নবাবগঞ্জ থানায় জিডি করায় হিন্দু পরিবারের সর্বস্ব লুটের অভিযোগ
Date:
ঢাকার নবাবগঞ্জে থানায় জিডি করায় এক হিন্দু পরিবারের বাড়িতে হানা দিয়ে বিনা অনুমতিতে ঘরে প্রবেশ করে সর্বস্ব লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার সকালে নয়নশ্রী ইউনিয়নের বড় তাসুল্ল্যা গ্রামের রঞ্জিত কর্মকারের স্ত্রী মালতী কর্মকার অভিযোগ করে বলেন, সোমবার দুপুরে উপজেলার চরখলসী গ্রামের সোহেল নামে এক যুবকের নেতৃত্বে লুট ও হামলা হয়েছে।

মালতী কর্মকার বলেন, বড় তাসুল্ল্য্যা গ্রামের সন্তুষ কর্মকারের পুত্র আমার স্বামী রঞ্জিত কর্মকার বাংলাবাজার ’ মা জুয়েলার্স” এর কর্ণধার। পরিবারিক বিবাদের কারনে প্রায় ১ মাস ১০দিন আগে তিনি বাড়ী থেকে চলে গিয়ে নিখোঁজ হন। এখনো আমরা তার কোন সন্ধান পায়নি।
দশদিন আগে চরখলসী গ্রামের সোহেল নামে এক যুবক হঠাত বাড়িতে এসে দাবি করে রঞ্জিত তার কাছ থেকে সুদে ৫০ হাজার টাকা ধার নিয়েছে। রঞ্জিত নিখোঁজ এই কথা শুনার পর সোহেল তার বাড়ী লুট করার হুমকি দেয়। সংবাদ পেয়ে স্থানীয় বর্তমান চেয়ারম্যান পলাশ চৌধুরী এসে আগামী ৭ই মে ইউপি নির্বাচনের পর ঘটনাটি মিমাংসার আশ্বাস দেন।
ভয়ে গত শুক্রবার সোহেলের বিরুদ্ধে নবাবগঞ্জ থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেন মালতী। থানায় ডায়েরী করায় ক্ষিপ্ত হয়ে সোমবার দুপুরে সোহেল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ প্রায় ২০/২৫ জন সাঙ্গপ্রাঙ্গ নিয়ে এসে তার বাড়ীতে হামলা করেন। এই সময় প্রাণ ভয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান তিনি।
তার ও পরিবারের সকলের অনুপস্থিতে হামলাকারীরা ঘরে তান্ডব চালিয়ে কিস্তির নগদ ৮১ হাজার টাকা, ৪০ ভরি রূপা, ৪ ভরি স্বর্ণ, প্রায় ১ কেজি ওজনের পিতলের একটি গণেশের মূর্তি, ফ্রিজ, টিভি, মোবাইলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্রসহ প্রায় ৭/৮ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়ার সময় বাড়িঘরেও ভাংচুর চালায় হামলাকারীরা। তাদের হুমকির কারনে প্রতিবেশীরাও সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসতে সাহস পায়নি বলে অভিযোগ করেন মালতী কর্মকার।
স্থানীয় ও প্রতিবেশীরা প্রেসমিয়িা টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, মালতী কর্মকারের স্বামী রঞ্জিত কর্মকার বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে ধারে ও সুদে টাকা এনে জুয়েলার্সের ব্যবসা করতো। সোহেলের কাছ থেকেও সে কিছু টাকা এনেছিল বলে শুনেছি। তাই বলে রঞ্জিত ও তার পরিবারের কারো উপস্থিতি ছাড়া হামলা করে সর্বস্ব লুট করে নিয়ে যাবে। এটা কোনভাবেই কাম্য হতে পারেনা।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সোহেলের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
নবাবগঞ্জ থানার এএসআই জয়নাল আবেদিন 24Khobor.com কে বলেন, ভোক্তাভোগী মহিলা ভয় পেয়ে শুক্রবার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেছিল। সোমবার হামলা ও লুটের ঘটনার পর সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে।
এঘটনায় জড়িত সন্দেহে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমানিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা লৌহজংয়ে হামলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ১৫টি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট, আহত ২০
25.04.16
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি: নৌকা প্রতীকে ভোট দেওয়ায় পরাজিত আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মী সমর্থকরা শনিবার রাতে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে খিদিরপাড়া ইউনিয়নের পিংরাইল গ্রামে হামলা চালিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের ১৫টি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করেছে।
