জগৎজ্যোতি হত্যা: তিন বছরেও শেষ হয়নি বিচার
http://www.m.sylhettoday24.com/ 03.02.16
যুবলীগ নেতা ও সিলেট গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক জগৎজ্যোতি তালুকদার হত্যার তিন বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ (মঙ্গলবার)।
২০১৩ সালের ২ মার্চ খুন হন জগৎজ্যোতি।
তিন বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো শেষ হয়নি এই মামলার বিচার কাজ। প্রায় আসামীরাই রয়েছে জামিনে। দীর্ঘ অচলাবস্থার কারণে এই মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন তাঁর স্বজন ও সহযোদ্ধারা।
জানা যায়, ২০১৩ সালের ২ মার্চ রাতে নগরীর তপোবন এলাকায় সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ও সিলেট গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক জগৎজ্যোতি তালুকদার খুন হন। আহত হন আরেক যুবলীগ নেতা জুয়েল আহমদ। এ সময় তাদের ব্যবহৃত প্রাইভেট কারটিও আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়।
এ ঘটনায় ওই বছরের ৫ মার্চ সিলেট জামায়াতের শীর্ষ তিন নেতা হাফিজ আব্দুল হাই হারুন, ফখরুল ইসলাম ও সিরাজুল ইসলাম শাহীনকে হুকুমের আসামী ও সাবেক শিবির নেতা গাজি নাছিরকে প্রধান আসামী করে কোতোয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
এরপর ২০১৪ সালের ২৪ এপ্রিল ৩৩ জামায়াত-শিবির নেতাকে অভিযুক্ত করে জগৎজ্যোতি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র প্রদান করা হয়।
‘জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে গণজাগরণ মঞ্চের পতাকা মিছিলে অংশ নেয়ায় রোষানলে পড়েছিলেন ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ও গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক জগৎজ্যোতি তালুকদার। এর জের ধরেই এলোপাথাড়ি কুপিয়ে তাকে খুন করা হয়।’ জগৎজ্যোতি হত্যা মামলার অভিযোগপত্রে হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে এমনটিই উল্লেখ করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহীন উদ্দিন।
অভিযোগপত্রে নগর জামায়াতের আমীর এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, নায়েবে আমীর হাফেজ আব্দুল হাই হারুন, সেক্রেটারি সিরাজুল ইসলাম শাহীন, এ্যাসিসটেন্ট সেক্রেটারি ফখরুল ইসলামসহ ৩৩ জনকে আসামী করা হয়েছে।
এছাড়াও যাদেরকে আসামী করা হয়েছে তারা হলেন, ইউসুফ বিন নূরী চৌধুরী সানী, পারভেজ মিয়া, তানভীর আহমদ, ফয়েজ আহমদ, উবায়দুল হক শাহীন, ফয়জুল হক, রিয়াজ মিয়া, রাজিব, মারুফ রহমান, সাঈদ আব্দুল্লাহ, হুসেন আহমদ, এহসানুল করিম, মো. ফখরুল ইসলাম, হাফেজ আব্দুল হাই হারুন, সিরাজুল ইসলাম শাহীন, আনোয়ারুল ওয়াদুদ টিপু, জুবায়ের, গিয়াস উদ্দিন মোল্লা, খলিল খান, মুফতি আলী হায়দার, আতিকুর রহমান, আব্দুল্লাহ, বাশিক উদ্দিন, দুলাল আহমদ, সাফায়েত রহমান, আব্দুল মালেক, নজরুল ইসলাম, ওমর ফারুক বাপ্পী, সাদিকুর রহমান, ফখরুল আলম সেলিম ও মুজাহিদুল ইসলাম।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ‘যুদ্ধাপরাধী বিচার সংক্রান্ত একটি রায়কে কেন্দ্র করে সারা দেশব্যাপী গণজাগরণ মঞ্চ নামে একটি অরাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে উঠলে, সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সম্মুখে সিলেটের গণজাগরণ মঞ্চ প্রতিষ্ঠিত হয়। ভিকটিম জগৎজ্যোতি তালুকদার এ মঞ্চের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন।
২০১৩ সালের ১ মার্চ গণজাগরণ মঞ্চের উদ্যোগে সিলেটের একটি বিশাল পতাকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। জগৎজ্যোতি এ পতাকা মিছিলে বিরাট জাতীয় পতাকা হাতে মিছিলের অগ্রভাগে ছিলেন। এর ফলে সে জামায়াত ও ছাত্র শিবিরের রোষানলে পড়ে’। ১০ পৃষ্টায় অভিযোগপত্রে হত্যাকাণ্ডের কারণ ও হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে বিস্তর বর্ণনা দেয়া হয়েছে।
জানা গেছে, জগত জ্যোতি হত্যার পর নিহতের রাজনৈতিক সহকর্মীবৃন্দসহ সংস্কৃতি কর্মীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে জাতীয় সংসদে ৭১ বিধিতে দীর্ঘ বক্তব্য দেন আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত। জগৎজ্যোতি হত্যা মামলাসহ সিলেটের ৫ আলোচিত মামলার ব্যাপারে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি জানতে চায়।
তবে তিন বছর পেরিয়ে গেলেও আজও শেষ হয়নি চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার বিচার কাজ।
২০১৩ সালের ২ মার্চ খুন হন জগৎজ্যোতি।
তিন বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো শেষ হয়নি এই মামলার বিচার কাজ। প্রায় আসামীরাই রয়েছে জামিনে। দীর্ঘ অচলাবস্থার কারণে এই মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন তাঁর স্বজন ও সহযোদ্ধারা।
জানা যায়, ২০১৩ সালের ২ মার্চ রাতে নগরীর তপোবন এলাকায় সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ও সিলেট গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক জগৎজ্যোতি তালুকদার খুন হন। আহত হন আরেক যুবলীগ নেতা জুয়েল আহমদ। এ সময় তাদের ব্যবহৃত প্রাইভেট কারটিও আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়।
এ ঘটনায় ওই বছরের ৫ মার্চ সিলেট জামায়াতের শীর্ষ তিন নেতা হাফিজ আব্দুল হাই হারুন, ফখরুল ইসলাম ও সিরাজুল ইসলাম শাহীনকে হুকুমের আসামী ও সাবেক শিবির নেতা গাজি নাছিরকে প্রধান আসামী করে কোতোয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
এরপর ২০১৪ সালের ২৪ এপ্রিল ৩৩ জামায়াত-শিবির নেতাকে অভিযুক্ত করে জগৎজ্যোতি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র প্রদান করা হয়।
‘জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে গণজাগরণ মঞ্চের পতাকা মিছিলে অংশ নেয়ায় রোষানলে পড়েছিলেন ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ও গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক জগৎজ্যোতি তালুকদার। এর জের ধরেই এলোপাথাড়ি কুপিয়ে তাকে খুন করা হয়।’ জগৎজ্যোতি হত্যা মামলার অভিযোগপত্রে হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে এমনটিই উল্লেখ করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহীন উদ্দিন।
অভিযোগপত্রে নগর জামায়াতের আমীর এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, নায়েবে আমীর হাফেজ আব্দুল হাই হারুন, সেক্রেটারি সিরাজুল ইসলাম শাহীন, এ্যাসিসটেন্ট সেক্রেটারি ফখরুল ইসলামসহ ৩৩ জনকে আসামী করা হয়েছে।
এছাড়াও যাদেরকে আসামী করা হয়েছে তারা হলেন, ইউসুফ বিন নূরী চৌধুরী সানী, পারভেজ মিয়া, তানভীর আহমদ, ফয়েজ আহমদ, উবায়দুল হক শাহীন, ফয়জুল হক, রিয়াজ মিয়া, রাজিব, মারুফ রহমান, সাঈদ আব্দুল্লাহ, হুসেন আহমদ, এহসানুল করিম, মো. ফখরুল ইসলাম, হাফেজ আব্দুল হাই হারুন, সিরাজুল ইসলাম শাহীন, আনোয়ারুল ওয়াদুদ টিপু, জুবায়ের, গিয়াস উদ্দিন মোল্লা, খলিল খান, মুফতি আলী হায়দার, আতিকুর রহমান, আব্দুল্লাহ, বাশিক উদ্দিন, দুলাল আহমদ, সাফায়েত রহমান, আব্দুল মালেক, নজরুল ইসলাম, ওমর ফারুক বাপ্পী, সাদিকুর রহমান, ফখরুল আলম সেলিম ও মুজাহিদুল ইসলাম।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ‘যুদ্ধাপরাধী বিচার সংক্রান্ত একটি রায়কে কেন্দ্র করে সারা দেশব্যাপী গণজাগরণ মঞ্চ নামে একটি অরাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে উঠলে, সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সম্মুখে সিলেটের গণজাগরণ মঞ্চ প্রতিষ্ঠিত হয়। ভিকটিম জগৎজ্যোতি তালুকদার এ মঞ্চের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন।
২০১৩ সালের ১ মার্চ গণজাগরণ মঞ্চের উদ্যোগে সিলেটের একটি বিশাল পতাকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। জগৎজ্যোতি এ পতাকা মিছিলে বিরাট জাতীয় পতাকা হাতে মিছিলের অগ্রভাগে ছিলেন। এর ফলে সে জামায়াত ও ছাত্র শিবিরের রোষানলে পড়ে’। ১০ পৃষ্টায় অভিযোগপত্রে হত্যাকাণ্ডের কারণ ও হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে বিস্তর বর্ণনা দেয়া হয়েছে।
জানা গেছে, জগত জ্যোতি হত্যার পর নিহতের রাজনৈতিক সহকর্মীবৃন্দসহ সংস্কৃতি কর্মীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে জাতীয় সংসদে ৭১ বিধিতে দীর্ঘ বক্তব্য দেন আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত। জগৎজ্যোতি হত্যা মামলাসহ সিলেটের ৫ আলোচিত মামলার ব্যাপারে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি জানতে চায়।
তবে তিন বছর পেরিয়ে গেলেও আজও শেষ হয়নি চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার বিচার কাজ।
‘গরু জবাই নিষিদ্ধের দাবি করা হয়নি, মিডিয়ায় ভুয়া খবর’
http://www.m.sylhettoday24.com/
প্রকাশিত : ২০১৬-০২-২৯
যুক্তরাষ্ট্র হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের বাংলাদেশে গরু জবাই নিষিদ্ধের দাবি করেছে এমন সংবাদের প্রতিবাদে উত্তাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো। এ সংবাদের প্রতিবাদ করেছেন অনেকেই, এর মধ্যে আছেন ঐক্য পরিষদের নেতারাও। এমন সংবাদকে ভূয়া বলে দাবি করেছেন তারা।
রোববার (২৮ ফেব্রুয়ারি) কয়েকটি সংবাদমাধ্যম 'বাংলাদেশে গরু জবাই বন্ধের দাবি নিউ ইয়র্ক হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের'- এমন শিরোনামে সংবাদ পরিবেশন করে। এ নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা। তবে নিউয়র্কে সংবাদ সম্মেলনটির আয়োজকরা জানিয়েছেন, এ সংক্রান্ত কোন দাবি জানানো হয় নি ঐক্য পরিষদের সংবাদ সম্মেলনে।
