Sunday, April 19, 2015

OFFICIAL DOCS. IN THE REPLY OF NBNS's MEMORANDUM REGARDING BANGLADESH RELIGIOUS MINORITY COMMUNITIES.

LETTERS FROM
RESPECTED & HON'BLE  ,

PRIME MINISTER OF INDIA;                                   

 MINISTRY OF HOME AFFAIRS INDIA (HRD);

GOVERNOR OF WEST BENGAL, INDIA;

NATIONAL HUMAN RIGHT COMMISSION INDIA;

COUNCIL OF THE EUROPEAN UNION [CONSILIUM],BELGIUM;



REGARDING RELIGIOUS MINORITY SITUATION ,PERSECUTION ,MASS DESTRUCTION 

PROPERTIES & LIFEs ,FORCEFULLY  RELIGIOUS CONVERSION TO ISLAM AND FORCE 

TO LEAVE FROM THEIR MOTHERLAND BANGLADESH TO INDIA.
















Monday, April 13, 2015

Religious Minority Community in Bangladesh;MARCH 2015


(1)মানিকগঞ্জে প্রতিমা ভাঙচুর, হামলায় ছয়জন আহত   31.03.15

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় একটি পূজামণ্ডপে হামলা চালিয়ে প্রতিমা ভাঙচুর করেছে বখাটে যুবকেরা। এ সময় হামলায়
ছয়জন আহত হন। গত রোববার রাতে উপজেলার রাজনগর গ্রামের সম্ভু চন্দ্র মালোর বাড়ির সর্বজনীন পূজামণ্ডপে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
পূজামণ্ডপ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মহাদেব চন্দ্র মালো জানান, বুধবার থেকে ওই পূজামণ্ডপে বাসন্তী পূজার আয়োজন করা হয়। রোববার রাতে পূজার দশমিতে আরতি দেওয়ার অনুষ্ঠান চলছিল। রাত সাড়ে ১১টার দিকে আনন্দনগর ও বেটুয়াইল গ্রামের ২০-২৫ জন বখাটে যুবক সেখানে এসে আরতি বন্ধ করে সাউন্ডবক্সে গান ছেড়ে নাচ শুরু করার কথা বলে। আরতি বন্ধ না করায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে মণ্ডপে হামলা চালিয়ে মা কালী ও মহাদেবসহ চারটি প্রতিমা ভাঙচুর করে। এতে বাধা দিতে গিয়ে হামলায় পূজা উদ্‌যাপনকারীদের ছয়জন আহত হন।
সদর থানার ওসি আমিনুর রহমান জানান, পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। জড়িত বখাটেদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

(2)

Religious Minority Community in Bangladesh; APRIL2015

1.

