধা থেকে অপহৃত হয় ধাপের হাট প্রিয়বালা বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী স্বপ্না রানী। গত ১৩ নভেম্বর ২০১৫ কুমিল্লা থেকে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।
১৯. ৩১ অক্টোবর ২০১৫ বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ইছাকুড়ি বাকাই নিরাঞ্জন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী অষ্টমী রানী বালা।
২০. ৯ নভেম্বর ২০১৫ সুনামগঞ্জের ধরমপাশা উপজেলার জয়শ্রী গ্রামের এসএসসি পরীক্ষার্থী মন্টি রানী সরকারকে (১৬) অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা। পরে তাকে ধর্মান্তরিত করে বিবাহে বাধ্য করার অভিযোগ করে অপহৃতার পরিবার।
২১. ১৬ নভেম্বর ২০১৫ চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার পরিকোরা গ্রামের অরি চক্রবর্তীকে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা। অপহরণের পর অপহরণকারীরা প্রচার করতে থাকে যে মেয়েটি সেচ্ছায় নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে ধর্মান্তরিত হয়েছে এবং বিয়ে করেছে। অপহৃতার গরিব পিতা আনোয়ারা থানায় মামলা করতে গেলে থানার ওসি মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানালে মেয়েটির পিতা চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন।
২২. ২৬ নভেম্বর ২০১৫ অপহরণের শিকার হয় টাঙ্গাইল ধনবাড়ি কলেজের ছাত্রী উপমা সাহা।
২৩. ২৯ নভেম্বর ২০১৫ সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর সরিফুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ছাত্রী হিরামনি অপহরণের শিকার হয়। পরে তাকে জোরপূর্বক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ ও বিবাহের তৎপরতা চালায় অপরণকারী ও তার সহযোগীরা।
২৪. ১৯ ডিসেম্বর ২০১৫ অপহরণের শিকার হয় নোয়াখালী সৈকত ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থী সুমি রানী মজুমদার। গত ৯ জানুয়ারি ২০১৬ সুমির পরিবার নোয়াখালী প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সুমিকে উদ্ধার ও অপহরণকারীদের শাস্তি দাবি করে।
২. ৪ মার্চ ২০১৫ নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার রায়মাধম গ্রামের শিল্পী রানী দাসকে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে একই গ্রামের সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক দোস্ত মোহাম্মদ খান অপহরণ করে।
৩. ১৪ মার্চ ২০১৫, বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার লেমুয়া ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী কনা রানী ব্যাপারীকে অপহরণ করে জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণ ও নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে বিবাহের কাগজপত্র তৈরিসহ যৌন-নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।
৪. ১৭ এপ্রিল ২০১৫ মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার তারাপাশা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী শ্যামলী রাণী দে (১৫) অপহরণের শিকার হয়। অপহরণের পর তার জাল জন্ম-নিবন্ধন সনদপত্র তৈরি করে পূর্বের নাম গোপন করে নতুন নাম দিয়ে গত ১৯ এপ্রিল নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে জোরপূর্বক ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করা হয়।
৫. গত ২৭ মে ২০১৫ অপহরণের শিকার হয় কিশোরগঞ্জের বিন্নাটি মজিদ মোল্লা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী পিংকি রানী সূত্রধর।
৬. ৫ জুন ২০১৫ অপহরণের শিকার হয় সিলেটের বালাগঞ্জের দেঘরিয়া গ্রামের অপর্না দাস। পরে তাকে জোরপূর্বক ইসলাম ধর্ম গ্রহণের জন্য অপহরণকারী ও তাদের পরিবার তৎপরতা চালায়।
৭. ১৪ জুন ২০১৫ গোয়াইনঘাট ডিগ্রি কলেজের ১ম বর্ষের ছাত্রী সোমা রানী দাসকে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা।
৮. ২৫ জুন ২০১৫, গাজীপুর জেলার বাগের বাজার হাইস্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী অন্তরা রানী দেবনাথকে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা। পরে অপহরণকারী ও তার পরিবার অন্তরা রানীকে জোরপূর্বক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ এবং অপহরণকারীর সাথে বিবাহের জন্য তৎপরতা চালায়।
৯. ১৩ জুলাই ২০১৫ খুলনার ডুমুরিয়ার সাহাপুর মধ্যমগ্রাম ডিগ্রি কলেজে ছাত্রী প্রিয়া সাহাকে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা
১০. ৯ জুলাই ২০১৫ কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার কুতুপালং নিবাসী ইতি বড়ুয়া অপহরণের শিকার হন।