যুক্তরাষ্ট্র হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ নেতা শিতাংশু গুহ এ সংবাদটি মিথ্যা দাবি করে বলেন, "বাংলাদেশে গরু জবাই বন্ধের দাবী যুক্তরাষ্ট্র হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের"-শীর্ষক একটি সংবাদ আমরা মিডিয়ায় দেখেছি। বাংলাদেশ ও প্রবাস থেকে আমরা যথেষ্ট ফোনকল পাচ্ছি। সামাজিক মিডিয়ায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে অনুমোদিত ঐক্য পরিষদ কমিটির প্রেস-কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলাম। এ ধরনের বক্তব্য ঐক্য পরিষদ দেয়নি। এটা যুক্তরাষ্ট্র ঐক্য পরিষদের বক্তব্য নয়।'
তিনি আরও বলেন, এটা প্রবাসী হিন্দুদেরও কথা নয়। আমরা মনে করি বাংলাদেশের হিন্দুদের বক্তব্যও ওটা নয়। বাংলাদেশের কোন দায়িত্বশীল ব্যক্তি বা সংগঠন এমন কথা বলতে পারেন না।'
এ ধরনের অপপ্রচারের প্রতিবাদে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এমন জানিয়ে শিতাংশু গুহ ফেসবুকে লিখেন, 'ইতিমধ্যে আমার সাথে ঐক্য পরিষদের সভাপতি নবেন্দু দত্ত; নয়ন বড়ুয়া এবং সাধারণ সম্পাদক স্বপন দাস-সহ গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান এটর্নি অশোক কর্মকার; সদস্য সচিব চন্দন সেনগুপ্ত, যুগ্ম-সম্পাদক প্রিয়তোষ দে, ও অন্যান্য নেতাদের কথা হয়েছে, সবাই একবাক্যে আমার সাথে একমত হয়েছেন। ঐক্য পরিষদ এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও কর্মসূচি দিচ্ছে।'
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। অনেকেই দৈনিক মানবজমিন ও অন্যান্য কিছু অনলাইন মিডিয়ার লিঙ্ক শেয়ার করে এধরনের দাবির সমালোচনা করছেন।
প্রবাসী সাহিত্যিক কুলদা রায় ব্যক্তিগতভাবে ঐক্য পরিষদের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফেসবুকে এ নিয়ে লিখেন, বাংলাদেশে দৈনিক মানবজমিন পত্রিকায় একটি খবর প্রকাশিত হয়েছে। বলা হয়েছে, নিউ ইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ বাংলাদেশে গরু জবাই নিষিদ্ধ করার দাবী করেছে এক সংবাদ সম্মেলনে।
তিনি আরও লিখেন, নিউ ইয়র্কে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের দুটি গ্রুপ আছে। একটির নেতা শিতাংশু গুহকে আমি ফোন করি। তিনি জানান, তারা কোনো সংবাদ সম্মেলন করেননি। গরু জবাই নিষিদ্ধ করার দাবীর সঙ্গে একমত নন।
কুলদা রায় আরও লিখেন, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের অপর অংশের নেতা ড. দ্বিজেন ভট্টাচার্যের সঙ্গে ফোনে কথা বলি। তিনি জানান, গতকাল তারা জ্যাকশন হাইটসে একিটি সাংবাদিক সম্মেলন করেছিলেন। সেখানে তারা বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিপীড়ন বন্ধের আহবান জানিয়েছেন। কিন্তু গরু জবাই নিষিদ্ধের কোনো দাবী তারা করেননি। এ ধরনের কোনো দাবীর সঙ্গে তারা একমত নন। তিনি আরো বলেন, সাংবাদিক সম্মেলনে একজন ভারতীয় সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ভারতে গরু জবাই নিষিদ্ধের দাবী করছে উগ্র হিন্দুরা। এ বিষয়ে আপনাদের মতামত কি? হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতারা জানান এ বিষয়ে তারা একমত নন। এটা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের আদর্শ পরিপন্থী।
"তখন সম্মেলনে শ্যামল চক্রবর্তী নামে একজন শ্রোতা দর্শকদের আসন থেকে উঠে এসে বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে গরু জবাই নিষিদ্ধ করার দাবী করছেন। এটা একান্তই তার ব্যক্তিগত দাবী। তিনি কোনো সংগঠনের হয়ে বলছেন না। তিনি হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সঙ্গে যুক্ত নন। ড. দ্বিজেন ভট্টাচার্য জানান যে, মানব জমিন পত্রিকার প্রকাশিত সংবাদেরর প্রতিবাদ করে একটি প্রতিবাদপত্র পাঠিয়েছেন মানব জমিন পত্রিকার সম্পাদক বরাবরে। তিনি আরো দাবী করেন, মানব জমিন পত্রিকাটি তাদের সংগঠনের নাম জড়িত করে যে খবরটি প্রকাশ করেছেন তা অসত্য।"
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি কয়েকটি জাতীয় ও সিলেটের স্থানীয় একটি সংবাদপত্রে "নিউ ইয়র্কে সংবাদ সম্মেলন, বাংলাদেশে গরু জবাই বন্ধের দাবি হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের" শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়। এতে বলা হয়, "বাংলাদেশে অবিলম্বে আইন করে গরু জবাই বন্ধের দাবি জানিয়েছে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র শাখা। শুক্রবার সংগঠনটির পক্ষ থেকে নিউ ইয়র্কে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়। এছাড়া দাবি করা হয় যে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নজিরবিহীন নিপীড়ন চলছে এবং তাদের বেদখল হয়ে যাওয়া সম্পত্তির মধ্যে চার ভাগের তিন ভাগ দখল করে নিয়েছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।"
রোববার (২৮ ফেব্রুয়ারি) কয়েকটি সংবাদমাধ্যম 'বাংলাদেশে গরু জবাই বন্ধের দাবি নিউ ইয়র্ক হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের'- এমন শিরোনামে সংবাদ পরিবেশন করে। এ নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা। তবে নিউয়র্কে সংবাদ সম্মেলনটির আয়োজকরা জানিয়েছেন, এ সংক্রান্ত কোন দাবি জানানো হয় নি ঐক্য পরিষদের সংবাদ সম্মেলনে।
যুক্তরাষ্ট্র হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ নেতা শিতাংশু গুহ এ সংবাদটি মিথ্যা দাবি করে বলেন, "বাংলাদেশে গরু জবাই বন্ধের দাবী যুক্তরাষ্ট্র হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের"-শীর্ষক একটি সংবাদ আমরা মিডিয়ায় দেখেছি। বাংলাদেশ ও প্রবাস থেকে আমরা যথেষ্ট ফোনকল পাচ্ছি। সামাজিক মিডিয়ায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে অনুমোদিত ঐক্য পরিষদ কমিটির প্রেস-কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলাম। এ ধরনের বক্তব্য ঐক্য পরিষদ দেয়নি। এটা যুক্তরাষ্ট্র ঐক্য পরিষদের বক্তব্য নয়।'
তিনি আরও বলেন, এটা প্রবাসী হিন্দুদেরও কথা নয়। আমরা মনে করি বাংলাদেশের হিন্দুদের বক্তব্যও ওটা নয়। বাংলাদেশের কোন দায়িত্বশীল ব্যক্তি বা সংগঠন এমন কথা বলতে পারেন না।'
এ ধরনের অপপ্রচারের প্রতিবাদে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এমন জানিয়ে শিতাংশু গুহ ফেসবুকে লিখেন, 'ইতিমধ্যে আমার সাথে ঐক্য পরিষদের সভাপতি নবেন্দু দত্ত; নয়ন বড়ুয়া এবং সাধারণ সম্পাদক স্বপন দাস-সহ গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান এটর্নি অশোক কর্মকার; সদস্য সচিব চন্দন সেনগুপ্ত, যুগ্ম-সম্পাদক প্রিয়তোষ দে, ও অন্যান্য নেতাদের কথা হয়েছে, সবাই একবাক্যে আমার সাথে একমত হয়েছেন। ঐক্য পরিষদ এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও কর্মসূচি দিচ্ছে।'
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। অনেকেই দৈনিক মানবজমিন ও অন্যান্য কিছু অনলাইন মিডিয়ার লিঙ্ক শেয়ার করে এধরনের দাবির সমালোচনা করছেন।
প্রবাসী সাহিত্যিক কুলদা রায় ব্যক্তিগতভাবে ঐক্য পরিষদের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফেসবুকে এ নিয়ে লিখেন, বাংলাদেশে দৈনিক মানবজমিন পত্রিকায় একটি খবর প্রকাশিত হয়েছে। বলা হয়েছে, নিউ ইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ বাংলাদেশে গরু জবাই নিষিদ্ধ করার দাবী করেছে এক সংবাদ সম্মেলনে।
তিনি আরও লিখেন, নিউ ইয়র্কে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের দুটি গ্রুপ আছে। একটির নেতা শিতাংশু গুহকে আমি ফোন করি। তিনি জানান, তারা কোনো সংবাদ সম্মেলন করেননি। গরু জবাই নিষিদ্ধ করার দাবীর সঙ্গে একমত নন।
কুলদা রায় আরও লিখেন, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের অপর অংশের নেতা ড. দ্বিজেন ভট্টাচার্যের সঙ্গে ফোনে কথা বলি। তিনি জানান, গতকাল তারা জ্যাকশন হাইটসে একিটি সাংবাদিক সম্মেলন করেছিলেন। সেখানে তারা বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিপীড়ন বন্ধের আহবান জানিয়েছেন। কিন্তু গরু জবাই নিষিদ্ধের কোনো দাবী তারা করেননি। এ ধরনের কোনো দাবীর সঙ্গে তারা একমত নন। তিনি আরো বলেন, সাংবাদিক সম্মেলনে একজন ভারতীয় সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ভারতে গরু জবাই নিষিদ্ধের দাবী করছে উগ্র হিন্দুরা। এ বিষয়ে আপনাদের মতামত কি? হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতারা জানান এ বিষয়ে তারা একমত নন। এটা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের আদর্শ পরিপন্থী।
"তখন সম্মেলনে শ্যামল চক্রবর্তী নামে একজন শ্রোতা দর্শকদের আসন থেকে উঠে এসে বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে গরু জবাই নিষিদ্ধ করার দাবী করছেন। এটা একান্তই তার ব্যক্তিগত দাবী। তিনি কোনো সংগঠনের হয়ে বলছেন না। তিনি হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সঙ্গে যুক্ত নন। ড. দ্বিজেন ভট্টাচার্য জানান যে, মানব জমিন পত্রিকার প্রকাশিত সংবাদেরর প্রতিবাদ করে একটি প্রতিবাদপত্র পাঠিয়েছেন মানব জমিন পত্রিকার সম্পাদক বরাবরে। তিনি আরো দাবী করেন, মানব জমিন পত্রিকাটি তাদের সংগঠনের নাম জড়িত করে যে খবরটি প্রকাশ করেছেন তা অসত্য।"
