Tuesday, February 17, 2015

Religious Minority Community in Bangladesh;FEBRUARY 2015



1.
ঝিনাইদহে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের মানববন্ধন
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি | আপডেট ২০১৫ ফেব্রুয়ারি ১৩ ১৬:৩৬:৫৫

ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন, হামলা, বাড়ি ভাংচুর ও হত্যার প্রতিবাদে শুক্রবার ঝিনাইদহ শহরের পোষ্ট অফিস মোড়ে এক মানববন্ধন কর্মসুচি পালিত হয়। কেন্দ্রীয় কর্মসুচির অংশ হিসেবে ঝিনাইদহ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ ও পূজা উদযাপন পরিষদ যৌথভাবে এ কমসূচির আয়োজন করে। ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসুচিতে হিন্দু-বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ ছাড়াও রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীরা অংশ নেন। শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই মানববন্ধন কর্মসুচিতে ব্যানার ও প্লাকার্ড হাতে নিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানান। এসময় ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার কোলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আনন্দ মোহন ঘোষের স্ত্রী রিংকু ঘোষ কান্নায় ভেঙে পড়েন । মানববন্ধন চলাকালে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি কনক কান্তি দাস, জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি নারায়ন চন্দ্র বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট সুবির সমাদ্দার, জেলা পূজা পরিষদের সভাপতি তপন শিকদার, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আক্কাস আলী, সাবেক উপ সচিব অশোক দাস, এড সুভাষ বিশ্বাস মিলন, সমির কুন্ডু, পলাশ বিশ্বাস ও শিপন প্রমুখ। সমাবেশে বক্তারা কালীগঞ্জের আনন্দ মোহন ঘোষ ও পরেশ দাস এবং ঝিনাইদহের কৃষ্ণপাড়ার প্রদিপ কুমারের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। উল্লেখ্য গত ৭ জানুয়ারী কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভায় আওয়ামী লীগের আভ্যন্তরীন কোন্দলে নিহত হন কালীগঞ্জের কোলা ইউনিয়ন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা আনন্দ মোহন ঘোষ। এঘটনায় নিহতের ভাই তপন কুমার ঘোষ বাদী হয়ে ৪৯ জনকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে এই মামলায় এখনও পর্যন্ত পুলিশ কোন আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি। আসামীরা সরকারী দলের নেতাকর্মী হওয়ায় তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এদিকে গত ৩ ফেব্রয়ারী ঝিনাইদহ শহরের কৃষ্ণপাড়ায় খুন হয় প্রদিপ কুমার দাস ও ৪ ফেব্রয়ারী কালীগঞ্জের দুলালমুন্দিয়ায় নিজ পান বরজে দুর্বৃত্তরা পরেশ দাসকে শ্বাস রোধ করে হত্যা করে।

ঝিনাইদহে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের মানববন্ধন

2.

