সাংবাদিক অঞ্জন রায়ের বাড়ি প্রভাবশালীদের দখলে
২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৬, ২২:৫১
http://www.channelionline.com/

পাবনা শহরে সাংবাদিক অঞ্জন রায়ের পৈতৃক বাড়ি দখল করে আছে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী দুস্কৃতকারী।
সকল ধরনের নথিপত্রসহ আদালতের রায়ের পরও শহীদ পরিবারের সন্তান অঞ্জন রায় তার পৈতৃক ভিটার দখল ফেরত পাননি।
নিজ ভিটামাটি না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সাংবাদিক ও বিশিষ্টজনদের উদ্দেশ্য করে অঞ্জয় রায় লিখেছেন, অপরের জন্য আপনারা অনেক যুদ্ধ করেছেন- সফল হয়েছেন।





'এবার ন্যায্য দাবিতে আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি- মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সম্পত্তি কিভাবে শত্রু সম্পত্তির তালিকায় থাকে? কেনো আমাদের পরিবার ন্যায়বিচার পাবে না? আপনাদের মিলিত কন্ঠই এনে দিতে পারে সমাধান।'
নির্মম ও কঠিন সত্যের মুখোমুখি
সংখ্যালঘুরা
২০১৬ ফেব্রুয়ারি ২৪ ১২:০১:৫৯

দিলীপ কর্মকার
বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত নিরীহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর হামলা, মিথ্যা মামলা, নির্যাতন, অপহরণ, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, গুলি এমনকি গলাকেটে কিংবা আগুনে পুড়ে হত্যার মত নির্মম ঘটনা সংগঠিত হচ্ছে। গত ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬, রবিবার পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জে এরকম একটা অতর্কিত পরিকল্পিত হামলা ও হত্যার সংবাদ ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারলাম।
বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত নিরীহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর হামলা, মিথ্যা মামলা, নির্যাতন, অপহরণ, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, গুলি এমনকি গলাকেটে কিংবা আগুনে পুড়ে হত্যার মত নির্মম ঘটনা সংগঠিত হচ্ছে। গত ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬, রবিবার পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জে এরকম একটা অতর্কিত পরিকল্পিত হামলা ও হত্যার সংবাদ ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারলাম।
আক্রমণকারীরা সকাল বেলা সন্ত গৌড়ীয় মঠের অধ্যক্ষ শ্রী যজ্ঞেশ্বর রায় দাসাধিকারীকে গলায় ছুরি চালিয়ে হত্যা করেছে। হত্যাকাণ্ড চালানোর সময় তা দেখে ফেলে গোপাল চন্দ্র রায় নামে মন্দিরের আর এক ভক্ত সেবক। আর যায় কোথা! দুর্বৃত্তরা হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁকেও লক্ষ্য করে গুলি চালায়। দৌড়ে পালানোর সময় বাম হাতের কনুইয়ে দুটি গুলিবিদ্ধ হয়ে দৈবাৎ সে প্রাণে বেঁচে যায়। বর্তমানে তিনি রংপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
আই.এস. নামের সংগঠন থেকে এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে বলে পত্রিকান্তরে প্রকাশ। বাংলাদেশের সরকার ও পুলিশ কর্তৃপক্ষ লেখক, প্রকাশক, আস্তিক, নাস্তিক, ছাত্র, শিক্ষক, শিল্পী, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, আইনজীবী, বিদেশী, শিয়া, হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃস্টান, বিধর্মী বা যে কোন প্রগতিশীল মানুষকে পরিকল্পিত উপর্যুপরি খুনের সাথে আই.এস. এর সংশ্লিষ্টতা বা অস্তিত্ব স্বীকার করতে রাজী না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী বলে দাবীদার সরকার পক্ষের লোকেরা সমস্বরে এসমস্ত সহিংস ঘটনা সমূহকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে রটনা চালিয়ে তাঁরা তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছেন। তবে, কাকে ভয় বা খুশি করার জন্য এই অস্বীকার, তা আমার বোধগম্য নয়। আমেরিকার মদদপুষ্ট সৌদি রাজতন্ত্রের সামরিক জোটের সাথে বাংলাদেশ সরকারের গাঁটছড়া বাধার ফলশ্রুতিতে আই.এস. এর সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করার পেছনের কারণ কিনা - কে জানে?
