তরুন দত্তকে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম


গাইবান্ধা: গোবিন্দগঞ্জের ব্যবসায়ি তরুন দত্তকে (৫২) মস্তক বিচ্ছিন্ন করে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত ৮ ফেব্রুয়ারি সকালে শহরের বর্ধণকুঠি এলাকায় একটি ডোবার পাশ থেকে ব্যবসায়ি তরুন দত্তের মস্তকবিহীন মৃতদেহ ও ডোবা থেকে মাথা উদ্ধার করে পুলিশ।
এই বর্বর ঘটনার প্রতিবাদে রংপুর-বগুড়া মহাসড়ক অবরোধ করে স্থানীয় বনিক সমিতির সদস্যবৃন্দ ও বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী। আজ বুধবার সকাল সোয়া ১১ টা থেকে সোয়া ১২টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
স্থানীয়রা জানান, গোবিন্দগঞ্জ বনিক সমিতির উদ্যোগে, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ ও বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী চতুরঙ্গ মোড় থেকে হাইস্কুল মার্কেট পর্যন্ত এলাকায় অবস্থান নিয়ে রংপুর-বগুড়া মহাসড়ক অবরোধ করে। এসময় তারা ব্যবসায়ি তরুন দত্তের হত্যার প্রতিবাদে ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেয়।
এ সময় বক্তব্য রাখেন, গাইবান্ধা-৪ গোবিন্দগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ, সাবেক এমপি লুৎফর রহমান চৌধরী, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার হোসেন আকন্দ, উপজেলা আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক জাকারিয়া ইসলাম জুয়েল, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আ. লতিফ প্রধান, ওয়ার্কাস পার্টির মতিন মোল্লা,৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলার রিমন কুমার তালুকদার, বনিক সমিতির সভাপতি নাজমুল হোদা প্রধান টুকু, সহ সভাপতি আবিদুল হক শেমাল, সাধারন সম্পাদক আখতার হোসেন জুয়েল, সহিদ প্রধান, আশীষ কুমার রন্টু, আ. লতিফ সরকার স্বপন, শামছুজোহা তালুকদার বেলাল, কাজী হোসাইন আহমেদ প্রমুখ।
বেলা সাড়ে ১২টার দিকে আন্দোলনকারীরা অবরোধ শেষ করে মিছিল নিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে যান। সেখানে ব্যবসায়ী তরুন হত্যার সকল খুনী ও জরিতদের ৭২ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতারের দাবী সহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে ৩ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি দেয়া হয়। অন্যথায় ধর্মঘট অবরোধ সহ বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে হুশিয়ারি দেন তারা।
এর প্রতিবাদে ওই দিন শহরের সকল দোকানপাট বন্ধ রেখে দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত ধর্মঘট পালন করে স্থানীয় বনিক সমিতি। ওই দিন আজকের এ কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছিল বনিক সমিতি। নিহত তরুন দত্ত গোবিন্দগঞ্জ পৌর শহরের গোলাপবাগ বাজারের মৃত হীরেন্দ্র নাথ দত্তের ছেলে। তিনি বাড়ির সামনে দোকানে শিলপাটা ও ড্রাম-হার্ডওয়্যার সামগ্রীর ব্যবসা করতেন।
এদিকে পুলিশ এখন পর্যন্ত তরুন দত্তের হত্যাকারীদের সনাক্ত করতে পারেনি। মোবাইলে যোগাযোগ করলে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ফারুক হোসেন বলেন যে, ঘটনা সত্য। তবে এখনো কোন খুনীকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল জানান, অপরাধীদের খোঁজ চলছে। তাদেরকে দ্রুত গ্রেফতার করার চেষ্টা করছি।
নি আরও জানান, নিহতের স্ত্রী মিতা রানী দত্ত (৩৫) অজ্ঞাতনামা খুনীদের বিরুদ্ধে ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোডে মামলা করেছেন, যার নম্বর ১৫, ০৮/০২/২০১৬।
মিতা রানী দত্ত এইবেলার প্রতিনিধিকে বলেন, ‘আমার সব শেষ হয়ে গেছে। আমার দুটো নাবালক ছেলে আছে। আমরা দিন এনে দিন খাই। এখন আমরা কি করে বাঁচব?’