সিরাজগঞ্জে মন্দিরে ভাংচুর, লুটপাট


সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি ও উল্লাপাড়া সংবাদদাতা
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় দেশি অস্ত্র নিয়ে মন্দিরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করেছে দুর্বৃত্তরা।
শনিবার মধ্যরাতে উপজেলার ঝিকড়া মন্দিরে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিকভাবে তারা নিশ্চিত হয়েছেন এ ঘটনায় বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা জড়িত।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শনিবার রাত ১টার দিকে ঝিকড়া মন্দিরে হামলা চালায় সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তরা। তারা মন্দিরের ৫টি কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে কালি, হরি, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, শিতলীসহ অন্তত ১০ দেবতার প্রতিমা ভাংচুর করে। প্রতিমার শরীরে থাকা স্বর্ণালংকারও খুলে নেয় দুর্বৃত্তরা। দানবাক্স থেকে নগদ অর্থ ও মন্দিরে থাকা মূল্যবান তৈজষপত্রও লুটপাট করা হয়। পরে খবর পেয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সেখানে হাজির হলে দুর্বৃত্তরা কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। পালানোর সময় দুর্বৃত্তরা মন্দির সংলগ্ন গোপাল হালদারের দোকান ও পাটবন্দরের শ্যামল দাসের গাদিঘর ভাংচুর করে আগুন দেয়।এ ঘটনায় এলাকার হিন্দ সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে বিরাজ করছে আতংক ও ক্ষোভ।  ঝিকড়া মন্দির কমিটির সভাপতি রবি সাহা বলেন, '১৩ এপ্রিল মন্দির প্রঙ্গণে চরক পূজা ও চরক মেলা আয়োজনের কথা ছিল। কিন্তু এ ঘটনার প্রতিবাদে পূজা ও মেলা বর্জন করছি।'
তিনি আরো বলেন, 'হামলার শব্দ শুনেছি কিন্তু প্রাণভয়ে বের হইনি। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।'
উল্লাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজুল হুদা বলেন, 'বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীরা এ কাজ করেছে বলে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা গেছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ ৩টি রাম দা, ২টি শাবল ও ৩টি তাজা ককটেল উদ্ধার করেছে।'
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকরকে কেন্দ্র করে মন্দিরে হামলার এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জেলা পুলিশ সুপার এস এম এমরান হোসেন বলেন, 'ফাঁসির আগে থেকেই পুরো জেলায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক ছিলেন। যারা এ নিন্দনীয় ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের শিগগিরই গ্রেফতার করা হবে।'
১৪ বিজিবির (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) উপ-পরিচালক মেজর ইকবাল আকতার জানান, '৪ প্লাটুন জিবি সারারাত মহাসড়কে পাহারায় ছিল। ঘটনাটি অনাকাঙ্খিত। দুর্বৃত্তদের গ্রেফতারে যৌথ অভিযান চলছে।'
সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, 'বিষয়টি দুঃখজনক। তদন্তের জন্য একটি কমিটি করা হবে। মন্দির সংস্কার ও মূর্তি পূনর্নির্মানের সমস্ত খরচ প্রশাসন থেকে অনুদান হিসেবে দেয়া হবে।'
প্রসঙ্গত, একই রাতে উল্লাপাড়া উপজেলার বারোইয়া গ্রামের লক্ষণ দাসের বাড়িতে লুটপাট ও বলরামপুর জিঁউ মন্দিরের সামনে ককটেল বিস্ফোরণে ঘটনা ঘটেছে।

2.

মোল্লাহাটে জাল দলিল করে সংখ্যালঘুদের জমি জবরদখল ॥ প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে জনতা

তারিখ: ১৪/০৪/২০১৫
 বাগেরহাট ॥ মোল্লাহাটে একের পর এক জাল দলিল তৈরি করে সংখ্যালঘুসহ নিরীহ ব্যক্তিদের বসতভিটা, বাড়িসহ জায়গা-জমি আত্মসাত করতে দখলবাজ একাধিক ব্যক্তি ক্রমশ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। জবরদখল করতে ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙ্গিয়ে চলা এ পা-ার দল এমন কোন অপকর্ম নেই, যা করছে না। অগ্নিসংযোগ, মামলা, হামলায় সাধারণ মানুষ অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। কেউ কেউ জীবন বাঁচাতে ঘর-বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সেখানে সংখ্যালঘুসহ সাধারণ মানুষ ফুঁসে উঠছে। উপজেলার জয়ডিহি বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন ২ খ- জমির জাল দলিল সৃষ্টির ঘটনায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়/সাধারণ মানুষ/শিক্ষক ও সুধীবৃন্দের সমন্বয় অন্তত ৩-৪শ’ লোক উপজেলা চেয়ারম্যান, থানা ওসি ও উপজেলা আ’লীগ সভাপতির নিকট সোমবার উপস্থিত হয়ে চিহ্নিত জালিয়াত চক্র/দালালদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন। ওই ঘটনায় উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ শাহিনুল আলম ছানা, থানার ওসি আবু সাঈদ মোঃ খায়রুল আনাম ও উপজেলা আ’লীগ সভাপতি কালিপদ বিশ্বাস জালিয়াত চক্রের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশ্বস্ত করেন। এ বিষয়ে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম ও পুলিশ সুপার নিজামুল হক মোল্যা জানান, জালিয়াত চক্রকে শনাক্ত করে জরুরীভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে উল্লিখিত অভিযুক্তরা এ অভিযোগ অসত্য বলে দাবি করেছেন।

