A Description of Religious Minority's condition,Historical
view,Reduction of Hindu Populations with time in Dist.
Dinajpur,Bangladesh.
Source and Published by Eibela.com
সংখ্যালঘু নির্যাতনের দিনাজপুর : প্রেক্ষিত-১

প্রিয় বালা বিশ্বাস: ২০১৪ সালের জানুয়ারী মাসে দেশের জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারা দেশেই জামায়াত-বিএনপি জোট তান্ডবলীলা চালিয়েছিল। দেশের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে চালায় নারকীয় নির্যাতন। এদের হাত থেকে রেহাই পায়নি সংখ্যালঘু আবাল, বৃদ্ধ, বনিতা কেউ-ই। এ সময় দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলা দিনাজপুরে চলে চরম অত্যাচার। মানবাধিকার সংগঠণ শারি’র হিউম্যান রাইটস মিডিয়া ডিফেন্ডার আজহারুল আজাদ জুয়েলের মাধ্যমে তুলে আনা হয় সেসকল কাহিনী। এই কাহিনীতে উঠে আসে সংখ্যালঘু নির্যাতনের চরম বিষয়। শারি’র নির্বাহী পরিচালক প্রিয় বালা বিশ্বাস সেসকল কাহিনী ধারাবাহিকভাবে পাঠকদের সামনে তুলে ধরছেন।
প্রাচীন দিনাজপুর ছিল বিশাল এক জনপদ। বংলাদেশের পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, বগুড়া, নওগাঁ, রংপুর, ভারতের মালদহ, পুর্ণিয়া, জলপাইগুড়ি, বালুরঘাট, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুরের কোনটা পুরোপুরি, কোনটার অংশ বিশেষ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে প্রাচীন দিনাজপুর জেলার অংশ ছিল। কখনো সংযোজন, কখনো বিয়োজনোর কারণে এই জেলার আয়তন বিভিন্ন সময় হ্রাস- বৃদ্ধি পায়।
১৮৩১ সাল থেকে ১৮৭০ সালের মধ্যে বগুড়া ও মালদহ জেলা সৃষ্টি হলে দিনাজপুরের আয়তন কমতে থাকে। ১৮০৮ সালে হ্যামিল্টন বুকাননের বিবরণ অনুযায়ী দিনাজপর জেলার আয়তন ছিল ৫৩৭৪ বর্গমাইল। বগুড়া ও মালদহ জেলা সৃষ্টির কারণে আয়তন কমে আসে ৩৯৪৬ বর্গমাইলে। ১৮৬৩ সালে রেভিনিউ সার্ভেয়ার মেজর শেরউইলের বিবরণীতে আয়তন দাঁড়ায় ৪৫৮৩ বর্গমাইল, ১৮৭২ সালের প্রথম আদম শুমারীর কমিশনার মি. বেভারলীর রিপোর্ট অনুযায়ী ৪১৪২ বর্গমাইল, ১৯০৪ সালে ৩৯৪৬ বর্গমাইল, পাকিস্তান সৃষ্টির পর ২৭৩৯ বর্গমাইল।
সেই বিশাল দিনাজপুর পর্যায়ক্রমে ছোট হতে হতে অনেক ছোট হয়েছে। বর্তমানে এর আয়তন মাত্র ১৪৯৪ বর্গমাইল (৩৪৩৭.৯৮ বর্গ কিলোমিটার)। কিন্তু ঐতিহ্যের গৌরব তাতে ম্লান হয়নাই। দিনাজপুর জেলায় হিন্দু, মুসলিম,বৌদ্ধ, খৃষ্টান সব ধর্মের ঐতিহ্যই বিদ্যমান। এখানে এশিয়ার সেরা টেরাকোটা খচিত কান্তজীউ মন্দির হয়েছে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে শহীদ হওয়া চেহেলগাজীদের নান্দনিক মাজার রয়েছে, বৌদ্ধ ধর্মের শিক্ষা সভ্যতার নিদর্শন নবাবগঞ্জ বিহার (সীতাকোট) রয়েছে, বাংলাদেশে খৃষ্ট ধর্মের অন্যতম প্রচারক উইলিয়াম কেরীর স্মৃতি নিদর্শন রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে দিনাজপুর জেলা সকল ধর্মের মিলনক্ষেত্র হিসেবে ঐতিহ্যের ধারক হয়ে রয়েছে। সব ধর্ম বুকে ধারণ করেছে দিনাজপুর। কিন্তু এর জন্য অতীতে সহিংসতা হওয়ার কোন নিদর্শন পাওয়া যায়নি।
এখন সহিংসতা হচ্ছে। এক তরফা সহিংসতা। হিন্দুরা আক্রান্ত হচ্ছে, কিন্তু প্রতিরোধ হচ্ছেনা। এক তরফা মার খেয়ে নির্যাতিত হতে হতে একসময় মনের দুঃখে, বিড়ম্বনা, অপমানের বোঝা নিয়ে দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছে।
পৃথিবীর সবখানে লোক বাড়ে, কিন্তু বাংলাদেশে এর ব্যতিক্রম। সংখ্যালঘুরা এখানে কমছে। বাংলাদেশে ১৯৫১ সালে হিন্দু ধর্মবলম্বীদের সংখ্যা ছিল ২৩.১ ভাগ। কিন্তু সংখ্যা কমতে কমতে এখন ৯ ভাগে নেমে এসেছে। আদম শুমারীর তথ্য থেকে দেখা যায় এই দেশে ১৯৬১ সালে ১৯.৬ ভাগ, ১৯৭৪ সালে ১৪.৬ ভাগ, ১৯৮১ সালে ১৩.৩ ভাগ, ১৯৯১ সালে ১১.৭ ভাগ এবং ২০০১ সালে ১০.৪ ভাগ হিন্দু জনগোষ্ঠী ছিল। বর্তমানে আছে মাত্র ৯ ভাগ।