Source- http://www.bd-pratidin.com/

গাইবান্ধা: গোবিন্দগঞ্জের ব্যবসায়ি তরুন দত্তকে (৫২) মস্তক বিচ্ছিন্ন করে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত ৮ ফেব্রুয়ারি সকালে শহরের বর্ধণকুঠি এলাকায় একটি ডোবার পাশ থেকে ব্যবসায়ি তরুন দত্তের মস্তকবিহীন মৃতদেহ ও ডোবা থেকে মাথা উদ্ধার করে পুলিশ।
এই বর্বর ঘটনার প্রতিবাদে রংপুর-বগুড়া মহাসড়ক অবরোধ করে স্থানীয় বনিক সমিতির সদস্যবৃন্দ ও বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী। আজ বুধবার সকাল সোয়া ১১ টা থেকে সোয়া ১২টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
স্থানীয়রা জানান, গোবিন্দগঞ্জ বনিক সমিতির উদ্যোগে, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ ও বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী চতুরঙ্গ মোড় থেকে হাইস্কুল মার্কেট পর্যন্ত এলাকায় অবস্থান নিয়ে রংপুর-বগুড়া মহাসড়ক অবরোধ করে। এসময় তারা ব্যবসায়ি তরুন দত্তের হত্যার প্রতিবাদে ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেয়।
এ সময় বক্তব্য রাখেন, গাইবান্ধা-৪ গোবিন্দগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ, সাবেক এমপি লুৎফর রহমান চৌধরী, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার হোসেন আকন্দ, উপজেলা আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক জাকারিয়া ইসলাম জুয়েল, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আ. লতিফ প্রধান, ওয়ার্কাস পার্টির মতিন মোল্লা,৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলার রিমন কুমার তালুকদার, বনিক সমিতির সভাপতি নাজমুল হোদা প্রধান টুকু, সহ সভাপতি আবিদুল হক শেমাল, সাধারন সম্পাদক আখতার হোসেন জুয়েল, সহিদ প্রধান, আশীষ কুমার রন্টু, আ. লতিফ সরকার স্বপন, শামছুজোহা তালুকদার বেলাল, কাজী হোসাইন আহমেদ প্রমুখ।
বেলা সাড়ে ১২টার দিকে আন্দোলনকারীরা অবরোধ শেষ করে মিছিল নিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে যান। সেখানে ব্যবসায়ী তরুন হত্যার সকল খুনী ও জরিতদের ৭২ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতারের দাবী সহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে ৩ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি দেয়া হয়। অন্যথায় ধর্মঘট অবরোধ সহ বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে হুশিয়ারি দেন তারা।
এর প্রতিবাদে ওই দিন শহরের সকল দোকানপাট বন্ধ রেখে দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত ধর্মঘট পালন করে স্থানীয় বনিক সমিতি। ওই দিন আজকের এ কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছিল বনিক সমিতি। নিহত তরুন দত্ত গোবিন্দগঞ্জ পৌর শহরের গোলাপবাগ বাজারের মৃত হীরেন্দ্র নাথ দত্তের ছেলে। তিনি বাড়ির সামনে দোকানে শিলপাটা ও ড্রাম-হার্ডওয়্যার সামগ্রীর ব্যবসা করতেন।
এদিকে পুলিশ এখন পর্যন্ত তরুন দত্তের হত্যাকারীদের সনাক্ত করতে পারেনি। মোবাইলে যোগাযোগ করলে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ফারুক হোসেন বলেন যে, ঘটনা সত্য। তবে এখনো কোন খুনীকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল জানান, অপরাধীদের খোঁজ চলছে। তাদেরকে দ্রুত গ্রেফতার করার চেষ্টা করছি।
নি আরও জানান, নিহতের স্ত্রী মিতা রানী দত্ত (৩৫) অজ্ঞাতনামা খুনীদের বিরুদ্ধে ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোডে মামলা করেছেন, যার নম্বর ১৫, ০৮/০২/২০১৬।
মিতা রানী দত্ত এইবেলার প্রতিনিধিকে বলেন, ‘আমার সব শেষ হয়ে গেছে। আমার দুটো নাবালক ছেলে আছে। আমরা দিন এনে দিন খাই। এখন আমরা কি করে বাঁচব?’