3.
ডিমলায় আতঙ্কে হিন্দু সম্প্রদায়, দেশ ছাড়ার হুমকি।



পূজা পর্বন চলবে না? হরি মন্দির/দুর্গা মন্দির থাকবে না। হিন্দু বেটা পালাও ভারতে-
দেশের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা নীলফামারির ডিমলার একটি দুর্গামন্দিরে অগ্নিসংযোগের পর এভাবেই হুমকিপত্র রেখে যায় ধর্মিয় উগ্রবাদীরা।

মঙ্গলবার ভোরবেলা  কাকিনা চাপানি সার্বজনিন দুর্গা মন্দিরে এ ঘটনাটি ঘটে। সন্ত্রাসীদের দেয়া আগুনে মন্দিরের অধিকাংশ স্থানই পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে গেছে। ঘটনায় জামায়াত-আওয়ামী লীগ উভয়পক্ষের যোগসাজস থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।।

এলাকায় বসবাসরত হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনেরা বলেন, মঙ্গলবার ভোর বেলা মন্দিরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আগুন দেখতে পান তারা। আগুন নেভাতে দ্রুত ছুটে এলেও অল্পসময়ের মধ্যই মন্দিরের বেশীরভাগ অংশই পুড়ে ছাই হয়ে যেতে দেখেন তারা। এসময় মন্দিরের দেয়ালে সাঁটানো দুটো পোস্টার কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। হাতে লিখা পোস্টারটিতে হিন্দু বিদ্বেষী বিভিন্ন স্লোগান ও এলাকার হিন্দুদের  দেশত্যাগের হুমকি দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়,


জামাত শিবির বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’।
‘পূজা পর্বন চলবে না?
হরি মন্দির/দুর্গা মন্দির থাকবে না।
হিন্দু বেটা পালাও -ভারতে।..
গড়ব দেশ- জামাত শিবির।
বাংলাদেশ- জিন্দাবাদ।


এদিকে উপজেলায় এ হামলার ঘটনায় প্রকৃত দোষীদের শনাক্তকরণের পুর্বেই আক্রান্ত হিন্দুদের নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক নোংরা খেলা। যথারীতি এতে আক্রান্ত হিন্দু সম্প্রদায়কে খেলার পুতুল হিসেবে ব্যাবহার করতে চাইছে রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলগুলো। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও অপরাধী চিহ্নিত করার চেয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর একে অন্যর ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দেয়ার প্রবণতা এলাকাবাসীর মনে জন্ম দিয়েছে নানা প্রশ্ন, উদ্বেগ এবং উৎকণ্ঠা। 

আক্রান্ত এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ভুক্ত লোকেরা সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, হামলায় আওয়ামী লীগ-জামায়াত উভয় পক্ষই জড়িত থাকতে পারে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক এক হিন্দু
ব্যাক্তি জানান, "নির্যাতন হলে, মন্দির ভাঙলে সরকারী দল- বিরোধী দল উভয় দলই লাভবান হয়। হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলার ঘটনায় উভয় দলই একে অন্যকে দায়ী করে রাজনৈতিক হিসেব নিকেশ মেলানোর পথ সুপ্রশস্ত করে বলে অভিযোগ করেন তিনি। 

হামলার ঘটনায় মন্দিরের পূজা কমিটির সভাপতি নলিনী মোহন রায় বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ১০-১২জনকে আসামী করে ডিমলা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। স্থানীয় থানা পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শনের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহনের ব্যাপারে আশ্বাস দেন।

3.

হিন্দুরা যাবে কোথায় ?