এবার একটু আলোচনা করা যাক দিনাজপুর জেলায় হিন্দু ও মুসলিম জনসংখ্যার তুলনামূলক অবস্থান নিয়ে। ১৮৭২ সালে তৎকালীন দিনাজপুর জেলায় প্রথম আদম শুমারী অনুষ্ঠিত হয়। তখন এই জেলার থানা ছিল ১৭টি। থানাগুলি হলো রাজারামপুর, কোতয়ালী, ঘোড়াঘাট (রানাীগঞ্জ), কালিয়াগঞ্জ, হেমতাবাদ, বংশীহারী, গঙ্গারামপুর, পোরসা, পতœীতলা, পতিরাম, চিন্তামন, হাবড়া, নওয়াবগঞ্জ, বীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও, পীরগঞ্জ ও রানীশংকৈল। ঐ শুমারী অনুযায়ী তখন দিনাজপুর জেলায় লোক সংখ্যা ছিল ১৫ লাখ ১ হাজার ৯২৪ জন। এর মধ্যে হিন্দু ৭ লাখ ২ হাজার ২৩৫ জন, মুসলিম ৭ লাখ ৯৩ হাজার ২৩৫ জন। শতকরা হারে হিন্দু ৪৬.৮ ভাগ এবং মুসলমান ৫২.৮ ভাগ। বাকি ১.৮৪ ভাগ মানুষ ছিলেন অন্য ধর্মবলম্বী।
১৯১১ সালের আদম শুমারী রিপোর্ট অনুযায়ী দিনাজপুর জেলায় লোক সংখ্যা ছিল ১৬ লাখ ৮৭ হাজার ৬৪৯ জন। এর মধ্যে হিন্দু ৭ লাখ ৫৯ হাজার ৩০৯ জন, মুসলিম ৮ লাখ ২৪ হাজার ৩১৫ জন। শতকরা হারে হিন্দু ৪৪.৯ ভাগ এবং মুসলমান ৪৮.৮ ভাগ। ঐ শুমারীতে ১ লাখ ২ হাজার ৩১ জন জড়বাদী (০৬ ভাগ) এবং খৃষ্টান ও জৈন ধর্মাবলম্বী লোকের সংখ্যা ১৯৬৪ জন উল্লেখ করা হয়।
দেখা যাচ্ছে যে, ১৮৭২ সালে হিন্দু ও মুসলিম জনসংখ্যা যা ছিল ১৯১১ সালের আদম শুমারী অনুযায়ী সংখ্যায় তা বাড়লেও শতকরা হারে কমে যায়। ১৮৭২ সালে শতকরা হিন্দু ৪৬.৮ ভাগ এবং মুসলমান ৫২.৮ ভাগ ছিল। কিন্তু ১৯১১ সালে হিন্দু ৪৪.৯ ভাগ এবং মুসলমান ৪৮.৮ ভাগে নেমে আসে। এর কারণ হিসেবে ঐতিহাসিকগণ উল্লেখ করেন যে, ‘সাঁওতাল,ওঁড়াও, মুন্ডাসহ বিপুল সংখ্যক আদিবাসী জনগোষ্ঠী ভারত বর্ষের বিভিন্ন অঞ্চল হতে দিনাজপুর অঞ্চলে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করায় এ অবস্থার ¯ৃষ্টি হয়।’-- ইছামুদ্দিন সরকার, ‘পরিবর্তনের ¯্রােতে আদিবাসী সম্প্রদায়ের বিভাগোত্তর দিনাজপুর’- দিনাজপুর:ইতিহাস ও ঐতিহ্য- শরীফউদ্দিন আহমেদ সম্পাদিত।
‘মুসলিম আমলে দিনাজপর জেলায় মুসলিম- হিন্দুর অনুপাত ছিল ৭:৩। বুকানন যখন দিনাপুরে আসেন (১৮০৭) তখন মোট ৩০ লক্ষ জনসংখ্যার ২১ লক্ষ ছিল মুসলমান এবং হিন্দু ৯ লক্ষ (আদিবাসীসহ)। পরবর্তী এক শতকে সে সংখ্যার পরিবর্তন হয়ে মুসলিম- হিন্দু জনসংখ্যার অনুপাত দাঁড়ায় ১০.৯। এই বিপুল পরিবর্তনের কারণ ৩টি;
১. কামরুপ অঞ্চল থেকে উপজাতিদের অধিক আগমন।
২. মুঘল ও ইংরেজ শাসনামলে ভাগ্যাম্বেষণে অধিক সংখ্যক চাকুরীজীবী বর্ণ হিন্দুদের আগমন।
৩. মুসলমান জনসংখ্যার হ্রাস।
আদিবাসীদের ব্যাপকহারে দিনাজপরে অভিবাসন গ্রহণ, মুসলিম জনগোষ্ঠীর জন্মহার হ্রাস, অসাস্থ্যকার পরিবেশ জনিত মৃত্যুহার বৃদ্ধি ইত্যাদি কারণে একদিকে দিনাজপুর জেলায় মুসলিম হার কমতে থাকে অপরদিকে আদিবাসী সহ হিন্দু জনসংখ্যা বাড়তে থাকে। অনুপাত অনুযায়ী এই দুই ধর্মের লোক প্রায় সমান সমান হয়ে যায়। ১৯৪৭ সালে ভারতীয় উপমহাদেশ ভেঙ্গে যখন দুইটি নতুন রাষ্ট্রের জœম হয় তখন দিনাজপুর জেলায় হিন্দু ও মুসলিম জনসংখ্যার অনুপাত ছিল যথাক্রমে ৪৯.৮ ভাগ এবং ৫০.২ ভাগ।
পাকিস্তান সৃষ্টির পুর্বে দিনাজপুরে ৩টি মহকুমা যথাক্রমে দিনাজপুর সদর, বালুরঘাট ও ঠাকুরগাঁও মহকুমা ছিল। তিন মহকুমায় থানা ছিল ৩০টি । এখানে সেই সময়ের থানা ভিত্তিক মুসলিম ও অমুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা এবং মহকুমা ও জেলা ভিত্তিক শতকরা হার তুলে ধরা হলো:
দেখা যাচ্ছে যে বৃটিশ শাসনের সময় বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে দিনাজপুর জেলায় হিন্দু ও মুসলিম জনসংখ্যার আনুপাতিক হার অনেক কম-বেশি হলেও পাকিস্তান সৃষ্টির মুহুর্তে অনুপাত ছিল প্রায় সমান সমান। কিন্তু পাকিস্তান সৃষ্টির পর অনেক হিন্দু নতু রাজনৈতিক প্রেক্ষিত তৈরী হওয়ায় ভারতে চলে যায়। দুইটি নতুন রাষ্ট্র যে রাজনীতির সূত্র ধরে তৈরী হয় সেটা ছিল ধর্ম। অর্থাৎ সাম্প্রদায়িক রাজনীতির প্রেক্ষিত ধরে ভারত ও পাকিস্তান সৃষ্টি হয়। এ কারণে অনেকের মধ্যে এই ধারণা প্রতীয়মান হয় যে পাকিস্তান হলো মুসলমানদের রাষ্ট্র আর ইন্ডিয়া হলো হিন্দুদের রাষ্ট্র। এই সাম্প্রদায়িক ধারনা থেকে দিনাজপুর সহ বাংলাদেশের অনেক হিন্দু তখন ভারতে চলে যায় আবার অনেক মুসলিম ভারত থেকে বাংলাদেশে আসেন। তবে দিনাজপুরের হিন্দুদের ভারত যাওয়ার ঘটনা সবচেয়ে বেশি ছিল ১৯৫৪ সালে। তখন পাকিস্তান সরকার পাসপোর্ট চালুর সিদ্ধান্ত নেয়। হিন্দুদের ধারনা হয় পাসপোর্ট চালু হলে তাদের ইন্ডিয়া যাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে তারা আত্মীয়-স্বজন হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। এরকম ভয় থেকে দলে দলে হিন্দুরা ভারেতে যেতে থাকে। এরপর একটা স্থিতি অবস্থা ছিল। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক হানদাররা সাম্প্রদায়িক মনোভাব নিয়ে হিন্দুদের উপর ব্যাপক নির্যাতন চালায়। আবার বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরেও বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে হিন্দুরা নির্যাতিত হয়। যুদ্ধপরাধীদের বিচার ও ফাঁসির ঘটনাকে সামনে রেখেও হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর নীপিড়ন চলে। নীপিড়িত হিন্দুদের অনেকে ভারতে চলে যায়।
বর্তমানে বৃহত্তর দিনাজপুর জেলায় ২৩ থানা নিয়ে গঠিত। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও জেলায় ৫ থানা এবং পঞ্চগড় জেলায় ৫ উপজেলা বা থানা রয়েছে। শুধু দিনাজপুর জেলায় রয়েছে ১৩ থানা বা উপজেলা। এই ১৩ উপজেলা হলো দিনাজপুর সদর, বিরল, বোচাগঞ্জ, বিরামপুর, বীরগঞ্জ, চিরিরবন্দর, ফুলবাড়ী, হাকিমপুর, কাহারোল, খানসামা, নবাবগঞ্জ, পার্বতীপুর ও ঘোড়াঘাট।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৯১, ২০০১ এবং ২০১১ সালে আদমশুমারী অনুষ্ঠিত হয়। ৩টি আদম শুমারীতে দেখা যায় বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরেও দিনাজপুর জেলায় হিন্দু জনগোষ্ঠীর অনুপাত ক্রমান্বয়ে কমেছে।
১৯৯১ সালে দিনাজপুরের ১৩ থানায় হিন্দু জনসংখ্যা ছিল মোট জনসংখ্যার ২০.৫১ ভাগ। ২০০১ সালে তা কমে হয়েছে ১৯.৭৫ ভাগ এবং ২০১১ সালে হয়েছে ১৯.৫১। এই সময়ে বৌদ্ধ ধর্মের লোকদের সংখ্যাও ক্রমান্বয়ে কমে গেছে।
১৯৯১ সালে দিনাজপুরের ১৩ থানায় বৌদ্ধ জনসংখ্যা ছিল ০.১২ভাগ। ২০০১ সালে হয়েছে ০.০৪ ভাগ, ২০১১ সালে ০.০২ ভাগ। পক্ষান্তরে একই সময়কালে দিনাজপুর জেলায় মুসলিম ও খৃষ্টান জনসংখ্যা আনুপাতিক হারে বেড়েছে। ১৯৯১ সালে দিনাজপুর জেলায় মোট জনসংখ্যার ৭৬.৩৪ ভাগ ছিল মুসলিম। ক্রমান্বয়ে তা বেড়ে হয়েছে ২০০১ সালে ৭৭.৮৩ ভাগ এবং ২০১১ সালে ৭৮.০৩ ভাগ। খৃষ্টানদের ক্ষেত্রে দেখা যায় তারা ১৯৯১ সালে ছিলেন মোট জনসংখ্যার ০.৮০ ভাগ। আনুপাতিক হারে তাদের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২০০১ সালে ১.০৬ ভাগ এবং ২০১১ সালে ১.২৫ ভাগ।
সংখ্যালঘু নির্যাতনের দিনাজপুর প্রেক্ষিত-২

প্রিয় বালা বিশ্বাস : বাংলাদেশ পরিসংখ্যান বিভাগ থেকে সংগ্রহ করা ১৯৯১, ২০০১ ও ২০১১ সালের আদম শুমারীর দিনাজপুর জেলার তথ্য নীচে তুলে ধরা হলো;

.JPG)
সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত প্রাচীন দিনাজপুর
http://eibela.com/article/%E0%A6%95%E0%A6%B2%E0%A6%82%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%9C%E0%A6%9E%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%87-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%AA%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%A4-%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%B0
view,Reduction of Hindu Populations with time in Dist.