২০ হাজার সংখ্যালঘু নির্যাতন
কারও শাস্তি হয়নি ১৩ বছরে

২০০১ সাল-পরবর্তী ১৩ বছরে দেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ২০ সহস্রাধিক ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়াও বাহাত্তর-পরবর্তী বিভিন্ন হামলা-নির্যাতনের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৬ শতাধিক সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন, আহত হয়েছেন ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষ। এর মধ্যে প্রায় ১২ হাজার পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। সংঘবদ্ধভাবে হামলা, নির্যাতন, লুটতরাজের ঘটনায় লক্ষাধিক সংখ্যালঘু সদস্য নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে বলে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের এক প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে। ২০০১-০৬ মেয়াদ পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শাসনামলে সংঘটিত সর্বাধিক বর্বরোচিত নৃশংসতা তদন্তের জন্য গঠিত কমিশনের একাধিক রিপোর্টেও সংখ্যালঘু নিপীড়ন-নির্যাতনের নানা চিত্র ফুটে ওঠে। সংখ্যালঘু পল্লীগুলোয় ৫ সহস্রাধিক হামলার ঘটনায় দোষীদের চিহ্নিত করা হলেও কাউকেও শাস্তির আওতায় নেওয়া যায়নি। ফলে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজের ঘটনা বেড়েই চলেছে। হামলা, লুটপাট, ধর্ষণের পাশাপাশি বেপরোয়াভাবে হত্যাকাণ্ডও সংঘটিত হয়েছে। সেসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়ও দোষীদের কারও শাস্তি নিশ্চিত করা যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। নিছক জমিজমা দখল ও লুটতরাজের উদ্দেশ্যে সংঘবদ্ধ চক্র নৃশংসতা ঘটিয়েও তাতে রাজনৈতিক প্রলেপ লাগিয়ে ধামাচাপা দিতে সক্ষম হয়েছে। কখনো ব্যক্তিবিরোধকে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় রূপ দেওয়ার মতো ভয়াবহতাও ঘটেছে বিভিন্ন স্থানে। এতে হামলা, ভাঙচুর, লুটতরাজের শিকার হিন্দু পরিবারগুলো আরও বেশি নৃশংসতার মুখে পড়ে নিঃস্ব অবস্থায় এলাকা ছাড়তেও বাধ্য হয়। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার গঠনের পর সারা দেশে সংখ্যালঘুদের ওপর যে ভয়াবহ নির্যাতন নেমে আসে তা কল্পনাতীত। আওয়ামী লীগ সরকার আমলে গঠিত তদন্ত কমিশন ৫ হাজার ৫৭১টি অভিযোগ পায়। ২০০১ সালের অক্টোবর থেকে ২০০২ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাওয়া অভিযোগের সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৬২৫টি। এর মধ্যে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ৩৫৫টি এবং লুটপাট, অগি্নসংযোগ, ধর্ষণ, গণধর্ষণ, গুরুতর আঘাত, চিরতরে পঙ্গু করা, সম্পত্তি দখল ও অন্যান্য গুরুতর অভিযোগ ৩ হাজার ২৭০টি। ধর্তব্য নয় উল্লেখ করে ১ হাজার ৯৪৬টি অভিযোগ বাতিল করারও ঘটনা ঘটে। তদন্ত করা ৩ হাজার ৬২৫টি ঘটনায় ১৮ হাজারেরও বেশি লোক জড়িত বলে চিহ্নিত হয়। ২০০১ সালে নির্বাচনোত্তর সহিংসতায় যেসব ব্যক্তির ওপর হামলা, লুটপাট, গণধর্ষণ করা হয়েছিল, তারা থানায় বা আদালতে অভিযোগ দায়ের পর্যন্ত করতে পারেননি। কেউ অভিযোগ করতে পারলেও রাজনৈতিক কারণে তদন্ত হয়নি। রাষ্ট্রীয় আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে সংখ্যালঘুদের ওপর বর্বরোচিত নির্যাতন-সন্ত্রাস চালিয়েই ক্ষান্ত ছিলেন না সংশ্লিষ্টরা। জোট সরকারের আমলে হামলা-সন্ত্রাস লুটতরাজসহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাবলিকে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়ে ৫ হাজার ৮৯০টি মামলা প্রত্যাহারও করা হয়। ফলে এসব মামলার ১২ হাজার অপরাধী শাস্তি ছাড়াই বীরদর্পে ঘুরে বেড়াতে থাকে। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে সেসব অপরাধী আবারও সংখ্যালঘু নির্যাতনের হোলিখেলায় মেতে উঠেছে। বর্তমান আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের শেষ চার মাসে আরও প্রায় দেড় হাজার হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটিয়েছে চিহ্নিত দুর্বৃত্তরা। বিভিন্ন সময়ে হামলা-অত্যাচারের নির্মমতায় ভুক্তভোগীরা জানান, রাজনৈতিক পালাবদল, প্রতিহিংসা, সহায়-সম্পদ জবরদখলের লোভ আর নানা কূটকৌশলের ঘুঁটি হিসেবে বারবার সংখ্যালঘুরা নৃশংসতার শিকার হন। ২০০১ সাল থেকে শুরু করে যুদ্ধাপরাধ বিচারবিরোধী আন্দোলন পর্যন্ত হামলার শিকার হয়েছেন সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়সহ পাহাড়ি নৃতাত্তি্বক জনগোষ্ঠীর মানুষ। এ সময়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটতরাজ, অগ্নিসংযোগের ২০ সহস্রাধিক ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় সংখ্যালঘুদের জানমালের বেশুমার ক্ষতিসাধন হয়েছে। তথ্যানুসন্ধানে দেখা যায়, দুই শতাধিক এলাকায় মুসলমানদের পাশাপাশি খ্রিস্টান, বৌদ্ধসহ অন্য ধর্মাবলম্বীদের অবস্থান থাকলেও সারা দেশেই কম-বেশি বসবাস রয়েছে হিন্দুদের। এর মধ্যে ৭৮টি পয়েন্ট স্পর্শকাতর স্থান হিসেবে চিহ্নিত। এসব স্থানে পান থেকে চুন খসলেই হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রামের রাউজান, গহিরা, সাতকানিয়া, হাটহাজারীসহ ২৩ গ্রামে সংখ্যালঘুদের ভাগ্য নির্ধারণ হয় সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও তার সহযোগীদের মর্জিতে। আওয়ামী লীগ জয়লাভ করলেও তাদের ওপর হামলা ও নির্যাতন চলে, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার গঠন করলেও নেমে আসে নির্যাতনের বিভীষিকা। যুদ্ধাপরাধ বিচার চলাবস্থায়ও এসব গ্রামে জামায়াত-শিবির নৃশংসতা চালায়, আবার কাদের মোল্লার ফাঁসি হওয়ার পরও আক্রমণ চলে সেখানে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী বিএনপি ছেড়ে নতুন দল গঠনের প্রাক্কালেও রাউজানের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত গ্রামগুলোয় হামলা, ভাঙচুর, লুটতরাজসহ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীরা জানান, কতিপয় রাজনৈতিক দল এমনকি ব্যক্তিকেন্দ্রিক দাবি-দাওয়া নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করতেও সংখ্যালঘু পরিবারগুলোর ওপর জ্বালাও-পোড়াওয়ের নৃশংসতা চাপিয়ে দেওয়া যেন রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। একাত্তর-পরবর্তী অন্তত ১০ দফা হামলার শিকার গহিরার নির্মল চন্দ্র দাস বলেন, সংখ্যালঘু পরিবারে জন্ম নেওয়াটাই আজন্মের পাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শাঁখের করাতের মতো বারবার আমাদের কেটে রক্তাক্ত করা হচ্ছে। জোট সরকারের মদদে সন্ত্রাসীরা হত্যা, গুম, মারাত্দক আহত করা, চাঁদাবাজি, লুটপাট, ডাকাতি, নারীর শ্লীলতাহানি, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, ধর্মান্তরকরণ- এ পদ্ধতিগুলোকে সংখ্যালঘু ও ভিন্নমতাবলম্বীদের নিপীড়ন করার জন্য ব্যবহার হয়ে থাকে। ২০০১ সাল-পরবর্তী সংখ্যালঘুরা আইন ও প্রশাসনের আশ্রয় নিতে চাইলেও কোনো ফল পায়নি বরং নিপীড়নের মাত্রা বেড়েছে।অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০০১ সাল ও এর কাছাকাছি সময়ে দেশের ২৮টি জেলায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজন হামলা ও নির্যাতনের শিকার হতেন। কিন্তু ২০১২-১৩ সালে নির্যাতনের পরিধি বেড়েছে। দেশের ৪৩ জেলায় ব্যাপক হারে নির্যাতন ঘটে চলেছে। এর মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩৬ সংখ্যালঘু সদস্য। সাম্প্রতিক সহিংসতায় ৪৩ জেলায় সংখ্যালঘুরা আক্রমণের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম, কঙ্বাজার, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, গাইবান্ধা, সিলেট, মৌলভীবাজার, ঠাকুরগাঁও, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, জয়পুরহাট, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নেত্রকোনা, গাজীপুর, বরিশাল, দিনাজপুর, চাঁদপুর, খুলনা, মুন্সীগঞ্জ, রংপুর, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা, শেরপুর, জামালপুর, সুনামগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, ফেনী, নাটোর, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, ঝিনাইদহ ও রাজশাহী। তবে কয়েকটি জেলায় মুসলিম জনগোষ্ঠীর মানুষও নিহত এবং তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সরকারি দফতর, যানবাহন অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের শিকার হয়েছে। এসব ঘটনায় সংখ্যালঘু চারজন নিহত হয়েছেন। তারা হলেন চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বৃদ্ধ দয়াল হরিশীল, সিলেটের জগৎ জ্যোতি তালুকদার, মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দাসের বাজার ইউনিয়নের সুশীল বিশ্বাস এবং নোয়াখালীর প্রকৌশলী সুমন ভৌমিক। অন্যান্য সময় সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা বাধা হয়ে দাঁড়াতেন। কিন্তু গত চার মাসে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের অনেক ক্ষেত্রেই নিষ্ক্রিয় ভূমিকায় থাকতে দেখা গেছে। সিরাজগঞ্জ, খুলনা, যশোর, নরসিংদী, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ কয়েকটি স্থানে আওয়ামী লীগের স্থানীয় পর্যায়ের নেতা-কর্মীরাই সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত ছিলেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। মহাজোট সরকারের গত মেয়াদে ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের রামুতে ১২টি বৌদ্ধ বিহারে এবং ৩০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থানে বৌদ্ধ ও হিন্দু জনগোষ্ঠী ও তাদের উপাসনালয়ের ওপর তাণ্ডব চালানো হয়। রামুতে বৌদ্ধ মন্দির, মঠ পুড়িয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। বান্দরবানে বৌদ্ধ মন্দির ও সংলগ্ন বৌদ্ধপল্লী হামলার শিকার হয়। এ ছাড়া মুন্সীগঞ্জ, বাগেরহাট, যশোর, সাতক্ষীরা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও গফরগাঁওয়ে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলায় প্রায় ৪০০ নারী-পুরুষ আহত হয়। দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর এলাকা খ্যাত পিরোজপুরের বিভিন্ন স্থান সংখ্যালঘুদের জন্য