১১. ৩০ জুলাই ২০১৫ অপহরণের শিকার হয় নারায়ণগঞ্জের আদমজী কলেজের ছাত্রী বৃষ্টি বিশ্বাস।
১২. ৩ আগস্ট ২০১৫ নরসিংদী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী সুস্মিতা সিংহ অপহরণের শিকার হয়। এই ঘটনায় অপহরণকারীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ রয়েছে।
১৩. ২০ জুলাই ২০১৫ ভাষানটেক দেওয়ানপাড়া এলাকা থেকে অপহরণের শিকার হয় রূপা সরকার। পরে অপহরণকারী ও তার পিতামাতা রূপাকে জোরপূর্বক এফিডেভিটের মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করে। এরপর রূপা সরকারের পরিবার প্রশাসনের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করতে সমর্থ হয় এবং রূপা নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে ধর্মান্তরের ঘটনা প্রত্যাখ্যান করে। এই ঘটনার কয়েকদিন পরেই গত ২৪ আগস্ট ২০১৫ পুনরায় উক্ত অপহরণকারী আবারও তাকে অপহরণ করে।
১৪. ২৮ আগস্ট ২০১৫ অপহরণের শিকার হয় চট্টগ্রাম হালিশহর গরিবে নেওয়াজ হাইস্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্রী রিংকি রানী দেবনাথ।
১৫. ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫ সিলেট শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা থেকে অপহরণের শিকার হয় সিলেট নাসিরাবাদ বিলপাড় নিবাসী দশমী রানী দেবনাথ (১৪)।
১৬. ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫ চট্টগ্রাম হাটহাজারী সদর নিবাসী রাত্রি দাসকে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা।
১৭. ৮ অক্টোবর ২০১৫ কিশোরগঞ্জে পাকুন্দিয়া হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী সুপ্রিয়া রানী রায় অপহরণের শিকার হয়। ১০ অক্টোবর ২০১৫ তাকে জোরপূর্বক কোর্ট এফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ে ও ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করে দুর্বৃত্তরা।
১৮. ২০ অক্টোবর ২০১৫ গাইবান্ধা থেকে অপহৃত হয় ধাপের হাট প্রিয়বালা বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী স্বপ্না রানী। গত ১৩ নভেম্বর ২০১৫ কুমিল্লা থেকে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।
১৯. ৩১ অক্টোবর ২০১৫ বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ইছাকুড়ি বাকাই নিরাঞ্জন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী অষ্টমী রানী বালা।
২০. ৯ নভেম্বর ২০১৫ সুনামগঞ্জের ধরমপাশা উপজেলার জয়শ্রী গ্রামের এসএসসি পরীক্ষার্থী মন্টি রানী সরকারকে (১৬) অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা। পরে তাকে ধর্মান্তরিত করে বিবাহে বাধ্য করার অভিযোগ করে অপহৃতার পরিবার।
২১. ১৬ নভেম্বর ২০১৫ চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার পরিকোরা গ্রামের অরি চক্রবর্তীকে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা। অপহরণের পর অপহরণকারীরা প্রচার করতে থাকে যে মেয়েটি সেচ্ছায় নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে ধর্মান্তরিত হয়েছে এবং বিয়ে করেছে। অপহৃতার গরিব পিতা আনোয়ারা থানায় মামলা করতে গেলে থানার ওসি মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানালে মেয়েটির পিতা চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন।
২২. ২৬ নভেম্বর ২০১৫ অপহরণের শিকার হয় টাঙ্গাইল ধনবাড়ি কলেজের ছাত্রী উপমা সাহা।
২৩. ২৯ নভেম্বর ২০১৫ সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর সরিফুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ছাত্রী হিরামনি অপহরণের শিকার হয়। পরে তাকে জোরপূর্বক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ ও বিবাহের তৎপরতা চালায় অপরণকারী ও তার সহযোগীরা।
২৪. ১৯ ডিসেম্বর ২০১৫ অপহরণের শিকার হয় নোয়াখালী সৈকত ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থী সুমি রানী মজুমদার। গত ৯ জানুয়ারি ২০১৬ সুমির পরিবার নোয়াখালী প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সুমিকে উদ্ধার ও অপহরণকারীদের শাস্তি দাবি করে।
বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি বিবেচনায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মন্দির ও প্রতিমা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা একটি অবধারিত ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত। বিভিন্ন পরিসংখ্যান থেকে প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায় প্রতিবছর বাংলাদেশে পূজা মণ্ডপের সংখ্যা বাড়ছে। ২০১৫ সালে রাজধানীতে ২২৫টি সহ সারা দেশে মোট ২৮ হাজার ৯৬২টি পূজা মণ্ডপে শারদীয়া দুর্গোৎসবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০১৪ সালের তুলনায় এর সংখ্যা বেড়েছে ২৬২টি। ২০১৪ সালে সারাদেশে ২৮ হাজার ৭০০টি, ২০১৩ সালে ২৮ হাজার ২০০টি, ২০১২ সালে ২৭ হাজার ৮শ’টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, দেশে প্রতিবছর পূজা মণ্ডপের সংখ্যা বাড়লেও ভক্ত বা পূজারীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে কমে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে কমে যাচ্ছে সংখ্যালঘু হিন্দু জনগোষ্ঠী। আপাতদৃষ্টিতে তাই প্রতিবছর পূজামণ্ডপের সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখার কোনো কারণ নেই। আমাদের সংবিধান দেশের সকল নাগরিকের নিজ নিজ ধর্ম পালন করার স্বীকৃতি দিলেও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দিতে পারে নি। ফলে হিন্দু জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের উপর উপর্যুপরি এই হামলার কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। সবচেয়ে দুঃখজনক যে যুদ্ধাপরাধীর বিচারের রায় ঘোষণা কিংবা তা কার্যকরের সময়েও হিন্দু মন্দির ও প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে থাকে। বিগত ৪৪ বছর ধরে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার পরিস্থিতির কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটে নি, বরং তা প্রায় প্রতি বছরই থেকেছে উদ্বেগজনক। প্রতিবছর সার্বজনীন শারদীয়া দুর্গাপূজার সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মন্দির ও প্রতিমা ভাঙচুরেরও মহোৎসব শুরু হয়। যা পুরো শারদীয়া দুর্গা উৎসবের যেন এক চিরায়ত কলঙ্কময় অধ্যায়। স্বাধীনতার পর এতোগুলো বছর অতিক্রান্ত হলেও এই কলঙ্ক থেকে এখনো মুক্ত হতে পারে নি অসাম্প্রদায়িক বাতাবরণের বাংলাদেশ। প্রতি বছর অক্টোবর-নভেম্বরে উল্লেখযোগ্য হারে ঘটে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে থাকে। ২০১৫ সালও এর ব্যতিক্রম ছিল না। এসময় দুর্গাপূজা, লক্ষ্মী পূজা কালী পূজা ও জগদ্ধাত্রী পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। সেকারণে প্রতিমা ভাঙচুর সহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনাও এসময় বেশি ঘটে থাকে। ২০১৫ সালের অক্টোবর ও নভেম্বরে ৩৬টি প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
পূজার মৌসুম ছাড়াও প্রায় সারা বছরই প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে থাকে। এক্ষেত্রে শুধু ডিসেম্বরে কয়েকটি প্রতিমা ভাঙচুরের তথ্য উল্লেখ করতে চাই যে মাসে উল্লেখযোগ্য কোনো পূজার মহোৎসব ছিল না। ডিসেম্বর মাসে সারা দেশে বিভিন্ন মন্দিরে হামলার ঘটনায় কমপক্ষে ২১টি প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়।
১. ৩ ডিসেম্বর ২০১৫ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট পৌরসভার শহরগাছী এলাকায় চন্দনা পাহাড়ী (৩২) নামের এক আদিবাসী নারীকে ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে কাজিরবন কালী মন্দিরের মূর্তি ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা।
২. ৫ ডিসেম্বর ২০১৫ শনিবার পর্যটন কেন্দ্র দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার কান্তজিউর মন্দির প্রাঙ্গণে রাসমেলার যাত্রা প্যান্ডেলে দুর্বৃত্তের ছোড়া হাতবোমা বিস্ফোরণে আহত হন ৯জন।
৩. ৮ ডিসেম্বর ২০১৫ রাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর আকবরশাহ থানাধীন নিউ শহীদ লেন এলাকায় শ্রীশ্রীশ্যামাকালী বাড়ির মন্দিরে দুষ্কৃতকারীরা হামলা চালায়। এ সময় মন্দিরের আসবাবপত্র ও অন্য জিনিসপত্র ভাঙচুর করা হয়। এতে ৬ জন আহত হয়।
৪. ১০ ডিসেম্বর ২০১৫ বৃহস্পতিবার দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার ডাবোর ইউনিয়নের জয়নন্দ ডহচি গ্রামে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের (ইসকন) মন্দিরে গুলি ও বোমা হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। রাত সোয়া ৮টার দিকে মন্দিরে কীর্তন ও ধর্মসভা চলার সময় ওই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে দুজন গুলিবিদ্ধসহ চারজন আহত হয়।
৫. ১৫ ডিসেম্বর ২০১৫ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের ভাড়রা গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রকাশ্যে শিব মন্দিরে হামলা ও ৩টি প্রতিমা ভাঙচুর করে স্থানীয় প্রভাবশালী কলিমুদ্দিন গং। হিন্দু অধ্যুষিত ওই গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নানা ধরনের নির্যাতন চালানোর কারণে অনেকেই তাদের জমি ছেড়ে অন্যত্র বসতি স্থাপন করেছেন।