প্রিয়বালা বিশ্বাস



জোর করে হিন্দুদের দেশছাড়া করতে মরিয়া এক শ্রেনীর মানুষ। কারন হিন্দুদের তাড়ানো অনেক সহজ। হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর বিনা উস্কানিতে হামলা, তাদের জায়গা দখল, মন্দির ভাংচুর, দোকানপাটে লুটপাট বা অগ্নিসংযোগ নতুন কোন ঘটনা নয়।আবার এর কোন নির্দিষ্ট সময়ও নেই। সম্পত্তিতে কোনরকম চোখ লাগলেই হলো। তারপর হিন্দু সম্পত্তি যে যার মতো দখল করো,লুটপাট, নির্যাতন যতোই কর কেউ কিছু বলবে না।থানায় বড়জোড় একটাবা দুটো মামলা হতে পারে এই যা। তাতে পুলিশ যে কোন ভুমিকা রাখবেনা এটা সবার জানা।

অনেকে আছেন যারা হিন্দু সম্পত্তি দখলের জন্য ওই পরিবারকে বিভিন্নভাবে উত্যক্ত করেন সারা বছর। তাতেও দেশ ত্যাগ না করলে বাড়ি জায়গা দখল বা লুটপাটের মৌসুম খোঁজেন। এই মৌসুম হলো নির্বাচন।নির্বচন পরবর্তীবা পূর্ববর্তী সময়ে নির্যাতনের যে ধারাবাহিকতা চলে আসছে তাতে হিন্দু সম্প্রদায় মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে সব গনসংগ্রামের পুরোভাগে থাকার পরও তাকে পূর্ন নাগরিকের মর্যদা দেয়া হয় শুধু ভোট প্রদানের সময়।তার আগে বাি পরে চলে অত্যাচার-যা অসহনীয়।
একরনে হিন্দুরা দেশ তদ্যাগ করছে প্রতিনিয়ত। গিয়ে এখান থেকে ভালো থাকেনা। খাওয়া- থাকা জীবনমান থেকে জীবন যাপন কোন জায়গায় না। তারপরও চলে যায় নিশ্চিন্তে থাকার জন্য- প্রতিটি রাতে আতংকহীন ঘুম ঘুমানোর জন্য। যে কারনে আদম শুমারিতে উঠে এসেছে- বাংলাদেশে ১৯৫১ সালে হিন্দু ধর্মবলম্বীদের সংখ্যা ছিল ২৩.১ ভাগ। কিন্তু সংখ্যা কমতে কমতে এখন ৯ ভাগে নেমে এসেছে। আদম শুমারীর তথ্য থেকে দেখা যায় এই দেশে  ১৯৬১ সালে ১৯.৬ ভাগ, ১৯৭৪ সালে ১৪.৬ ভাগ, ১৯৮১ সালে  ১৩.৩ ভাগ, ১৯৯১ সালে ১১.৭ ভাগ এবং  ২০০১ সালে ১০.৪ ভাগ হিন্দু জনগোষ্ঠী ছিল। বর্তমানে আছে মাত্র ৯ ভাগ। দিনের পর দিন আওয়ামীলীগে ভোট দেয়ার কারন দেখিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর নিরবচ্ছিন্নভাবে হামলা চলছেই। এজন্য আওয়ামী লীগ দলটিরও কোন মাথা ব্যাখা নেই। হিন্দু সম্প্রদায়ের নির্যাতন প্রশ্নে তাদের ভাবট এমন যে ‘নে কি করবি তোরা হচ্ছিস সংখ্যালঘু। এমন একটু আধটু সমস্যাতো সহ্য করতে হবেই। সঙ্গে আরেকটা ভালো লাগাও কাজ করে এই ভেবে যে , তোরা (হিন্দুরা) দেশে থাকলে ভোট টা আমার আর চলে গেলে জমিটা আমার।  এর চেয়েও অবাক হওয়ার ঘটনা হলো হিন্দু জায়গা দখলে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মধ্যে কোন ভেদ নেই।
সম্প্রতি বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার চন্দনপু গ্রামে ঘটে যাওয়া এক ঘটনাসব নির্মতাকে হার মানিয়েছে।  সেখানে বিএনপি নেতা আব্দুর রশিদ আকন, যুবলীগের জাকির হোসেন ও  আওয়ামীলীগের আব্দুস ছালাম মিলে তাদের বাহিনীসহ গত ২৩ মার্চ চন্দনপুর গ্রামের ১৪টি হিন্দু পরিবার অধ্যুষিত এলাকায় সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। এবং বিভিন্নভাবে তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে  এলাকা ছাড়া করে। সন্ত্রাসীরা ওই পরিবারের ফেলে যাওয়া বসতভিটা এবং ফসলী জমি দখল করে নেয়। উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলো হলো- কার্তিক রায়, হরেন রায়, যাদব সরকার, মাদব সরকার, ধীরেন সরকার, সুবাস সরকার, রমেশ সরকার, রিপন রায়,নীপা রানী, নরজিত্ সরকার, শ্যামল সরকার, সুমন্ত, বাবুল ও জিতেনের পরিবার।