রীতিমতো মৃত্যুপুরী হয়ে উঠেছে। সাতক্ষীরার বেশির ভাগ গ্রামাঞ্চল সংখ্যালঘুদের জন্য বিপজ্জনক হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে। সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন প্রসঙ্গে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান বলেন, রাজনীতির ধরন না বদলালে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করা যাবে না। সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করতে হলে সর্বস্তরে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
শিশু কন্যা নির্যাতনের অভিযোগে এনজিও কর্মী গ্রেফতার
কাহারোল (দিনাজপুর) ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০১৬ ইং

দিনাজপুরের কাহারোলে এনজিও কর্মী কিস্তির টাকা তুলতে গিয়ে শিশু নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, কাহারোল উপজেলার ৫নং সুন্দরপুর ইউনিয়নের কমলপুর গ্রামে ৯ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার বীরগঞ্জ এলাকার গ্রাম বিকাশ কেন্দ্র এনজিওর কর্মী মো. আহসান হাবীব ঋণের টাকার কিস্তি তুলতে যায়, আরতি রানী নামের এক সদস্যার বাড়িতে। কিস্তির টাকা না পেয়ে, কর্মী আহসান হাবীব আরতী রানীকে মোবাইল করলে, আরতী রানী বলে যে, আমি দুরে কাজে আছি বাড়িতে টাকা রেখে এসেছি। এই কথা শুনে এনজিও কর্মী আহসান হাবীব আরতী রানীর বাড়িতে টাকার জন্য গেলে, বাড়িতে তার মেয়ে ছাড়া কাউকে দেখতে না পেয়ে সে আরতীর মেয়ে (১০) কে কিস্তির টাকা দিতে বলে। মেয়েটি সেই মুহুত্তে স্কুলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঐ অবস্থায় ঘরে ঢুকে বিছানার নিচ থেকে টাকা এনে এনজিও কর্মীর হাতে দেয়। সেই সময় হঠাৎ করে এনজিও কর্মী আহসান হাবীব মেয়েটির মুখ চেপে ধরে ঘরের ভিতরে নিয়ে গিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রতঙ্গে হাত দেয় এবং কাউকে না বলার জন্য বিভিন্ন প্রকার লোভ দেখায়।
এই ঘটনা ঘটিয়ে আহসান হাবীব বীরগঞ্জ উপজেলার পাল্টাপুর গ্রামে কিস্তির টাকা তুলতে চলে যায়। কিছুক্ষন পর ঘটনাটি জানাজানি হলে, মেয়েটির আত্মীয়-প্রতিবেশিরা আহসান হাবীবের খোজ পেয়ে পালটাপুর গ্রামে গিয়ে দেখতে পেলে তাকে আটক করে রাখে এবং কাহারোল থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনা স্থলে গিয়ে এনজিও কর্মী আহসান হাবীবকে গ্রেফতার করে কাহারোল থানায় নিয়ে আসে।
এই ব্যাপারে কাহারোল থানায় মেয়েটির মা আরতী রানী বাদী হয়ে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন/৩) এর ১০ ধারা মতে মামলা দায়ের করেন।
ব্যবসায়ী অরুণ দত্ত হত্যা
গাইবান্ধা, ১০ ফেব্রুয়ারি ॥ Janakantha
গোবিন্দগঞ্জের ব্যবসায়ী অরুণ দত্তের খুনীদের গ্রেফতারের দাবিতে রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক ঘণ্টাব্যাপী অবরোধ করে রাখেন বিক্ষুব্ধ ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী। এ সময় মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেয় জনতা।