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি কয়েকটি জাতীয় ও সিলেটের স্থানীয় একটি সংবাদপত্রে "নিউ ইয়র্কে সংবাদ সম্মেলন, বাংলাদেশে গরু জবাই বন্ধের দাবি হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের" শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়। এতে বলা হয়, "বাংলাদেশে অবিলম্বে আইন করে গরু জবাই বন্ধের দাবি জানিয়েছে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র শাখা। শুক্রবার সংগঠনটির পক্ষ থেকে নিউ ইয়র্কে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়। এছাড়া দাবি করা হয় যে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নজিরবিহীন নিপীড়ন চলছে এবং তাদের বেদখল হয়ে যাওয়া সম্পত্তির মধ্যে চার ভাগের তিন ভাগ দখল করে নিয়েছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।"
ঐক্য পরিষদ মানবাধিকার সংগঠন, প্রাণীর অধিকার রক্ষার সংগঠন নয়
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, ইউ এস এ, ইনক. -এর জরুরি সভায় গৃহীত প্রস্তাবের আলোকে সাধারণ সম্পাদক স্বপন দাস সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়-
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, ইউ এস এ, ইনক. -এর জরুরি সভায় গৃহীত প্রস্তাবের আলোকে সাধারণ সম্পাদক স্বপন দাস সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়-
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, যুক্তরাষ্ট্র শাখার নামে প্রকাশিত একটি সংবাদের প্রতি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষিত হরেছে। প্রকাশিত সংবাদে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, যুক্তরাষ্ট্র-এর নাম অবৈধভাবে ব্যবহার করে কিছু স্বার্থপর বিতর্কিত ব্যক্তি অতি বিতর্কিত কিছু মন্তব্য করেছেন যা কোনভাবেই বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ এর কেন্দ্রীয় কমিটি অনুমোদন করে না এবং ওই সাংবাদিক সম্মেলনে যারা অংশ গ্রহণ করেছেন তারা বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, ইউ এস এ, ইনক. এর সাথে যুক্ত নন। তারা অবৈধভাবে আমাদের সংগঠনের নাম ব্যবহার করছেন। বাংলাদেশে গরু জবাই বন্ধের কোনো বক্তব্যের সাথে কেন্দ্রীয় কমিটি বা বৈধ ও স্বীকৃত বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, ইউ এস এ, ইনক.-এর কোনো সংশ্রব নেই। আমরা তাদের এই ঘৃণ্য বক্তব্যের তীব্র নিন্দা করছি।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ একটি ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার সংগঠন, এটা গরু কিংবা কোনো প্রাণীর অধিকার রক্ষার সংগঠন নয়।
এইসব অপশক্তি বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে ভিন্ন পথে পরিচালিত করার জন্য সাম্প্রদায়িক অপশক্তির সাথে হাত মিলিয়েছে। আমরা প্রকৃত বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, ইউ এস এ, ইনক. এর নেতৃবৃন্দ ওই অবৈধ সংগঠন ও তার উস্কানিদাতাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে বিবেচনা করছি।
আমরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই যে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সকল রকম সাম্প্রদায়িকতার বিপক্ষে এবং সম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হতে পারে এমন কোনো বক্তব্য ঐক্য পরিষদ অনুমোদন করে না।
ঐসব অপশক্তি বাংলাদেশের সম্প্রদায়িক অপশক্তির ক্রীড়নক হিসেবে কাজ করছে বলেই আমরা বিবেচনা করছি। বাংলাদেশের সকল ধর্মপ্রাণ মুসলিম ভাই বোনদের প্রতি আহবান তারা যেন এই অশুভ শক্তির অশুভ প্ররোচনায় বিভ্রান্ত না হন।
নবেন্দু দত্ত, নয়ন বড়ুয়া, রেভ. জেমস রায়
(সভাপতি) (সভাপতি) (সভাপতি)
লামায় কথিত লাদেন বাহিনীর কর্তৃক উচ্ছেদ আতঙ্কে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জনগণ

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, লামাঃ-লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের সাঙ্গু মৌজায় মোহাম্মদিয়া ট্রি প্লানটেশন প্রকাশ লাদেন গ্রুপ কর্তৃক উপজাতিদের শত বছরের ভোগদখলীয় জায়গা অবৈধ জবরদখল করার অভিযোগ উঠেছে। ২৫ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড বনফুর বাজারে উচ্ছেদ আতঙ্কে থাকা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীরা এক প্রতিবাদ সমাবেশ করে।
ক্ষতিগ্রস্তরা জানায়, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের সাঙ্গু মৌজার চিনি ঝিরি ম্রো পাড়া সংলগ্ন স্থানীয়দের শত বছরের ভোগদখলীয় প্রায় ৭০ একর পাহাড়ে পাড়ার লোকজন জুম চাষ করে। গত ১৮ ফেব্রুয়ারী স্থানীয় ম্রো, ত্রিপুরা ও মার্মা সম্প্রদায়ের লোকজন জুম ও লাকড়ি কাটতে গেলে মোহাম্মদিয়া গ্রুপের কর্মচারীরা বাধা দেয় এবং মামলা হুমকী দেয়। ২৪ ফেব্রুয়ারী লামা থানার পুলিশের উপ-পরিদর্শক অভিজিৎ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসে। যাতে করে উপজাতিরা ধারনা করে মোহাম্মদিয়া ট্রি প্লানটেশন তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। এদিকে মামলার ভয়ে সহজ সরল ম্রো, ত্রিপুরা ও মারমা জনগোষ্ঠী বাড়ি ঘর ছাড়া উপক্রম হয়েছে বলে জানায় ২৮৫নং সাঙ্গু মৌজার হেডম্যান থংপ্রে ম্রো।
উচ্ছেদ আতঙ্কে থাকা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীরা নিরুপায় দেখে বৃহস্পতিবার বনফুর বাজারে এক প্রতিবাদ সমাবেশ করে। প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করে ২৮৫নং সাঙ্গু মৌজার হেডম্যান থংপ্রে ম্রো। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, গয়ালমারা ত্রিপুরা পাড়া কারবারী মোক্তারাম ত্রিপুরা, নয়া ম্রো পাড়ার কারবারী রিং ইয়ং ম্রো, ত্রিশডেবা পাড়ার কারবারী অংক্যয় মার্মা, রাজা পাড়ার বাসিন্দা ও পিসিপি নেতা চংপাত ম্রো সহ সাঙ্গু ও ইয়াংছা মৌজার শতাধিক লোকজন।
বক্তরা বলেন, রক্ত দেব মাটি দেব না। শত বছরের ভোগদখলীয় জায়গা কাউকে অবৈধ দখল করতে দেয়া হবেনা। প্রশাসনের কাছে প্রতিকার চাইতে আগামী ৪ মার্চ বান্দরবান জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। কোন ভাবে লাদেন গ্রুপ কে চিনি ঝিরি পাড়া এলাকায় ঢুকতে দেয়া হবেনা।
জায়গার মালিকানা ও অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদিয়া ট্রি প্লানটেশনের দায়িত্বশীল কাউকে না পাওয়ায় তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এবিষয়ে জানতে চাইলে লামা থানার পুলিশের উপ-পরিদর্শক অভিজিৎ বলেন, সাঙ্গু মৌজার মোহাম্মদিয়া ট্রি প্লানটেশন তাদের বাগানের গাছ কেউ বা কারা কেটে নিয়ে গেছে বলে একটি অভিযোগ করেছে। বিষয়টি তদন্ত করতে বুধবার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে তদন্ত করতে যাই।
ফরিদগঞ্জে হাত-পা বাধা অবস্থায় জেলের লাশ উদ্ধার

ফরিদগঞ্জে হাত-পা বাধা অবস্থায় জেলের লাশ উদ্ধার
ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১নং বালিথুবা পশ্চিম ইউনিয়নের বেয়ারীপুর দাসপাড়ায় ইটভাটার কাছে শনিবার ডাকাতিয়া নদীতে হাত-পা বাধা অবস্থায় সুখরঞ্জন নামের এক জেলের লাশ পাওয়া গেছে। ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নতদন্তের জন্য প্রেরণ করেন ।
জানা যায় নিহত সুখরঞ্জনের বাড়ি বেয়ারীপুর গ্রামের দাসবাড়ি। তার পিতার নাম নুকুল চন্দ্র দাস। নিহত সুখরঞ্জনের ১ ছেলে ও ২ মেয়ে রয়েছে।
নিহত সুখরঞ্জনের স্ত্রী জানান গত বৃহষ্পতিবার সুখরঞ্জন সকালে নিখোজ হয়। সম্ভাব্য সব জাযগায় খোজ করে সন্ধান না পাওয়ায় স্থানীয় ইউপি সদস্যকে বিষয়টি জানিয়েছেন।
শনিবার সকালে ইটভাটার মাটি কাটার শ্রমিকরা ট্রলারে করে মাটি নিয়ে আসার সময় ডাকাতিয়া নদীতে ভাসমান অবস্থায় লাশটি দেখে চিৎকার দিলে স্থানীয় গিয়ে সুখরঞ্জন লাশ বলে সনাক্ত করে ।
এলাকাবাসী ও নিহতের স্ত্রী সূত্রে জানা যায় নিহত সুখরঞ্জনকে কে বা কারা তাকে হত্যা করেছে তা বোধগম্য নয়।
এলাকাবাসী আরো জানান নিহত সুখরঞ্জন সহজ সরল প্রকৃতির ও খেটে খাওয়া মানুষ ছিল। তার সাথে কারো শত্রুতা ছিল এমন মনে হয় না।
তারা আইনের মাধ্যমে প্রকৃত দোষী বেরিয়ে আসবে এমনটি আশা করেন।
এ ব্যাপারে ফরিদগঞ্জ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা চাঁদপুর টাইমসকে বলেন, ‘খবর শুনে লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে এবং ময়না তদন্তের জন্য প্রেরণ করেছি। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি ও চলছে।’
পুরোহিতের গলাকাটা লাশ : হিন্দু নির্যাতন না জঙ্গিবাদের উত্থান?
মঙ্গলবার, ১ মার্চ ২০১৬ bhorerkagoj.net/
একুশে ফেব্রুয়ারি মহান ভাষা দিবসে এবারে আমাদের প্রাপ্তি পঞ্চগড়ের দেবিগঞ্জ গৌড়ীয় মঠের সাধু অধ্যক্ষ যজ্ঞেশ্বর রায়ের গলাকাটা লাশ। সঙ্গে গুলিবিদ্ধ ভক্ত গোপালচন্দ্র রায়ের মুমূর্ষু যন্ত্রণাকাতর গোঙানি। গত বছর আমরা পেয়েছিলাম অভিজিতের ভারী লাশ। এদিক-ওদিক লাশ আরো পড়ছে। এর যেন কোনো বিরাম নেই। কিন্তু জাতি আর কত লাশের ভার বইবে? তবে এ সময়ের কঠিন প্রশ্ন হলো- সদ্য দেহ থেকে মস্তক পৃথক হয়ে যাওয়া যজ্ঞেশ্বর রায়ের লাশ বা এই পরিকল্পিত নৃশংস হত্যাকাণ্ড সচরাচর সরকারি ভাষায় একটি বিচ্ছিন্ন সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা নাকি নীলনক্সার ছকে আঁকা সন্ত্রাসী তৎপরতা? নাকি দুটোই, এক ঢিলে দুই পাখি শিকার? সরকার বলছেন, অপরাধী গ্রেপ্তার হয়েছে। ভালো কথা, আমাদের পুলিশ এত এক্সপার্ট হয়ে গেল কবে? প্রকৃত অপরাধী ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে ‘বক্র হাসি’ হাসছেন না তো!