এসব পরিবার উচ্ছেদ হওয়ার পর বরগুনা জেলা শহরসহ  বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে আশ্রয় নেয়।পরবর্তীতে মিডিয়ায় বিষয়টি আসলে জেলা প্রশাসন তাদের বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়েছে। ধংসযজ্ঞের উপর তাদের আবার বসানো হলেও আতংক তাদের এখনও কাটেনি।রাজধানীতে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ব্যস্ততা চলছে। এরমধ্যে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বনগ্রাম এলাকায় হিন্দু সম্প্র্রদায়ের কয়েকটি বাড়িতে ও মন্দিরে হামলা এবং লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে গত রোববার রাতে। শহরের বনগ্রাম এলাকায় শ্রীশ্রী সুধন্য কৃপাময়ী কালীমন্দির এবং আশপাশের কয়েকটি বাড়িতে এ হামলা করেছে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন।আহত ব্যক্তিদের মধ্যে সুনীল চন্দ্র প্রাল (৩৫), আসাদুল হক (৫০), সফিকুল ইসলাম (২৮), রাসেল মিয়া (৩০), মুজিবুর রহমান (৫০) ও মিস্টারের (৩৫) নাম জানা গেছে।
এলাকাবাসী জানিয়েছে,রোববার রাতে বনগ্রাম এলাকায় সন্ত্রাসী রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে ১০-১২টি মাইক্রোবাসযোগে অর্ধশতাধিক সন্ত্রাসী মন্দিরের কাছে গিয়ে কয়েকটি ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের পুলিশের পোশাকের মতো পোশাক পরা ছিল। প্ররে তারা ভয়-ভীতি দেখি য়ে সুরেন্দ্র চন্দ্র বর্মণের বাডড়র টিভি, ফ্রিজসহ বিভিন্ন আসবাব ভাঙচুর করে। ভাঙচুর শেষে ওই বাড়ি থেকে টাকা ও মালামাল লুটপাট করে।
একই সময় পাশের মন্দির ও লাল মোহন বর্মণ, সুনীল চন্দ্র বর্মণ, সতীন্দ্র বর্মণ, নিরঞ্জন চন্দ্র বর্মণসহ ২০-২৫টি বাড়তে ও পাঁচটি দোকানে হামলা ভাঙচুর, লুটপাট করে সন্ত্রাসীরা। কালীমন্দিরের কালী প্রতিমা, মহাদেব ও রাগিণী যোগিনীসহ চারটি প্রতিমা ভাঙচুর করেছে। সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত হন নারী, শিশুসহ কমপক্ষে সাতজন। ভাঙচুরের খবর পেয়ে গতকাল সোমবার বিকেলে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল ইসলাম, পুলিশ সুপ্রার হারুন অর রশীদ, জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার রেজাউল হাসান যথারীতি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারপরে আর কিছু করেন নি।
এখন পর্যন্ত দোষীরা কেউ গ্রেফতার হয়নি। ঘটনার শেষ এখানেই নয়Ñ একটি হিন্দু পরিবারকে দেশত্যাগ করতে বাধ্য করতে সারা বছর ওই পরিবারকে নানাভাবে নির্যাতন করেও যখন হিন্দু পরিবারটিকে কাবু করা যায়না- কিন্তু ওই পরিবারের জায়গা- জমির কথাতো সে এক মুহূর্তও ভুলে থাকতে পারে না অতঃপর হিন্দু পরিবারটিকে সে পাকড়াও করে নির্বাচনের আগে বা পরে। তাকে আক্রমনের কারনটা ধরা হয় আওয়ামী লীগে ভোট প্রদান।হিন্দুরা যাকেই ভোট দিক তাতে কিছু আসে যায় না। যাকেই ভোট দিক – ধরে নেয়া হবে হিন্দু যখোন ভোট দিয়েছে আওয়ামী লীগে।যতই সে বলুক সে আওয়ামী লীগে ভোট দেয়নি তাতে কিছু যায় আসে না। ‘তুমি শালা মালাউন তুমি আওয়ামী লীগে ভোট দিয়েছ।’
 এ যেন সেই নেকড়ের গল্পের মতো। ছোট একট খাল দিয়ে জলের ¯্রােত আসছে। কাকচক্ষু জল দেখে একটি মেষ শাবক ¯œান করছিলো।এ সময় ওখানে ¯œান করতে আসে একটি ক্ষুধার্ত নেকড়ে। নেকড়েটি মেষ শাবকককে জিজ্ঞেস করে -এই তুই আমার ¯œানের জল ঘোলাচ্ছিস কেন? মেষ শাবক উত্তর দেয়- আমি কোথায় ঘোলাচ্ছি। আমার ¯œানের জলতে ¯্রােতে অন্য দিকে ভেসে যাচ্ছে। সে আপনাকে নাগাল পাবে কিভাবে? এবার নেকড়েটি বললো, তুই না ঘোলালে তোর বাবা ঘুলিয়েছিলো, নয় তোর ঠাকুর দাদা। বলে নেকড়েটি মেষ শাবকটির উপর ঝাপিয়ে পড়লো তার ক্ষুধা নিবৃত্ত করতে।
রাজধানীর উপকণ্ঠে সন্ত্রাসীরা যদি এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর  সাহস পায় এবং তারপর যদি প্রশাসন নিরব থাকে তাহলে আমরা কি বুঝে নেব যে- মৌনতা সম্মতির লক্ষণ।এই ঘটনার  বিকচার না হলে বা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে- হিন্দুদের ডেকে বলে দেয়া ভালো যে- এমনই চলবে। ইচ্ছে হলে থাকো না হয় দেশ ছেড়ে অন্য কোথাও যাও।
লেখক: নির্বাহী পরিচালক,শারি MORE @ :http://www.bengalinews24.com/