মনে পড়ে স্বাধীনতা যুদ্ধের কথা। ১৯৭১ সালে রাজাকার, আলবদর, পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর ভয়ে সারাদেশের হিন্দুরা বাড়িঘর ছেড়ে প্রাণের ভয়ে জংগলে জংগলে আত্মরক্ষার জন্য নয় মাস পালিয়ে বেড়িয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের ফলে আমিও আমার পরিবার পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলাম। সম্ভবত মে মাসের শেষ দিকের কথা। পাক সেনাবাহিনীর আক্রমণের মুখে টিকতে না পেরে পলায়নরত অবস্থায় একটা সাঁকো পার হচ্ছিলাম। আমার বাবাও সেই সাঁকো পার হচ্ছিলেন। পথিমধ্যে এক মিনিটের জন্য তাঁর সাথে সাক্ষাৎ ও কথা হয়েছিল। তাঁকে প্রনাম করতেই তিনি আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেছিলেন। বলেছিলেন, "আমার মন বলেছে, তুমি বেঁচে আছ।" নয়মাসের মধ্যে শুধুমাত্র ঐ এক মিনিটের সাক্ষাৎ ঘটেছিল। যা আজও আমার স্মৃতিতে জাগরূক আছে। আমার বৃদ্ধ পিতা, আমার বোনদের নিয়ে কিভাবে, কোথায় আত্মরক্ষা করে ছিলেন, সে প্রশ্নও জিজ্ঞাসা করিনি। তাঁদের দুঃসহ জীবনের অব্যক্ত করুণ কাহিনী সেদিন শুনতে চাইনি। ভেবেছিলাম, শত্রুমুক্ত করে পরে একদিন হয় জেনে নেব। কিন্তু সে ভাগ্য আমার আর কোনোদিন হয়নি। সে কথা মনে করে আজও আমার বুকের মধ্যে দুমড়ে ওঠে। গভীর রাতে ঘুমের মধ্যেও চোখের জল ঝড়ে। আমি কত বড় উম্মাদ ছিলাম যে, জন্মদাতা পিতার একমাত্র পুত্র সন্তান হয়েও রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়স্বজনদের কাছে থাকিনি। তাঁদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা না করে, খোঁজ না নিয়ে জীবন বাজি রেখে দেশোদ্ধারে লিপ্ত ছিলাম। হায় আমার কপাল, তা কি এমন বাংলাদেশের জন্য!!
বর্তমান বাংলাদেশের আদিবাসী ভাইবোনেরাও সেনাশাসন অধ্যুষিত পার্বত্য চট্টগ্রামে উড়ে এসে স্থায়ীভাবে জুড়ে বসা বাঙ্গালী দখলকারীদের সংঘবদ্ধ আক্রমণের ভয়ে জংগলে মাঝে মাঝে আত্মগোপন করে পালিয়ে বাঁচার চেষ্টা করছে। গতকাল একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে খাগড়াছড়িগামী বাস থেকে আদিবাসী চেহারার লোকদের বাস থেকে নামিয়ে তাঁদের উপর অকথ্য নির্যাতন চালানো হয়। [নেপথ্যে স্মরণে আসে, একাত্তরে বাস থামিয়ে কাপড় তুলে খৎনা করা আছে কিনা পরীক্ষা হত; আর এখন চেহারা। তখন খোঁজা হত হিন্দু; আর এখন হচ্ছে আদিবাসী] দুর্বৃত্তদের আক্রমণে কেউ কেউ লাশে পরিণত হয়েছে বলেও শোনা গিয়েছে। একজন আদিবাসীর মাথার তালুর উপর কুঠারঘাতে কাঠ কাটার মত ক্ষত করার বীভৎস লোমহর্ষক একটা ছবিও পত্রিকাতে দেখেছি। প্রান্তিক ধর্মীয় ও জাতীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, মন্দির, প্যাগোডা ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, জায়গাজমি দখলের খবর কোন নতুন ঘটনা নয়। ২০১০ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের এগারোটি আদিবাসী পল্লীতে অগ্নিসংযোগে ভস্মীভূত করা হয়েছিল। বেসরকারি হিসেব ও তথ্য অনুযায়ী, সেদিনের ঘটনায় সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় সেটেলার বাঙ্গালীরা জড়িত ছিল। তাঁরা ৭৫০টি পরিবারের আবাসগৃহ পুড়ে ছাই করার মাধ্যমে আদিবাসীদেরকে তাঁদের ভূমি থেকে উচ্ছেদের এই মহাযজ্ঞে লিপ্ত হয়েছিল। পাক সেনাবাহিনীর ন্যায় বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর অনেক সদস্যদের কামনা ও লালসার শিকার হয়ে অসহায় আদিবাসী কত যুবতী নারী, ললনার সম্ভ্রম ও সতীত্ব এযাবত বিনষ্ট হয়েছে, তার হিসেব কে রাখে? পাহাড়ে ও সমতলে বসবাসকারী ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জীবন অনেকটাই সিনেমার ছন্দময় জনপ্রিয় গানের কলির মত, "তুমি কি দেখেছ কভু জীবনের পরাজয়, দুঃখের দহনে করুণ রোদনে তিলে তিলে তার ক্ষয়। প্রতিদিন কত খবর আসে যে কাগজের পাতা ভরে, জীবন পাতার অনেক খবর রয়ে যায় অগোচরে। স্বার্থের টানে প্রিয়জন কেন দূরে সরে চলে যায়, ধরণীর বুকে পাশাপাশি তবু কেউ বুঝি কারো নয়...।"
অথচ, এমন তো হওয়ার কথা ছিলনা। ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের মত মাথা উঁচু করে মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার আকাংখা নিয়ে আমরা সবাই সেদিন মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম। সেদিনের গানের কলি ছিল, "আমার এ দেশ সব মানুষের, সব মানুষের - কুলি আর কামারের, চাষা আর মজুরের...হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খৃস্টান এক দেশ সকলের...।" অথবা, "বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা, আজ জেগেছে এই জনতা...।" কোথায় হারিয়ে গেল আমাদের সেই অসাম্প্রদায়িক ধর্মনিরপেক্ষ সমাজের প্রতিশ্রুতি? দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালনের পরিবর্তে আজ ব্যভিচার, সামাজিক বৈষম্য এবং সবল কর্তৃক দুর্বলের উপর অত্যাচার, বিচারহীনতার সংস্কৃতির ফলে জীবন ধারণের অধিকার বঞ্চিত হয়ে কত মানুষের স্বপ্ন সাধ আহ্লাদ যে ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছে, তার খবর কে রাখে? আজও কি, বিচারের বানি নিরবে নিভৃতে কাঁদবে?
বর্তমান সময়ে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, বাংলাদেশের ক্ষমতাবলয়ের সাথে যুক্ত আমলা ও রাজনীতিজীবীরা তাঁদের অর্থ-বিত্ত-ক্ষমতা অব্যাহত রাখার উৎস ঠিক রাখার জন্য সদা তৎপর। তাঁরা তাঁদের অর্থ-বিত্ত-ক্ষমতার উৎস নিরাপদ ও অব্যাহত রাখার জন্য সরকার প্রধানকে খুশী ও বশীকরণের জন্য ব্যস্ত। সর্বময় ক্ষমতার কেন্দ্র সরকার প্রধানের আনুকূল্য বা সুদৃষ্টি লাভের আশায় প্রধানমন্ত্রী বা তাঁর বংশধর বা আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ লতাপাতা ডালপালাকেও খুশী করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। তাঁরা সম্ভবত মহামহোপাধ্যায় পণ্ডিতপ্রবর শ্রী হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর "তৈল" গল্পের মর্মার্থ অনুধাবন ও যথার্থ ব্যবহার করতে শিখেছেন। এখন একশ্রেণীর এমন স্তাবক চাটুকার আছে, যারা কেবলমাত্র সরকারের প্রশংসা ছাড়া ভিন্ন যে কোন মতের প্রতি অত্যন্ত অসহিষ্ণু। আমি বা আপনি সরকার সমর্থক হলেও তাঁদের আক্রোশ থেকে রেহাই নেই। ওঁরা সরকার প্রধান ও তাঁর বংশবদদের কণ্ঠের প্রতিধ্বনি করে শেয়ালের ডাকের ন্যায় "হুয়াত্তা হুয়া" করে ওঠে। ডেইলি স্টার পত্রিকার সম্পাদক পরীক্ষানিরীক্ষা ছাড়া সেনা বাহিনীর দেয়া বিবৃতি ছাপানোর ভুল স্বীকার করে মনে হয় ভুল করেছেন। এখন পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে চামচারা ৭৭টি স্থানে মাত্র এক লক্ষ ঊনত্রিশ হাজার কোটি টাকা মূল্যের মানহানির ক্ষতিপূরণের মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যেহেতু