Dinajpur,Bangladesh.
Source and Published by Eibela.com
সংখ্যালঘু নির্যাতনের দিনাজপুর : প্রেক্ষিত-১
প্রিয় বালা বিশ্বাস: ২০১৪ সালের জানুয়ারী মাসে দেশের জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারা দেশেই জামায়াত-বিএনপি জোট তান্ডবলীলা চালিয়েছিল। দেশের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে চালায় নারকীয় নির্যাতন। এদের হাত থেকে রেহাই পায়নি সংখ্যালঘু আবাল, বৃদ্ধ, বনিতা কেউ-ই। এ সময় দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলা দিনাজপুরে চলে চরম অত্যাচার। মানবাধিকার সংগঠণ শারি’র হিউম্যান রাইটস মিডিয়া ডিফেন্ডার আজহারুল আজাদ জুয়েলের মাধ্যমে তুলে আনা হয় সেসকল কাহিনী। এই কাহিনীতে উঠে আসে সংখ্যালঘু নির্যাতনের চরম বিষয়। শারি’র নির্বাহী পরিচালক প্রিয় বালা বিশ্বাস সেসকল কাহিনী ধারাবাহিকভাবে পাঠকদের সামনে তুলে ধরছেন।
একদা দিনাজপুর
প্রাচীন দিনাজপুর ছিল বিশাল এক জনপদ। বংলাদেশের পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, বগুড়া, নওগাঁ, রংপুর, ভারতের মালদহ, পুর্ণিয়া, জলপাইগুড়ি, বালুরঘাট, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুরের কোনটা পুরোপুরি, কোনটার অংশ বিশেষ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে প্রাচীন দিনাজপুর জেলার অংশ ছিল। কখনো সংযোজন, কখনো বিয়োজনোর কারণে এই জেলার আয়তন বিভিন্ন সময় হ্রাস- বৃদ্ধি পায়।
১৮৩১ সাল থেকে ১৮৭০ সালের মধ্যে বগুড়া ও মালদহ জেলা সৃষ্টি হলে দিনাজপুরের আয়তন কমতে থাকে। ১৮০৮ সালে হ্যামিল্টন বুকাননের বিবরণ অনুযায়ী দিনাজপর জেলার আয়তন ছিল ৫৩৭৪ বর্গমাইল। বগুড়া ও মালদহ জেলা সৃষ্টির কারণে আয়তন কমে আসে ৩৯৪৬ বর্গমাইলে। ১৮৬৩ সালে রেভিনিউ সার্ভেয়ার মেজর শেরউইলের বিবরণীতে আয়তন দাঁড়ায় ৪৫৮৩ বর্গমাইল, ১৮৭২ সালের প্রথম আদম শুমারীর কমিশনার মি. বেভারলীর রিপোর্ট অনুযায়ী ৪১৪২ বর্গমাইল, ১৯০৪ সালে ৩৯৪৬ বর্গমাইল, পাকিস্তান সৃষ্টির পর ২৭৩৯ বর্গমাইল।
সেই বিশাল দিনাজপুর পর্যায়ক্রমে ছোট হতে হতে অনেক ছোট হয়েছে। বর্তমানে এর আয়তন মাত্র ১৪৯৪ বর্গমাইল (৩৪৩৭.৯৮ বর্গ কিলোমিটার)। কিন্তু ঐতিহ্যের গৌরব তাতে ম্লান হয়নাই। দিনাজপুর জেলায় হিন্দু, মুসলিম,বৌদ্ধ, খৃষ্টান সব ধর্মের ঐতিহ্যই বিদ্যমান। এখানে এশিয়ার সেরা টেরাকোটা খচিত কান্তজীউ মন্দির হয়েছে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে শহীদ হওয়া চেহেলগাজীদের নান্দনিক মাজার রয়েছে, বৌদ্ধ ধর্মের শিক্ষা সভ্যতার নিদর্শন নবাবগঞ্জ বিহার (সীতাকোট) রয়েছে, বাংলাদেশে খৃষ্ট ধর্মের অন্যতম প্রচারক উইলিয়াম কেরীর স্মৃতি নিদর্শন রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে দিনাজপুর জেলা সকল ধর্মের মিলনক্ষেত্র হিসেবে ঐতিহ্যের ধারক হয়ে রয়েছে। সব ধর্ম বুকে ধারণ করেছে দিনাজপুর। কিন্তু এর জন্য অতীতে সহিংসতা হওয়ার কোন নিদর্শন পাওয়া যায়নি।
এখন সহিংসতা হচ্ছে। এক তরফা সহিংসতা। হিন্দুরা আক্রান্ত হচ্ছে, কিন্তু প্রতিরোধ হচ্ছেনা। এক তরফা মার খেয়ে নির্যাতিত হতে হতে একসময় মনের দুঃখে, বিড়ম্বনা, অপমানের বোঝা নিয়ে দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছে।
পৃথিবীর সবখানে লোক বাড়ে, কিন্তু বাংলাদেশে এর ব্যতিক্রম। সংখ্যালঘুরা এখানে কমছে। বাংলাদেশে ১৯৫১ সালে হিন্দু ধর্মবলম্বীদের সংখ্যা ছিল ২৩.১ ভাগ। কিন্তু সংখ্যা কমতে কমতে এখন ৯ ভাগে নেমে এসেছে। আদম শুমারীর তথ্য থেকে দেখা যায় এই দেশে ১৯৬১ সালে ১৯.৬ ভাগ, ১৯৭৪ সালে ১৪.৬ ভাগ, ১৯৮১ সালে ১৩.৩ ভাগ, ১৯৯১ সালে ১১.৭ ভাগ এবং ২০০১ সালে ১০.৪ ভাগ হিন্দু জনগোষ্ঠী ছিল। বর্তমানে আছে মাত্র ৯ ভাগ।