স্থানীয় বণিক সমিতির উদ্যোগে বুধবার সকালে নিহত ব্যবসায়ী অরুণ দত্তের নিজবাড়ি পৌরশহরের ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের সামনে সড়ক অবরোধ করে রাখা হয়। বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসেন জুয়েল বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি আরও জানান, এর আগে মানববন্ধন পালন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট স্মারকলিপি পেশ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার সকাল ৮টার দিকে গোবিন্দগঞ্জ পৌরশহরের কলেজ রোড়ের বর্ধনকুটি এলাকার একটি ডোবা থেকে ব্যবসায়ী অরুণন দত্তের মাথাহীন লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
গুলি করে টাকা ছিনতাই
আইনে তালাক চান না হিন্দু নারীরা
feb 2016
মৃদুভাষণ ডেস্ক :: হিন্দু বিবাহ আইনে তালাক ব্যবস্থা সংযুক্ত করতে মানবাধিকার কর্মী এলিনা খানের হাইকোর্টে রিট বাতিল এবং আইনে তালাক ব্যবস্থা সংযুক্ত না করতে মানবন্ধন করেছে বাংলাদেশ হিন্দু মহিলা জোট।
রোববার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে তালাক ব্যবস্থা চালু না করার জন্য তিন দফা দাবিতে এ মানবন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, হাজার হাজার বছর ধরে অবিকৃতভাবে চলমান শান্তিপূর্ণ পরিবার ব্যবস্থায় দুটি মানুষ একত্রিত হয়। হিন্দু নারী পুরুষের জীবনে আসে অর্ধাঙ্গিনী হিসেবে, তাকে বিচ্ছিন্ন করা যায় না। এমনকি স্বামীর থেকে পৃথক থাকলেও নারীর ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
বক্তারা পারিবারিক বিচ্ছেদকে এনজিওর প্ররোচনা উল্লেখ করে বলেন, দুশ্চরিত্র স্বামী, অবৈধ বিবাহ, রাষ্ট্রদ্রোহী, দীর্ঘদিন প্রবাসে বা পুরুষত্বহীন হলে স্ত্রী তাকে পরিত্যাগ করতে পারে এর জন্য নতুন আইনের প্রয়োজন নেই। তাই মানবন্ধন থেকে এনজিওর বিরুদ্ধে আইন করার এবং তালাক ব্যবস্থা হিন্দু আইনে অন্তর্ভুক্ত না করার দাবি জানানো হয়।
সংগঠনটির সভাপতি ড. সেলিনা দত্তের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানবন্ধনে বক্তব্য রাখেন হিন্দু মহিলা জোটের নির্বাহী সভাপতি প্রীতিলতা বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট প্রতিভা বাগচী, বিথী দত্ত, হিন্দু মহাজোটের সভাপতি দেবাশীষ মণ্ডল, মহাসচিব অ্যাডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রমুখ।
রোববার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে তালাক ব্যবস্থা চালু না করার জন্য তিন দফা দাবিতে এ মানবন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, হাজার হাজার বছর ধরে অবিকৃতভাবে চলমান শান্তিপূর্ণ পরিবার ব্যবস্থায় দুটি মানুষ একত্রিত হয়। হিন্দু নারী পুরুষের জীবনে আসে অর্ধাঙ্গিনী হিসেবে, তাকে বিচ্ছিন্ন করা যায় না। এমনকি স্বামীর থেকে পৃথক থাকলেও নারীর ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
বক্তারা পারিবারিক বিচ্ছেদকে এনজিওর প্ররোচনা উল্লেখ করে বলেন, দুশ্চরিত্র স্বামী, অবৈধ বিবাহ, রাষ্ট্রদ্রোহী, দীর্ঘদিন প্রবাসে বা পুরুষত্বহীন হলে স্ত্রী তাকে পরিত্যাগ করতে পারে এর জন্য নতুন আইনের প্রয়োজন নেই। তাই মানবন্ধন থেকে এনজিওর বিরুদ্ধে আইন করার এবং তালাক ব্যবস্থা হিন্দু আইনে অন্তর্ভুক্ত না করার দাবি জানানো হয়।
সংগঠনটির সভাপতি ড. সেলিনা দত্তের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানবন্ধনে বক্তব্য রাখেন হিন্দু মহিলা জোটের নির্বাহী সভাপতি প্রীতিলতা বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট প্রতিভা বাগচী, বিথী দত্ত, হিন্দু মহাজোটের সভাপতি দেবাশীষ মণ্ডল, মহাসচিব অ্যাডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রমুখ।

No comments:
Post a Comment