চাচ্ছেন, মাহাফুজ আনামের হয়তো বিচার হবে। কিন্তু, ধর্মযাজক যজ্ঞেশ্বর সহ অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের খুনিদের বিচার কি বাংলার মাটিতে হবে? মাহাফুজ আনামের ভুল স্বীকারের প্রতিদানে আপনি তাঁর পদত্যাগ চাচ্ছেন। ভাল কথা, কিন্তু, আপনি সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তাদানে ব্যর্থ হয়েছেন, তারজন্য আপনি কি প্রধানমন্ত্রী থেকে পদত্যাগ করবেন? সংখ্যালঘুদের জীবনের কোন মূল্য বা মান-মর্যাদা থাকতে নেই বুঝি! ক্ষমতাসীনরা ও ক্ষমতা বহির্ভূত অধিকাংশ প্রায় সকলেই সংখ্যালঘুদের ব্যাপারে নির্বাক। তাঁরা একপক্ষ অন্যপক্ষকে দায়ী করে বিবৃতি দিয়েই ক্ষান্ত থাকেন। এই ব্লেইম গেইম আর কতদিন খেলবেন? অথচ সত্যি বলতে কি, ১/১১ এর তত্বাবধায়কের শাসনকাল সময় বাংলাদেশে কোন সাম্প্রদায়িক হামলা হয়নি। অল্পদিনের জন্য হলেও, সেই সময়টুকুই হয়তো ঘুষখোরদের আত্মায় কাঁপন ধরিয়েছিল। ছিনতাইকারী, চাঁদাবাজ মুক্ত অবস্থায় বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ নিরাপদে ও স্বস্তিতে ছিল। পাকিস্তানী ধারা থেকে বাংলাদেশকে টেনে তুলেছে মিঃ ফকরুদ্দিন ও জেনারেল মঈনউদ্দিনের সরকার।
প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবুল বারকাত এর একটি গবেষণাগ্রন্থে তিনি তথ্য, উপাত্তের ভিত্তিতে হিসাব করে বলেছেন যে, ১৯৭১ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে ৬৩ লক্ষ হিন্দু বাংলাদেশ থেকে উধাও হয়ে গেছেন। এই বিতাড়নে হিন্দু সম্পত্তি দখলের সুবিধাভোগীদের মধ্যে ৩১% আওয়ামী লীগের সদস্য-সমর্থক ও ৪৫% বি.এন.পি.'র সমর্থক। ১৯৯২ সালে ভারতে বাবরি মসজিদ ভাঙার পর যে ভয়ংকর তাণ্ডব চলে তাতে ২৮,০০০ বাড়ি-ঘর, ৩,৬০০ মন্দির, ২,৫০০ দোকান-বাজার ধ্বংস হয়। খুন হন ১৩ জন। ২০০১-এ বেগম জিয়ার নির্বাচনের পর থেকে শুরু হয় ধারাবাহিক সংখ্যালঘু হিন্দু নির্যাতন। এর ফলে ১৯৫১ সালে পূর্ব-পাকিস্তানে যে হিন্দু জনসংখ্যা ছিল ২২ শতাংশ, ১৯৭১-এ ১৫%, ১৯৭৪-এ ১৩.৫% ও ২০০১ সালে ৯.২ শতাংশে নেমে এসেছে। বর্তমানে তা সম্ভবতঃ ৭-৮ শতাংশ। ২০০১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী বরিশাল, ভোলা, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, বরগুনা এই ছয় জেলায় হিন্দু জনসংখ্যা ছিল ৮ লাখ ১৬ হাজার ৫১ জন। ২০১১ সালের আদমশুমারিতে দেখা যায় হিন্দু জনসংখ্যা কমে ৭ লাখ ৬২ হাজার ৪৭৯ জনে এসে দাঁড়িয়েছে। "১৯৬৪ থেকে ১৯৭১ এই নিখোঁজ হিন্দু জনসংখ্যা ছিল প্রতিদিন গড়ে ৭০৫ জন। ১৯৭১ থেকে ১৯৮১ তে প্রতিদিন গড়ে ৫২১ জন, ১৯৮১-১৯৯১ এ প্রতিদিন গড়ে ৪৩৮ জন এবং এই সংখ্যাটি অনেক বেড়ে ১৯৯১ থেকে ২০০১ এ দাঁড়ায় প্রতিদিন গড়ে ৭৬৭ জন।" অপর একজন গবেষক বর্ণনা করেছেন, "বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার একটি প্রতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া"। বাংলাদেশ বারবার সামরিক শাসনের মধ্য দিয়ে গেলেও ধারাবাহিক সংগ্রামের ফলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাও বারবার ফিরে এসেছে। সংখ্যালঘু বিরোধী আইন না থাকলেও পাকিস্তান আমলের শত্রু সম্পত্তি আইনের মাধ্যমে হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি ও অর্থনীতিকে ভয়ংকর ক্ষতিগ্রস্থ করা হয়েছে। বাংলাদেশ হবার পর এই আইন নাম বদলে হয় "অর্পিত সম্পত্তি আইন" (Vested Property Act) এবং এই আইনে একইভাবে হিন্দুদের সম্পত্তি জবরদখল চলে। এই আইনের ফলে স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত হিন্দুদের প্রায় ২৬ লক্ষ একর জমি ও দেবোত্তর সম্পত্তি অর্পিত সম্পত্তি আইনের ফলে বেহাত বা দখলচ্যুত হয়। দশ লক্ষেরও বেশী মামলা হয়েছে, কিন্তু একটি মামলারও নিস্পত্তি হওয়ার খবর আমাদের জানা নেই। অথচ, এব্যাপারে সরকার প্রধান ও তাঁর চামচাদের মুখে কোন রা নেই। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজন কাকে খুশী করার জন্য বা আর কতকাল মুখ বুজে নীরবে মার খেতে থাকবে। সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনে অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ হয়েছে, বর্তমান সরকারের আমলে।
নাটকের ডায়ালগের ন্যায়, "গোলাম হোসেন, উপায় নেই।" ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা আজ এক নির্মম কঠিন সত্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। "মানুষ মানুষের জন্য, একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না ও বন্ধু......দুর্বল মানুষ যদি, জীবনের অথৈ নদী পার হয় তোমাকে ধরে, বল কি ক্ষতি..." গানের গীতিকার ও সুরকার ডঃ ভুপেন হাজারিকা শেষ জীবনে বিজিপির নমিনেশন নিয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন। আমি অনেক ভেবেছি, তিনি কি সাম্প্রদায়িক ছিলেন? সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলে আমাকে যারা সাম্প্রদায়িক ভাববে, যাঁদের অনুভূতিতে লাগবে তাঁদেরকে আমি এই মুহূর্তে বর্জন করতে চাই। যে সমস্ত হিন্দুরা গরুর মাংস খেয়ে, আর যে সমস্ত মুসলিমরা কাছিমের মাংস খেয়ে ধর্মনিরপেক্ষতার পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন অথচ সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের ব্যাপারে নির্বাক থাকেন বা এড়িয়ে থাকতে চান আমি তাঁদের দলের লোক না। জীবন সায়াহ্নে দাঁড়িয়ে তাঁদের সাথে আর সখ্যতা রাখার কোন প্রয়োজন আছে বলেও আমি মনে করিনা। সেই সমস্ত তরুণ যারা ক্ষমতার হালুয়া-রুটির ভাগাভাগি ছাড়াই অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখে, সেই তরুণ প্রজন্মের গণজাগরণ মঞ্চের সাথে সংশ্লিষ্টদের উপর ভরসা করতে চাই। অসমাপ্ত মুক্তিযুদ্ধ সমাপ্ত করার বাসনা পূর্ণ করতে চাই। আর কতকাল খল নায়কদের মিথ্যা আশ্বাসে বিশ্বাসী হয়ে সংখ্যালঘুরা বোকার মত জিন্দাবাদ মুর্দাবাদ করে যুগ যুগ ধরে মার খেয়ে যাবে। এখন সময় এসেছে, শেষ মীমাংসার, এসপার-ওসপার।
(লেখক :মন্ট্রিয়ল প্রবাসী )
মাগুরায় হিন্দু বিবাহ আইন সংশোধনের প্রতিবাদে মানববন্ধন
প্রকাশ: ০৩:১১ pm ২৬-০২-২০১৬ হালনাগাদ: ০৩:২৩ pm ২৬-০২-২০১৬
মাগুরা প্রতিনিধি : হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য তালাক আইন সংযোজনের হাইকোর্টের রিট রোহিত ও সিলেটে ধর্মীয় সভায় হামলাকারিদের শাস্তির দাবীসহ সংখ্যালঘুদের অধিকার নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দাবীতে মাগুরায় মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দুজোট মাগুরা জেলা শাখা।