রামগঞ্জে সংখ্যালঘুর সম্পত্তি দখল করে ঘর নির্মান


Displaying
জেলার রামগঞ্জ উপজেলার ৫নম্বর চন্ডিপুর ইউনিয়নের কামারহাঁট বাজার সংলগ্ন মাছিমপুর কামারবাড়ীর সংখ্যালঘু ভূবন কর্মকারের পরিবারের ক্রয়কৃত সম্পত্তিতে কামারহাঁট বাজারের সার ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীন হেঞ্জু ঘর নির্মান করে দখলের পায়তারা করছে। এব্যপারে ভূবন কর্মকার গতকাল বুধবার ল²ীপুর আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হেঞ্জু, বসু ও দয়ালসহ ৭/৮জন সন্ত্রাসী মঙ্গলবার ভোরে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ভূবন কর্মকারের সম্পত্তির কয়েকটি আম গাছ ও সুপারী গাছ কেটে টিন দিয়ে একটি চারপা ঘর নির্মান করে। এসময় ভূবন কর্মকার বাঁধা প্রদান করলে তাকে মারধর করার জন্য তেড়ে আসে জয়নাল আবেদীন হেঞ্জুর লোকজন। এব্যপারে ভূবন কর্মকার জানান, বিগত ত্রিশ বছর পূর্বে একই বাড়ীর মৃত রসরাজ কর্মকার থেকে তিনি ও তার ছোট বোন জয়ন্তী রানী কর্মকার সাড়ে ৬ শতাংশ জমি ক্রয় করে বাড়ী ঘর নির্মান করে বসবাস করে আসছেন। কিন্তু মঙ্গলবার ভোরে হটাৎ জয়নাল আবেদীন হেঞ্জু ও তার লোকজন ভূবন কর্মকারের ঘরের সামনে কয়েকটি আম গাছ ও সুপারী গাছ কেটে টিন দিয়ে একটি চারপা ঘর নির্মান করে। এসময় ভূবন কর্মকারের লোকজন বাঁধা প্রদান করে কোন ক্ষমতায় তিনি তার সম্পত্তিতে ঘর করছেন জিজ্ঞাসা করলে জয়নাল আবেদীন হেঞ্জু জানান, আমি রসরাজ কর্মকারের ছেলে বলরাম কর্মকারের কাছ থেকে ১ শতাংশ জমি ক্রয় করেছি।
এব্যপারে জয়নাল আবেদীন হেঞ্জু জানান, আমি ৫/৬ বছর পূর্বে বলরাম ও হারাধন কর্মকারের কাছ থেকে জমিটি ক্রয় করেছি। তারা আমাকে জমি বুঝিয়ে না দেয়ায় আমি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ধারস্থ হলে ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম আমাকে আমার সম্পত্তি বুঝিয়ে দেয়ার জন্য একটি লিখিত অনুমতিপত্র প্রদান করলে আমি আমার সম্পত্তি দখলে নিতে দোকান নির্মান করি। সম্পত্তি ক্রয়ের কোন কাগজপত্র আপনার কাছে আছে কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আমি টাকা দিয়েছি এখনো রেজিস্ট্রি করি নাই। বিক্রেতারা আমাকে আজ দিচ্ছি কাল দিচ্ছি বলে কালক্ষেপন করায় আমি আমার সম্পত্তিটি দখল করেছি। এব্যপারে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম জানান, আমি ঢাকায় আছি, ঠিক মনের করতে পারছিনা বিষয়টি। ঢাকা থেকে আসলে এ ব্যপারে আপনাদেরকে বলতে পারবো।

3.

পিরোজপুরে হিন্দু নির্যাতন বেড়েছে: শারি
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