এ সময় বাঁধা দিলে ধারালে অস্ত্র দিয়ে ২০ থেকে ২৫ নারী ও পুরুষ সমর্থকে আহত হয়েছে।
আহতদের মধ্যে বৃদ্ধ কৃষ্ণ পোদ্দার, সুদেব ঢালী, তাপষ পোদ্দার, দীন বন্ধু, রিপন মল্লিক, গনেশ রায়, মহাদেব সরকার, সাধনা রনী, গোবিন্দ রায় ও খগেন মল্লিকসহ অপর আহতদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গ্রামবাসী জানায়, শনিবার রাতে খিদিরপাড়া ইউনিয়নের নির্বাচনি ফলাফল ঘোষনার পর আওয়ামী লীগের পরাজিত চেয়ারম্যান প্রর্থী শাহ নেওয়াজ মৃধার কর্মী সমর্থকরা নৌকা প্রতীকের সমর্থক হিন্দু সম্প্রদায়ের একাধিক বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লাটপাট তান্ডব চালায়। এ সময় বাড়িঘরে থাকা নারী-পুরুষকে এলোপাতাড়ি মারধর করে।
ক্ষতিপ্রস্থরা জানায়, শ্রীদাম সরকারের বাড়ি, বটো কৃষ্ণের বাড়ি, দীন বন্ধুর বাড়ি, নরউত্তম সরকার, শুবল সরকার, বকুল সরকার, ভাগ্য রানী মন্ডলের বাড়ি সহ একটি মন্দির ভাংচুর করে। এবং স্বর্নালংকারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুটপাট করে নিয়ে যায়।
লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন জানান, খবর পেয়ে রবিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। এছাড়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেখানে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয় এবং এ ঘটনায় থানায় মামলা রুজু করার বিষয়টি পক্রিয়াধীন রয়েছে।
এইবেলাডটকম
স্কুলছাত্রী কণিকা ঘোষ হত্যায় শিক্ষামন্ত্রীর নিন্দা, তদন্তে পদক্ষেপ
২৮-০৫-২০১৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জ: ‘খবরের কাগজ ও পত্রপত্রিকা সংগ্রহ করে পড়ার অভ্যাস ছিল আমার মেয়ের। সে প্রায়ই বলত, লেখাপড়া করে শিক্ষক হবে। সব দুঃখ দূর করবে। সে নানান খবর আমাকে পড়ে শোনাত। আজ সে-ই খবর হয়ে গেল।’
বখাটে যুবকের হাঁসুয়ার এলোপাতাড়ি কোপে নিহত স্কুলছাত্রী কণিকা ঘোষের শোকার্ত মা এভাবেই বিলাপ করছিলেন।
নিহত কণিকা ঘোষ (১৬) মহিপুর এস এ এম উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী ছিল। আহত হয়েছে তার তিন সহপাঠী। আহতরা হলো তার সহপাঠী তানজিলা খাতুন, মরিয়ম খাতুন ও তারিন আফরোজ। তারা শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফিরছিল।
হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয় লোকজন বখাটে আবদুল মালেককে (২৬) হাঁসুয়াসহ আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
শুক্রবার সকালে উপজেলার গোবরাতলা ইউনিয়নের মহিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মাধ্যমিক শিক্ষার রাজশাহী অঞ্চলের উপপরিচালককে ঘটনাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, আবদুল মালেক মাদকাসক্ত ও বখাটে। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তিনি প্রায়ই হাঁসুয়া হাতে ঘুরে বেড়াতেন এবং লোকজনকে ভয় দেখাতেন। এর আগেও তিনি একাধিক লোকের ওপর হামলা চালিয়েছেন। মাদক সেবন করে মাতলামি করার অপরাধে বছর দেড়েক আগে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁকে কারাদণ্ড দিয়েছিলেন।
গোবরাতলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আসজাদুর রহমান বলেন, মহিপুর কলেজের শিক্ষক রুহুল আমিনের কাছে প্রাইভেট পড়া শেষ করে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ওই চার ছাত্রী একসঙ্গে বাড়ি ফিরছিল। মহিপুর মোড় থেকে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে গ্রামের পাকা রাস্তার ওপর আবদুল মালেক হাঁসুয়া নিয়ে পেছন থেকে অতর্কিত হামলা চালান ওই ছাত্রীদের ওপর। মালেকের এলোপাতাড়ি কোপে শিক্ষার্থীরা গুরুতর আহত হয়। তাদের চিৎকারে লোকজন এগিয়ে এসে ছাত্রীদের তিনজনকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে ও একজনকে স্থানীয় সেবা ক্লিনিকে নিয়ে যায়। সদর হাসপাতালের চিকিৎসকেরা কণিকা ঘোষকে মৃত ঘোষণা করেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) শফিকুল ইসলাম বলেন, কণিকার মাথা, হাতের কবজি, পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে হাঁসুয়া হাতে আবদুল মালেককে পালাতে দেখে ইউপি সদস্য ইউসুফ আলী ও কলেজছাত্র আসিকুল আলম তাঁকে আটক করেন। পরে স্থানীয় লোকজন পিটুনি দেওয়ার জন্য ছুটে আসে। জনরোষের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য মালেককে আটক করে রাখেন ইউপি চেয়ারম্যান আসজাদুর রহমান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এলে মালেককে তাদের কাছে সোপর্দ করা হয়।

মহিপুর গ্রামের সুফিয়া খাতুন বলেন, তাঁদের বাড়ির সামনে হামলার ঘটনা ঘটে। হামলা থেকে বাঁচতে দৌড় দেয় কণিকা। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁদের বাড়ির উঠানে এসে লুটিয়ে পড়ে। পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টার সময় মালেক পানিতে হাঁসুয়ার রক্ত ধুয়ে ফেলে এবং নিজের রক্তমাখা জামা বদলে ফেলে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাযহারুল ইসলাম বলেন, আটক আবদুল মালেক মাদকাসক্ত ও বখাটে। তাঁর বিরুদ্ধে এর আগেও লোকজনকে হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। নিহত ছাত্রীকে আগে থেকে উত্ত্যক্ত করতেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কণিকার তিন সহপাঠী বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। শুক্রবার সন্ধ্যায় তাদের চিকিৎসার খোঁজখবর নিতে হাসপাতালে যান প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের আশ্বাস দেন।
এইবেলাডটকম
হিন্দুদের জমি লিখে নিয়ে ভারত যেতে বাধ্য করছেন জেলা আ’লীগের যুগ্ম-সম্পাদক
সংবাদ সম্মেলনে ডুমুরিয়ার ৯ চেয়ারম্যানের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
খুলনা জেলা আ’লীগের সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক গাজী আব্দুল হাদীর বিরুদ্ধে ডুমুরিয়া উপজেলার রুদাঘরা ইউনিয়নের হিন্দুদের সহায়-সম্পত্তি দখল করে রাতের আঁধারে ভারতে যেতে বাধ্য করার অভিযোগ করেছেন দলের মনোনয়নে স¤প্রতি নির্বাচিত ৯ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা। গতকাল রবিবার খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেছেন তারা। এছাড়া জেলা আ’লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবিএম শফিকুল ইসলামসহ ৪ জনের নামে আরও কয়েকটি অভিযোগ তুলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি জানান ৯ চেয়ারম্যান। সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রুদাঘরা ইউপি’র চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল খোকন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন গুটুদিয়ার চেয়ারম্যান মোস্তফা সরোয়ার। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মাগুরাঘোনার চেয়ারম্যান শেখ আবুর হোসেন, আটলিয়ার স ম আবদুল কাইয়ুম, মাগুরখালীর বিমল কৃষ্ণ সানা, ভান্ডারপাড়ার হিমাংশু বিশ্বাস, ডুমুরিয়া সদরের গাজী হুমায়ুন কবির বুলু, রংপুরের রামপ্রসাদ জোদ্দার ও ধামালিয়া ইউপির চেয়ারম্যান রেজোয়ান মোল্ল¬া। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, আ’লীগের জেলা শাখায় কিছু বেঈমান, বিশ্বাসঘাতক ও ৭১-এর পরাজিত শক্তির এজেন্ট ঘাপটি মেরে আছে। আমরা তাদের মুখোশ উন্মোচন করতে চাই। জেলা আ’লীগের যুগ্ম-সম্পাদক গাজী আব্দুল হাদী সদ্য সমাপ্ত ইউপি নির্বাচনে রুদাঘরা ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী মোস্তফা কামাল খোকনের বিরুদ্ধে তার ভাইপো তৌহিদুজ্জামানকে দাঁড় করান। এরপর তিনি ও তার আত্মীয়স্বজন মিলে নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রচারণা চালান। তারা নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে নানা মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন। আব্দুল হাদী দলের নাম ব্যবহার করে নিম্ন মধ্যবিত্ত থেকে কোটিপতি হয়েছেন বলে অবহিত করে বলা হয়, তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান থাকাকালে রুদাঘরা ইউনিয়নের চহেড়া গ্রামে আইনের তোয়াক্কা না করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ইটের ভাটা নির্মাণ করেছেন। তার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেও অর্থ ও ক্ষমতার কাছে পরাজিত হয়ে স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে জীবনযাপন করছেন গ্রামের মানুষ। বক্তব্যে বলা হয়, রুদাঘরার হিন্দু স¤প্রদায়ের অনেক মানুষ তার কাছে সাহায্যের জন্যে গিয়েছিল। তিনি তাদের নিরাপদে ভারতে পৌঁছে দেয়া এবং তাদের অর্থ সম্পদ পাঠিয়ে দেয়ার প্রতিশ্র“তি দিয়ে জমি জায়গা লিখে নেন। এরপর টাকা দাবি করা হলে রাতের অন্ধকারে ভারতে চলে যেতে বাধ্য করেছেন। ভারতে চলে যাওয়া এরকম পরিবারের অন্যতম দু’জন মধুগ্রামের কৃষ্ণপদ ভট্টাচার্য ও ভুপিন্দুর কুন্ডুর নাম উল্লেখ করে বলা হয় তাদের সম্পত্তিতে এখন হাদীর ভ্রাতুষ্পুত্র তৌহিদুজ্জামান বাস করছেন। একইভাবে নিমাই চন্দ্র সাহার জমি দলিল করে নিয়ে হাদী টাকা দিচ্ছেন না। নিমাই-এর ওয়ারেশরা টাকা পাবার জন্যে এখন নানা জায়গায় অভিযোগ জানিয়ে বেড়াচ্ছেন। সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, গাজী আব্দুল হাদী তার সহযোগী জেলা আ’লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবিএম শফিকুল ইসলামও এবং সদস্য এড. রবীন্দ্রনাথ মন্ডল ও শোভারাণী হালদার এক হয়ে ভান্ডারপাড়া, ডুমুরিয়া সদর, রংপুর, গুটুদিয়া ও মাগুরখালী ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড় করান। তারা এসব ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থীদের পরাজিত করার জন্যে সকল অপচেষ্টা করেন। কিন্তু জনগণ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ও উন্নয়ন কর্মসূচিতে আস্থা রেখে নৌকার প্রার্থীদের বিজয়ী করেছেন। তবে নির্বাচিত হয়েও আমরা স্বস্তিতে থাকতে পারছিনা উল্লেখ করে বলা হয়, নির্বাচনের সময় ওই নেতা যে সা¤প্রদায়িকতা ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সূত্রপাত করেন তাতে এখনও মদদ দিয়ে চলেছেন। এজন্যে তারা উক্ত ৪ জনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার জন্যে দলের কাছে দাবি জানান এবং ডুমুরিয়ার সা¤প্রদায়িক স¤প্রীতি ও শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্যে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
খুলনা জেলা আ’লীগের সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক গাজী আব্দুল হাদীর বিরুদ্ধে ডুমুরিয়া উপজেলার রুদাঘরা ইউনিয়নের হিন্দুদের সহায়-সম্পত্তি দখল করে রাতের আঁধারে ভারতে যেতে বাধ্য করার অভিযোগ করেছেন দলের মনোনয়নে স¤প্রতি নির্বাচিত ৯ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা। গতকাল রবিবার খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেছেন তারা। এছাড়া জেলা আ’লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবিএম শফিকুল ইসলামসহ ৪ জনের নামে আরও কয়েকটি অভিযোগ তুলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি জানান ৯ চেয়ারম্যান। সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রুদাঘরা ইউপি’র চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল খোকন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন গুটুদিয়ার চেয়ারম্যান মোস্তফা সরোয়ার। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মাগুরাঘোনার চেয়ারম্যান শেখ আবুর হোসেন, আটলিয়ার স ম আবদুল কাইয়ুম, মাগুরখালীর বিমল কৃষ্ণ সানা, ভান্ডারপাড়ার হিমাংশু বিশ্বাস, ডুমুরিয়া সদরের গাজী হুমায়ুন কবির বুলু, রংপুরের রামপ্রসাদ জোদ্দার ও ধামালিয়া ইউপির চেয়ারম্যান রেজোয়ান মোল্ল¬া। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, আ’লীগের জেলা শাখায় কিছু বেঈমান, বিশ্বাসঘাতক ও ৭১-এর পরাজিত শক্তির এজেন্ট ঘাপটি মেরে আছে। আমরা তাদের মুখোশ উন্মোচন করতে চাই। জেলা আ’লীগের যুগ্ম-সম্পাদক গাজী আব্দুল হাদী সদ্য সমাপ্ত ইউপি নির্বাচনে রুদাঘরা ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী মোস্তফা কামাল খোকনের বিরুদ্ধে তার ভাইপো তৌহিদুজ্জামানকে দাঁড় করান। এরপর তিনি ও তার আত্মীয়স্বজন মিলে নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রচারণা চালান। তারা নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে নানা মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন। আব্দুল হাদী দলের নাম ব্যবহার করে নিম্ন মধ্যবিত্ত থেকে কোটিপতি হয়েছেন বলে অবহিত করে বলা হয়, তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান থাকাকালে রুদাঘরা ইউনিয়নের চহেড়া গ্রামে আইনের তোয়াক্কা না করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ইটের ভাটা নির্মাণ করেছেন। তার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেও অর্থ ও ক্ষমতার কাছে পরাজিত হয়ে স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে জীবনযাপন করছেন গ্রামের মানুষ। বক্তব্যে বলা হয়, রুদাঘরার হিন্দু স¤প্রদায়ের অনেক মানুষ তার কাছে সাহায্যের জন্যে গিয়েছিল। তিনি তাদের নিরাপদে ভারতে পৌঁছে দেয়া এবং তাদের অর্থ সম্পদ পাঠিয়ে দেয়ার প্রতিশ্র“তি দিয়ে জমি জায়গা লিখে নেন। এরপর টাকা দাবি করা হলে রাতের অন্ধকারে ভারতে চলে যেতে বাধ্য করেছেন। ভারতে চলে যাওয়া এরকম পরিবারের অন্যতম দু’জন মধুগ্রামের কৃষ্ণপদ ভট্টাচার্য ও ভুপিন্দুর কুন্ডুর নাম উল্লেখ করে বলা হয় তাদের সম্পত্তিতে এখন হাদীর ভ্রাতুষ্পুত্র তৌহিদুজ্জামান বাস করছেন। একইভাবে নিমাই চন্দ্র সাহার জমি দলিল করে নিয়ে হাদী টাকা দিচ্ছেন না। নিমাই-এর ওয়ারেশরা টাকা পাবার জন্যে এখন নানা জায়গায় অভিযোগ জানিয়ে বেড়াচ্ছেন। সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, গাজী আব্দুল হাদী তার সহযোগী জেলা আ’লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবিএম শফিকুল ইসলামও এবং সদস্য এড. রবীন্দ্রনাথ মন্ডল ও শোভারাণী হালদার এক হয়ে ভান্ডারপাড়া, ডুমুরিয়া সদর, রংপুর, গুটুদিয়া ও মাগুরখালী ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড় করান। তারা এসব ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থীদের পরাজিত করার জন্যে সকল অপচেষ্টা করেন। কিন্তু জনগণ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ও উন্নয়ন কর্মসূচিতে আস্থা রেখে নৌকার প্রার্থীদের বিজয়ী করেছেন। তবে নির্বাচিত হয়েও আমরা স্বস্তিতে থাকতে পারছিনা উল্লেখ করে বলা হয়, নির্বাচনের সময় ওই নেতা যে সা¤প্রদায়িকতা ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সূত্রপাত করেন তাতে এখনও মদদ দিয়ে চলেছেন। এজন্যে তারা উক্ত ৪ জনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার জন্যে দলের কাছে দাবি জানান এবং ডুমুরিয়ার সা¤প্রদায়িক স¤প্রীতি ও শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্যে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

No comments:
Post a Comment