আজ শুক্রবার দুপুরে শহরের চৌরঙ্গীর মোড়ে মানববন্ধন শেষে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য সংগঠনের জেলা সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা পরেশ কান্তি সাহা, সাধারণ সম্পাদক উত্তম বিশ্বাস, হাসি রানি বিশ্বাস,বলরাম বসাকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন- সম্প্রতি কিছু এনজিও হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী হিন্দু আইনের পরিপন্থীভাবে তালাক আইন সংযোজনের পরিকল্পনা নিয়েছে। এ জন্য একটি এনজিওর প্রধান এ্যাডভোকেট এলিনা খানসহ অশুভ চক্র হাইকোর্টে রিটসহ নানা কর্মকান্ড চালাচ্ছেন। অথচ কোন হিন্দু বা হিন্দু সংগঠন এমন কোন দাবী তোলেনি। তারা এটিকে হিন্দু সম্প্রদায়ের ইতিহাস ঐতিহ্যকে নিশ্চিহ্ন করার পায়তারা বলে দাবী করেন। তারা যে কোন মূল্যে হিন্দু আইনে তালাক আইন প্রবর্তন করতে দেয়া হবে না মর্মে সরকারকে হুশিয়ারি উচ্চারণ করে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
এইবেলাডটকম/অরুন/এএস
আজ শুক্রবার দুপুরে শহরের চৌরঙ্গীর মোড়ে মানববন্ধন শেষে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য সংগঠনের জেলা সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা পরেশ কান্তি সাহা, সাধারণ সম্পাদক উত্তম বিশ্বাস, হাসি রানি বিশ্বাস,বলরাম বসাকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন- সম্প্রতি কিছু এনজিও হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী হিন্দু আইনের পরিপন্থীভাবে তালাক আইন সংযোজনের পরিকল্পনা নিয়েছে। এ জন্য একটি এনজিওর প্রধান এ্যাডভোকেট এলিনা খানসহ অশুভ চক্র হাইকোর্টে রিটসহ নানা কর্মকান্ড চালাচ্ছেন। অথচ কোন হিন্দু বা হিন্দু সংগঠন এমন কোন দাবী তোলেনি। তারা এটিকে হিন্দু সম্প্রদায়ের ইতিহাস ঐতিহ্যকে নিশ্চিহ্ন করার পায়তারা বলে দাবী করেন। তারা যে কোন মূল্যে হিন্দু আইনে তালাক আইন প্রবর্তন করতে দেয়া হবে না মর্মে সরকারকে হুশিয়ারি উচ্চারণ করে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
এইবেলাডটকম/অরুন/এএস
পঞ্চগড়ে এবার মন্দির ভাঙল দুর্বৃত্তরা
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে মঠের অধ্যক্ষকে হত্যার তিন দিন পরেই আটোয়ারী উপজেলায় মন্দির ভাঙার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার গভীর রাতে মলানী এলাকায় শ্রী শ্রী হরি মন্দিরের একাংশ ভেঙে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
মন্দির কমিটি সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মলানীর এলাকায় শ্রী শ্রী হরিমন্দিরের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে দক্ষিণ পশ্চিম কোণের একটি গতকাল মঙ্গলবার গভীর রাতে ভেঙে ফেলে দুর্বৃত্তরা।
মন্দিরের পাশেই স্থানীয় পূজা কমিটির সভাপতি রতন বিলাশ বর্মনের বাড়ি। তিনি বলেন, গভীর রাতে শব্দ শুনে বাড়ি থেকে বের হয়ে দেখি, মন্দিরের একটি স্তম্ভ মাটিতে পড়ে আছে। তবে কাউকে পালাতে দেখিনি। ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত মন্দিরটিতে সনাতন ধর্মের অনুসারীরা সব পূজা-অর্চনা করে আসছেন।
আটোয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মঠের অধ্যক্ষকে হত্যার পরপরই পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মো. গিয়াসউদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, ধর্মীয় সব প্রতিষ্ঠানে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
No comments:
Post a Comment