৬. ১৫ ডিসেম্বর ২০১৫ গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়ার জহরেরকান্দি গ্রামের উত্তর পাড়া সার্বজনীন মনসা মন্দিরে মনসা মূর্তি ও একই গ্রামের রামকৃষ্ণ মিশনের রাধা গোবিন্দ মন্দিরের রাধাকৃষ্ণের মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
৭. ১৭ ডিসেম্বর ২০১৫ বৃহস্পতিবার রাতে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার তালমা বাজারের শত বছরের পুরোনো সার্বজনীন কালীমন্দিরের ৭টি প্রতিমা ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা।
৮. ২০ ডিসেম্বর ২০১৫ রোববার সকালে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় বাউসী বাঙ্গালীপাড়া পদ্মা পূজা মন্দিরের পদ্মা প্রতিমা ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা।
৯. ২১ ডিসেম্বর ২০১৫ সোমবার রাতে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের মহেষপুর গোপপাড়া গ্রামে সার্বজনীন কালীমন্দিরে অগ্নিসংযোগ করে শীতলা মূর্তি ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা।
১০. ২৪ ডিসেম্বর ২০১৫ বৃহস্পতিবার কুড়িগ্রামের রৌমারীতে উপজেলার নমদাসপাড়া গ্রামে মন্দিরের কালী, লক্ষ্মী ও শিবের মূর্তি ভাঙচুর করে।
১১.২৬ ডিসেম্বর ২০১৫ শনিবার রাতে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার মির্জাবাড়ি বাজারের কাছে দড়িহাসিল এলাকার মাখন লাল গোপ ও সুবল চন্দ্র গোপের বাড়ির দুটি পারিবারিক কালী মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা।
২. ৫ ডিসেম্বর ২০১৫ শনিবার পর্যটন কেন্দ্র দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার কান্তজিউর মন্দির প্রাঙ্গণে রাসমেলার যাত্রা প্যান্ডেলে দুর্বৃত্তের ছোড়া হাতবোমা বিস্ফোরণে আহত হন ৯জন।
৩. ৮ ডিসেম্বর ২০১৫ রাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর আকবরশাহ থানাধীন নিউ শহীদ লেন এলাকায় শ্রীশ্রীশ্যামাকালী বাড়ির মন্দিরে দুষ্কৃতকারীরা হামলা চালায়। এ সময় মন্দিরের আসবাবপত্র ও অন্য জিনিসপত্র ভাঙচুর করা হয়। এতে ৬ জন আহত হয়।
৪. ১০ ডিসেম্বর ২০১৫ বৃহস্পতিবার দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার ডাবোর ইউনিয়নের জয়নন্দ ডহচি গ্রামে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের (ইসকন) মন্দিরে গুলি ও বোমা হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। রাত সোয়া ৮টার দিকে মন্দিরে কীর্তন ও ধর্মসভা চলার সময় ওই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে দুজন গুলিবিদ্ধসহ চারজন আহত হয়।
৫. ১৫ ডিসেম্বর ২০১৫ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের ভাড়রা গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রকাশ্যে শিব মন্দিরে হামলা ও ৩টি প্রতিমা ভাঙচুর করে স্থানীয় প্রভাবশালী কলিমুদ্দিন গং। হিন্দু অধ্যুষিত ওই গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নানা ধরনের নির্যাতন চালানোর কারণে অনেকেই তাদের জমি ছেড়ে অন্যত্র বসতি স্থাপন করেছেন।
৬. ১৫ ডিসেম্বর ২০১৫ গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়ার জহরেরকান্দি গ্রামের উত্তর পাড়া সার্বজনীন মনসা মন্দিরে মনসা মূর্তি ও একই গ্রামের রামকৃষ্ণ মিশনের রাধা গোবিন্দ মন্দিরের রাধাকৃষ্ণের মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
৭. ১৭ ডিসেম্বর ২০১৫ বৃহস্পতিবার রাতে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার তালমা বাজারের শত বছরের পুরোনো সার্বজনীন কালীমন্দিরের ৭টি প্রতিমা ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা।
৮. ২০ ডিসেম্বর ২০১৫ রোববার সকালে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় বাউসী বাঙ্গালীপাড়া পদ্মা পূজা মন্দিরের পদ্মা প্রতিমা ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা।
৯. ২১ ডিসেম্বর ২০১৫ সোমবার রাতে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের মহেষপুর গোপপাড়া গ্রামে সার্বজনীন কালীমন্দিরে অগ্নিসংযোগ করে শীতলা মূর্তি ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা।
১০. ২৪ ডিসেম্বর ২০১৫ বৃহস্পতিবার কুড়িগ্রামের রৌমারীতে উপজেলার নমদাসপাড়া গ্রামে মন্দিরের কালী, লক্ষ্মী ও শিবের মূর্তি ভাঙচুর করে।
১১.২৬ ডিসেম্বর ২০১৫ শনিবার রাতে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার মির্জাবাড়ি বাজারের কাছে দড়িহাসিল এলাকার মাখন লাল গোপ ও সুবল চন্দ্র গোপের বাড়ির দুটি পারিবারিক কালী মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা।