এবার একটু আলোচনা করা যাক দিনাজপুর জেলায় হিন্দু ও মুসলিম জনসংখ্যার তুলনামূলক অবস্থান নিয়ে। ১৮৭২ সালে তৎকালীন দিনাজপুর জেলায় প্রথম আদম শুমারী অনুষ্ঠিত হয়। তখন এই জেলার থানা ছিল ১৭টি। থানাগুলি হলো রাজারামপুর, কোতয়ালী, ঘোড়াঘাট (রানাীগঞ্জ), কালিয়াগঞ্জ, হেমতাবাদ, বংশীহারী, গঙ্গারামপুর, পোরসা, পতœীতলা, পতিরাম, চিন্তামন, হাবড়া, নওয়াবগঞ্জ, বীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও, পীরগঞ্জ ও রানীশংকৈল। ঐ শুমারী অনুযায়ী তখন দিনাজপুর জেলায় লোক সংখ্যা ছিল ১৫ লাখ ১ হাজার ৯২৪ জন। এর মধ্যে হিন্দু ৭ লাখ ২ হাজার ২৩৫ জন, মুসলিম ৭ লাখ ৯৩ হাজার ২৩৫ জন। শতকরা হারে হিন্দু ৪৬.৮ ভাগ এবং মুসলমান ৫২.৮ ভাগ। বাকি ১.৮৪ ভাগ মানুষ ছিলেন অন্য ধর্মবলম্বী।
১৯১১ সালের আদম শুমারী রিপোর্ট অনুযায়ী দিনাজপুর জেলায় লোক সংখ্যা ছিল ১৬ লাখ ৮৭ হাজার ৬৪৯ জন। এর মধ্যে হিন্দু ৭ লাখ ৫৯ হাজার ৩০৯ জন, মুসলিম ৮ লাখ ২৪ হাজার ৩১৫ জন। শতকরা হারে হিন্দু ৪৪.৯ ভাগ এবং মুসলমান ৪৮.৮ ভাগ। ঐ শুমারীতে ১ লাখ ২ হাজার ৩১ জন জড়বাদী (০৬ ভাগ) এবং খৃষ্টান ও জৈন ধর্মাবলম্বী লোকের সংখ্যা ১৯৬৪ জন উল্লেখ করা হয়।
দেখা যাচ্ছে যে, ১৮৭২ সালে হিন্দু ও মুসলিম জনসংখ্যা যা ছিল ১৯১১ সালের আদম শুমারী অনুযায়ী সংখ্যায় তা বাড়লেও শতকরা হারে কমে যায়। ১৮৭২ সালে শতকরা হিন্দু ৪৬.৮ ভাগ এবং মুসলমান ৫২.৮ ভাগ ছিল। কিন্তু ১৯১১ সালে হিন্দু ৪৪.৯ ভাগ এবং মুসলমান ৪৮.৮ ভাগে নেমে আসে। এর কারণ হিসেবে ঐতিহাসিকগণ উল্লেখ করেন যে, ‘সাঁওতাল,ওঁড়াও, মুন্ডাসহ বিপুল সংখ্যক আদিবাসী জনগোষ্ঠী ভারত বর্ষের বিভিন্ন অঞ্চল হতে দিনাজপুর অঞ্চলে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করায় এ অবস্থার ¯ৃষ্টি হয়।’-- ইছামুদ্দিন সরকার, ‘পরিবর্তনের ¯্রােতে আদিবাসী সম্প্রদায়ের বিভাগোত্তর দিনাজপুর’- দিনাজপুর:ইতিহাস ও ঐতিহ্য- শরীফউদ্দিন আহমেদ সম্পাদিত।
‘মুসলিম আমলে দিনাজপর জেলায় মুসলিম- হিন্দুর অনুপাত ছিল ৭:৩। বুকানন যখন দিনাপুরে আসেন (১৮০৭) তখন মোট ৩০ লক্ষ জনসংখ্যার ২১ লক্ষ ছিল মুসলমান এবং হিন্দু ৯ লক্ষ (আদিবাসীসহ)। পরবর্তী এক শতকে সে সংখ্যার পরিবর্তন হয়ে মুসলিম- হিন্দু জনসংখ্যার অনুপাত দাঁড়ায় ১০.৯। এই বিপুল পরিবর্তনের কারণ ৩টি;
১. কামরুপ অঞ্চল থেকে উপজাতিদের অধিক আগমন।
২. মুঘল ও ইংরেজ শাসনামলে ভাগ্যাম্বেষণে অধিক সংখ্যক চাকুরীজীবী বর্ণ হিন্দুদের আগমন।
৩. মুসলমান জনসংখ্যার হ্রাস।
আদিবাসীদের ব্যাপকহারে দিনাজপরে অভিবাসন গ্রহণ, মুসলিম জনগোষ্ঠীর জন্মহার হ্রাস, অসাস্থ্যকার পরিবেশ জনিত মৃত্যুহার বৃদ্ধি ইত্যাদি কারণে একদিকে দিনাজপুর জেলায় মুসলিম হার কমতে থাকে অপরদিকে আদিবাসী সহ হিন্দু জনসংখ্যা বাড়তে থাকে। অনুপাত অনুযায়ী এই দুই ধর্মের লোক প্রায় সমান সমান হয়ে যায়। ১৯৪৭ সালে ভারতীয় উপমহাদেশ ভেঙ্গে যখন দুইটি নতুন রাষ্ট্রের জœম হয় তখন দিনাজপুর জেলায় হিন্দু ও মুসলিম জনসংখ্যার অনুপাত ছিল যথাক্রমে ৪৯.৮ ভাগ এবং ৫০.২ ভাগ।
পাকিস্তান সৃষ্টির পুর্বে দিনাজপুরে ৩টি মহকুমা যথাক্রমে দিনাজপুর সদর, বালুরঘাট ও ঠাকুরগাঁও মহকুমা ছিল। তিন মহকুমায় থানা ছিল ৩০টি । এখানে সেই সময়ের থানা ভিত্তিক মুসলিম ও অমুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা এবং মহকুমা ও জেলা ভিত্তিক শতকরা হার তুলে ধরা হলো:
দেখা যাচ্ছে যে বৃটিশ শাসনের সময় বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে দিনাজপুর জেলায় হিন্দু ও মুসলিম জনসংখ্যার আনুপাতিক হার অনেক কম-বেশি হলেও পাকিস্তান সৃষ্টির মুহুর্তে অনুপাত ছিল প্রায় সমান সমান। কিন্তু পাকিস্তান সৃষ্টির পর অনেক হিন্দু নতু রাজনৈতিক প্রেক্ষিত তৈরী হওয়ায় ভারতে চলে যায়। দুইটি নতুন রাষ্ট্র যে রাজনীতির সূত্র ধরে তৈরী হয় সেটা ছিল ধর্ম। অর্থাৎ সাম্প্রদায়িক রাজনীতির প্রেক্ষিত ধরে ভারত ও পাকিস্তান সৃষ্টি হয়। এ কারণে অনেকের মধ্যে এই ধারণা প্রতীয়মান হয় যে পাকিস্তান হলো মুসলমানদের রাষ্ট্র আর ইন্ডিয়া হলো হিন্দুদের রাষ্ট্র। এই সাম্প্রদায়িক ধারনা থেকে দিনাজপুর সহ বাংলাদেশের অনেক হিন্দু তখন ভারতে চলে যায় আবার অনেক মুসলিম ভারত থেকে বাংলাদেশে আসেন। তবে দিনাজপুরের হিন্দুদের ভারত যাওয়ার ঘটনা সবচেয়ে বেশি ছিল ১৯৫৪ সালে। তখন পাকিস্তান সরকার পাসপোর্ট চালুর সিদ্ধান্ত নেয়। হিন্দুদের ধারনা হয় পাসপোর্ট চালু হলে তাদের ইন্ডিয়া যাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে তারা আত্মীয়-স্বজন হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। এরকম ভয় থেকে দলে দলে হিন্দুরা ভারেতে যেতে থাকে। এরপর একটা স্থিতি অবস্থা ছিল। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক হানদাররা সাম্প্রদায়িক মনোভাব নিয়ে হিন্দুদের উপর ব্যাপক নির্যাতন চালায়। আবার বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরেও বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে হিন্দুরা নির্যাতিত হয়। যুদ্ধপরাধীদের বিচার ও ফাঁসির ঘটনাকে সামনে রেখেও হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর নীপিড়ন চলে। নীপিড়িত হিন্দুদের অনেকে ভারতে চলে যায়।
বর্তমানে বৃহত্তর দিনাজপুর জেলায় ২৩ থানা নিয়ে গঠিত। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও জেলায় ৫ থানা এবং পঞ্চগড় জেলায় ৫ উপজেলা বা থানা রয়েছে। শুধু দিনাজপুর জেলায় রয়েছে ১৩ থানা বা উপজেলা। এই ১৩ উপজেলা হলো দিনাজপুর সদর, বিরল, বোচাগঞ্জ, বিরামপুর, বীরগঞ্জ, চিরিরবন্দর, ফুলবাড়ী, হাকিমপুর, কাহারোল, খানসামা, নবাবগঞ্জ, পার্বতীপুর ও ঘোড়াঘাট।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৯১, ২০০১ এবং ২০১১ সালে আদমশুমারী অনুষ্ঠিত হয়। ৩টি আদম শুমারীতে দেখা যায় বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরেও দিনাজপুর জেলায় হিন্দু জনগোষ্ঠীর অনুপাত ক্রমান্বয়ে কমেছে।
১৯৯১ সালে দিনাজপুরের ১৩ থানায় হিন্দু জনসংখ্যা ছিল মোট জনসংখ্যার ২০.৫১ ভাগ। ২০০১ সালে তা কমে হয়েছে ১৯.৭৫ ভাগ এবং ২০১১ সালে হয়েছে ১৯.৫১। এই সময়ে বৌদ্ধ ধর্মের লোকদের সংখ্যাও ক্রমান্বয়ে কমে গেছে।
১৯৯১ সালে দিনাজপুরের ১৩ থানায় বৌদ্ধ জনসংখ্যা ছিল ০.১২ভাগ। ২০০১ সালে হয়েছে ০.০৪ ভাগ, ২০১১ সালে ০.০২ ভাগ। পক্ষান্তরে একই সময়কালে দিনাজপুর জেলায় মুসলিম ও খৃষ্টান জনসংখ্যা আনুপাতিক হারে বেড়েছে। ১৯৯১ সালে দিনাজপুর জেলায় মোট জনসংখ্যার ৭৬.৩৪ ভাগ ছিল মুসলিম। ক্রমান্বয়ে তা বেড়ে হয়েছে ২০০১ সালে ৭৭.৮৩ ভাগ এবং ২০১১ সালে ৭৮.০৩ ভাগ। খৃষ্টানদের ক্ষেত্রে দেখা যায় তারা ১৯৯১ সালে ছিলেন মোট জনসংখ্যার ০.৮০ ভাগ। আনুপাতিক হারে তাদের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২০০১ সালে ১.০৬ ভাগ এবং ২০১১ সালে ১.২৫ ভাগ।
সংখ্যালঘু নির্যাতনের দিনাজপুর প্রেক্ষিত-২
প্রিয় বালা বিশ্বাস : বাংলাদেশ পরিসংখ্যান বিভাগ থেকে সংগ্রহ করা ১৯৯১, ২০০১ ও ২০১১ সালের আদম শুমারীর দিনাজপুর জেলার তথ্য নীচে তুলে ধরা হলো;
সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত প্রাচীন দিনাজপুর
বাংলার ইতিহাসে একটি প্রাচীন, বৃহৎ ও গৌরবে দৃপ্ত জেলা দিনাজপুর । হিন্দু, মুসলিম,বৌদ্ধ, খৃষ্টান সহ সকল ধর্মের তীর্থ ভূমি এই দিনাজপুর জনপদ ।

এই জনপদ প্রাচীনতম সময়ে সনাতন ধর্মের লীলাক্ষেত্র ছিল। পরে প্রভাব ছড়িয়েছে বৌদ্ধ ধর্ম। পাল শাসনামলে বৌদ্ধ ধর্মের বিস্তার হয়েছিল তার প্রমাণ বর্তমান নওগাঁর সোমপুর বিহার বা পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার এবং বর্তমান দিনাজপুরের প্রাচীন নিদর্শন নবাবগঞ্জ বৌদ্ধবিহার (সীতাকোট নামে পরিচিত)। বর্তমান নওগাঁর বিরাট অংশ একসময় দিনাজপুরের অন্তর্ভুক্ত ছিল (বিশেষ করে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার এলাকা)। কালের চক্রে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠীর সংখ্যা এখন শুধু দিনাজপুর থেকেই নয়, বাংলাদেশ সহ পুরো ভারত উপমহাদেশ থেকেই হারিয়ে যেতে বসেছে! তবে বৌদ্ধ সভ্যতার যে মননশীলতা তার প্রভাব এখনো বাঙ্গালী চরিত্রে বিদ্যমান।
বৌদ্ধরা শান্তিপ্রিয় এবং নিরামিষভোজী। জীবে দয়া করার মহত্ব তাদের ধর্মীয় দর্শনে। মানুষের দুঃখ, কষ্ট, ক্লেষ দুর করতেই মহামতি গৌতম বুদ্ধ বৌদ্ধ ধর্মের উদ্ভব ঘটিয়েছেন। সম্রাট অশোকের শাসনামলে এই ধর্ম দিনাজপুর অঞ্চলের তৎকালীন জনপদকে আলোকিত করেছিল। সোমপুর বিহার ও নবাবগঞ্জ বিহার সেই আলোকবার্তাই আমাদেরকে জানান দেয়।
এখন দিনাজপুর জেলায় বৌদ্ধরা প্রায় শুন্যের কোটায়। এখন এখানে আছেন হিন্দু ও মুসলিম জনগোষ্ঠী। আছেন স্বল্প সংখ্যক খৃষ্টান। বৌদ্ধ ধর্মের পর দিনাজপুর জনপদ সনাতন ধর্মের একক আধিপত্যে বিস্তৃত হয়। কয়েকশ বছর ধরে সনাতন আধিপত্যের মাঝখানে আসে ইসলাম।
সেন শাসনামলে বাংলার শেষ স্বাধীন নরপতি লক্ষণ সেনের রাজধানী ছিল বর্তমান ভারতে মালদহ জেলার গৌড়ে। গৌড় তখন লক্ষণাবতী নামেও পরিচিত ছিল। বৃটিশ শাসনামলে বর্তমান ভারতের আওতাধীন মালদহ, দক্ষিণ দিনাজপুর, উত্তর দিনাজপুর, ও বালুরঘাট এবং বর্তমান বাংলাদেশের পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলার পুরো অংশসহ নওগাঁ, বগুড়া, রংপুরের কিছু অংশ দিনাজপুরের অন্তর্ভুক্ত ছিল।সম্রাট আকবরের শাসনামলের শেষ দিকে ১৬০০ খৃষ্টাব্দে রাজস্ব আদায়ের সুবিধার জন্য ৬টি সরকারের সমন্বয়ে দিনাজপুর জমিদারী প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৬৫ সালে বৃটিশরা দিনাজপুরকে জেলায় রুপান্তর করে। তখন এই জেলায় ১২৪টি পরগণা ছিল। এ সময় জেলার আয়তন ছিল ২১১৯ বর্গ মাইল। এরপর আরো কয়েক দফা ভাঙ্গা-গড়া চলে দিনাজপুরের। ১৮০৮ সালে হ্যামিলটন বুকানন দিনাজপুর জেলার একটি আয়তন চিত্র তুলে ধরেন। ঐ চিত্রে দিনাজপুরের আয়তন ছিল ৫৩৭৪ বর্গমাইল। তখন দিনাজপুরের ২২টি থানা ছিল। থানাগুলির নাম:গঞ্জ,
বৌদ্ধরা শান্তিপ্রিয় এবং নিরামিষভোজী। জীবে দয়া করার মহত্ব তাদের ধর্মীয় দর্শনে। মানুষের দুঃখ, কষ্ট, ক্লেষ দুর করতেই মহামতি গৌতম বুদ্ধ বৌদ্ধ ধর্মের উদ্ভব ঘটিয়েছেন। সম্রাট অশোকের শাসনামলে এই ধর্ম দিনাজপুর অঞ্চলের তৎকালীন জনপদকে আলোকিত করেছিল। সোমপুর বিহার ও নবাবগঞ্জ বিহার সেই আলোকবার্তাই আমাদেরকে জানান দেয়।
এখন দিনাজপুর জেলায় বৌদ্ধরা প্রায় শুন্যের কোটায়। এখন এখানে আছেন হিন্দু ও মুসলিম জনগোষ্ঠী। আছেন স্বল্প সংখ্যক খৃষ্টান। বৌদ্ধ ধর্মের পর দিনাজপুর জনপদ সনাতন ধর্মের একক আধিপত্যে বিস্তৃত হয়। কয়েকশ বছর ধরে সনাতন আধিপত্যের মাঝখানে আসে ইসলাম।