পিরোজপুরে হিন্দু নির্যাতন বেড়েছে: শারি

পিরোজপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় জাতিগত সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন বেড়েছে। অসংখ্য হিন্দু পরিবার তাদের বাড়িঘর ছেড়ে ভারতে পাড়ি জমিয়েছে। এখনও যারা আছে, তাদের উপর নিত্য নেমে আসছে অত্যাচার আর নির্যাতনের খড়গ।
মানবাধিকার সংস্থা শারি এবং দলিত ও মাইনরিটি হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার ফোরাম নামের সংগঠনের প্রতিনিধিরা মঙ্গলবার সকালে পিরোজপুর প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেছেন।
ওই সংগঠনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় বেশ কয়েকজন সাংবাদিকদের জেলার প্রত্যন্ত এলাকা ঘুরে সংগৃহীত তথ্য ও অতি সম্প্রতি বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের উপর ভিত্তি করে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শারি’র ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর রঞ্জন বকসী নুপু।
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, জেলার নাজিরপুর উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের বানিয়ারী গ্রামে মাত্র ৯ বছরের ব্যবধানে ৩২টি হিন্দু পরিবার তাদের বাড়ি ঘর ছেড়ে ভারতে পাড়ি জমিয়েছে। এখনও যারা আছে, তাদের উপর নিত্য নেমে আসছে অত্যাচার আর নির্যাতনের খড়গ।
সোমবার সকালে সরেজমিনে পিরোজপুরের বেশ কয়েকজন সংবাদকর্মীসহ ওই এলাকায় গেলে বর্তমানে সেখানে থাকা নারী-পুরুষদের আর্তনাদ আর আহাজারী আকাশ-বাতাসকে ভারী করে তুলেছে। এই গ্রামের বিশ্বাস বাড়ি বলে খ্যাত এই গোষ্ঠীর উপর রাতের আঁধারেই নয়, দিনের আলোতেও নির্যাতন করে এলাকার শওকত, সিরাজ, মোবারেক, এবং পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে আসা মুজিবুর রহমানের লোকেরা।
২০০৪ সালে জামায়াত-বিএনপি জোট সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময় থেকেই এই জনগোষ্ঠীর উপর নির্যাতন শুরু হয়, আর তখন থেকেই আস্তে আস্তে এক এক করে ওই পরিবারগুলো দেশ ছেড়ে চলে যায়। যা বর্তমানে ভয়ংকর রূপ লাভ করেছে। ওই গ্রামের খগেন, রসিক, ক্ষিতীশ, মৃণাল ও সঞ্জিবের পরিবার এখন কোথায় আছে তার তারা কেউ বলতে পারেনি। উপরন্তু তাদের এবং নগেন্দ্র নাথ বিশ্বাসের জায়গা দখল করে সেখানে তৈরি করা হয়েছে একটি ইট ভাটা। ফসল উৎপাদনের জায়গায় ইট ভাটা হওয়ায় ফসলী জমিও প্রায় নিঃশ্বেষ হয়ে যাচ্ছে। ওই এলাকায় এখনও যারা আছেন তারা রাতের বেলায় অনেকটা পাহাড় দিয়ে ঘুমোয়। পাশাপাশি যে সম্পত্তিটুকু তাদের আছে সেখানেও চাষাবাদ করলে ফসল পাকার পরে ওই চক্র ফসল কেটে নিয়ে যায়। বললেন ওই গ্রামেরই এক হোমিও চিকিৎসক মোদাচ্ছের আলী মোল্লা।
তিনি জানালেন, এই অশুভ চক্রের কারণে এলাকার সংখ্যালঘুরা প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এলাকার নারীরা কেঁদে কেঁদে বললেন, নিজেদের জমি থাকা সত্ত্বেও এখন পরের জায়গায় দিনমজুরী করে খাবার জোগাড় করতে হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে আভিযোগ করা হয়, নাজিরপুরে স্থানীয় বিএনপি’র তিন নেতা ৩নং দেউলবাড়ি দোবড়া ইউনিয়নের গাও খালী গ্রামের প্রয়াত কালিচরণ বৈরাগীর ছেলে শ্যামল বৈরাগী ও বিধান বৈরাগীর বাগান-বাড়ীর গাছ কেটে নেয়াসহ অবৈধভাবে ঘর তুলে বাড়ি দখল করেছে। হিন্দু পরিবারটিকে দেশ ছাড়ার হুমকি দেয়া হচ্ছে। স্থানীয় মাতুব্বরসহ থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পায়নি হিন্দু পরিবারটি। গত ১২ জানুয়ারী পার্শ্ববর্তী কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়ন বিএনপি’র নেতা উপজেলার মুনিরাবাদ গ্রামের প্রয়াত সোবাহান সরদারের ছেলে কালাম সরদার, ইয়াকুব আলীর ছেলে হাসকিন ও আব্দুল মজিদের ছেলে নজরুল তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে হিন্দু পরিবারটির ভোগদখলীয় বাগানবাড়ীর প্রায় ২লাখ টাকার গাছপালা কেটে নিয়ে যায় এবং ওই বাগানবাড়িতে ৫টি ঘর করে অবৈধভাবে বাগান বাড়ী দখল করে নেয়। ওই সময় হিন্দু পরিবারটি প্রতিবাদ করলে তাদের খুন-জখমসহ দেশ ছাড়ার হুমকি দেয় তারা। বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যান মেম্বারসহ গণ্যমান্যদের জানালেও কোন প্রতিকার না পেয়ে গত ১৪ জানুয়ারী নাজিরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
মঠবাড়িয়া উপজেলার নাপিতখালী গ্রামে ৬ফেব্রুয়ারী ভোরে সার্বজনীন দূর্গা মন্দিরে দুর্বৃত্তদের দেয়া আগুনে ৩টি প্রতিমার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ওই মন্দির কমিটির সভাপতি সঞ্জিত সমদ্দার জানান, নাশকতাকারীদের দেয়া আগুনে মন্দিরের পূর্ব পাশের বেড়া পুড়ে গেছে এবং কার্তিক, দূর্গা ও স্বরস্বতীর প্রতিমা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। নাজিরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের কুমারখালী গ্রামে গত ৩০ জানুয়ারী রাতে ২টি মন্দির পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ওই গ্রামের চিন্ময় মজুমদারের বাড়ির কালী মন্দির ও পার্শ্ববর্তী একটি গঙ্গা মন্দির দুর্বৃত্তরা পুড়িয়ে দেয়।
সংবাদ সম্মেলনে মানবাধিকার সংস্থা শারি এবং দলিত ও মাইনরিটি হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার ফোরামের প্রতিনিধিরা বলেন, যখন দেশের বিভিন্ন স্থানে এক দলের ভোটাধিকার রক্ষার অভিপ্রায় আর আরেক দলের জনগণের ভোটাধিকার প্রাপ্তির দাবিতে প্রতিনিয়িত পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ হত্যার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। গত এক মাস যাবত চলমান এই ঘটনায় দেশের ক্ষতিগ্রস্থ সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী বিশেষ করে হিন্দুরা নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে পরবাসীর মত অন্যত্র গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। গত ৫ জানুয়ারী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূর্তিতে কেন্দ্র করেই শুরু হয় দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু নির্যাতন। দেশের এহেন পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দল-মত, জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকলকেই এগিয়ে আসার আহবান জানান।