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উপর হামলার ঘটনা বাংলাদেশের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতির জন্য একটি উদ্বেগজনক বার্তা। এদেশের সংখ্যালঘুদের দেশত্যাগের পেছনের অন্যতম একটি কারণ এটি। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নিরাপত্তাহীনতার কারণে দেশ ত্যাগ করে থাকেন। তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, তাদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ করে ব্যবসা, বাড়িঘর, সম্পত্তি লুটপাট, তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও মামলার হুমকিসহ হত্যার হুমকির ঘটনা ঘটে থাকে, তাদের ধর্মীয় উপাসনালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। যে কারণে নিরাপত্তাহীন অসহায় পরিবারগুলো বাপ-দাদাদের চৌদ্দ গোষ্ঠীর জন্মভিটা ছেড়ে দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, রাষ্ট্র এই বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে কখনও দেখছে না। বরং কখনও কখনও রাষ্ট্রের মন্ত্রী, সাংসদ, জনপ্রতিনিধি বা তাদের সাঙ্গপাঙ্গদের বিরুদ্ধে পত্রিকায় এই হামলার খবর প্রকাশিত হলেও কোনোটির আজ পর্যন্ত বিচার হয়নি বরং হয়রানির মাত্রা আরও বৃদ্ধি পায়। বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক দল যখনই ক্ষমতায় আসুক না কেন, সংখ্যালঘুদের ব্যাপারে তাদের যেন এই জায়গাটিতে একটি দৃশ্যমান মিল পরিলক্ষিত হয়। একদিকে সংখ্যালঘুদের উপর হামলা ও নির্যাতনের মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে অন্যদিকে এই সব হামলা ও নির্যাতনের বিচার হচ্ছে না। এ ধরনের ঘটনার বিচারের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতা ও ক্ষেত্র বিশেষে বিচারহীনতা এই সমস্যাকে আরও প্রকট করে তুলেছে। সরকারদলীয় কেউ এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকলে সেক্ষেত্রে বিচারের প্রত্যাশা আরও ক্ষীণ। এ প্রসঙ্গে একটি ঘটনার উল্লেখ করা যেতে পারে।
২৮ অক্টোবর ২০১৫ বুধবার রাতে চাঁদা না দেওয়ার ‘অপরাধে’ ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের মাথিয়ারা জেলেপাড়ায় হামলা চালায় আওয়ামী লীগ দলীয় ক্যাডাররা। তাদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ ও পেটের সন্তান। তার পেটে উপর্যুপরি লাথির চোটে ঘটনাস্থলেই মৃত বাচ্চা প্রসব করেন তিনি। পৃথিবীর আলো দেখার আগেই জীবন প্রদীপ নিভে যায় শিশুটির। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও মারধরে গুরুতর আহত গৃহবধূ তুলসী রানী দাসকে আশংকাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় আহত হয় আরও ২০ জন। তাদের মধ্যে কয়েকজন হলেন- আলোরানী দাস, জহরলাল দাস, শোভারানী দাস, বিকাশ, শুকদেব দাস ও পরিমল দাস। প্রায় ২২-২৫ জনের হামলাকারী দলটি জেলেপাড়ার ঘরবাড়িগুলোতে আচমকা ভাংচুর ও লুটপাট শুরু করে। প্রতিবন্ধী স্বপন দাসের দোকানের মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায় তারা। এ সময় তাদের ঠেকাতে পাড়ার লোকজন এগিয়ে এলে ক্যাডাররা নিরীহ সংখ্যালঘুদের মারধর শুরু করে। হামলাকারীদের হাত থেকে আহত রবীন্দ্রদাসকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন তার ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী তুলসী রানী দাস। এ সময় হামলাকারীরা তুলসীর তলপেট ও কোমরে উপর্যুপরি লাথি মারে। লাঠি দিয়েও তাকে মারধর করে। মুহূর্তেই রক্তক্ষরণ শুরু হয় তার। কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থলে মৃত সন্তান প্রসব করেন তিনি। পরদিন সকালে আহত তুলসীকে ফেনী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে প্রায় অর্ধশত পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে নৌকায় ছোট ফেনী নদীতে আশ্রয় নেন। পরে রাত সাড়ে ৯টায় পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে জেলে পরিবারগুলো নদী থেকে বাড়ি ফিরে আসে। আর আহতরা রাতে পুলিশের সহযোগিতায় ফেনী সদর হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেন। এই ঘটনার কোনো বিচার এখনও হয় নি।
সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার নিপীড়নের ক্ষেত্রে অধিকাংশ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় ও ক্ষমতাকে ব্যবহার করেছে সন্ত্রাসীরা। এ প্রসঙ্গে একটি ঘটনা উল্লেখ করা যেতে পারে। চাঁদা না পেয়ে ৯ ডিসেম্বর ২০১৫, বুধবার মধ্যরাতে ফেনী সদর উপজেলার ধলিয়ার পালপাড়ায় হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ক্যাডাররা। এতে আহত হয় ৮ জন। ধলিয়া ইউনিয়নের বালুয়া চৌমুহনীর পালপাড়া গ্রামের গোপাল পালের বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা দাবি করে আসছিল এসকল ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ক্যাডাররা। ৮ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ৭-৮ জন সহযোগী নিয়ে গোপাল পালের বাড়িতে হামলা করে এবং দেশীয় বন্দুক ঠেকিয়ে হুমকি দেয়। বাড়ির লোকেরা বাধা দিলে উক্ত ছাত্রলীগ নেতার পিতা স্থানীয় ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি তার সহযোগীদের নিয়ে দেশীয় বন্দুক, কিরিচ ও রামদা নিয়ে তাদের ওপর আরেক দফা হামলা করে। বিমল পাল ও গোপালসহ ৮জন আহত হয়। ৯ ডিসেম্বর বুধবার বিকেলে ফেনী মডেল থানায় মামলা করা হলে সন্ত্রাসীরা বুধবার মধ্যরাতে আবারও সশস্ত্র অবস্থায় হাজির হয়ে মামলা প্রত্যাহারের চাপ দেয়। এ সময় তারা বাড়ির আঙিনায় ৪টি খড়ের গাদায় আগুন দেয়। এরপর আতঙ্কে পালাপাড়ার কয়েকটি বাড়ির লোকজন পালিয়ে যায়।
সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার নিপীড়নের ক্ষেত্রে অধিকাংশ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় ও ক্ষমতাকে ব্যবহার করেছে সন্ত্রাসীরা। এ প্রসঙ্গে একটি ঘটনা উল্লেখ করা যেতে পারে। চাঁদা না পেয়ে ৯ ডিসেম্বর ২০১৫, বুধবার মধ্যরাতে ফেনী সদর উপজেলার ধলিয়ার পালপাড়ায় হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ক্যাডাররা। এতে আহত হয় ৮ জন। ধলিয়া ইউনিয়নের বালুয়া চৌমুহনীর পালপাড়া গ্রামের গোপাল পালের বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা দাবি করে আসছিল এসকল ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ক্যাডাররা। ৮ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ৭-৮ জন সহযোগী নিয়ে গোপাল পালের বাড়িতে হামলা করে এবং দেশীয় বন্দুক ঠেকিয়ে হুমকি দেয়। বাড়ির লোকেরা বাধা দিলে উক্ত ছাত্রলীগ নেতার পিতা স্থানীয় ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি তার সহযোগীদের নিয়ে দেশীয় বন্দুক, কিরিচ ও রামদা নিয়ে তাদের ওপর আরেক দফা হামলা করে। বিমল পাল ও গোপালসহ ৮জন আহত হয়। ৯ ডিসেম্বর বুধবার বিকেলে ফেনী মডেল থানায় মামলা করা হলে সন্ত্রাসীরা বুধবার মধ্যরাতে আবারও সশস্ত্র অবস্থায় হাজির হয়ে মামলা প্রত্যাহারের চাপ দেয়। এ সময় তারা বাড়ির আঙিনায় ৪টি খড়ের গাদায় আগুন দেয়। এরপর আতঙ্কে পালাপাড়ার কয়েকটি বাড়ির লোকজন পালিয়ে যায়।
অন্যদিকে সংখ্যালঘুদের দায়ের করা অভিযোগ মামলা আকারে গ্রহণ করতে থানা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্তরা অনেক ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেন না এমন অভিযোগও বিস্তর রয়েছে। গত ডিসেম্বরে এমন একটি ঘটনা ঘটেছে পটুয়াখালীতে। পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপেজলার আলীপুর গ্রামের ২টি সংখ্যালঘু পরিবারের ১২জন সদস্যকে হত্যার হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদ করেছে এক প্রভাবশালী। সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে উক্ত ২ পরিবারের মধ্যে ১টি পরিবারের প্রধানকে গত ৮ ডিসেম্বর ২০১৫ অপহরণ করে তারা। পরিবারের সদস্যরা অপহরণ মামলা করতে গেলে কলাপাড়া থানার পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামলা নেয় নি। এরপর ভুক্তভোগী পরিবার উক্ত দখলদারদের বিরুদ্ধে দেওয়ানী আদালতে মামলা করলে আদালত অভিযুক্তদের তলব করেন। এর পর থেকেই প্রভাবশালী মহল উক্ত পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে। এভাবে প্রভাবশালীরা সারাদেশে হিন্দুদের ভিটেমাটি দখল করে তাদের নিঃস্ব করছে। বাধ্য হয়ে হিন্দুরা দেশ ত্যাগ করছে। এসকল প্রভাবশালীদের মদদ দিচ্ছে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এই ঘটনায় ওসি অপহরণের মামলা না নেয়ার বিষয়টি প্রমাণ করে যে এসকল ভূমি-দস্যুকে প্রশাসন কোন না কোনভাবে সহায়তা করছে। বেশিরভাগ ভূমি-দস্যুই ক্ষমতাসীন দলের। তারা হিন্দুদের সম্পত্তি দখলের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় ও ক্ষমতাকে ব্যবহার করে। এদের ক্ষমতা এবং দাপটের কাছে অসহায় হয়ে ভিটেমাটি ছাড়তে বাধ্য হয় হিন্দু পরিবারগুলো। যারা এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে, তারা নিজেরাই উল্টো অত্যাচারীদের মদদ দেয়। প্রায়ই বিভিন্ন পত্রিকায় এ ধরনের খবর পাওয়া যায়। ভূমি-দস্যু এবং দখলবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার খবর সেই তুলনায় নেই বললেই চলে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ার ফলে দখলবাজি আরও বেড়ে যায়। যদি একের পর এক হিন্দুদের ভিটেমাটি দখল করে ঘরছাড়া করা হয় তাহলে এক সময় দেশে হিন্দু সম্প্রদায় বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