সেন শাসনামলে বাংলার শেষ স্বাধীন নরপতি লক্ষণ সেনের রাজধানী ছিল বর্তমান ভারতে মালদহ জেলার গৌড়ে। গৌড় তখন লক্ষণাবতী নামেও পরিচিত ছিল। বৃটিশ শাসনামলে বর্তমান ভারতের আওতাধীন মালদহ, দক্ষিণ দিনাজপুর, উত্তর দিনাজপুর, ও বালুরঘাট এবং বর্তমান বাংলাদেশের পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলার পুরো অংশসহ নওগাঁ, বগুড়া, রংপুরের কিছু অংশ দিনাজপুরের অন্তর্ভুক্ত ছিল।সম্রাট আকবরের শাসনামলের শেষ দিকে ১৬০০ খৃষ্টাব্দে রাজস্ব আদায়ের সুবিধার জন্য ৬টি সরকারের সমন্বয়ে দিনাজপুর জমিদারী প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৬৫ সালে বৃটিশরা দিনাজপুরকে জেলায় রুপান্তর করে। তখন এই জেলায় ১২৪টি পরগণা ছিল। এ সময় জেলার আয়তন ছিল ২১১৯ বর্গ মাইল। এরপর আরো কয়েক দফা ভাঙ্গা-গড়া চলে দিনাজপুরের। ১৮০৮ সালে হ্যামিলটন বুকানন দিনাজপুর জেলার একটি আয়তন চিত্র তুলে ধরেন। ঐ চিত্রে দিনাজপুরের আয়তন ছিল ৫৩৭৪ বর্গমাইল। তখন দিনাজপুরের ২২টি থানা ছিল। থানাগুলির নাম:গঞ্জ,
* রাজারামপুর,
* বীরগঞ্জ,
* বীরগঞ্জ,
* ঠাকুর
গাঁও,
* রানীশংকৈল,
* পীরগঞ্জ,
* হেমতাবাদ,
* কালিয়াগঞ্জ,
* বংশীহারি,
* জগদল,
* হেমতাবাদ,
* মালদহ,
* পোরসা,
* গঙ্গারামপুর,
* পতিরাম,
* পত্নীতলা,
* বদলগাছি,
* লালবাজার,
* চিন্তামন,
* হাবড়া,
* ক্ষেতলাল ও
* কোতয়ালী।
এরপর বিভিন্ন সময়ে দিনাজপুর অঞ্চলের আরো ভাঙ্গাগড়া হয়েছে। রাজনীতির নানান প্রেক্ষাপটে দিনাজপুর ভেঙ্গে বালুরঘাট, জলপাইগুড়ি, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় জেলা হয়েছে। ১৯৪৭ সালে দিনাজপুরের বিশাল জনপদ ভারত- পাকিস্তানের মধ্যে ভাগ হয়েছে। ভারতীয় দিনাজপুর উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর নামে ঐ দেশে পরিচিতি পেয়েছে। বাংরাদেশের দিনাজপুর ভেঙ্গে ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় নামে নতুন ২টি জেলা হয়েছে। বর্তমান যে দিনাজপুর রয়েছে বাংলাদেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় এখনো সেটা অনেক বড়ই। এই যে বিশাল আয়তনের দিনাজপুর। এতবড় জনপদের অতীত ইতিহাসে কখনো সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়না। কিন্তু বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনীতির ইতিহাসে গৌরবোজ্জল সেই অতীত এখন কলংকের জঞ্জালে নিপতিত।
* রানীশংকৈল,
* পীরগঞ্জ,
* হেমতাবাদ,
* কালিয়াগঞ্জ,
* বংশীহারি,
* জগদল,
* হেমতাবাদ,
* মালদহ,
* পোরসা,
* গঙ্গারামপুর,
* পতিরাম,
* পত্নীতলা,
* বদলগাছি,
* লালবাজার,
* চিন্তামন,
* হাবড়া,
* ক্ষেতলাল ও
* কোতয়ালী।
এরপর বিভিন্ন সময়ে দিনাজপুর অঞ্চলের আরো ভাঙ্গাগড়া হয়েছে। রাজনীতির নানান প্রেক্ষাপটে দিনাজপুর ভেঙ্গে বালুরঘাট, জলপাইগুড়ি, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় জেলা হয়েছে। ১৯৪৭ সালে দিনাজপুরের বিশাল জনপদ ভারত- পাকিস্তানের মধ্যে ভাগ হয়েছে। ভারতীয় দিনাজপুর উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর নামে ঐ দেশে পরিচিতি পেয়েছে। বাংরাদেশের দিনাজপুর ভেঙ্গে ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় নামে নতুন ২টি জেলা হয়েছে। বর্তমান যে দিনাজপুর রয়েছে বাংলাদেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় এখনো সেটা অনেক বড়ই। এই যে বিশাল আয়তনের দিনাজপুর। এতবড় জনপদের অতীত ইতিহাসে কখনো সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়না। কিন্তু বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনীতির ইতিহাসে গৌরবোজ্জল সেই অতীত এখন কলংকের জঞ্জালে নিপতিত।
For Part 3 Visit the following link-
No comments:
Post a Comment