আইএস এর দায়িত্ব স্বীকার করেছে। সরকার তা উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, আইএস নয়, দেশীয় সন্ত্রাসীদের কাজ। সবই রুটিন। সারা বিশ্ব এ ঘটনার নিন্দা করেছে। দেশের সুনাম ক্ষুণœ হয়েছে। বাংলাদেশে আইএস আছে কি নাই, এ নিয়ে নুতন করে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। কদিন আগে এক শুনানিতে মার্কিন এক বিশেষজ্ঞ বলেছিলেন, বাংলাদেশে সরকারের দমননীতির ফলে মৌলবাদী সন্ত্রাস মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্র ৫ জানুয়ারির নির্বাচন কখনোই মেনে নেয়নি, নতুন নির্বাচনের জন্য তারা বরাবরই চাপ দিচ্ছিলেন, এবার এ ঘটনায় চাপ বেড়েছে। অর্থমন্ত্রী মুহিত ছুটে এসেছেন মার্কিন মুল্লুকে, দেন-দরবার করে চাপ যদি কিছুটা কমানো যায়। পত্রিকায় দেখলাম, খালেদা জিয়া দিল্লি যাচ্ছেন চাপ যাতে বাড়ানো যায়। এও দেখলাম, এরপর তিনি আমেরিকা আসছেন, উদ্দেশ্য একই।
সরকার এ সময় নির্বাচনের জন্যে প্রস্তুত নন। গোটা প্রশাসন এখন ব্যস্ত পদ্মা সেতু নিয়ে। সরকার চান নির্বাচন হবে সেতু নির্মাণের পর। উদ্দেশ্য মহৎ, পদ্মা সেতু হয়ে গেলে জনসমর্থন বাড়বে। নির্বাচন নিয়ে দেশের জনগণের মাথাব্যথা তেমন আছে বলে মনে হয় না, কিন্তু বিদেশিদের যথেষ্ট শিরঃপীড়া আছে। বিশেষত আইএস বা সন্ত্রাস যন্ত্রণা যখন বাড়ছে। কদিন বাদে বাদে দেশে যখন একটি সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটে এবং আইএস দায়িত্ব স্বীকার করে তখন কিছুদিন হৈচৈ হয়, তারপর সব চুপচাপ; আমরা অপেক্ষা করি আর একটি ঘটনার জন্য! সাম্প্রতিক সময়ে সন্ত্রাসী ঘটনার সংখ্যা যাই হোক, আইএস দায়িত্ব স্বীকার করেছে প্রায় অর্ধ-ডজন এবং সরকার বারবার তা অস্বীকার করেছেন। এই স্বীকার-অস্বীকারের মধ্য দিয়ে যারা খুন হওয়ার তারা শহীদ হয়ে যাচ্ছেন। ওইসব সন্ত্রাসী ঘটনার সর্বশেষটি হলো- নির্ভেজাল সাধু যজ্ঞেশ্বর রায়ের করুণ মৃত্যু।
আমেরিকায় ট্রেন্ড এনালাইসিস বলে বহুল প্রচলিত একটি টার্ম আছে। ওই সাতটি ঘটনার ট্রেন্ড এনালাসিস করলে বোঝা যাবে কোনোটিই বিচ্ছিন্ন নয়, পরিকল্পিতভাবে বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে এসব ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। সাধু হত্যাকাণ্ড বা হিন্দুর ওপর অত্যাচার তাদের দেশ থেকে খেদিয়ে বাংলাদেশকে একটি শরিয়া মোতাবেক ইসলামী রাষ্ট্র বানানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ। আহমেদিয়া ইমাম হত্যা ওই সম্প্রদায়কে ‘অমুসলিম’ ঘোষণার পাঁয়তারা। ক্রিস্টান পাদ্রির ওপর হামলা মূলতঃ একই লক্ষ্যে কিন্তু আমার কেন জানি মনে হয়, পাদ্রিকে ওরা ইচ্ছে করেই হত্যা করেনি, কারণ পশ্চিমা বিশ্বের অতটা চাপ মৌলবাদীরা এখনই নিতে চাচ্ছে না। হিন্দুদের খেদানো গেলে অল্প কিছু ক্রিস্টানকে দমানো তেমন কঠিন হবে না। ব্লুগার হত্যার লক্ষ্য মুক্তকণ্ঠ দমিয়ে রাখা। ব্লুগার হিন্দু হলে ডবল লাভ। আর এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের লক্ষ্য, দেশকে অস্থিতিশীল করে রাখা, সরকারকে চাপের মধ্যে ফেলা এবং একটু একটু করে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশকে একটি কট্টর ডানপন্থী ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করা।
এখন বলা হচ্ছে বাংলাদেশে আরো ব্যাপক সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটতে পারে এবং সেটা জনবহুল এলাকায়। ফলাফল সহজেই অনুমেয়, ব্যাপক প্রাণহানি। ‘মে গড বেøস বাংলাদেশ’। সন্ত্রাসীরা কি তা পারে না? পারে। যারা একসঙ্গে ৫শ বোমা ফাটাতে পারে, তারা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। কদিন আগে একজন প্রগতিশীল ব্যক্তি এসেছিলেন, তিনি বললেন, ‘আমরা বেঁচে আছি ওদের দয়ায়, ওরা টার্গেট করলে বাঁচানোর কেউ নেই’। যজ্ঞেশ্বর সাধু হত্যার পর এখন অপেক্ষার পালা ওদের পরবর্তী টার্গেট কে, কি বা কোথায়! সরকার বিষয়টি সিরিয়াসভাবে নিচ্ছেন না। ক্ষমতায় থাকার জন্য যেটুকু করা দরকার ততটুকুই করছেন। অর্থাৎ সরকার ডিফেন্সিভ খেলছেন; আক্রমণাত্মক ভূমিকা নিচ্ছেন না। সরকার ভাবছেন, পুলিশ ও র্যাব দিয়ে সন্ত্রাসীদের মোকাবেলা করবেন! তা কি সম্ভব?
কথায় বলে, সময় বহিয়া যায় নদীর স্রোতের ন্যায়। সরকারের গড়িমসিতে শেষে না অনেক দেরি হয়ে যায়! আমেরিকার মতো শক্তিশালী দেশ সন্ত্রাসীদের মোকাবেলায় ‘হোমল্যান্ড সিকিউরিটি’ নামক একটি শক্তিশালী মন্ত্রণালয় বা বিভাগ সৃষ্টি করেছে। লন্ডন বা ইউরোপ ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভারত পিছিয়ে নেই, আমরা কেন বসে থাকব? আসলে বসে থাকার সময় নেই, সন্ত্রাস দমনে বিশেষ আইন দরকার (সেটা বিরোধী দলের ওপর প্রযোজ্য নয়), দরকার বিশেষ বাহিনী (হরতাল বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে এদের ব্যবহার করা যাবে না), আরো দরকার সুনির্দিষ্ট সংস্থা। এই সংস্থার একমাত্র কাজ আইএস বা জঙ্গি-সন্ত্রাস দমন, বিশেষ আদালতে এদের দ্রুত বিচার করা, জনগণকে আগাম নোটিস বা সতর্কবাণী জানানো, যা আমেরিকাতেও ব্যাপকভাবে করা হয়ে থাকে। আমাদের ছেলেমেয়েরা পারবে। এ জন্য স্পেশাল ট্রেনিং, কলাকৌশল, সমরাস্ত্র প্রয়োজন হতে পারে, প্রয়োজনে বাইরের সাহায্য নিতে হবে? মোদ্দা কথা হলো, সরকারের এই দিকটায় এখনি নজর দেয়া দরকার। সন্ত্রাস দমনে জাতীয় ঐকমত্যের প্রয়োজন আছে বৈকি।
বৃহৎ শক্তিগুলো দায়সারা গোছের আক্রমণের মাঝেও আইএস শক্তিশালী হচ্ছে। এরা ফেসবুক, টুইটারের প্রধানকে হত্যার হুমকি দিয়েছে। নরেন্দ্র মোদী তাদের তালিকায় আছেন। শেখ হাসিনা কি নেই? আইএস নিজেই ঘোষণা করেছে ভারত ও বাংলাদেশে তাদের তৎপরতা বাড়াচ্ছে। পাকিস্তান আইএসকে মদদ দিচ্ছে, আইএসআই অস্ত্র দিচ্ছে। ইউরোপ-আমেরিকায় আরো সন্ত্রাসী আক্রমণের আশঙ্কা করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, ইউরোপে পাঁচ হাজার আইএস ভলান্টিয়ার কাজ করছে। জাতিসংঘ বলছে, আইএসের কাছে ক্রুড পারমাণবিক সরঞ্জামও থাকতে পারে। দারিদ্র্যক্লিষ্ট পুরো আফ্রিকায় আইএস তরুণদের রিক্রুট করছে। সফ্ট টার্গেট নেপালের মাদ্রাসাগুলোকে এরা ব্যবহারের চেষ্টা করছে। জাতিসংঘ দক্ষিণ এশিয়ায় আইএস কর্মকাণ্ড প্রসারের ব্যাপারে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে এর ভয়াবহ ব্যাপকতার কথা বলেছে। এ বিষয়ে জাতিসংঘ একটি প্রস্তাবও নিয়েছে। কদিন আগে নিউইয়র্কে ঐক্য পরিষদের সম্মেলনে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত একই আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন। সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে আইএস শুধু শক্তিশালী তা-ই নয়, বরং যথেষ্ট ধনী, ২০১৫-তে এর আয় ছিল ৪০০-৫০০ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশে আইএসের শক্তি দেখিয়েছে, সামনে এর ব্যাপকতা দেখালে অবাক হবার কিছু থাকবে না। কাজেই, সাবধান।
সরকার আইএসের অস্তিত্ব স্বীকার করুন বা না-করুন প্রস্তুত থাকতে সমস্যা কোথায়? প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়ে আমরা আগাম ব্যবস্থা নিতে পারলে, সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবেলায় সচেষ্ট থাকব না কেন? জননেত্রী শেখ হাসিনার কিছু হলে কেউ কি ভেবেছেন বাংলাদেশে কি হতে পারে? এ কথা তো বলার অপেক্ষা রাখে না যে, আইএস বা যেকোনো সন্ত্রাসী গ্রুপের প্রধান টার্গেট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি না থাকলে আজকের বাংলাদেশ এভাবে থাকবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ আছে বৈকি!