4.

মঠবাড়িয়ায় মন্দিরে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা

TEMPLE DESTROYED IN MOTHBARIA ,BANGLADESH
 Saturday, February 7, 2015


পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার নাপিতখালী গ্রামের একটি সার্বজনীন দুর্গামন্দির আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। আজ শুক্রবার ভোররাতে উপজেলার নাপিতখালী সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরে এ আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটে। এতে মন্দিরের অবকাঠামো ও দুর্গা প্রতিমা পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
থানা ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, আজ শুক্রবার ভোররাতে উপজেলার মিরুখালী ইউনিয়নের নাপিতখালী গ্রামের কালু সমদ্দার বাড়ির সামনের সড়কের পাশে মন্দিরটিতে আগুন লাগায় দুর্বৃত্তরা। ভোর ৫টার দিকে স্থানীয় কৃষক শৈলেন হালদার মন্দিরটি আগুনে পুড়ে যেতে দেখে প্রতিবেশীদের ডেকে তোলেন। পরে গ্রামবাসী মিলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে মন্দিরটির টিন ও কাঠের অবকাঠামো পুড়ে গেছে। এ ছাড়া মন্দিরের দুর্গা ও কার্তিক প্রতিমা পুড়ে যায়।
নাপিতখালী সার্বজনীন দুর্গা মন্দির কমিটির সভাপতি সঞ্জিব চন্দ্র ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গত ছয় বছর ধরে গ্রামবাসী এ সার্বজনীন মন্দিরে প্রতিবছর দুর্গাপূজার আয়োজন করে আসছেন। মন্দিরের ভেতরে এ বছরের দুর্গা প্রতিমা ও পূজার অন্যান্য মালামাল রক্ষিত ছিল। মন্দিরটি সড়কের পাশে হওয়ায় দুর্বৃত্তরা নির্বিঘ্নে আজ শুক্রবার ভোররাতে আগুন লাগিয়ে দেয়। আগুনে মন্দিরটির স্থাপনা ও দুর্গা প্রতিমা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খবর পেয়ে মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ ও উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি পরিতোষ চন্দ্র বেপারী ও মিরুখালী পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি পংকজ রায় মন্দিরে দুর্বৃত্তদের আগুন দেওয়ার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। মঠবাড়িয়া থানার ওসি মো. নাসির উদ্দিন মল্লিক খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।সূত্র-কালের কণ্ঠ


5.

স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দেবিদ্বারে ইউপি চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম গ্রেফতার

  | Tuesday, February 3, 2015
1

দেবিদ্বারে নবম শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে উপজেলার গুনাইঘর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. খোরশেদ আলমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রোববার রাত ৮টায় গুনাইঘরে তার প্রতিষ্ঠিত স্কুল রোজ গার্ডেন থেকে কুমিল্লা কোতোয়ালি থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২৪ ডিসেম্বর নবম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে (১৪) ধর্ষণের অভিযোগে তার বাবা বাদী হয়ে খোরশেদ চেয়ারম্যান ও কুমিল্লা জজ কোর্টের আইনজীবী হারুন-অর-রশীদ সবুজের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলার পর থেকে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ধর্ষককে গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন করে আসছে। রোববার রাত ৮টার দিকে গুনাইঘরে খোরশেদ আলমের অস্থায়ী কার্যালয়ের পাশে অবস্থিত রোজ গার্ডেন স্কুল থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি থানার এসআই মো. সালাউদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।



6.