সংখ্যালঘুর সম্পত্তি দখলের ক্ষেত্রে প্রশাসনের সহযোগিতার আরও ১টি অভিযোগ উঠেছে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে। সেখানে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় ৫৫ হিন্দু পরিবারকে উচ্ছেদের তৎপরতা বন্ধের দাবিতে গত ২৯ ডিসেম্বর ২০১৫, মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে করে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়, স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতার ভূমিদস্যুরা ৫৫টি সংখ্যালঘু পরিবারের সম্পত্তি দখলের জন্য তাদের ওপর নানা উপায়ে নির্যাতন চালাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের বক্তব্য থেকে জানা যায়, দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুরের চন্ডিপুর ইউনিয়নে ৭ পুরুষ ধরে পরিবারগুলো বাস করে আসছে। তাদের জমির পরিমাণ প্রায় সাড়ে ২৫ একর। এ জমিতে বসতভিটা ছাড়াও রয়েছে আবাদি জমি ও মন্দির। ভূমিদস্যুরা ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে ও সন্ত্রাসী দিয়ে হয়রানি, মারধরের মাধ্যমে তাদের ভিটেমাটি ছাড়া করার চেষ্টা করছে। সংখ্যালঘু হওয়ার সুযোগে তাদের পুড়িয়ে হত্যা, স্ত্রী-মেয়েদের ধর্ষণ ও দেশ থেকে তাড়ানোর হুমকি দিচ্ছে। তাদের ভয়ে সংখ্যালঘুরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে। প্রশাসন তাদের কোনো সহায়তা করছে না। যদি কোনো সমাধান না হয় তাহলে তাদের আত্মহত্যা করা ছাড়া উপায় থাকবে না বলে জানান তারা।
এ জাতীয় আরেকটি ঘটনার উল্লেখ করতে চাই যেটি ঘটেছে নওগাঁর মহাদেবপুরে। সেখানে উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের চাহিদামত ঘুষ দিতে না পারায় এক সংখ্যালঘুর ৩২ বছর ধরে দখলে থাকা সম্পত্তি অন্যের নামে লিজ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভিপি সম্পত্তি লিজের ক্ষেত্রে লিজ গ্রহীতার অগ্রাধিকারের বিধান থাকলেও এ ক্ষেত্রে সে বিধান মানা হয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়। এদিকে নতুন লিজ গ্রহীতা জমি দখল নিয়ে উক্ত সংখ্যালঘু পরিবারটিকে বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র করছে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। এছাড়াপ্রায় ৫শত হিন্দু পরিবারের উচ্ছেদের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে গোপালগঞ্জের মাহমুদপুরের মাতবর এ্যাগ্রো ফিশারিজের বিরুদ্ধে। গোপালগঞ্জে হিন্দু অধ্যুষিত মাহমুদপুর বিলে জোর করে মৎস্য প্রজেক্ট করার মধ্য দিয়ে হিন্দুদের উচ্ছেদের চেষ্টা করছে উক্ত মাতবর এ্যাগ্রো ফিশারিজ। এখানে এ প্রকল্প হলে গ্রামের অন্তত ৫ শ’ হিন্দু কৃষি পরিবার তাদের পেশা হারাবেন। গ্রামের হিন্দুদের জমি ফিশারিজের কাছে নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করা ছাড়া কোন উপায় থাকবে না।
২০১৫ সালে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ২৪ জন হত্যার শিকার হয়েছেন। বিভিন্ন ঘটনায় আহত হয়েছেন ২৩৯জন। গুরুতর হামলার শিকার হয়েছেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ফরিদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অলোক সেন। ২৪ নভেম্বর ২০১৫ তাকে ফরিদপুর শহরের নিজ বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত করে কতিপয় মুখোশধারী সন্ত্রাসী। অলোক সেন ফরিদপুরের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার রক্ষায় সোচ্চার ছিলেন। এছাড়া ৫ অক্টোবর ২০১৫ সকালে বাসায় ঢুকে পাবনার ঈশ্বরদীর ফেইথ বাইবেল চার্চের যাজক লুক সরকারকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করে তিন যুবক। বেশ কয়েকজন যাজককে হত্যার হুমকি দেয়া হয়। রংপুরের ১জন খ্রিস্টান ফাদার ও বিভিন্ন চার্চে কর্মরত আরও ৯জন পাদ্রিকে ডাকযোগে পাঠানো চিঠির মারফত হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। বাংলাদেশ আঞ্চলিক ব্যাপ্টিষ্ট চার্চ রংপুরের পালক প্রধানের নামে হত্যার হুমকি সংবলিত চিঠি আসে গত ২৫ নভেম্বর ২০১৫ তারিখে। এ ছাড়াও দিনাজপুরের বীরগঞ্জে ক্যাথলিক মিশনের ফাদারকে হত্যার হুমকি দেয় দুর্বৃত্তরা। খুলনাতেও খ্রিস্টান ধর্মীয় যাজকদের উপর হত্যার হুমকি আসে এ মাসে। ২৭ নভেম্বর ২০১৫ দুপুরে মোবাইল ফোন মারফৎ বাংলাদেশ ইন্টারচার্চ পাস্টরস এন্ড লিডারস ফেলোশিপের খুলনা বিভাগের নির্বাহী সচিব এবং চার্চ অব গড এর বাংলাদেশ প্রধানসহ খুলনা বিভাগ ক্যাথলিক চার্চের বিশপকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এ বছর মোট ৫২টি হত্যার হুমকির খবর জানা গেছে। শুধু ডিসেম্বরে বড়দিন উদাযাপনের পূর্বে দুইজন খ্রিষ্টান ধর্মযাজকসহ সারাদেশে ৩৭জন খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীকে হত্যার হুমকি আসে।