নিউইয়র্ক। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৬
শিতাংশু গুহ, কলাম লেখক।
এইবেলা ডেস্ক: ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জ্যেষ্ঠ নেতা সুব্রামানিয়ান স্বামী ভারত সরকারকে বাংলাদেশের সাথে তাদের সম্পর্ক নিয়ে সতর্ক থাকতে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন ঢাকার সঙ্গে দিল্লির রাষ্ট্রনীতির পুনর্মূল্যায়ন করা উচিত। এ সময় তিনি ভারতকে শেখ হাসিনার সরকারের প্রতি ‘ঝুঁকে থাকা’ বন্ধ করতে বলেন। বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সাম্প্রপ্তিক নির্যাতন ও হত্যার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এই আহ্বান জানান।
সুব্রামানিয়ান বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও মন্দির ভাংচুরের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে মৌলবাদ ও জেহাদি মনোভাব বেড়েছে। আর এসব কারণে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ হত্যা ও হিন্দু নারীকে অসম্মান ও মন্দির ভাংচুরের ঘটনা ঘটছে। বিজেপি নেতা বলেন, বাংলাদেশে সম্প্রতি হিন্দু পুরোহিত হত্যার ঘটনা দুঃখজনক। তিনি হিন্দু সম্প্রদায়বিরোধী আতংকের বিষয়ে শেখ হাসিনার সরকারকে অসহায়’ অথবা ‘দুষ্কর্মের সহযোগী’ বলে অভিযোগ করেছেন।
উল্লেখ্য, ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে শ্রীশ্রী সন্তগৌড়ীয় মঠের পুরোহিত যজ্ঞেশ্বর রায়কে গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় গোপাল চন্দ্র রায় নামে এক পূজারি গুলিবিদ্ধ হন। আহত হন দু’জন। এ ঘটনায় জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) তিন সদস্যকে গ্রেফতারের কথা জানায় পুলিশ।
সুব্রামানিয়ান বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও মন্দির ভাংচুরের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে মৌলবাদ ও জেহাদি মনোভাব বেড়েছে। আর এসব কারণে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ হত্যা ও হিন্দু নারীকে অসম্মান ও মন্দির ভাংচুরের ঘটনা ঘটছে। বিজেপি নেতা বলেন, বাংলাদেশে সম্প্রতি হিন্দু পুরোহিত হত্যার ঘটনা দুঃখজনক। তিনি হিন্দু সম্প্রদায়বিরোধী আতংকের বিষয়ে শেখ হাসিনার সরকারকে অসহায়’ অথবা ‘দুষ্কর্মের সহযোগী’ বলে অভিযোগ করেছেন।
উল্লেখ্য, ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে শ্রীশ্রী সন্তগৌড়ীয় মঠের পুরোহিত যজ্ঞেশ্বর রায়কে গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় গোপাল চন্দ্র রায় নামে এক পূজারি গুলিবিদ্ধ হন। আহত হন দু’জন। এ ঘটনায় জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) তিন সদস্যকে গ্রেফতারের কথা জানায় পুলিশ।
বাংলাদেশে ধর্মীয় মত প্রকাশের ক্ষেত্র সংকুচিত হচ্ছে
10.03.16

জাতিসংঘ, ১০ মার্চ- জাতিসংঘের ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার হাইনার বিলেনফোল্ড বলেছেন, কিছু আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের কারণে বাংলাদেশে ধর্মীয় কিংবা রাজনৈতিক মত প্রকাশের ক্ষেত্র সংকুচিত হচ্ছে। বাংলাদেশ সফরের ওপর জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে দেওয়া এক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে তিনি এ মন্তব্য করেছেন। আজ বুধবার ওই প্রতিবেদন জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে।
বাংলাদেশে ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গত বছরের ৩১ আগস্ট থেকে ৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সফর করেন হাইনার বিলেনফোল্ড। ওই সময় তিনি সরকারি কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়, নাগরিক সমাজ ও কূটনীতিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
প্রতিবেদনে হাইনার বিলেনফোল্ড বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে অনেক আগে থেকেই আন্তধর্ম সহাবস্থানের পাশাপাশি সমাজের উদার মনোবৃত্তির দৃষ্টান্ত খুঁজে পাওয়া যায়। বাংলাদেশে ১৯৭২ সালের সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতাকে মূল আদর্শ হিসেবে ধরা হয়েছে, যা কারও প্রতি বৈষম্য না করে ধর্মীয় বহুমত ধারণের ক্ষেত্র করে দিয়েছে। মৌলিক ও রাজনৈতিক অধিকারের মতো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদ অনুসমর্থনের মাধ্যমে বাংলাদেশের এই অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার বিলেনফোল্ড মনে করেন, ধর্মনিরপেক্ষতা, যা ধর্মীয় ও বিশ্বাসের স্বাধীনতার ভিত্তিতে বৈচিত্র্যের সমাহারকে ধারণ করার কথা বলেছে, তা নিশ্চিত করা উচিত। সবাইকে ধারণ করার ব্যাপারে ধর্মনিরপেক্ষতার এই মূল্যবোধের মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বিতর্কের প্রক্রিয়ায় মূল্যবান ভূমিকা রাখতে পারে।
বিভিন্ন সম্প্রদায় ও ধর্মীয় বিশ্বাসের লোকজনের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং সম্ভাব্য সন্দেহ ও ভুল-বোঝাবুঝি অবসানের জন্য আন্তধর্ম ও আন্তসীমান্ত যোগাযোগ বাড়ানোর জন্য সরকারকে তার উদ্যোগ দ্বিগুণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অসহিষ্ণুতা, বৈষম্য ও উগ্রবাদের যেকোনো তৎপরতার বিরুদ্ধে সরকারকে ধারাবাহিক অবস্থান বজায় রাখতে হবে। বাংলাদেশে ধর্মীয় উগ্রবাদ ও সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে পরিচালিত হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও আদিবাসীরা নিজেদের বিপন্ন বোধ করায় তাদের উদ্বেগ দূর করে সক্রিয় নাগরিক সমাজ ও বহুমতের সমাজ সুরক্ষায় সরকারকে সচেষ্ট থাকতে হবে।
হাসিনা সরকারের প্রতি মনোভাব বদল করুক কেন্দ্র, দাবি স্বামীর
ABP Ananda | Tuesday, 8 March 2016 8:08 PM

নয়াদিল্লি: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও তাদের ধর্মস্থানগুলির ওপর হামলার অভিযোগে সরব সুব্রহ্মণ্যম স্বামী। এ ব্যাপারে প্রতিবেশী রাষ্ট্রে ক্ষমতাসীন শেখ হাসিনা ওয়াজেদের সরকারকে অভিযোগের নিশানা করেছেন এই বিজেপি নেতা।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে জেহাদি ভাবাবেগ বাড়ছে। মৌলবাদীদের দাপট ক্রমবর্ধমান। কোণঠাসা সংখ্যালঘুরা। সংখ্যালঘু নিধন, তাদের মেয়েদের সম্ভ্রমহানির ঘটনা বাড়ছে। তাদের ধর্মস্থানগুলিতেও হামলা চালানো হচ্ছে।
সম্প্রতি এক সংখ্যালঘু ধর্মীয় প্রতিনিধির মাথা কেটে নেওয়ার মতো ‘ভয়ঙ্কর’ ঘটনার প্রসঙ্গ তুলেছেন স্বামী। তিনি ক্ষোভের সুরে বলেছেন, এটা স্পষ্ট যে, হয় সে দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার অসহায়, নতুবা সংখ্যালঘু-বিদ্বেষী পরিমণ্ডলে তাঁদেরও ইন্ধন রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে হাসিনা সরকারের প্রতি ‘ঝুঁকে’ থাকলে হবে না নরেন্দ্র মোদীর সরকারকে। এমন অভিমত জানিয়ে হাসিনার প্রতি অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে তিনি পরামর্শ দিয়েছেন কেন্দ্রের এনডিএ সরকারকে।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে জেহাদি ভাবাবেগ বাড়ছে। মৌলবাদীদের দাপট ক্রমবর্ধমান। কোণঠাসা সংখ্যালঘুরা। সংখ্যালঘু নিধন, তাদের মেয়েদের সম্ভ্রমহানির ঘটনা বাড়ছে। তাদের ধর্মস্থানগুলিতেও হামলা চালানো হচ্ছে।
সম্প্রতি এক সংখ্যালঘু ধর্মীয় প্রতিনিধির মাথা কেটে নেওয়ার মতো ‘ভয়ঙ্কর’ ঘটনার প্রসঙ্গ তুলেছেন স্বামী। তিনি ক্ষোভের সুরে বলেছেন, এটা স্পষ্ট যে, হয় সে দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার অসহায়, নতুবা সংখ্যালঘু-বিদ্বেষী পরিমণ্ডলে তাঁদেরও ইন্ধন রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে হাসিনা সরকারের প্রতি ‘ঝুঁকে’ থাকলে হবে না নরেন্দ্র মোদীর সরকারকে। এমন অভিমত জানিয়ে হাসিনার প্রতি অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে তিনি পরামর্শ দিয়েছেন কেন্দ্রের এনডিএ সরকারকে।
রাষ্ট্রধর্ম নিয়ে নিয়ম বহির্ভূত রিট বাতিল করতে হবে : ইসলামী নেতৃবৃন্দ |
প্রকাশের সময় : ২০১৬-০৩-১২
স্টাফ রিপোর্টার : রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম সংবিধান থেকে বাদ দেয়ার জন্য হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্যপরিষদের দাবি এবং এ বিষয়ে খারিজ করা রিট নবায়ন করার তীব্র প্রতিবাদ করেছেন হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগর ও ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, নিয়ম বহির্ভূতভাবে দায়ের করা রিট অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। এ বিষয়ে চক্রান্ত বন্ধ না করলে যেকোনো পরিস্থিতির দায় সরকার এবং হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্যপরিষদকে নিতে হবে। তা এ সাম্প্রদায়িক সংগঠনকে নিষিদ্ধের দাবি করেছেন। হেফাজত ঢাকা মহানগর বিগত ২৮ বছর পূর্বে খারিজ হয়ে যাওয়া রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বিষয়ক রিটটি পুনঃসচল করে বিরাজমান রাজনৈতিক অচলাবস্থায় আবার আগুনে তৈল ঢালা হচ্ছে। অথচ মুসলিম সংখ্যাঘরিষ্ট এদেশে সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম হলেও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা ধর্ম পালনে পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করছে। গতকাল হেফজাতে ইসলাম ঢাকা মহানগরীর অস্থায়ী কার্যালয় জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা মিলনায়তনে মহানগরীর এক জরুরি সভায় সভাপতির বক্তব্যে আল্লামা নূর হোছাইন কাসেমী একথা বলেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম সংবিধান থেকে বাতিলের দাবি, স্বাধীন দেশের সংবিধানের উপর নগ্ন হস্তক্ষেপ এবং সাম্প্রদায়িক হানাহানী সৃষ্টির উস্কানি। সভায় বক্তাগণ বলেন, রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের ক্ষেত্রে কোনো আত্মঘাতি পদক্ষেপ নেয়ার চক্রান্ত করা হলে এদেশের স্বাধীনচেতা, ঈমানদীপ্ত নওজোয়ানরা জীবন বাজি রেখে হলেও ঈমান ও ইসলাম রক্ষায় সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে ইনশাল্লাহ। উক্ত জরুরি সভায় আরো বক্তব্য রাখেন- মাওলানা আবুল কালাম, মাও. মোস্তফা আযাদ, মাও. আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, মাও. মাহফুজুল হক, মাও. আব্দুর রব ইউসূফী, হাকীম আব্দুল করীম খান, মাও. ইমদাদুল ইসলাম, মাও. জুনায়েদ আল হাবীব, মাও. ফজলুল করীম কাসেমী, মাও. মঞ্জুরুল ইসলাম, মাও. শফীকুদ্দীন, শেখ গোলাম আছগর, মাও. সাখাওয়াত হুসাইন, মাও. আহমদ আলী কাসেমী, মাও. বাহাউদ্দীন যাকারিয়া, মাও. মুজিবুর রহমান হামিদী, মাও. মুফতি মাসউদুল করীম প্রমুখ। নেতৃবৃন্দ বলেন, পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নে নাস্তিক মুরতাদ ও অধিকাংশ অমুসলিম লেখকদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শিশু-কিশোরদের পাঠ্যপুস্তকে ইসলামী পরিভাষা বাদ দিয়ে রাম দাদাদের আজগুবি কিচ্ছা-কাহিনী রচনা করা