হিন্দু শিক্ষার্থীদের মধ্যে গরুর মাংস খাওয়ানোর অপরাধে চৌগাছা উত্তাল, স্কুল পরিদর্শন করলেন বাংলাদেশ মাইনরিটি ওয়াচ

MINORITY CHILD STUDENTS WERE FORCED TO EAT MEAT OF COW.
  Saturday, February 7, 2015

asdf.jpg
যশোরের চৌগাছা উপজেলায় সবুজ কুড়ি কিন্ডার গার্ডেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক  আবুল কালাম আজাদ বাত্সরিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষ্যে গত ৩০/১২/২০১৪ইং তারিখে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে কিন্ডার গার্ডেনের হিন্দু শিক্ষার্থীদের গরুর মাংস খাওয়ানোর অপরাধবোধ স্বীকার করেছেন। সবুজ কুড়ি কিন্ডার গার্ডেনে ৩০(ত্রিশ)জন হিন্দু শিক্ষার্থীদের অনুষ্ঠানে খাদ্য হিসাবে গরুর মাংসের প্যাকেট বিতরণ করা হয় এবং কিছু ছাত্র গরুর মাংস খাওয়ার পর বমি করলে ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবকরা জেলা প্রশাসক ও চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ঠ থানা কর্মকর্তার নিকট অভিযোগ করে। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন কর্তৃক অপরাধী অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। হিন্দু অভিভাব গন তাদের সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে শংকিত।

 


বাংলাদেশ মাইনরিটি ওয়াচের সভাপতি এড.রবীন্দ্র ঘোষ, গত ০৫/০২/২০১৫ইং তারিখে স্কুল পরিদর্শন করেন এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা করে উক্ত ঘটনার জন্য ক্ষোভ প্রকাশ
করেন এবং অভিযুক্ত  প্রধান শিক্ষক  আবুল কালাম আজাদকর্তৃক হিন্দু শিক্ষার্থীদের গরুর মাংস খাওয়ানোর অপরাধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।



7.

বন্দরে সংখ্যালঘুর খামারে আগুন : ৬ গরু দগ্ধ

নিউজ নারায়নগন্ঞ্জ | ২৮ পৌষ ১৪২১ | Sunday, January 11, 2015

বন্দরে নাশকতাকারীরা সংখ্যালঘুর গরুর খামারে অগ্নিসংযোগ করায় ৬ টি গরু দগ্ধ হয়েছে। আজ রবিবার ভোরে মাহমুদ নগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে ৪ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় খামার মালিক সুভাষ দাস বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করে। সংবাদ পেয়ে বন্দর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। খামার মালিক জানান, তিনি বন্দর থানার মাহমুদ নগর এলাকার মৃত সূর্য মোহন দাসের ছেলে সুভাষ দাস। সে দীর্ঘ দিন যাবত দুধেলা গরুর খামার করে দুধ বিক্রির করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল। গতকাল রোববার ভোরে কে বা কারা তার খামারে আগুন লাগিয়ে পালিয়ে যায়। এতে তার ৬টি গরু দগ্ধ হয়। এটি গরু ঘটনাস্থলেই মারা যায়। ২টি গরুর অবস্থা আশংকা জনক। ৩টি গরু আংশিক দগ্ধ হয়। স্থানীয় লোকজন এসে আগুন নেভায়। পুলিশের ধারনা জামাত শিবির এ ঘটনা ঘটাতে পারে। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


8.