4.

হিন্দুদের ওপর হামলার বিচার হয় না কেন?


সাম্প্রতিক হামলায় গৃহহীন একটি হিন্দু পরিবার

বাংলাদেশে ৫ই জানুয়ারী নির্বাচনের পর দেশের বিভিন্ন জায়গায় হিন্দু সম্প্রদায়ের শতাধিক বাড়িঘর এবং মন্দিরে হামলার হয়েছে।
বিভিন্ন জায়গায় হিন্দুদের বাড়িঘর হামলার জন্য সরকারের দিক থেকে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে এসব ঘটনার সাথে সরকার দলীয় সমর্থকরাই জড়িত।

বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর বিভিন্ন সময় আক্রমনের ঘটনা এরকম পাল্টা বক্তব্য দেখা গেলেও হামলাকারীদের শাস্তির নজির খুব একটা নেই। হিন্দুদের বাড়িঘর এবং মন্দিরে হামলা , লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনাগুলো বিভিন্ন সময় দেশি-বিদেশী গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার হয়েছে।
পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলো পরষ্পরকে দায়ী করেছে। কিন্তু বিচার নেই। মানবাধিকার আইনজীবি জেড আই খান পান্না মনে করেন বিভিন্ন সময় হিন্দুদের উপর আক্রমনের ঘটনাগুলো রাজনীতির আবর্তে হারিয়ে গেছে।
মি: পান্না বলেন হিন্দুদের উপর যে হামলা হয় তার প্রতিটির পিছনে রাজনৈতিক অভিসন্ধি কাজ করে। উদাহরনস্বরুপ মি: পান্না বলেন ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর এবং ২০০১ সালের নির্বাচনের পর হিন্দুদের উপর আক্রমনের ঘটনা ঘটে। এছাড়া ২০১৩ সাল এবং সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারী নির্বাচনের পরে বিভিন্ন জায়গায় হিন্দুদের উপর আক্রমনের ঘটনা।

"রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে এসব হামলা হয় বলে এর কোন বিচার নেই"
জেড আই খান পান্না, আইনজীবী
মি: পান্না বলেন , “ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে এসব হামলা হয় বলে এর কোন বিচার নেই। নিন্দা জানানো এক বিষয় আর বিচার করা ভিন্ন বিষয়।
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় হিন্দুদের বাড়িঘর এবং মন্দিরে হামলা , অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাটের ঘটনা ঘটে। মূলত ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারীতে জামায়াতে ইসলামীর নেতা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে মানবতা বিরোধী অপরাধে মৃত্যুদন্ড দেবার পর দেশের বিভিন্ন জায়গায় হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা হয়।
এজন্য ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ দোষারোপ করেছে জামায়াতে ইসলামীকে। সাথে বিএনপিকেও। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী এবং বিএনপি পাল্টা বলেছে সরকার দলের নেতা-কর্মীরা হিন্দুদের বাড়িতে আক্রমন করে বিরাধীদের উপর দোষ চাপাচ্ছে।
বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের একজন নেতা সুব্রত চৌধুরী বলেন সংখ্যলঘুদের উপর আক্রমনের ঘটনা ঘটলে সেটা এখন রাজনৈতিক দলগুলো পরষ্পরের উপর দোষ চাপানোর বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। হামলাকারীদের বিচারের আওতায় না আনার একটি সংস্কৃতি চালু হয়ে গেছে।
সুব্রত চৌধুরী বলেন, “ এখন যেমন বলা হচ্ছে জামাত-শিবির এটা করেছে। এটা একটা শ্লোগান হয়ে গেছে। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে সব জায়গায় জামাত-শিবির করেছে বিষয়টি এ রকম না। অনেক জায়গায় আওয়ামীলীগের লোকজনও জড়িত হয়েছে সেটা আমরা দেখতে পেয়েছি।”
তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি জামায়াত-শিবিরই হামলা করে থাকে বা আর যেই করুক না কেন, সরকার কেন তাদের বিচার করছে না? মি: চৌধুরী বলেন হামলার ঘটনা বন্ধ করেতে প্রশাসনের যেসব কর্মকর্তা ব্যর্থ হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।

খন যেমন বলা হচ্ছে জামাত-শিবির এটা করেছে। এটা একটা শ্লোগান হয়ে গেছে। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে সব জায়গায় জামাত-শিবির করেছে বিষয়টি এ রকম না। অনেক জায়গায় আওয়ামী লীগের লোকজনও জড়িত হয়েছে সেটা আমরা দেখতে পেয়েছি
সুব্রত চৌধুরী, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান ঐক্য পরিষদ
ভিন্ন সময় হিন্দুদের উপর হামলার বিচার না হলেও এবারে ৫ই জানুয়ারী নির্বাচনের পর হামলাগুলোর বিচার হবে কিনা সেদিকে অনেকে নজর রাখছে।
ঢাকায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন হিন্দুদের উপর হামলার ঘটনায় সরকার জিরো টলারেন্স বা কোন ছাড় না দেবার নীতি অনুসরন করবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব কামালউদ্দিন আহমেদ জানান হিন্দুদের উপর হামলাগুলোর বিস্তারিত প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য বিভিন্ন জেলার পুলিশকে এরই মধ্যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
মি: আহমেদ জানান প্রয়োজনে আইন অনুযায়ী দ্রুত বিচারের উদ্যোগ নেয়া হবে। কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিচ্ছেন প্রত্যেকটি হামলার ঘটনার আলাদা আলাদা মামলা হবে।
পাশাপাশি ২০০১ সালের নির্বাচনের পর এবং বিভিন্ন সময় হিন্দুদের উপর আক্রমনের ঘটনাগুলোর বিচারের জন্য আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠন করা যায় কিনা সেটিও সরকার খতিয়ে দেখছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।