হচ্ছে। ভারতীয় অশ্লীল টিবি চ্যানেলের মাধ্যমে যুব সমাজের চরিত্র বিনাশ করা হচ্ছে। ব্রাহ্মন্নবাদীদের নীলনকশা বাস্তবায়নের লক্ষে দেশ ও ধর্মদ্রোহী পদক্ষেপ নেওয়ার পাঁয়তারা চলছে। কিন্তু সকল চক্রান্ত প্রতিহত করা হবে। বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ছিল, আছে, থাকবে। রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম রক্ষায় এদেশের ঈমানিদীপ্ত কোটি কোটি মুসলমান রাজপথে নেমে আসবে ষড়যন্ত্রকারী নাস্তিক ও হিন্দু চক্রান্তকারীদের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে খাঁটি মুসলিম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করবে। ইসলামী আন্দোলন রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম সংবিধান থেকে বাতিলের চক্রান্ত করলে ধর্মপ্রাণ জনতা নীরবে বসে থাকবে না। সর্বত্র আন্দোলনের দাবানল জ্বলে উঠবে বলে হুঁশিয়ারী দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমির মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই। তিনি বলেন, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম আছে, থাকবে, রাষ্ট্রধর্ম নিয়ে চক্রান্তকারীদের চক্রান্ত বন্ধ না করলে সারাদেশে ঈমানদার জনতা গর্জে উঠলে সরকারের জন্য কল্যাণকর হবে না। তিনি রাষ্ট্রধর্মের বিরুদ্ধে রিট অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী ‘হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ’কে নিষিদ্ধ করতে হবে। পীর সাহেব চরমোনাই সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেবার আবেদন করে হাইকোর্টে দায়ের করা রিটটি সংশ্লিষ্টদের অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি করেন। পীর সাহেব চরমোনাই আরও বলেন, আমাদের জানামতে কোনো মুসলমান কর্তৃক হিন্দু ধর্ম, খ্রিষ্ট ধর্ম বা অন্যান্য ধর্মকে কটাক্ষ করে বক্তব্য দেয়ার নজির নেই। তারপরও উগ্র হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্যপরিষদ বারবার ইসলাম ও মুসলমানদের কটাক্ষ করছে, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম নিয়ে কথা বলছে। তাদের চক্রান্ত বন্ধ না করলে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি হলে তার দায়ভার ‘হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্যপরিষদকে নিতে হবে। রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিলের চক্রান্তের প্রতিবাদে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে আজ বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনস্থ হাউজ বিল্ডিং চত্বরে সমাবেশ করবে।
নির্বাচনী সহিংসতা
ভোলায় সংখ্যালঘু বাড়িতে হামলা-লুটপাট, আহত ৩
04.03.16 Kaler Kantho

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোলায় এক সংখ্যালঘু বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে চেয়ারম্যান প্রার্থীর ক্যাডাররা। হামলায় সংখ্যালঘু পরিবারের তিন সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। জলদস্যু প্রার্থীর পোস্টার লাগাতে বাধা দেওয়ার জের ধরে আজ শুক্রবার দুপুরে সদর উপজেলার বাপ্তা ইউনিয়নের বাপ্তা গ্রামের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কালিগাছ বাড়িতে এ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপটের ঘটনা ঘটে।
হামলার শিকার বাপ্তা ইউনিয়নের বাপ্তা গ্রামের কালিগাছ বাড়ির ওই ওয়ার্ডের বাসিন্দা রিপন চন্দ্র দে (তনু) জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে বাপ্তা গ্রামে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী (আনারস প্রতীক) জলদস্যু সকেট
-কামালের কর্মীরা পোস্টার লাগাতে গেলে তিনি বাধা দিয়ে বলেন, "এ গ্রামে জলদস্যুদের কোনো পোস্টার লাগানো যাবে না। এর জের ধরে আজ শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী সকেট কামালের কর্মী টিটু বরদ্দারের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন সশস্ত্র ক্যাডার তার ঘরে হামলা চালায়। হামলাকারীরা ঘরের আলমারি ভাঙচুর করে ঘরে থাকা জমি বিক্রির নগদ ১৪ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। হামলায় রিপন চন্দ্র দে (তনু), তার মা রমা রানী দে ও ভাই দিপক চন্দ্র দে আহত হন। গুরুতর আহত রিপন চন্দ্র দে-কে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে বলে জানান রিপন। এদিকে, স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী সকেট কামাল জানান, ওই হামলার সঙ্গে তার কোনো কর্মী-সমর্থক জড়িত নয়। হামলার শিকার রিপন চন্দ্র দে এক মেম্বর প্রার্থীর কর্মী। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী মেম্বার প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে এ ঘটনা ঘটেছে বলেও দাবি করেন তিনি। ভোলা সদর মডেল থানার ওসি মীর খায়রুল কবির জানান, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ টিটু বরদ্দার (কামাল) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুরুষ শূন্য হয়ে যাচ্ছে বরিশালের সংখ্যালঘুপাড়া
09.0316

কল্যাণ কুমার চন্দ,বিশেষ প্রতিবেদক
বাংলাদেশের নির্বাচনি প্রেক্ষাপটে জাতীয় ও স্থানীয় সরকারের নির্বাচন আসলেই হামলা, মামলা, লুটপাট কিংবা দেশত্যাগের হুমকীর আতংক ছড়িয়ে পরে বরিশাল জেলার প্রতিটি উপজেলার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মাঝে। অতীত নির্বাচনের ন্যায় আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এবারও তার ব্যাত্যয় ঘটেনি।
সূত্রমতে, শনিবার (৫মার্চ) রাতে গৌরনদী উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের মহিষা গ্রামের ঋষি পাড়ার সংখ্যালঘু পরিবারের দুটি বসতঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। আহত হয়েছেন নারীসহ পাঁচজন। এ ঘটনায় উল্টো ওই পরিবারের সদস্যদের দেশত্যাগের হুমকিসহ থানায় মামলা দায়ের করে পুলিশ দিয়ে হয়রানীর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে আ’লীগ মনোনীত সরিকল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের ফের হামলা ও পুলিশের গ্রেফতার আতংকে ওই পাড়ার পুরুষরা এখন আত্মগোপন করেছেন।
বাংলাদেশের নির্বাচনি প্রেক্ষাপটে জাতীয় ও স্থানীয় সরকারের নির্বাচন আসলেই হামলা, মামলা, লুটপাট কিংবা দেশত্যাগের হুমকীর আতংক ছড়িয়ে পরে বরিশাল জেলার প্রতিটি উপজেলার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মাঝে। অতীত নির্বাচনের ন্যায় আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এবারও তার ব্যাত্যয় ঘটেনি।
সূত্রমতে, শনিবার (৫মার্চ) রাতে গৌরনদী উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের মহিষা গ্রামের ঋষি পাড়ার সংখ্যালঘু পরিবারের দুটি বসতঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। আহত হয়েছেন নারীসহ পাঁচজন। এ ঘটনায় উল্টো ওই পরিবারের সদস্যদের দেশত্যাগের হুমকিসহ থানায় মামলা দায়ের করে পুলিশ দিয়ে হয়রানীর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে আ’লীগ মনোনীত সরিকল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের ফের হামলা ও পুলিশের গ্রেফতার আতংকে ওই পাড়ার পুরুষরা এখন আত্মগোপন করেছেন।
সরেজমিনে জানা গেছে, মহিষা গ্রামের আ’লীগ কর্মী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের রনো দাসের বিরুদ্ধে সরিকল ইউনিয়নে বিএনপির মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান মঞ্জুর হোসেন মিলনের নির্বাচনী ব্যানার লাগানোর মিথ্যে অযুহাত তোলেন আ’লীগ প্রার্থীর সমর্থকেরা। এ অভিযোগে শনিবার বিকেলে সাকোকাঠী মিশুকস্টান্ডে বসে প্রকাশ্যে রনো দাসকে অমানুষিক নির্যাতন করে আ’লীগ প্রার্থীর কর্মীরা।
রনো দাসের বৃদ্ধা মাতা মায়ারানী দাস অভিযোগ করে বলেন, শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে আ’লীগের মনোনীত প্রার্থী ফারুক মোল্লার পুত্র মামুন মোল্লার নেতৃত্বে তার সহযোগী নিক্সন মোল্লা, নাসির মোল্লাসহ ৩০/৩৫ জনে আমাদের বাড়িতে এসে আমার পুত্র রনো দাস, উত্তম দাস ও সুশীল দাসকে খুঁজতে থাকে। তাদের না পেয়ে উল্লেখিতরা আমাদের বসত ঘরে অর্তকিতভাবে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে লুটপাট চালায়। হামলাকারীরা আমার পুত্রবধূ সুমি রানী দাস, পুতুল রানী, সাগরী রানীকে বেধম মারধর করে আহতসহ শ্লীলতাহানী করে।
তিনি আরও বলেন, হামলার সময় তাদের প্রতিবেশী ভুলু দাসের বাড়িতে বিয়ের আয়োজন চলছিলো। হামলাকারীরা বিয়ে বাড়িতে আসা মেহমানদেরকেও পিটিয়ে আহত করে। হামলাকারীরা আমাদের দেশত্যাগের হুমকী দিয়ে বীরদর্পে চলে যায়। এ ঘটনার পর থেকে পুরো সংখ্যালঘুপাড়ার পুরুষ সদস্যরা পূর্ণরায় হামলার ভয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন।
মায়ারানী দাস আরও অভিযোগ করেন, হামলার পর উল্টো নাসির মোল্লা বাদি হয়ে রবিবার (৬মার্চ) ৩৫ জনকে আসামি করে থানায় তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ওই মামলায় রহমান বিশ্বাস ও সজল বিশ্বাস নামের দু’জনকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণ করেছেন। স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়ন আ’লীগের এক প্রভাবশালী নেতার সাথে রনো ঋষীর পূর্ব বিরোধের জেরধরে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালিয়ে ধানের শীর্ষ প্রতীকের পোষ্টার লাগানোর মিথ্যে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।
সরিকল ইউনিয়নের নৌকা মার্কার প্রার্থী ফারুক মোল্লার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় ধানের শীর্ষের কর্মী আজিজ মোল্লার সাথে আমার সমর্থক নাসির মোল্লার বাগ্বিতন্ডার একপর্যায়ে নাসির মোল্লাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়। এ সময় রনো ঋষি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও সে কোন প্রতিবাদ না করায় ক্ষুব্ধ কর্মীরা রনো ঋষির ওপর ক্ষিপ্ত হয়। উল্লেখ্য, ধানের শীর্ষের কর্মী আজিজ মোল্লা সরিকল ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর মোল্লার ছোট ভাই।
অপরদিকে নলচিড়া ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী (আ’লীগের বিদ্রোহী) যুবলীগ নেতা মীর মাসুদ উদ্দিন অভিযোগ করেন, তার প্রতিদ্বন্ধী নৌকা মার্কার চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকেরা শনিবার দুপুরে নলচিড়া বাজারের তার আনারস মার্কার নির্বাচনী অফিস ব্যাপক ভাংচুর করেছে। এসময় ভাংচুরের দৃশ্য ভিডিও করায় তার কর্মী রুবেল মন্ডলসহ চারজনকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। উল্টো নৌকা মার্কার কর্মী মোক্তার ফকির বাদি হয়ে ৩২ জনের নাম উল্লেখসহ ৫২ জনকে আসামি করে থানায় একটি মিথ্যে মামলা দায়ের করেন।
ফলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের তার কর্মী সমর্থকেরা পুলিশের গ্রেফতার আতংকে এখন আত্মগোপন করেছেন। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত উজিরপুরের জল্লা ইউনিয়নের স্বতন্ত্র (আ’লীগের বিদ্রোহী) চেয়ারম্যান প্রার্থী উর্মিলা বাড়ৈ অভিযোগ করেন, নৌকা মার্কার প্রার্থী ও তার সমর্থকেরা সংল্যালঘু সম্প্রদায়ের তার কর্মী সমর্থকদের বিভিন্ন ধরনের হুমকী অব্যাহত রেখেছে। এছাড়া নৌকা মার্কার পক্ষে কাজ করার অপরাধে একই উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ তাজিম মোল্লা নিজ হাতে মারধর করে আহত করেছেন শ্যাম সমদ্দার, কবির বিশ্বাসসহ চারজনকে।
বাকেরগঞ্জের রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য প্রার্থী আলহাজ্ব ইয়াকুব আলীর মোরগ মার্কার সমর্থনে শনিবার বিকেলে নির্বাচনী প্রচার চলাকালে মাইক ভাংচুরসহ মারধর করে আহত করা হয় সুমন বিশ্বাসসহ দুইজনকে। প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থী কামাল হাওলাদার ও তার সমর্থকেরা বোয়ালিয়া এলাকায় এ তান্ডব চালায়।
গৌরনদীর চাঁদশী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজনের ওপর বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতিসহ হুমকী অব্যাহত রেখেছে প্রভাবশালী কতিপয় ইউপি সদস্য প্রার্থীরা।
নির্বাচনকে সামনে রেখে এসব হামলা, মামলা ও দেশত্যাগের হুমকীর মুখে বরিশালের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষদের মধ্যে এখন চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
জেলা পুলিশ সুপার এস.এম আকতারুজ্জামান বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজনকে দেশত্যাগের হুমকি দেয়ার ব্যাপারে আমার জানা ছিলোনা। এ ব্যাপারে খোঁজ খবর নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
‘নৌকায় ভোট দিলে কেটে ভারতে
পাঠিয়ে
দেব’- সংখ্যালঘু ভোটারদের
আ.লীগের
বিদ্রোহী প্রার্থী
http://www.taza-khobor.com/
‘নৌকায় ভোট দিলে কেটে ভারতে পাঠিয়ে দেব, ভোট দিবি আনারসে।’ সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকরা এই হুমকি দিয়ে এলাকায় ভীতির সঞ্চার করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সাধারণ ভোটার বিনয় বাইন জানান, ভোরবেলা বাড়ি বাড়ি গিয়ে কিছু লোক তাদের গলায় দা ধরে বলেছে, ‘নৌকায় ভোট দিলে কেটে ভারতে পাঠিয়ে দেব, ভোট দিবি আনারসে, নইলে এলাকায় থাকতে দেব না।’
সাধারণ ভোটাররা তাদের নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন।
আওয়ামী লীগের প্রার্থী দীপঙ্কর বাছাড় দীপ বলেন, ‘মিজনুর রহমান নিশ্চিত পরাজয় জেনে আমার কর্মী সমর্থকদের এভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। কিছু কিছু এলাকায় আমার সমর্থকদের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতরাতে মিজানুরের লোকজন আমার কর্মী সমর্থকদের, বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর রামদা, হকিস্টিক ও লোহার রড নিয়ে গিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়েছে। আমি থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ এসে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।’
এ ব্যাপারে মিজানুর রহমান মন্টু বলেন, ‘আওয়ামী লীগের প্রার্থী আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমার কর্মী সমর্থকরা হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেনি। আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী পরাজয় জেনে এভাবে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।’
এ ব্যাপারে আশাশুনি থানার ওসি মুন্সি আসাদুজ্জামান বলেন, ‘শুনেছি কাদাকাটিতে একটু ঝামেলা হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এখনো বিস্তারিত জানতে পারিনি।’
শনিবার ভোররাতে কাদাকাটি ইউনিয়নের সোনাই, তালবাড়িয়া ও ঝিকরা গ্রামের হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় গিয়ে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত বিদ্রোহী প্রার্থী মিজানুর রহমান মন্টুর সমর্থকরা সাধারণ ভোটারদের এই হুমকি দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সাধারণ ভোটার বিনয় বাইন জানান, ভোরবেলা বাড়ি বাড়ি গিয়ে কিছু লোক তাদের গলায় দা ধরে বলেছে, ‘নৌকায় ভোট দিলে কেটে ভারতে পাঠিয়ে দেব, ভোট দিবি আনারসে, নইলে এলাকায় থাকতে দেব না।’
সাধারণ ভোটাররা তাদের নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন।
আওয়ামী লীগের প্রার্থী দীপঙ্কর বাছাড় দীপ বলেন, ‘মিজনুর রহমান নিশ্চিত পরাজয় জেনে আমার কর্মী সমর্থকদের এভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। কিছু কিছু এলাকায় আমার সমর্থকদের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতরাতে মিজানুরের লোকজন আমার কর্মী সমর্থকদের, বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর রামদা, হকিস্টিক ও লোহার রড নিয়ে গিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়েছে। আমি থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ এসে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।’
এ ব্যাপারে মিজানুর রহমান মন্টু বলেন, ‘আওয়ামী লীগের প্রার্থী আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমার কর্মী সমর্থকরা হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেনি। আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী পরাজয় জেনে এভাবে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।’
এ ব্যাপারে আশাশুনি থানার ওসি মুন্সি আসাদুজ্জামান বলেন, ‘শুনেছি কাদাকাটিতে একটু ঝামেলা হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এখনো বিস্তারিত জানতে পারিনি।’
রামগড়ে এক পাহাড়ি নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ
রামগড়: খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার পাতাছড়া ইউনিয়নের পাকলা পাড়ায় ২৮ বছর বয়সী এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্বামীর সাথে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর ভিকটিম ওই নারী বর্তমানে তার মায়ের সাথে বসবাস করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানায়, গতকাল রবিবার (২০ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পাতাছড়া – নাভাঙা রাস্তায় ব্রিক সোলিঙ কাজে কর্মরত মোঃ নুরুল হুদা (বয়স- ৩১, পিতা- মৃত আবু তাহের, গ্রাম- আনন্দ পাড়া, রামগড়) নামে এক শ্রমিক ওই নারীকে প্রলোভন দেখিয়ে জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। পরে ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় যুবকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মোঃ নুরুল হুদাকে হাতেনাতে ধরে ফেলতে সক্ষম হয়।
এ ঘটনার কিছুক্ষণ পর গুইমারা সাবজোন থেকে জনৈক ওয়ারেন্ট অফিসারের নেতৃত্বে ৪ গাড়ি আর্মি সেখানে যায়। এরপর তারা ওই নারীর ক্ষতিপূরণ বাবদ নুরুল হদাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে বিষয়টি মিটমাট করে দেয় এবং নুরুল হুদাকে তাদের হেফাজতে নিয়ে যায় বলে জানা গেছে।
নারী উত্যক্তকে কেন্দ্র করে মন্দিরে হামলা, হিন্দুবাড়িতে আগুন
১৮-০৩-২০১৬
নেত্রকোনা প্রতিনিধি: জেলার কলমাকান্দা উপজেলার বড়খাপন ইউনিয়নের দত্তখিলা গ্রামে ধর্মীয় কীর্তন চলাকালে স্থানীয় কয়েকটি যুবককে মন্দিরে নারীদের উত্যক্ত করার সময় বাধা দিলে ক্ষোভে মন্দিরের পাশের একটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় আগুন নিভাতে গিয়ে একজন আহত হয়।
বৃহস্পতিবার রাত তিনটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে শুক্রবার সকালে কলমাকান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
নাম প্রকাশে অনিছুক মন্দির কমিটির সদস্য জানান, জেলার কলমাকান্দার বড়খাপন ইউনিয়নের দত্তখিলা গ্রামে হরিমন্দিরে গত মঙ্গলবার থেকে কীর্তন উৎসব শুরু হয়। ওই উৎসবে বৃহস্পতিবার রাত তিনটার দিকে মুসলিম উদ্দিনের ছেলে ইসমাইল উদ্দিন (১৮), নজরুল উদ্দিনের ছেলে মোস্তাক ইসলাম (১৯), নজরুল ইসলামের ছেলে জসিম উদ্দিন (১৭) সহ আরও ১৫ থেকে ২০ জন যুবক কীর্তনে এসে মেয়েদের উত্যক্ত করলে মন্দির কমিটির সদস্য মনোরঞ্জন তালুকদারের কাকাত ভাই সুভাষ তালুকদার ওই যুবকদের বাধা দিলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে মন্দিরে আগুন ধরিয়ে দেয়ার চেষ্টা চালায়।
এ পর্যায়ে মন্দিরে উপস্থিত লোকজনের বাধার মুখে তারা চলে যায়। কিছুক্ষণ পর মন্দিরের পাশে কীর্তন উৎসব কমিটির সদস্য মনোরঞ্জন তালুকদারের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে এলাকাবাসী আগুন নেভায়। আগুন নেভাতে গিয়ে কীর্তনীয় দলের বাদক সমীরন হাজংয়ের হাতে আগুন লাগে। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
এই ঘটনায় শশীভূষণ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কলমাকান্দা থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
কলমাকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহাবুব আলম জানান, খবর পেয়ে সকালে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। পুলিশ সেখানে নিয়মিত টহল দিচ্ছে। এলাকার পরিস্থিতি এখন শান্ত। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চলছে।
কক্সবাজারে হিন্দু পরিবারের ওপর হামলা ও বসতভিটা দখল
18.03.16
কক্সবাজার: সদর উপজেলার জালালাবাদ জলদাস পাড়ায় আওয়ামী লীগ নেতার নেতৃত্বে রাতের আঁধারে এক হিন্দু পরিবারের ওপর হামলা ও তাদের বসতভিটা দখল করা হয়েছে। এ সময় সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন ৪ জন। এছাড়া স্বর্ণালংকার ও টাকা লুটেরও অভিযোগ উঠেছে।
গত ৯মার্চ ২০১৬ তারিখে হিন্দুদের পক্ষ হতে জেলা জজ আদালতে অভিযুক্ত সাইফুল মেম্বারের বিরুদ্ধ একটি মামলা করা হয়। থানায় গ্রেফতারের নোটিস আসলেও কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না পুলিশ। প্রতিদিন পুলিশের সামনে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে সন্ত্রাসীরা।
অভিযোগে জানা গেছে, দীর্ঘ ৭০/৮০ বছর ধরে নিজ দখলীয় জমিতে বসবাস করে আসছিলেন মৃত সূর্য কুমার জলদাসের ছেলে সুদর্শন জলদাস। আহত সুদর্শন জলদাস অভিযোগ করে বলেন, ইসলামাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম মেম্বারের নেতৃত্বে প্রভাবশালী চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে তাদের ভোগদখলীয় বসতভিটা দখলে নিতে উঠেপড়ে লাগে। দখল ছেড়ে দিতে তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেয়।
৭ জানুয়ারি রাতে সাইফুলের নেতৃত্বে ২০/৩০ জনের সন্ত্রাসী দল জোরপূর্বক সুদর্শন জলদাসের বাড়িতে হামলা করে তাদের বসতভিটা দখলে নেয়। তাদের রাতের আঁধারে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এতে বাধা দিতে গিয়ে দখলদারদের হামলায় সুদর্শন জলদাস, তার স্ত্রী অঞ্জলি দাস, ছেলে সোহেল দাস ও ভাইয়ের বউ সাগতা আহত হন। আহতদের জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঈদগাহ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই মিনহাজ জানান, এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন সুদর্শন জলদাস।