সরিষাবাড়িতে মন্দিরে আগুন

 Wednesday, February 4, 2015

  সরিষাবাড়ি পৌরসভার সাঞ্চেরপাড় ও উটিয়ারপাড় বিদায় মহাশ্মশান কালীমাতার মন্দিরে আজ সকাল সাতটার দিকে আগুনে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, দুর্বৃত্তরা এ আগুন লাগিয়েছে। পুলিশ তা অস্বীকার করছে। আগুনে মন্দিরের তিনটি প্রতিমার ক্ষতি হয়েছে।

মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক সুশান্ত ভৌমিকের অভিযোগ, দুর্বৃত্তরা মন্দিরে আগুন দিয়েছে। এতে কালী ঠাকুর, মহাদেব ও অন্য তিনটি প্রতিমার চুল, গায়ের আবরণ পুড়ে যায়। মন্দির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা নিবারণ চন্দ্র সাহা সকালে মন্দিরে গিয়ে আগুন দেখে সবাইকে খবর দেন।
সকাল নয়টায় জামালপুরের পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফ্লোরা বিলকিস জাহান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরে পুলিশের উপস্থিতিতে পোড়া প্রতিমাগুলো পাশের পুকুরে বিসর্জন দেওয়া হয়।
সরিষাবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিল্লাল হোসেন বলেন, এ আগুন দুর্বৃত্তরা দেয়নি।
জামালপুর পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম বলেন, মন্দিরের মূর্তি পোড়া গেছে, তবে এ আগুন দুর্বৃত্তরা দেয়নি।

9.

 26 ফেব্রুয়ারি  2015

আ.লীগ নেতার কাছে জিম্মি ১১৬ হিন্দু পরিবার

জেলা প্রতিনিধি, বাংলামেইল২৪ডটকম

Jessore-BM-up02যশোর: যশোরে আওয়ামী লীগ নেতা ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে চালানো অত্যাচার ও চাঁদাবাজিতে জিম্মি হয়ে পড়েছে ১১৬টি হিন্দু পরিবার। তাদের আটকে রেখে নির্যাতন, চাঁদাবাজি, মারপিট ও বাওড়ের মাছ লুট করছে স্থানীয় চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের মেম্বর গোলাম মোস্তফা ওরফে মোস্ত ও তার বাহিনী।
মঙ্গলবার সকালে প্রেসক্লাব যশোরের সামনে নির্যাতনের শিকার সদর উপজেলার চান্দুটিয়া গ্রামের চার শতাধিক নারী পুরুষ ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। পরে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
চান্দুটিয়া মালোপাড়ার বাসিন্দা নারায়ণ চন্দ্র বিশ্বাস জানান, স্থানীয় ঝাউদিয়া গ্রামের বাসিন্দা চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের মেম্বর আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মোস্তফা ওরফে মোস্ত ও সবুজের নেতৃত্বে চান্দুটিয়া গ্রামের মালোদের ওপর অত্যাচার চলছে। তাদের অত্যাচারে জিম্মি হয়ে পড়েছে ওই গ্রামের ১১৬টি হিন্দু পরিবার।
সর্বশেষ গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টার দিকে মাছ নিয়ে ঝাউদিয়া পৌঁছালে রবিন বিশ্বাস ও সঞ্জয় বিশ্বাসকে ধরে নিয়ে গিয়ে পার্শ্ববর্তী বাগানে আটকে মারপিট করে মেম্বর মোস্ত ও তার বাহিনী। এছাড়াও স্থানীয় বুকভরা বাওড় চান্দুটিয়া গ্রামের মালো সম্প্রদায়ের মানুষ ইজারা নিয়ে চাষ করছে। ওই বাওড়ের মাছ জোর করে ধরে নিয়ে যাচ্ছে মোস্ত বাহিনী। তাদের বাধা দিতে গেলে হত্যার হুমকি দেয়া হয়। একইসঙ্গে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে। এমনকি মালো সম্প্রদায়ের মানুষকে ওই এলাকার রাস্তায় পেলে মারপিট ও হত্যার হুমকি দেয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে গত ২১ ফেব্রুয়ারি কোতয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। যার নং ১০১৭।
মানববন্ধনে চান্দুটিয়া গ্রামের চার শতাধিক নারী পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। তারা জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন- জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহমুদ হাসান বুলু, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সুকুমার রায় ও যোগেশ চন্দ্র দত্ত, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ দত্ত, সনাতন বিদ্যার্থী সংসদের সভাপতি প্রসেনজিৎ ঠাকুর প্রমুখ। মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
অভিযোগ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত ইউপি মেম্বর আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মোস্তফা ওরফে মোস্তর মোবাইল ফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলামেইল২৪ডটকম/এমএন





No comments:

Post a Comment