গত বছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগের নেতৃত্বে সকল হিন্দু সংগঠন নিষিদ্ধের দাবি এবং তার প্রেক্ষিতে অসাম্প্রদায়িক আওয়ামী লীগের কঠোর প্রতিক্রিয়ার অনুপস্থিতি এদেশের হিন্দুদের মধ্যে সংশয়ের জন্ম দেয়। ১৯ ডিসেম্বর ২০১৫ শনিবার বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ ও সমমনা ১৩টি সংগঠন বাংলাদেশের সকল হিন্দু সংগঠন নিষিদ্ধের দাবিসহ ১০ দফা দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে। এসব দাবির মধ্যে ছিল সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ থেকে বহিষ্কার, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ নিষিদ্ধ ঘোষণা, জাগো হিন্দু পরিষদ, ইসকন, হিন্দু মহাজোট, বেদান্ত সাংস্কৃতিক মঞ্চ, সনাতন মৈত্রী সংঘ, আর্য সমাজের কর্মকাণ্ড বন্ধ ঘোষণার দাবি প্রভৃতি।
গত বছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগের নেতৃত্বে সকল হিন্দু সংগঠন নিষিদ্ধের দাবি এবং তার প্রেক্ষিতে অসাম্প্রদায়িক আওয়ামী লীগের কঠোর প্রতিক্রিয়ার অনুপস্থিতি এদেশের হিন্দুদের মধ্যে সংশয়ের জন্ম দেয়। ১৯ ডিসেম্বর ২০১৫ শনিবার বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ ও সমমনা ১৩টি সংগঠন বাংলাদেশের সকল হিন্দু সংগঠন নিষিদ্ধের দাবিসহ ১০ দফা দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে। এসব দাবির মধ্যে ছিল সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ থেকে বহিষ্কার, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ নিষিদ্ধ ঘোষণা, জাগো হিন্দু পরিষদ, ইসকন, হিন্দু মহাজোট, বেদান্ত সাংস্কৃতিক মঞ্চ, সনাতন মৈত্রী সংঘ, আর্য সমাজের কর্মকাণ্ড বন্ধ ঘোষণার দাবি প্রভৃতি।
আমরা চাই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রতিটি নাগরিক সমান সুযোগ সুবিধা পাবে। ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, শ্রেণি, গোষ্ঠী, বা সম্প্রদায় যা-ই হোক না কেন, আইন যেমন সবার জন্য সমান হবে, রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, বাক-স্বাধীনতা, সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা, সংগঠন করার স্বাধীনতা, উৎসব করার স্বাধীনতা সবার বেলায় সমান হবে। এখানে কোনো ধরনের বৈষম্য থাকবে না এটাই প্রতিটি নাগরিকের কাম্য। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুর অধিকার রক্ষায় রাষ্ট্রের ভূমিকা আশানুরূপ নয়। আমাদের দেশের রাষ্ট্রীয় নীতিমালা ও সামাজিক অনুশাসনে বহুত্ববাদের (Pluralism) স্বীকৃতি ও চর্চার বিষয়টি বরাবরই উপেক্ষিত হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে এদেশের সংখ্যালঘুরা নিজদেশেই ঐতিহাসিক কাল ধরে বসবাস করা সত্ত্বেও রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে অবহেলা ও বঞ্চনা শিকার হচ্ছেন। তাদের অস্তিত্ব আজ বিপন্ন। প্রতিনিয়ত তাদেরকে নিজেদের আবাস থেকে উচ্ছেদ হতে হচ্ছে। এথনিক ক্লিনজিং-এর যে চর্চা দূর অতীত থেকে এই ভূখণ্ডে চলে এসেছে আজও তা অব্যাহত রয়েছে। এদেশে সভ্যতার ঊষালগ্ন থেকে বসবাসকারী জনগোষ্ঠী কালক্রমে আজ সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়েছেন। রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলো কর্তৃক ধর্মকে ক্রমবর্ধমান রাজনীতিকীকরণের ফলে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা কার্যত দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকে পরিণত হয়েছেন, বেড়েছে ধর্মীয় ক্ষেত্রে অসহিষ্ণুতা। রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম-এর ধারনা ধর্মনিরপেক্ষতার চর্চাকে অকার্যকর করেছে, প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীগুলো হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, প্রকৃতি পূজারী নির্বিশেষে সংখ্যালঘুদেরকে হত্যা ও সম্পত্তি দখল, মন্দির, প্রতিমা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, গ্রন্থ প্রভৃতি ধ্বংস করে এ প্রক্রিয়াকে সহায়তা যোগাচ্ছে। আমরা চাই এক্ষেত্রে রাষ্ট্র হবে আরও মানবিক। সকল সম্প্রদায়ের ও ধর্মীয় মতাদর্শের জনগোষ্ঠীর সমঅধিকার নিশ্চিত করে একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হবে আজকের বাংলাদেশ।
রিপোর্ট প্রণয়নে
প্রিয়া সাহা
সাধারণ সম্পাদক
বাংলাদেশ মহিলা ঐক্য পরিষদ
প্রিয়া সাহা
সাধারণ সম্পাদক
বাংলাদেশ মহিলা ঐক্য পরিষদ