ঘটনাটির একদিন পর এক পর্যায়ে বৃহত্তর ঈদগাহে হিন্দুরা কালী বাড়ি মন্দিরের জড়ো হয়। সবাই সিদ্ধান্ত নেন পরের দিন মানববন্ধন করে জেলাপ্রসাশকের নিকট স্বারকলিপি প্রদান করা হবে। এমন সময় কক্সবাজার সদর আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি আবু তালেব বিষয়টি আমলে নেন এবং তিনি বৃহত্তর ঈদগাহ কালী বাড়ি কমিটির সভাপতি উত্তম রায় পুলককে ফোন করে এ বিচারটি তিনি করার সিদ্ধান্ত দেন। বিচারে দিন আজ না কাল, কাল না পরশু এভাবে চলতে থাকে।
অবশেষে ঘটনার ১০দিন পর বিচারের দিন ধার্য করা হয় ১৭ জানুযারি ২০১৬ইং তারিখে বিকাল ৩টায়। ঐ দিন সকালে এমপি (সংসদ সদস্য) সায়েমুন সরওয়ার কমল দেখা করলে তিনিও উপযুক্ত বিচার করার আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘আমি আবু তালেবকে বলে দেব।’
বিচারের দিন আবার বলেন দুই তিন দিন পর আরেকটি বিচারের দিন দেওয়া হবে। ঘটনা ২মাস পার হলেও এখনো বিচারের দিন হল না। গত ৬ মার্চ হিন্দুদের বিরুদ্ধে ১৪৪ ধারা জারি করে এবং ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।
ঘটনার ১ম আসামি আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম মেম্বার হিন্দুদের বলেন, “তোমরা বাংলাদেশে কয় জন হিন্দু আছ? ধানের খড় দিয়ে পোড়া দিলেও খড় বেচে যাবে।” মাস্তান দিয়ে আরো বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিচ্ছেন তিনি। হিন্দুরা এখনও হুমকির মুখে আছে।
ঘটনার পর দিন সদর মডেল থানায় মামলা দিলেও মামলা নেয়নি পুলিশ। অবশেষে গত ৯মার্চ ২০১৬ তারিখে হিন্দুদের পক্ষ হতে জেলা জজ আদালতে সাইফুল মেম্বারের বিরুদ্ধ একটি মামলা করা হয়। থানায় গ্রেফতারের নোটিস এলেও কোন ধরনের ব্যবস্হা এখন পর্যন্ত গ্রহণ করেনি পুলিশ।
১৬-০৩-২০১৬
বরিশাল প্রতিনিধি: বহিরাগতদের আনাগোনায় উজিরপুরের জল্লা ইউনিয়নে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটাররা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও আতংকে দিন কাটাচ্ছেন। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে অস্ত্রধারী বহিরাগতরা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জল্লা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নেওয়ায় ওই এলাকার নিরীহ সাধারণ মানুষ অজানা আতংকে রয়েছেন।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন আগে কুরালিয়া গ্রামে এক বাড়িতে গভীর রাতে দুবৃর্ত্তরা হানা দিয়ে এক বৃদ্ধকে মারধর করে তার এস.এস.সি পরীক্ষার্থী মেয়েকেও নির্যাতন করেছিল। সেই আতংক এখনও তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে ওই এলাকার কয়েকটি পরিবারকে।
উজিরপুরে জল্লা ইউনিয়নের আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী উর্মিলা বাড়ৈ অভিযোগ করেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান ইকবালের ভাই মিল্টন তার বাহিনী নিয়ে প্রতিনিয়ত জল্লার বিভিন্ন এলাকায় হানা দিচ্ছে। তার সাথে থাকা ২০/৩০টি মটর সাইকেলে অপরিচিত যুবকরা ঢুকছে জল্লা ইউনয়নের বিভিন্ন অলিগলিতে। তাদের ভয়ে ওই ইউনিয়নের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটাররা আতংকিত হয়ে নির্বাচন আদৌ সুষ্ঠু ও শান্তিপুর্ণ হবে কিনা, তা নিয়ে শংকা প্রকাশ করেছেন। তার ভোটার ও সমর্থকদের নানা ভাবে হুমকী দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জল্লা ইউনিয়নের একাধিক শ্রেনী-পেশার মানুষ অভিযোগ করেছেন, ভোট কারচুপি করার জন্য উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান ইকবালের ইচ্ছামত নির্বাচন কমিশন পার্শবর্তী ওটরা ইউনিয়নের বিভিন্ন সরকারী ও বে-সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার নিয়োগ করানো হচ্ছে, যাতে করে জল্লা ইউনিয়নে ইকবালের ঘনিষ্টজন ও আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী বিশ্বজিৎ হালদার নান্টুকে যে কোন মূল্যে চেয়ারম্যান বানানোর জন্য নির্বাচন পরিচালনায় নিয়োগকৃত ওই সকল কর্মকর্তারা ভোট কারচুপি করার ক্ষেত্রে ব্যাপক সহায়তা করবেন বলে জল্লা ইউনিয়নবাসীর মধ্যে একটি আতংক তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী মিজানুর রহমান জানিয়েছেন বহিরাগতদের আনাগোনায় সাধারণ ভোটাররা বেশ চিন্তিত। সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে প্রশাসনকে জল্লায় বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতে কঠোর হতে হবে, তা না হলে ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে যেতে পারবে না।
উল্লেখ্য, ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উজিরপুরের উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান ইকবাল জল্লা ইউপি চেয়ারম্যান উর্মিলা বাড়ৈকে একাধিকবার লাঞ্চিত করেছেন। ওই বিরোধের রেশ ধরেই জল্লায় উর্মিলা বাড়ৈকে ইকবাল তার ব্যক্তিগত আক্রোশ পুরন করার জন্য আওয়ামীলীগের মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত করেছে। উর্মিলা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বে-কায়দায় পড়েছেন ইকবাল। এ কারনে ইকবাল—উর্মিলার প্রেস্টিজ লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে জল্লার ইউপি নির্বাচন।
এ বিষয়ে উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্য মোঃ নূরুল ইসলাম পিপিএম জানিয়েছেন ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে যেতে কেউ যাতে বাধা দিতে না পারে সেদিকে তাদের নজর রয়েছে। বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ : সিলেটে যুবলীগ নেতার হাতে ব্যবসায়ী খুন!
16.03.16

নগরীর রায়নগরে মঙ্গলবার মধ্যরাতে প্রতিপক্ষের হামলায় বিপ্লব রায় বিকল (২৮) নামে এক মুদি দোকানীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত বিকল শহরতলীর মেজরটিলা ভাটপাড়া এলাকার প্রয়াত বিজয় লালের পুত্র। এ ঘটনায় বিকলের আরো তিন বন্ধু আহত হয়েছেন। তারা হচ্ছেন-রায়নগর ১৯ নম্বর গলির হরিলাল দাসের পুত্র শুভ লাল দাস (২০) ও তার সহোদর অনন্ত লাল দাস (২৮) এবং রায়নগর সেবক ১৩৩ নম্বর বাসার স্বপন দে’র পুত্র প্রীতম দে (২৬)। এ ঘটনার জন্য ১৮ নং ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা জাবেদ সিরাজের সহোদর জমসেদ সিরাজ ও তার সহযোগীদের দায়ী করেছেন নিহতদের স্বজনরা। জমসেদ আগে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। এ ঘটনার ব্যাপারে দু ধরণের বক্তব্য পাওয়া গেছে। নিহতের স্বজনদের বক্তব্য হচ্ছে-ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় বিকলের মৃত্যু হয়েছে। তবে, অন্য পক্ষের বক্তব্য হচ্ছে-জমসেদ সিরাজের সম্মুখে পায়ে পা তুলে বসায় এ ঘটনা ঘটেছে।
হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, নিহতের স্ত্রী সুপ্তা রাণী রায়সহ পরিবারের অন্য সদস্যরা বার বার মুর্চ্ছা যাচ্ছিলেন। এ সময় তাদের সান্তনা দেয়ার ভাষা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। স্বজনরা জানান, গত ৪ ফাল্গুন সুপ্তাকে বিয়ে করেন বিকল। বিয়ের এক মাসের মাথায় স্বামী হারালেন সুপ্তা।
ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৫ নং ওয়ার্ডের কর্তব্যরত নার্স অনিতা জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে বিকলের মৃত্যু হয়েছে। রাত দেড়টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক রুবেল তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বিকলের বুকের বাম পাশে আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে জানান তিনি।বিকলের বন্ধু শুভলাল দাস জানান, রাত ১১টার দিকে বিকল ও প্রীতম হযরত দাদা পীর (র.) মাজার এলাকায় আড্ডা দিচ্ছিল।
এ সময় জমসেদ সিরাজ বিপ্লবকে ডেকে নেয়। সেখানে বিপ্লবের সাথে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে জমসেদ ও তার সহযোগীরা তাদেরকে মারধর করতে থাকে। খবর পেয়ে প্রীতম, শুভ ও অনন্ত ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে যাওয়ার পর তাদেরকেও মারধর করে জমসেদ ও তার সহযোগীরা। মারধরে গুরুতর আহত হলে রাত সোয়া ১২টার দিকে তাদেরকে ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিকলসহ চারজনকে ভর্তি করা হয় ওসমানী হাসপাতালের ৫ নং ওয়ার্ডে। সেখানে বিকলের শরীরে দুই ব্যাগ রক্ত পুশ করা হলেও তার শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে থাকে। এক পর্যায়ে রাত দেড়টার দিকে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আহত অনন্ত লাল দাস জানান, এ হামলায় জমসেদ সিরাজ ছাড়াও তার সহযোগী কবির, জীবন ও রুবেল অংশ নেয়।
মঙ্গলবার রাতে ওসমানী হাসপাতালে গিয়ে জানা যায়, আহতদের নিয়ে প্রথমে জমসেদ সিরাজ ওসমানী হাসপাতালে যায়। বিকলের মৃত্যু ঘটলে এক পর্যায়ে সে হাসপাতাল থেকে চম্পট দেয়।
জানা গেছে, ৪ ভাই ও এক বোনের মধ্যে বিকলের অবস্থান ছিল দ্বিতীয়। তাদের গ্রামের বাড়ি বিশ্বনাথের লহরী গ্রামে। আগে তারা রায়নগর এলাকায় ভাড়াটে হিসাবে বসবাস করতেন। গত তিন মাস ধরে মেজরটিলা এলাকায় সপরিবারে বসবাস করছেন তারা।
খবর পেয়ে রাত আড়াইটার দিকে কোতয়ালী থানার ওসি সোহেল আহমদসহ পদস্থ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তিনি জানান, রায়নগরে জাবেদ সিরাজের ভাইয়ের সাথে ছাত্রলীগের অপর একটি দু’গ্রুপের মারামারি হয়েছিল। এ নিয়েই মূলত এ মর্মান্তি ঘটনা ঘটেছে।
মঠবাড়িয়ায় সংখ্যালঘু গৃহবধূকে ধর্ষণ চেষ্টা, যুবক গ্রেপ্তার
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় সংখ্যালঘু এক গৃহবধূকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে আনোয়ার হোসেন রিপন কাজী (৩৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উপজেলার গুলিসাখালী ইউনিয়নের লক্ষ্মনা গ্রামের স্থানীয় জনতা আজ মঙ্গলবার ওই বখাটেকে আটক করে থানায় সোপর্দ করলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
এ ঘটনায় ওই গৃহবধূর শ্বশুর বাদী হয়ে মঠবাড়িয়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তার রিপন লক্ষ্মনা গ্রামের মতিউর রহমান কাজীর ছেলে।
এ ব্যাপারে মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ভুক্তভোগি গৃহবধূকে বাড়িতে একা পেয়ে প্রতিবেশী বখাটে আনোয়ার হোসেন রিপন কাজী ঘরে ঢুকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় গৃহবধূর চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে রিপনকে আটক করে থানায় সোপর্দ করে। আজ মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে গ্রেপ্তারকৃত বখাটেকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

No comments:
Post a Comment